জীবনে একটিও সেঞ্চুরি নেই! তবু কেন বিনিকেই বাছল জয় শাহ-র বোর্ড

Roger Binny: মাত্র ৮ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেরিয়ার যাঁর, সেই ব্যক্তিই কেন পাচ্ছেন এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব? কে এই রজার বিনি?

Ramen Das
৪ মিনিট
জীবনে একটিও সেঞ্চুরি নেই! তবু কেন বিনিকেই বাছল জয় শাহ-র বোর্ড

রজার মাইকেল হামফ্রে বিনি। আর কয়েকদিন পরেই ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সভাপতি হচ্ছেন তিনিই। যদিও এই নাম উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রাক্তন হচ্ছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। অনেকেই বলছেন, সৌরভ ফের গ্রেগ চ্যাপেলের সময়ের মতো রাজনীতির শিকার! আবার কেউ বলছেন, বিজেপি-তে যোগ না দেওয়ায় সৌরভ-পতন। আবার কারও কারও দাবি, এসব এখন অতীত‌, সৌরভ যাচ্ছেন আইসিসি-তে! যদিও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বাদে বিসিসিআইয়ের নতুন কমিটির সদস্যরা খুব একটা পরিবর্তিত হননি এদিন। আর এখানেই ভাবি বোর্ড প্রধান হিসেব উঠে এসেছে রজার বিনির নাম। শুরু হয়েছে বিতর্ক।

জীবনে একটিও সেঞ্চুরি যাঁর দখলে নেই। মাত্র ৮ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেরিয়ার যাঁর, সেই ব্যক্তিই কেন পাচ্ছেন এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব? কে এই রজার বিনি?

জন্ম ও ব্যক্তিগত জীবন

১৯৫৫ সালের ১৯ জুলাই কর্নাটকের বেঙ্গালুরু শহরে জন্ম নেন রজার বিনি। ইন্দো-স্কটিশ পরিবারের এই সন্তান ছোট থেকেই ছিলেন মেধাবী। প্রথমে বেঙ্গালুরুর সেন্ট জার্মেইন অ্যাকাডেমি। পরে সেন্ট জোসেফ ইন্ডিয়ান স্কুল, এরপর পিইউ কলেজ থেকে পড়াশুনা তাঁর। একটি সন্তান। স্টুয়ার্ট বিনি। যিনি নিজেও ক্রিকেটার। বিনির স্ত্রীর নাম সিন্থিয়া।

ছোটবেলা থেকেই খেলতে ভালবাসতেন তিনি। স্কুলের হকি দলে তাঁর নাম ছিল বিখ্যাত। একের পর এক ম্যাচে জয় আসত নাকি তাঁর পায়েই।

ক্রিকেট-জীবন

১৯৭৩ সাল নাগাদ ক্রিকেটের অঙ্গনে তাঁর প্রবেশ। ১৯৭৫-এ কেরলের বিরুদ্ধে রাজ্যস্তরের ক্রিকেটে বিরাট সফল হননি তিনি। কিন্তু প্রথম ম্যাচে খানিকটা খারাপ পারফরম্যান্স হলেও পরের সিজনে ব্যাটে-বলে ঝড় তোলেন তিনি। কেরল, মহারাষ্ট্র, একাধিক রাজ্যের ক্রিকেট দলের সংসার ভালো খেলেন বিনি। অন্ধ্রপ্রদেশের বিরুদ্ধে ১৭৪ রানের পরে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিনি

২১ নভেম্বর, ১৯৭৯ সাল। বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচে অভিষেক ঘটে তাঁর। ৪১১ রান করে ভারত। সেই ম্যাচে খুব একটা ভালো খেলতে পারেননি তিনি। ইমরান খান, জাহির আব্বাস, শাহবাজ শরিফের রাজত্বে তখন মধ্যগগনে পাকিস্তান।

পরে একই সিরিজের অন্য একটি ম্যাচে দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে ৩২ রানে ২ উইকেট এবং ৫৬ রানে ২ উইকেট নিয়ে হিরো হন সুদর্শন রজার। ততদিনে দেশের মহিলা মহলেও জনপ্রিয় হয়েছেন কপিল দেবের বিশ্বকাপজয়ী দলের এই সদস্য।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আইসিসি-র শীর্ষে সৌরভ, সম্ভাবনা কতটা উজ্জ্বল?

Sourav Ganguly: এবার ভারতের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের দরবারে অভিষেক ঘটতে চলেছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের?

৬ ডিসেম্বর, ১৯৮০। অস্ট্রেলিয়ার বেন্সন এবং হেগেন ওয়ার্ল্ড সিরিজ কাপের ম্যাচে ভালো খেলেন তিনি।

২৩ রানে ২ উইকেট নেন বিনি। পরের ম্যাচে ৪১ রানে ৪ উইকেট নেন তিনি। প্রসন্ন, চন্দ্রশেখর, বিষেন সিং বেদিদের সময়ে যোগ্য সঙ্গত দেন তিনি।

১৩ মার্চ, ১৯৮৭। শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আবার ৯ অক্টোবর ১৯৮৭ সালে একদিনের ক্রিকেটকেও বিদায় জানান তিনি।

ক্রিকেট-পরিসংখ্যান

রজার বিনির মোট ১০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচও পূর্ণ হয়নি। ভোল হায়দায়নি থেকে ৯৯টি ম্যাচের মধ্যে ২৭টি টেস্ট, ৭২টি একদিনের ম্যাচ খেলেন তিনি। মোট রান করেন ১৪৫৯। আর উইকেট নেন ১২৪টি। একদিনের খেতে তাঁর রান ৬২৯ আর টেস্ট ম্যাচ মিলিয়ে তাঁর রান ৭৩০। একদিনের ক্রিকেটে মোট উইকেট নেন ৭৭টি আর টেস্টে ৪৭। একদিনের ক্রিকেটে তাঁর সর্বোচ্চ রান ৫৭। টেস্টে ৮৩। যদিও একটিও সেঞ্চুরি তিনি না করতে পারলেও দুটি ম্যাচে ৫টি করে উইকেট। একটি ম্যাচে ৮ উইকেট নেন তিনি।

১৯৮৩ ক্রিকেট বিশ্বকাপ

কপিল দেব অধিনায়ক। মদন লাল, সৈয়দ কির্মনি, কর্সন ঘব্রিদের সঙ্গেই দাপট দেখান বিনি রজার। ওই সিরিজে ১৮টি উইকেট নিয়ে সেরা হন তিনি। ২ বছর পরে ১৯৮৫ এর চ্যাম্পিয়নশিপে ১৭ উইকেট পান তিনিই।

কর্মজীবন

ক্রিকেট ছাড়িয়ে প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন অনেক আগে থেকেই। কর্ণাটকের ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তিনি। ২০০০ সালে অনূর্ধ্ব উনিশ দলের দায়িত্ব নেন। যখন ওই দলের দায়িত্বে মহম্মদ কাইফ। স্বল্প সময়ের এই দায়িত্বের পাশাপাশি ২০১১ সালে বিনি একটি ইংরেজি সংবাদ মাধ্যমে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ হিসেবে থাকেন। এদিকে ২০১২ সালে পাঁচ সদস্যের নির্বাচক কমিটির সদস্য হন তিনি। এছাড়াও একাধিক জায়গায় ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ হিসেবে দেখা গিয়েছে তাঁকে।

বিতর্কে রজার বিনি

একদা মহিলা মহলে প্রবল জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। সুদর্শন বিনিকে নিয়েও তখন আলোচনা কম হয়নি। আবার অনূর্ধ্ব উনিশ ক্রিকেট দলের কোচ থাকার সময়ে যুবরাজ সিংয়ের মতো ক্রিকেটার তুলে আনেন রজার। তাঁর হাত ধরেই মূলত যুবরাজের প্রবেশ।

আবার নিজের নির্বাচক কমিটিতে জায়গা পাকা হতেই ছেলে স্টুয়ার্ট বিনিকে ভারতীয় ক্রিকেট দলে জায়গা দেওয়া হয়। যা নিয়েও তৈরি হয়েছিল বিতর্ক।

জীবনী-সিনেমা

তাঁকে নিয়ে নয়, তবে ১৯৮৩ সালের প্রেক্ষাপটে 'এইট্টিথ্রি' ছবিটি করেছেন কবীর খান। এখানে বিনির চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিশান্ত দহিয়া।

নিশান্ত দহিয়া, রজার বিনির ভূমিকায়, '83' ছবিতে

কেন সরলেন সৌরভ

দেশের 'দাদি' ও বাংলার 'দাদা'-র বিসিসিআই সভাপতির পদ ছাড়ার খবরের মধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে, মহারাজের ভিন্ন মুকুট এবার কি আরও উন্নত! তাঁকে আইসিসি সভাপতি হওয়ার দিকেই কি এগিয়ে রাখা হচ্ছে? দাবি উঠেছে এমনও। যেখানে, আবেগ দিয়ে নয়, যুক্তি দিয়ে ভেবেই এমন করেছেন দাদা, একথাও বলছেন কেউ কেউ। যদিও একথার আবহে কোনও নিশ্চিত ইঙ্গিত দেননি কেউ-ই। অনেকেই বলছেন, বিনির পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক যোগ। বরাবরই ক্রিকেট প্রশাসন চালালেও তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগ রয়েছে কর্নাটকের বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পার। এর সঙ্গেই কেন্দ্রের একাধিক মন্ত্রী, নেতার সঙ্গেও সুসম্পর্ক রয়েছে তাঁর। এমনকী, তাঁর পুত্র ক্রিকেটার স্টুয়ার্টের সঙ্গেও বিজেপি-র সম্পর্ক ভালো। আর এর জন্যই সৌরভের পরে বহু যোগ্য নাম থাকলেও বাজি জিতে নিয়েছেন তিনিই! বলছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।

লিখেছেন
Ramen Das
Ramen Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নারী টেস্টে এত অনীহা কেন, লর্ডসের ইতিহাসও বদলাবে না সেই ছবি?

Women’s Test Cricket: লর্ডসে ভারতের নারী ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয় নারী টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বদলানোর সুযোগ এনে দিয়েছে? এত সাফল্য ও জনপ্রিয়তার পরও কেন এই ফরম্যাটে নিয়মিত ম্যাচ নেই?

শিব-পরশুরামের যুদ্ধবিদ্যা কালারিপায়াট্টু থেকেই জন্ম কুংফুর!

Kalaripayattu Indian Martial Art: ভারতীয় পৌরাণিক ঐতিহ্যে কালারিপায়াট্টুকে স্রেফ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে দেখা হয়নি, বরং এটিকে মানব শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রাণশক্তিকে জাগিয়ে তোলার এক মহান সাধনা বলে মনে করা হয়।

দু'হাজার বছর পুরনো ‘আত্য পাত্যা’: এই খেলাই শিখিয়েছিল যুদ্ধের কৌশল!

Atya Patya Traditional Indian Game: আনুমানিক ১০০ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত প্রাচীন তামিল সাঙ্গম সাহিত্য ‘নাটতৃণৈ’-তে এই খেলার প্রথম লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়। অতএব, এই খেলার বয়স প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি। সেখানে বলা আছে, প্রাচীন চোল রাজবংশের সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে নিজেদের ক্ষিপ্রতা, দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষমতা আর শরীরকে এক নিমেষে বাঁকানোর চপলতা বাড়াতে এই খেলায় মেতে উঠত।

১৬ বছর পর ফের ভারতের পথে ললিত মোদী

Lalit Modi return to India: দীর্ঘ সময় পর দিল্লির আপিল ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আর্থিক অনিয়মের বড় অভিযোগ ও জরিমানা বাতিল করে দেওয়ার পরেই এই আলোচনার সূত্রপাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ললিত মোদী নিজেই স্পষ্ট করেছেন, সমস্ত বড়সড় আইনি জটিলতা কাটার পর ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭-এর শুরুতেই ফের তিনি ভারতে পা রাখতে চলেছেন।

গোলের আড়ালে ঘৃণার খেলা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ট্রাম্প, ফিফা আর ফুটবলের পরাজয়

Trump FIFA World Cup: এই বিশ্বকাপ শুধুই একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; মাঠের লড়াই ছাপিয়ে তা হয়ে উঠেছে ভূ-রাজনীতি, বর্ণবিদ্বেষ এবং বাণিজ্যিক আধিপত্যের এক জটিল ময়দান।

একটা রাজপুত্তুর যার মুকুট হারিয়ে গিয়েছে

Lionel Messi Retirement: তিনটে ফাইনালের বোঝা। একে একে ছেড়ে যায় সহযোদ্ধারা। রক্তাক্ত মাসচেরানো চলে যান, কুন আগুয়েরোর অসুখ... তবু লিও পড়ে থাকে, আমরা পড়ে থাকি আর কিছুদিন। বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজন ছিল একজন স্ক্যালোনির, তিনি সেটুকু সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নিলেন। আমরা অপেক্ষা করলাম লুসাইলে। আমরা তো কবেই হেরে গিয়েছিলাম, সৌদি আরব শুধু চিনিয়ে দিয়েছিল আশপাশটা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: যেভাবে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হল ফুটবল

FIFA Revenue 2026: 'কুইন্টেট প্রাইভেট ব্যাংক'-এর সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অনুঘটক হওয়ার চেয়ে বিশ্বকাপ আসলে একটি শক্তিশালী স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক উদ্দীপক হিসেবেই বেশি কাজ করে। ফিফা, সম্প্রচারকারী সংস্থা, স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড এবং আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) ক্ষেত্রগুলি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করলেও, কোম্পানির শেয়ারের দামে সেই ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে রাখা বেশ কঠিন।

যখন ইউরোপে নারীরা গৃহবন্দি, তখন অসমে মেয়েরা খেলছিলেন ধোপখেল

Dhop Khel Assam: আহোম রাজাদের রাজপ্রাসাদ থেকে বিহুর মেঠো মাঠ—অসমের মাটিতে একসময় গমগম করত ধোপখেলের আওয়াজ। ফুটবল, কাবাডি আর দূরন্ত নিশানার এই অদ্ভুত রোমাঞ্চকর খেলাটি শুধু পুরুষদের বীরত্ব প্রমাণের লড়াই ছিল না; যখন ইউরোপে নারীদের জীবন ছিল চার দেওয়ালে বন্দি, তখন অসমে মেয়েরাও মাঠে নেমে মেতে উঠতেন ধোপখেলে।