এক বামহাতি সাংবাদিকের জেদে যেভাবে জন্ম নিয়েছিল ডট পেন

আজকের দিনে বলপয়েন্ট বা ডট পেন ব্যবহারের সময় এই সমস্যায় আমাদের খুব একটা পড়তে হয় না। কিন্তু গত শতাব্দীর তিরিশের দশকেও এই একটা যন্ত্রণায় দুনিয়ার সমস্ত লেখক, সাহিত্যিক আর সাংবাদিকদের রাতের ঘুম উড়ে যেত। ঠিক এই সাধারণ বিরক্তি থেকেই জন্ম নিয়েছিল ডট পেন।

inscript
৪ মিনিট
এক বামহাতি সাংবাদিকের জেদে যেভাবে জন্ম নিয়েছিল ডট পেন

কাগজের বুকে কলম চালাতে চালাতে হুট করে কালির এক মস্ত বড় দাগ লেপ্টে গেল, আর আপনার সাধের লেখাটা এক নিমেষে বরবাদ! মেজাজটাই খারাপ হয়ে যায়, তাই না?

আজকের দিনে বলপয়েন্ট বা ডট পেন ব্যবহারের সময় এই সমস্যায় আমাদের খুব একটা পড়তে হয় না। কিন্তু গত শতাব্দীর তিরিশের দশকেও এই একটা যন্ত্রণায় দুনিয়ার সমস্ত লেখক, সাহিত্যিক আর সাংবাদিকদের রাতের ঘুম উড়ে যেত। ঠিক এই সাধারণ বিরক্তি থেকেই জন্ম নিয়েছিল ডট পেন।

১৮৯৯ সালে হাঙ্গেরির বুডাপেস্টে লাসলো জোসেফ বিহোর (László József Bíró) জন্ম। পেশায় তিনি ছিলেন একজন সাংবাদিক। শুধু সাংবাদিক বললে অবশ্য ভুল হবে, বিহো ছিলেন একাধারে শিল্পী, রেস কার ড্রাইভার, হিপনোটিস্ট এবং আপাদমস্তক একজন উদ্ভাবক! তাঁর মাথায় সারাক্ষণ নতুন নতুন বুদ্ধি ঘুরত।

সাংবাদিকতার খাতিরে বিহো-কে রোজ প্রচুর লিখতে হতো। আর তখনকার দিনে লেখার একমাত্র ভরসা ছিল ফাউন্টেন পেন বা ঝরনা কলম। এই কলমগুলির মস্ত বড় সমস্যা ছিল—এর কালি ভীষণ পাতলা। লিখলেই কাগজের উপর কালি শুকাতে অনেক সময় নিত। তার উপর বিহো ছিলেন বামহাতি। ফলে লিখতে লিখতে তাঁর নিজের হাতই চলে যেত সদ্য লেখা লাইনের উপর, আর ব্যস! পুরো কাগজ জুড়ে কালির বিশ্রী নোংরা দাগ লেপ্টে যেত।

রোজকার এই ঝামেলা সহ্য করতে করতে একদিন বিহো ভাবলেন, "এর কি কোনো সমাধান সত্যিই নেই? এই সমস্যা কি মেনে নিতেই হবে?"

একদিন নিজের খবরের কাগজের ছাপাখানায় (প্রেসে) দাঁড়িয়ে কাজ দেখছিলেন বিহো। হঠাৎ তাঁর চোখ গেল সদ্য ছাপা হয়ে বেরিয়ে আসা খবরের কাগজগুলির দিকে। তিনি অবাক হয়ে দেখলেন, রোটোগ্র্যাভিউর প্রেসে যে কালি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা কাগজের বুকে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুকিয়ে যাচ্ছে! হাত দিলেও একটুও রঙ বা দাগ ছড়াচ্ছে না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাসের কন্ডাক্টর থেকে পদ্মশ্রী! ২০ লক্ষ বইয়ের লাইব্রেরি গড়ে ইতিহাস আঙ্কে গৌড়ার

কর্ণাটকের এক কৃষক পরিবারের ছেলে আঙ্কে গৌড়া বহু বছর ধরে বিভিন্ন কাজ করার পাশাপাশি বই সংগ্রহ করে গিয়েছেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল একটি বিনামূল্যের লাইব্রেরির। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তব রূপ নিয়েছে 'পুস্তক মানে' (Pustak Mane) নামক একটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহারযোগ্য লাইব্রেরিতে, যেখানে রয়েছে প্রায় ২০ লক্ষ বই। সেখানে এখন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ পাঠক থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, গবেষকদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়।

বিহোর মাথায় সঙ্গে সঙ্গে এক বিদ্যুৎ খেলল। তিনি ভাবলেন, খবরের কাগজের এই চটজলদি শুকিয়ে যাওয়া কালি যদি কোনোভাবে কলমের ভিতরে পুরে দেওয়া যায়, তাহলেই তো কেল্লাফতে! ফাউন্টেন পেনের ওই কালির দাগ লেপ্টে যাওয়ার সমস্যা উবে যাবে।

কিন্তু ভাবনা যতটা সহজ ছিল, কাজে তা প্রয়োগ ছিল ততটাই কঠিন। খবরের কাগজের কালি ফাউন্টেন পেনে ভরতেই দেখা গেল উল্টো বিপদ। সেই কালি এত ঘন আর চটচটে যে, কলমের সরু নিব বেয়ে তা নিচে নামতেই চায় না। কলম পুরোপুরি অচল হয়ে গেল।

বিহো দমে যাওয়ার পাত্র ছিলেন না। এই কাজে তিনি পাশে টেনে নিলেন তাঁর ভাই গিয়র্গি বিহো-কে। গিয়র্গি ছিলেন পেশায় দন্তচিকিৎসক, কিন্তু রসায়নে তাঁর দারুণ জ্ঞান ছিল। দুই ভাই মিলে ল্যাবরেটরিতে বসে গেলেন কলমের জট খুলতে।

তাঁরা বুঝতে পারলেন, ফাউন্টেন পেনের পুরনো ডিজাইনে এই ঘন কালি কাজ করবে না। এর জন্য সম্পূর্ণ নতুন মেকানিজম চাই। রসায়নের বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা এমন এক কালির ফর্মুলা তৈরি করলেন, যা কলমের ভিতর শুকাবে না, কিন্তু কাগজের ছোঁয়া পেতেই বাতাসে থাকা সলভেন্ট বা তরল উপাদান নিমেষে বাষ্পীভূত হয়ে লেখাটিকে শুকিয়ে দেবে।

এবার দরকার ছিল এমন একটা মেকানিজম, যা দিয়ে এই ঘন কালিকে কাগজের বুকে মসৃণভাবে নামিয়ে আনা যায়। ঠিক এইখানেই তাঁরা ব্যবহার করলেন একটি ছোট্ট ম্যাজিক—একটি ক্ষুদ্র ইস্পাতের ঘূর্ণায়মান বল বা গোলক। কলমের ডগায় একটা সকেটের মধ্যে এই বলটি এমনভাবে আটকে দেওয়া হলো, যাতে সেটি অনায়াসে ঘুরতে পারে।

মেকানিজমটা ছিল চমৎকার—কলম যখন কাগজের উপর চালানো হবে, বলটি ঘুরবে। ঘোরার সময় বলের ভিতরের অংশটি কালির রিজার্ভার থেকে কালি মেখে নেবে, আর ঘূর্ণনের সঙ্গে সঙ্গে সেই কালি কাগজের বুকে লেপ্টে দেবে। আর যখন কলম চালানো বন্ধ থাকবে, বলটি কালির মুখটা আটকে রাখবে, ফলে কালি উপচে পড়ার বা লিক করার কোনো সুযোগই থাকবে না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দমদমের ‘বুড়ো কোঠি’: ক্লাইভের বাড়ি নাকি ২৯০০ বছরের হারানো নগরীর ধ্বংসাবশেষ!

খননকার্যে প্রমাণিত হয়েছে, আজ থেকে প্রায় ২৯০০ বছর আগে (খ্রিস্টপূর্ব ৯০০ অব্দে) এই স্থানে মানুষের নিয়মিত বসবাস ছিল। অর্থাৎ, জব চার্নক কলকাতা শহর আবিষ্কার করার অনেক অনেক আগে থেকেই এখানে এক উন্নত সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।

১৯৩১ সালে বুডাপেস্ট আন্তর্জাতিক মেলায় এই দুই ভাই তাঁদের প্রথম প্রোটোটাইপ বা প্রাথমিক মডেলটি দুনিয়ার সামনে আনলেন, যার নাম ছিল "গো-পেন" (Go-Pen)। মানুষ অবাক হয়ে দেখল এক অদ্ভুত কলম, যা থেকে কালি লিক করে না, আবার লিখলেই ম্যাজিকের মতো শুকিয়ে যায়!

সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু এর মধ্যেই ইউরোপে শুরু হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। বিহো ছিলেন ইহুদি বংশোদ্ভূত। ফলে হাঙ্গেরিতে থাকা তাঁর জন্য ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছিল। ১৯৩৮ সালে হাঙ্গেরি ছেড়ে তিনি প্রথমে ফ্রান্স ও ব্রিটেনে যান এবং সেখানে এই কলমের পেটেন্ট বা সরকারি স্বত্ব নিজের নামে নথিভুক্ত করেন।

এরপর ১৯৪১ সালে ভাই গিয়র্গি এবং বন্ধু জুয়ান জর্জে মেইন-কে সঙ্গে নিয়ে বিহো একেবারে দেশ ছেড়ে পালিয়ে চলে যান সুদূর আর্জেন্টিনায়। সেখানে গিয়ে তাঁরা নতুন করে কলম তৈরির ফ্যাক্টরি খোলেন। ১৯৪৩ সালে আর্জেন্টিনায় নতুন পেটেন্ট পাওয়ার পর তাঁরা বাণিজ্যিকভাবে কলমটি বাজারে ছাড়েন।

বিহো এবং মেইন—এই দুই বন্ধুর নাম মিলিয়ে কলমটির ব্র্যান্ড নাম রাখা হলো "বায়রোম" (Birome)। এই কলম সেখানে এতটাই সাড়া ফেলেছিল যে, আজও আর্জেন্টিনায় যেকোনো বলপয়েন্ট কলমকে মানুষ ভালোবেসে 'বায়রোম' বলেই ডাকে। এমনকী অনেক ইংরেজিভাষী দেশেও বলপয়েন্ট পেনকে সংক্ষেপে শুধু "বায়রো" (Biro) বলা হয়।

বলপয়েন্ট কলম সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনোর আগে এর কার্যকারিতা প্রথম টের পেয়েছিল ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্স (RAF)। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধবিমানের পাইলটদের আকাশে ওড়ার সময়ও অনেক কিছু লিখতে হতো। কিন্তু ফাউন্টেন পেন নিয়ে আকাশে উঠলেই বায়ুমণ্ডলীয় চাপের তারতম্যের কারণে কলম থেকে কালি লিক করে পাইলটদের জামাকাপড় আর দরকারি ম্যাপ নষ্ট হয়ে যেত।

পাইলটদের এই মহা বিপদ থেকে উদ্ধার করল বিহোর বলপয়েন্ট পেন। যেহেতু এর ভিতরে কালি বায়ুচাপের উপর নির্ভর করে না, তাই যত উঁচুতেই যাওয়া হোক না কেন, এই কলম একদম নিখুঁতভাবে চলত। ব্রিটিশ সরকার পাইলটদের জন্য এক ধাক্কায় ৩০,০০০ বায়রো কলমের অর্ডার দেয়। আর এই সামরিক সাফল্যই বলপয়েন্ট পেনকে রাতারাতি বিখ্যাত করে তোলে।

যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ১৯৪৫ সালে আমেরিকার বাজারে যখন প্রথম বলপয়েন্ট কলম আসে, তখন তার দাম ছিল আকাশছোঁয়া—এক একটা কলমের দাম ছিল সাড়ে বারো ডলার! সাধারণ মানুষের পক্ষে তা কিনে লেখা ছিল বিলাসিতা।

বিহো নিজে এই আবিষ্কার থেকে খুব বেশি বড়লোক হতে পারেননি। কিন্তু এই কলমকে পৃথিবীর ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্ব যাঁর, তিনি হলেন ফরাসি উদ্যোক্তা মার্সেল বিচ (Marcel Bich)। তিনি বিহোর এই ডিজাইনটিকে আরও সহজ ও সস্তা করার উপায় খুঁজে বের করেন। ১৯৫০ সালে তিনি বাজারে নিয়ে আসেন আইকনিক "BIC Cristal" কলম। প্লাস্টিকের তৈরি এই স্বচ্ছ, সস্তা এবং চরম টেকসই কলমটি পুরো দুনিয়ায় ঝড় তোলে। আজ পর্যন্ত সারা বিশ্বে এই ব্র্যান্ডের ১০০ বিলিয়নেরও বেশি কলম বিক্রি হয়েছে!

আজকের দিনে আমরা যে ডট পেন ব্যবহার করি, তার ডগায় থাকে টাংস্টেন কার্বাইডের অত্যন্ত শক্ত বল। আর কালির কেমিস্ট্রি এতটাই উন্নত যে, সলভেন্ট, লুব্রিকেন্ট, রেজিন আর বাইন্ডারের নিখুঁত ভারসাম্যে লেখা হয় একদম মাখনের মতো মসৃণ।

বলপয়েন্ট কলম দিয়েই আমরা লাস্লো বিহো-কে চিনি ঠিকই, কিন্তু এই সাংবাদিক আরও প্রায় ৩১টি বড় বড় আবিষ্কারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

  • ওয়াশিং মেশিনের শুরুর দিকের একটি মডেল তিনি বানিয়েছিলেন।

  • গাড়ির অটোমেটিক গিয়ারবক্স তৈরি করে তিনি জার্মানিতে মোটরবাইকে টেস্ট করেছিলেন।

  • এমন এক তালা বানিয়েছিলেন যা চোরেরা কোনোভাবেই ভাঙতে পারত না।

  • কব্জিতে বেঁধে রক্তচাপ আর তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রের বুদ্ধির পিছনেও ছিলেন তিনি।

  • এমনকী আজকে আমরা যে রোল-অন ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করি, তার ভিতরের ঘূর্ণায়মান বলের বুদ্ধিটিও কিন্তু এই বলপয়েন্ট কলমের মেকানিজম থেকেই অনুপ্রেরিত!

লাস্লো বিহো কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থায় কোনো মহাবিপ্লব ঘটানোর উদ্দেশ্যে কলম বানাতে যাননি। তিনি শুধু নিজের চারপাশের একটা ছোট, বিরক্তিকর সমস্যাকে মন দিয়ে লক্ষ্য করেছিলেন। বাকিরা যেখানে ফাউন্টেন পেনের কালির দাগকে নিয়তি বলে মেনে নিয়েছিল, বিহো সেখানে সেই সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিলেন।

আজ আমরা দোকান থেকে পাঁচ-দশ টাকায় যে ডট পেনটা কিনে আমরা পকেটে পুরে নিশ্চিন্তে পরীক্ষা দিতে যাই, তার পিছনে লুকিয়ে আছে এক বামহাতি সাংবাদিকের জেদ।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

মাছ-ভাত খেয়েই বোধন, দশমীতে মৎস্যমুখ! বাগবাজার হালদার বাড়ির সাড়ে চারশো বছরের পরম্পরা

Bagbazar Haldar Bari Durga Puja: পুজোর ইতিহাসের সূত্রপাত ওড়িশার বালেশ্বরের কাছে সাহেবপুর বা রহনপুরে। হালদার পরিবারের পূর্বপুরুষরা চন্দননগরের নোয়াপাড়ার জমিদার ছিলেন। তাঁদেরই এক পূর্বপুরুষ কৃষ্ণপ্রসাদ হালদার প্রমোদভ্রমণে ওড়িশার ওই এলাকায় গেলে স্বপ্নাদেশ পান। সেই স্বপ্নের বর্ণনা অনুযায়ী মাটি খুঁড়ে সত্যিই উদ্ধার হয় মহিষমর্দিনীর কষ্টিপাথরের মূর্তি।

মাছ-ভাত খেয়ে দেবী বরণ আর কী কী বিশেষ রীতি পালন করা হয় ২২০ বছরের রাজকৃষ্ণ মিত্র বাড়ির দুর্গাপুজোয়?

Rajkrishna Mitra House Durga Puja: দর্জিপাড়ার রাজকৃষ্ণ মিত্রের বাড়ির শতাব্দীপ্রাচীন দুর্গাপুজোতে ২২০ বছর ধরে একই রীতি মেনে পুজো হয়ে আসছে। তবে এই পুজোর বিশেষত্ব শুধু তার প্রাচীনত্বে নয়, দেবীর ভোগ, নৈবেদ্য, পারিবারিক খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে দশমীর বরণ; প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে নিজস্ব কিছু নিয়ম। যার মধ্যে অন্যতম, দশমীর দিন মাছ-ভাত খেয়ে দেবীকে বরণ করেন বাড়ির মহিলারা। আবার যে পুজোয় একসময় বলির রীতি ছিল, সেই পুজোতেই এখন বলির পরিবর্তে দেওয়া হয় চিনির নৈবেদ্য।

ইস্টবেঙ্গলের জয়ে কোমা ভেঙে চোখ মেলেছিলেন শচীনকর্তা

S D Burman's love for East Bengal: শচীনকর্তার একমাত্র পুত্র ‘পঞ্চম’ বাবার কানের কাছে চিৎকার করে উঠলেন— “বাবা… ইস্টবেঙ্গল জিতসে… পাঁচ-শূন্য!” আর তারপরই ... যে মানুষটি নির্জীব পড়েছিলেন, যাঁর স্নায়ু কোনো ডাকে সাড়া দিচ্ছিল না—তাঁর চোখের কোণ সামান্য কেঁপে উঠল। ধীরে ধীরে শচীনকর্তা তাঁর অক্ষিপট মেলে তাকালে। ব্যাস, ওইটুকুই। এর পর আর কোনোদিন তিনি চোখ খোলেননি।

যে দুর্গাপুজোয় সাধারণের প্রবেশ ছিল নিষেধ, সেখান থেকেই যেভাবে হলো সর্বজনীন পুজোর শুরু

history of Durga Puja in Kolkata: ব্রিটিশ কলকাতায় সেই পুজোর ধরন বদলাতে শুরু করল; বদলাল গেট-টুগেদারের ধরনও। আর কলকাতার দুর্গাপুজো আদতে হয়ে উঠল কোম্পানির পুজো। মানে কোম্পানির লোকেদের তোয়াজের জন্য করা পাঁচ দিনের অনুষ্ঠান। সেই পুজোর থেকে ইংরেজদের মনোরঞ্জন করা প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।

প্রেমে, ঈর্ষায়, ভ্রমণে মারিয়া কোদামার চোখে কেমন ছিলেন বোর্হেস?

Jorge Luis Borges: ২০১৯ সালে প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে লেখকের বিধবা স্ত্রী মারিয়া কোদামা তাঁদের অনন্য সম্পর্ক ও একান্ত যাপনের স্মৃতিচারণ করেছিলেন। মারিয়া কোদামা মৃত্যুবরণ করেন ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছিলেন পাবলো হিয়েনেরা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৯ সালে, পরে লা নাসিয়ন (La Nacion) পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ। সাক্ষাৎকারটি স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ করেছেন স্প্যানিশ সাহিত্য ও বোর্হেসবিশেষজ্ঞ কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিন।

এনসিইআরটি-র নতুন ইতিহাসের বই হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসচর্চাকে নতুন জায়গা করে দিচ্ছে?

NCERT Class 9 Book controversy: নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বই 'আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি'-র 'রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স' অধ্যায়ে সপ্তম শতক থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে আরব, তুর্কি, মুঘল ও ইউরোপীয় আক্রমণের ধারাবাহিকতা, ধর্মীয় উদ্দেশ্য ও হিন্দু রাজাদের দেবী-প্রদত্ত তলোয়ারের উল্লেখ রয়েছে। মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাঠ-শিখ-রাজপুত-অহোম প্রতিরোধের বর্ণনা। হিন্দুত্ববাদী লেখক জে. সাই দীপকের 'মধ্যপ্রাচ্যের ঔপনিবেশিকতা'র ধারণা ও হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসবিদ মীনাক্ষী জৈনের গবেষণার ছায়ায়, এভাবেই তৈরি হচ্ছে নতুন সাম্প্রদায়িক ইতিহাসচর্চার পরিসর।

‘গ্রাহক পঞ্চায়েত’-এর সভায় ছুরি কোথা থেকে এল?

SRFTI Kolkata clash: সমাজমাধ্যমে যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে, তা লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে—এক ব্যক্তি হঠাৎ পিছন থেকে এসে এক শিক্ষার্থীকে সজোরে লাথি মারছে। অথচ ঠিক সেই মুহূর্তেও পিছনের দেওয়ালে ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি দেওয়া ব্যানারটি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় ঝুলছিল। অর্থাৎ, যে ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগকে সামনে এনে এত প্রচার চালানো হচ্ছে, তখনো পর্যন্ত সেই ব্যানারে কোনো আঁচড়ও পড়েনি।

চার-পাঁচ বছর নিয়েছিল তৃণমূল, বিজেপি মাত্র চারমাস

SRFTI incident: গোটা দেশে যখন মানুষের বিজেপির প্রতি মোহভঙ্গ ঘটতে শুরু করেছে, তখন আশ্চর্যজনকভাবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এল। অথচ একসময় গর্বের সঙ্গে বলা হতো—“হোয়াট বেঙ্গল থিঙ্কস টুডে, ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুমরো।” আজ তা যেন উল্টে গিয়েছে।