Caste Census: কেন হঠাৎ জাতগণনার পক্ষে মত দিলেন মোদী?

Caste Census : তবে, এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা সহজ নয়। জাতগণনার তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং তার ভিত্তিতে নীতি প্রণয়ন একটি জটিল কাজ। এছাড়া, আরএসএস-এর মতো সংগঠন এই প্রক্রিয়ায় কী প্রতিক্রিয়া দেয় তাও দেখার।

inscript
৩ মিনিট
Caste Census: কেন হঠাৎ জাতগণনার পক্ষে মত দিলেন মোদী?

জনগণনার পাশাপাশি জাতগণনা হবে। আকস্মিক ভাবেই জাতগণনার পক্ষে মত দিয়েছেন স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী, যিনি একদা জাতগণনার দাবিকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই, তাঁর এই মনবদল রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। একটা বড় অংশ বলছে, এই ঘোষণা তাঁর দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং এর মতাদর্শগত মূল সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) দীর্ঘদিনের অবস্থানের বিপরীত। তাহলে কেন এই সাংঘর্ষিক অবস্থান? কেন হঠাৎ মত পরিবর্তন? এর পিছনে কী রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ কাজ করছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গেলে চাইছে এই প্রতিবেদন।

বিহারের নির্বাচনী সমীকরণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিহারের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন এই সিদ্ধান্তের একটি বড় কারণ। এই সিদ্ধান্ত একান্তই ভোটমুখী। বিহারের রাজনীতিতে জাত একটি প্রধান বিষয়। বিজেপির সহযোদ্ধা জনতা দল (ইউনাইটেড) বা জেডি(ইউ)-এর নেতা নীতীশ কুমার ২০২২ সালে একটি জাতভিত্তিক জরিপ করেছিলেন। তিনি জাতগণনার পক্ষে একাধিকবার মত দিয়েছিলেন সে সময়। মোদী সরকার যদি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করত, তবে বিরোধী কংগ্রেস-রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) জোট এই বিষয়টিকে নির্বাচনী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারত। ফলে, জাতগণনায় সমর্থন দিয়ে মোদী এই সম্ভাবনাকে নিষ্ক্রিয় করতে চেয়েছেন। বিহারে জেডি(ইউ)-এর সঙ্গে জোট অক্ষুণ্ণ রাখাও এর একটি লক্ষ্য। কারণ এই জোট নড়বড়ে হলে টান পড়বে এনডিএ-এর অস্তিত্বে। মনে রাখতে হবে শুধু বিহার নয়, আগামী বছর ভোট রয়েছে বাংলা, অসম, কেরলে। সেখানেও ওবিসি ভোটের ব্যপক প্রভাব রয়েছে।

বিরোধীদের চাপ

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে জাতগণনাকে সামাজিক ন্যায়ের একটি প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন। সমাজবাদী পার্টি, আরজেডি-এর মতো আঞ্চলিক দলগুলোও এই দাবির সঙ্গে সুর মিলিয়েছে। এই সম্মিলিত চাপ মোদীকে তাঁর অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে বলেই মনে করছে বিশ্লেষকরা। বিরোধীদের এই ইস্যুটি নিয়ে যে জনমত তৈরি হয়েছে, তা বিজেপির পক্ষে উপেক্ষা করা কঠিন। ৪০০ আসনের ধ্বজা নাড়িয়ে যারা ২৪০ টি আসন পেয়েছে, তারা বুঝতে চাইছে হাওয়া কোন দিকে। অন্য ভাবে বললে জাতগণনার সমর্থন দিয়ে মোদী বিরোধীদের হাত থেকে এই ইস্যুটি কেড়ে নিতে চাইছেন। প্রশ্ন হলো, এই সিদ্ধান্ত জনতাকে কতটা প্রভাবিত করবে?

বিজেপি ঐতিহাসিকভাবে উচ্চবর্ণের মধ্যবিত্ত ভোটারদের উপর নির্ভর করেছে, যারা মণ্ডল কমিশনের পর জাতভিত্তিক সংরক্ষণের বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে মধ্যবিত্তের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) এবং দলিতদের কাছ থেকে সামাজিক ন্যায়ের দাবি জোরালো হয়েছে। এই পরিবর্তিত গতিপ্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিজেপি তাদের ভোটের ভিত্তি প্রসারিত করতে চাইছে। জাতগণনার সমর্থন এই কৌশলের একটি অংশ হতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের। আর এখানেই প্রশ্ন, বিজেপির পুরনো সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষের আবহ তৈরি করবে এই সিদ্ধান্ত?

সামগ্রিক ভাবে ভাবলে, জাতগণনার ফলে ওবিসি জীবনের খুঁটিনাটি ধরা পড়বে, যা অতীতে কখনও হয়নি। ফলে, ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর উপর গভীর প্রভাব পড়তে পারে এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে। পাশাপাশি এই গণনা সংরক্ষণ নীতি, নির্বাচনী কৌশল এবং সরকারি সুবিধার বণ্টনের ক্ষেত্রে নতুন দিক খুলে দিতে পারে।

তবে, এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা সহজ নয়। জাতগণনার তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং তার ভিত্তিতে নীতি প্রণয়ন একটি জটিল কাজ। এছাড়া, আরএসএস-এর মতো সংগঠন এই প্রক্রিয়ায় কী প্রতিক্রিয়া দেয় তাও দেখার।

তবে এ কথা ঠিক, জাতগণনার প্রস্তাব সামাজিক মাধ্যমে এবং জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এই সিদ্ধান্তকে কেউ কেউ সামাজিক ন্যায়ের দিকে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে নিছক রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই বিবেচনা করছেন। বিহারের মতো রাজ্যে, যেখানে জাতভিত্তিক রাজনীতি প্রবল, এই ঘোষণা ভোটারদের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছে। তবে সব পক্ষই মানছে, নরেন্দ্র মোদীর জাতগণনার সমর্থন একটি অতি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক পদক্ষেপ, যার মূলে রয়েছে নির্বাচনী কৌশল, বিরোধীদের পালের হাওয়া কেড়ে নেওয়া এবং সমাজের পরিবর্তিত দাবিগুলিকে বুঝতে চাওয়ার আর্তি। বিজেপি তা থেকে কতটা লাভবান হয়, উত্তর পাওয়া যাবে আগামী দিনে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।

হুথিরা যেভাবে স্থানীয় বিদ্রোহী থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিতে পরিণত হলো

Houthi Expansion in Yemen: ইয়েমেনে ফের কেন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? হুথিরা কীভাবে স্থানীয় জায়দি আন্দোলন থেকে শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হল? ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? মোখা ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখলের পর কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দাব? এই সংঘাতের প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পড়বে?