দিলজিৎ দোসাঞ্জ: যে শিল্পী ক্ষমতার সামনে মাথা নত করতে শেখেননি

Diljit Dosanjh: গত কয়েক বছরে বিনোদন জগতের চেনা ছক ভেঙেছেন দিলজিৎ দোসাঞ্জ। আজ কোটি কোটি মানুষের কাছে তাঁর একটি বড় পরিচয় তৈরি হয়েছে— আপসহীন, স্পষ্টবক্তা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার এক বিদ্রোহী শিল্পী।

Deepsubhra Mahato
৬ মিনিট
দিলজিৎ দোসাঞ্জ: যে শিল্পী ক্ষমতার সামনে মাথা নত করতে শেখেননি

বিশ্বমঞ্চে পঞ্জাবি লোকসঙ্গীতকে পৌঁছে দেওয়া গ্লোবাল পপস্টার কিংবা বলিউডের প্রথম সারির অভিনেতা— দিলজিৎ দোসাঞ্জকে চেনার জন্য এই বিশেষণগুলিই যথেষ্ট হতে পারত। যদি তিনি বাকি অভিনেতা, সঙ্গীতশিল্পীদের মতো শুধুমাত্র গ্ল্যামার দুনিয়ায় এক নিরাপদ ইমেজ ধারণ করে থাকতেন। গত কয়েক বছরে বিনোদন জগতের সেই চেনা ছক ভেঙেছেন তিনি। আজ কোটি কোটি মানুষের কাছে তাঁর একটি বড় পরিচয় তৈরি হয়েছে— আপসহীন, স্পষ্টবক্তা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার এক বিদ্রোহী শিল্পী।

তাঁর অভিনীত নতুন সিনেমা ‘সতলুজ’ (Satluj) নিয়ে দেশজুড়ে যে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে, তা দিলজিতের এই ‘বিদ্রোহী’ সত্তাকে আরও একবার খবরের শিরোনামে নিয়ে এসেছে।

ছবিটি পঞ্জাবের মানবাধিকার কর্মী জসবন্ত সিং খালরার জীবন এবং নব্বইয়ের দশকের পঞ্জাবের এক অন্ধকার ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি। দীর্ঘ ৪ বছর ধরে সেন্সর বোর্ডের (CBFC) সঙ্গে লড়াই করার পর, কোনো কাটছাঁট ছাড়াই গত ৩ জুলাই ২০২৬-এ ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ZEE5-এ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল। কিন্তু মুক্তির মাত্র দুদিন কাটতে না কাটতেই, ৫ জুলাই আচমকা ভারত থেকে উধাও হয়ে যায় এই ছবি! বর্তমানে ভারতীয় দর্শকরা আর এটি দেখতে পাচ্ছেন না। স্ক্রিনে লেখা উঠছে, “পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এটি ভারতে দেখা যাবে না।” যদিও বিদেশের দর্শকরা এখনও এটি দেখতে পাচ্ছেন।

পরিচালক হানি ত্রেহানের এই ছবিটির আসল নাম প্রথমে ছিল ‘Ghallughara’ (গণহত্যা), পরে নাম বদলে রাখা হয় ‘Punjab 95’ এবং শেষ পর্যন্ত নাম হয় ‘সতলুজ’। সিনেমাটির গল্প গড়ে উঠেছে আশির ও নব্বইয়ের দশকে পঞ্জাবে খালিস্তানি জঙ্গি দমনের নামে পুলিশের একাংশের ক্ষমতার অপব্যবহারকে কেন্দ্র করে। মানবাধিকার কর্মী জসবন্ত সিং খালরা প্রমাণ করেছিলেন যে, পুলিশ হাজার হাজার মানুষকে ‘নিখোঁজ’ করে ভুয়া এনকাউন্টার করেছে এবং তাদের লাশ ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ হিসেবে গোপনে পুড়িয়ে ফেলেছে। শুধুমাত্র অমৃতসরের তিনটি শ্মশান ঘেঁটে তিনি ২০৯৭টি এমন গোপন সৎকারের প্রমাণ পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে জসবন্ত সিং খালরাকেও পুলিশ সাদা পোশাকে অপহরণ করে এবং নির্মম অত্যাচার চালিয়ে খুন করে। এই রূঢ় সত্যকে পর্দায় হুবহু তুলে ধরার কারণেই সেন্সর বোর্ড ছবিটির উপর ১২৭টি কাট বা বাদ দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছিল। কিন্তু দিলজিৎ ও পরিচালক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, একটি ফ্রেম কাটা হলেও তাঁরা ছবির প্রচার করবেন না। শেষমেশ ওটিটি-তে ছবিটির ‘গরিলা রিলিজ’ হলেও ভারতের তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রক "নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার" আশঙ্কায় এর স্ট্রিমিং বন্ধ করে দেয়। ছবিটি ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন দিলজিৎ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি গর্জে উঠে লেখেন, “I challenge the darkness” (আমি এই অন্ধকারকে চ্যালেঞ্জ করছি)। তিনি স্পষ্ট বলেন, যা অতীতে জসবন্ত সিং খালরার সঙ্গে হয়েছিল, আজ ঠিক সেটাই তাঁর বায়োপিকের সঙ্গেও করা হলো— অর্থাৎ কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা। একটি লাইভ সেশনে দিলজিৎ আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, “আমি জানতাম এমনটাই হবে। কিন্তু লোকে ডাউনলোড করে রেখে দিয়েছে, ব্লক করে কী লাভ?” পঞ্জাবের ইতিহাস তুলে ধরার জন্য এই ছবিতে দিলজিৎ কোনো পারিশ্রমিক বা ফি নেননি।

যখন কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন দিলজিৎ (২০২০-২১)

দিলজিৎ দোসাঞ্জের এই প্রতিবাদী রূপ কিন্তু নতুন নয়। ২০২০-২১ সালে যখন দিল্লির সিংঘু বর্ডারে কেন্দ্রীয় সরকারের তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে কৃষকেরা আন্দোলনে নামেন, তখন দিলজিৎ ছিলেন অন্যতম প্রধান মুখ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মুক্তির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই উধাও! কেন ভারত থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো দিলজিৎ দোসাঞ্জের ‘সতলুজ’?

Diljit Dosanjh Satluj: ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ZEE5-এ কোনো কাটছাঁট ছাড়াই ৩ জুলাই মুক্তি পেয়েছিল দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত ‘সতলুজ’। কিন্তু মাত্র দুদিন কাটতে না কাটতেই, ৫ জুলাই আচমকা ভারত থেকে উধাও হয়ে গেল এই ছবি! কেন একটি সিনেমাকে রিলিজের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এভাবে ভারতের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিতে হলো? কী এমন আছে এই ছবির গল্পে?

তিনি শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেই ক্ষান্ত থাকেননি, নিজে সরাসরি সিংঘু বর্ডারে গিয়ে আন্দোলনকারী কৃষকদের মাঝে বসেছিলেন। কৃষকদের শীতের পোশাক ও গরম কাপড়ের জন্য তিনি ১ কোটি টাকা দান করেন। এই আন্দোলনের সময় বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াতের সঙ্গে তাঁর টুইটার যুদ্ধ দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলেছিল। কঙ্গনা এক প্রবীণ আন্দোলনকারী মহিলাকে নিয়ে কটূক্তি করলে দিলজিৎ তার কড়া জবাব দেন। এই ঘটনার পর অনেকে তাঁকে ‘খালিস্তানি’ বা দেশবিরোধী বলে আক্রমণ করলেও, পঞ্জাব ও হরিয়ানার মানুষের কাছে তিনি ‘হিরো’ হয়ে ওঠেন। এই আন্দোলনের সমর্থনে তিনি ‘Attwadi’ নামের একটি গানও করেছিলেন, যা কৃষকদের অনানুষ্ঠানিক অ্যান্থেম হয়ে উঠেছিল।

কনসার্টে খালিস্তানি পতাকার বিরোধিতা

বিদেশে দিলজিতের কনসার্ট মানেই লাখো মানুষের ভিড়। কিন্তু মে ২০২৬-এ কানাডার ক্যালগেরি এবং আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকোর কনসার্টে কিছু মানুষ প্রো-খালিস্তানি পতাকা নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করলে দিলজিৎ সঙ্গে সঙ্গে গান থামিয়ে দেন।

তিনি স্টেজ থেকে সরাসরি মাইকে বলেন, “আমার কাজ শুধু এন্টারটেইন করা, রাজনীতি নয়।” তিনি স্পষ্ট করে দেন যে কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডার জন্য তাঁর কনসার্টের মঞ্চ ব্যবহার করা যাবে না। এর ফলে খালিস্তানি সমর্থক গোষ্ঠীগুলি তাঁকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে হুমকি দিলেও, দিলজিৎ নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। তিনি বলেন, তিনি দুই চরমপন্থী পক্ষের (উগ্র জাতীয়তাবাদী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী) থেকেই গালি খান, কিন্তু তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গে নেই, তিনি শুধুই একজন শিল্পী।

ভারত-পাক সীমান্ত পেরিয়ে শিল্পীর স্বাধীনতা: ‘সর্দার জি ৩’

২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সর্দার জি ৩’ (Sardaar Ji 3) সিনেমাটিতে পাকিস্তানি অভিনেত্রী হানিয়া আমিরের সঙ্গে অভিনয় করে ভারতে বড় বিতর্কের মুখে পড়েন দিলজিৎ। সেই সময় ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে থাকায় ভারতের বিভিন্ন সিনেমা সংগঠন এই ছবি বয়কটের ডাক দেয় এবং ছবিটি ভারতে রিলিজ হতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু দিলজিৎ নিজের সিদ্ধান্তের জন্য কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। তিনি বুক চিতিয়ে বলেছিলেন, “দেশগুলির মধ্যে যুদ্ধ চলতে পারে, কিন্তু শিল্প সবাইকে এক করে। আমি কোনো নির্দিষ্ট দেশের নই, আমি এই ধরিত্রীর (Mother Earth) সন্তান।”

আইন বা প্রশাসনের ভুল নিয়মের সামনে মাথা নত করা দিলজিতের স্বভাবে নেই। চণ্ডীগড় কনসার্টে শব্দের মাত্রা (Noise Pollution) নির্ধারিত সীমার বাইরে যাওয়ায় প্রশাসন আইনি নোটিশ পাঠালে দিলজিৎ পালটা প্রশ্ন তোলেন— শহরের যেসব জায়গায় মদ বা অন্যান্য নেশার ব্যবসা চলে, সেখানে কেন শব্দদূষণ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না? কেন শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে টার্গেট করা হয়?

হায়দরাবাদ কনসার্টে প্রশাসন থেকে তাঁর গানের লিরিক্সে থাকা ‘মদ’ বা ‘পার্টি’ সংক্রান্ত শব্দ বাদ দিতে বলা হলে দিলজিৎ মঞ্চ থেকেই গর্জে উঠে বলেন, “আগে শহরে অ্যালকোহল ব্যান করুন, গান নয়!” সরকারের এই দ্বিমুখী নীতিকে তিনি প্রকাশ্য মঞ্চে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন।

২০২৪ সালের জুন মাসে আমেরিকার বিখ্যাত ‘দ্য টুনাইট শো স্টারিং জিমি হ্যালন’-এ প্রথম ভারতীয় হিসেবে পারফর্ম করতে গিয়ে দিলজিৎ শুধু গানই গাননি, বরং বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে ১৯১৪ সালের ঐতিহাসিক ‘কোমাগাতা মারু’ (Komagata Maru) ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। ব্রিটিশ আমলে পঞ্জাবি শিখদের উপর হওয়া বর্ণবাদী অত্যাচার ও সংগ্রামের ইতিহাস আমেরিকার টেলিভিশনে তুলে ধরেন তিনি।

দিলজিৎ দোসাঞ্জ সবসময় পঞ্জাবের সংস্কৃতি, ভাষা এবং ঐতিহ্যকে গর্বের সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন— তা সে কোচেলা (Coachella) মিউজিক ফেস্টিভ্যাল হোক বা মেট গালা (Met Gala)। তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন, নিজের কেরিয়ার বা ব্যবসার ক্ষতি করে হলেও তিনি প্রতিবাদ করতে ভয় পান না।

আজ ‘সতলুজ’ সিনেমাটি ব্যান হওয়ার পর তিনি যেভাবে সিস্টেমের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে লড়াই করছেন, তা আবারও প্রমাণ করে যে দিলজিৎ শুধু বিনোদন দেওয়ার জন্য বাঁচেন না, প্রয়োজনে সমাজের রূঢ় বাস্তবকে সকলের সামনে স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরতেও তিনি সমান পারদর্শী। আর এই আপসহীন, নির্ভীক স্বভাবের জন্যই দিলজিত দোসাঞ্জের নতুন নাম ‘রেবেল স্টার’।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

অথর ইজ ডেড, যে লেখে সে আমি নয় এআই?

Caine Prize winning story AI allegations: ১১ অক্টোবর লেখক ও সাংবাদিক ভোহিনি ভারা ‘দ্য আটলান্টিক’-এ একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেন—যার শিরোনাম ছিল “Yet Another Literary Prizewinner Seems to Be AI”। সেখানে তিনি জানান, ‘পাংগ্রাম’ নামের একটি এআই-ডিটেকশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে গল্পটি পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে এটি প্রায় পুরোটাই কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত।

জমিদারগিন্নির অপমানের জবাব দিতেই শুরু পাঞ্জা বাড়ির দুর্গাপুজো

Panja family Durga Puja: এক বর্ষামুখর দুর্গাষ্টমীর দিনে জমিদারবাড়ির মহিলারা, জমিদারগিন্নির সঙ্গে, বাড় সিউড়ির দুর্গাপ্রতিমা দর্শনে যান। ফেরার পথে কর্দমাক্ত রাস্তা পেরোনোর সময় দামি শাড়ি কাদা থেকে বাঁচাতে তাঁরা শাড়ির পাড় কিছুটা তুলে হাঁটছিলেন। কথিত আছে, তা দেখে পাড়ার কয়েকজন কটূক্তি করে বলেন— “পাঞ্জা বাড়ির বউ কাপড় উঠিয়ে চলছে!”

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।