মানুষের ভুয়ো আতঙ্কই কি পশ্চিমবঙ্গে বাঘরোলের মৃত্যুর কারণ? যা বলছে গবেষণা

Fishing cat: সারা রাজ্যজুড়ে বাঘরোলের সংখ্যা কমে যাওয়ার নেপথ্যে খাদ্যাভাবের থেকেও বেশি কাজ করছে পথদুর্ঘটনা।

Madhurima Pattanayak
৫ মিনিট
মানুষের ভুয়ো আতঙ্কই কি পশ্চিমবঙ্গে বাঘরোলের মৃত্যুর কারণ? যা বলছে গবেষণা

খুব বেশিদিন আগে না, এই তিরিশ-বত্রিশ বছর আগের কথা, যখন কলকাতা শহরকে ‘ক্যাট-ল্যান্ড’ বলে উল্লেখ করা হতো। কারণ তখনও কলকাতার আনাচে-কানাচে মেছোবিড়াল বা বাঘরোল, জাঙ্গল ক্যাট, লেপার্ড ক্যাট দেখা পাওয়া যেত। শুধু তাই নয়, পূর্ব কলকাতার

জলাভূমি অঞ্চল ছিল বাঘরোলের বেঁচে থাকার আদর্শ জায়গা। কিন্তু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও দেরাদুনের ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার অতি-সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, কলকাতা বাঘরোলের টিকে থাকার জন্যও অযোগ্য একটি জায়গা। পূর্ব কলকাতার জলাভূমি অঞ্চল, বানতলা, অর্থাৎ শহরের একদম প্রান্তের দিকে সরে গেছে মেছোবিড়ালরা। এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ডঃ সম্রাট চক্রবর্তী জানাচ্ছেন,

“তবে রাজারহাট, নিউটাউন, ভাঙড়ের মতো জায়গা, যেগুলো বৃহত্তর কলকাতার অংশ হিসেবে ধরা হয় বর্তমানে, সেখানে যদি ঠিকমতো পরিসংখ্যান চালানো হয়, তাহলে কিন্তু বেশ ভালো সংখ্যায় ফিশিংক্যাট পাওয়া যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ সেখানে যথেচ্ছ মাছের ভেড়ি রয়েছে। মেছোবিড়ালের বেঁচে থাকার জন্য যা আদর্শ।"

কলকাতার বাইরে অন্য জেলায় বাঘরোলের অবস্থা

তবে শুধু কলকাতা নয়, দক্ষিণবঙ্গের যেটুকু অংশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অঞ্চলের আওতায় পড়ছে, তার বাইরেও বাঘরোলের অবস্থা বেশ শোচনীয়। পশ্চিমবঙ্গের ‘স্টেট অ্যানিম্যাল’ বাঘরোল, আর তাকে সংরক্ষণের চেষ্টা পশ্চিমবঙ্গের যে ৪,৫৫০ স্কোয়ার কিলোমিটার সংরক্ষিত অঞ্চলে হয়, তার বাইরেও ৩৩ শতাংশের বেশি অঞ্চল বাঘরোলের বেঁচে থাকার জন্য আদর্শ। এই তালিকায় রয়েছে হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান এবং মুর্শিদাবাদ। এই জেলাগুলিতে এখনও ক্যামেরাট্র্যাপ বসিয়ে বাঘরোলের দেখা পেয়েছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার গবেষকরা।

সম্প্রতি দিঘার পর্যটকহীন জায়গা, রামনগর অর্থাৎ মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী অঞ্চল যেখানে যথেচ্ছ ভেড়ি রয়েছে, সেখানেও তাঁরা লক্ষ্য করেছেন বাঘরোলের আনাগোনা। এছাড়াও বাঘরোলের দেখা মিলেছে পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল, দক্ষিণ ২৪ পরগনার হেনরি দ্বীপে। কিন্তু এই অঞ্চলের কোনওটিতেই প্রায় বাঘরোল সংরক্ষণের জন্য কোনও উদ্যোগই নেওয়া হয় না। গবেষকদের মতে, এই জেলাগুলিতে, সর্বোপরি গাঙ্গেয় সমতলভূমিতে বাঘরোল সংরক্ষণের উদ্যোগ দ্রুত নেওয়া জরুরি।

কেন কমছে বাঘরোলের সংখ্যা?

সংরক্ষিত অঞ্চলের বাইরের এই ৩৩ শতাংশ অঞ্চলের মধ্যে আবার প্রায় ৮৯ শতাংশ অঞ্চল মনুষ্যবসতির মধ্যে। নতুন এই গবেষণা বলছে, সেই সমস্ত অঞ্চলে যথেষ্ট পরিমাণে চাষের জমি, জলাভূমি, পুকুর ও ভেড়ি রয়েছে। কিন্তু সেখানে মানুষ-প্রাণীর সংঘাত

(ম্যান-অ্যানিম্যাল কনফ্লিক্ট) আর পথদুর্ঘটনার কারণে বেঘোরে মারা পড়ে প্রচুর বাঘরোল। উপরন্তু যেভাবে বেলাগাম ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ ঘটছে, তাতে জলাভূমি বোজানোর মতো ঘটনা আকছার ঘটে। আর যেহেতু বাঘরোলের প্রধান খাবার মাছ, কাঁকড়া ও সাপ, আর যাদের বেঁচে থাকার জন্য জল অত্যাবশ্যক, সেই জলাভূমি না থাকলে বাঘরোল খাবে কী!

কলকাতার কথাই ধরা যাক। সময়ের সঙ্গে-সঙ্গে পৌরসভার গাফিলতি ও জনসাধারণের সচেতনতার অভাবে কলকাতার নদী বদ্ধ, পূতিগন্ধময় নালায় পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি কেবল ১৯৯০ থেকে ২০১১ সালের মধ্যেই পূর্ব কলকাতার জলাভূমি সংলগ্ন অঞ্চলের বেলাগাম নগরায়ণ হয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই জলাভূমির ১৭ বর্গকিলোমিটার অংশ বুজিয়ে ইমারত গজিয়ে উঠেছে। যে বাঘরোলের বেঁচে থাকার জন্য মাছ আবশ্যক, আর মাছের জন্য আবশ্যক জল, কলকাতায় আজ সেই জলাভূমির আকাল। স্রেফ খাবারের অভাবেই, যে সামান্য সংখ্যক বাঘরোল ছিল, তারাও কলকাতা শহরের প্রান্তের দিকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু গবেষকদের মতে, সারা রাজ্যজুড়ে বাঘরোলের সংখ্যা কমে যাওয়ার নেপথ্যে খাদ্যাভাবের থেকেও বেশি কাজ করছে পথদুর্ঘটনা।

যে পথে দুর্ঘটনা বেশি

গবেষকরা খেয়াল করেছেন, ১২ নম্বর জাতীয় সড়কপথ আর মুর্শিদাবাদের পলাশি-রেজিনগর এবং ভগবানগোলার উপর দিয়ে প্রসারিত ৩১২ নম্বর জাতীয় সড়ক পথদুর্ঘটনা-প্রবণ এলাকা। যেখানে গাড়ির ধাক্কায় বেঘোরে মারা পড়ে প্রচুর বাঘরোল। এদিকে বেলডাঙার নিকটবর্তী ১৪ নম্বর রাজ্য সড়ক, তেহট্ট ঘাট রোড, নবদ্বীপ রোড, বেতাই অঞ্চলের কাছে ১১ নম্বর জাতীয় সড়কে বাঘরোলের মৃত্যু ব্যাপকহারে ঘটে।

অন্যদিকে রয়েছে সোদপুর থেকে শ্যামনগর অবধি কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের অংশ, বারাসাত রোড, বাদুড়িয়া রোড, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর-ক্যানিং রোড, বাসন্তী হাইওয়ে, বারুইপুর সংলগ্ন ডায়মন্ড হারবার রোড, ভাঙড় রোড, যেখানে ঘনঘন পথদুর্ঘটনার কারণে মৃত্যু হয় প্রচুর সংখ্যক বাঘরোলের।

হাওড়ার বাগনান-আমতা রোড, আমতা-রানিহাটি রোড, পাঁচলা-সংলগ্ন ৪৫ নম্বর রাজ্য সড়কও রয়েছে এই তালিকায়। এছাড়াও দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর বহুল আশঙ্কা রয়েছে হুগলির ১৫ নম্বর জাতীয় সড়ক, সিঙ্গুর-সংলগ্ন ১৬ নম্বর ও ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে।

বাঘ, চিতা, হাতি ইত্যাদি স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মতোই বাঘরোল একসঙ্গে বিছিন্নভাবে ছড়িয়ে থাকা এক-একটি অঞ্চল বা হ্যাবিট্যাটে বাস করে। এই আপাত বিছিন্ন অঞ্চলগুলির মধ্যেও বাঘরোলের যাতায়াত বজায় থাকে ছোট-ছোট করিডোরের মাধ্যমে। হয়তো দেখা গেল, সেই

করিডোরের উপর দিয়েই গিয়েছে বড় কোনও সড়কপথ, যেখানে ভারী থেকে হালকা যানবাহনের চলাচল লেগেই রয়েছে। আবার দেখা গেল, একটি অঞ্চলের বাঘরোলদের রাস্তা পেরিয়ে খাদ্যের সংস্থানে যেতে হচ্ছে। হয়তো রাস্তা পেরোলে ভেড়ি বা পুকুর রয়েছে, যেখানে সে মাছ পাবে। তাই যানবাহনে ভরা সড়কপথে প্রাণ হারাচ্ছে এরা। যে অঞ্চলের প্রায় পুরোটাই পড়ছে বন্যপ্রাণীদের জন্য সংরক্ষিত অঞ্চলের বাইরে।

সচেতনতার অভাব এবং সংবাদ ও সমাজমাধ্যমের গাফিলতি

“পশ্চিমবঙ্গে অধিকাংশ মানুষই জানেন না যে আমাদের স্টেট অ্যানিম্যাল বাঘরোল বা মেছোবিড়াল। যেহেতু সাধারণ বিড়ালের আকারের প্রায় দ্বিগুণ বা তিনগুণ আর গায়ে চিতাবাঘের মতো ছোপ রয়েছে, তাই আমজনতার মতে এরা হলো বাঘের বাচ্চা”, আক্ষেপ করে জানালেন ডঃ চক্রবর্তী। তিনি বলছেন, “তবে অন্ধকারে হঠাৎ চোখে পড়লে যে কারওই বাঘের বাচ্চা ভেবে ভুল হবে।"

আমজনতার এই অজ্ঞতার পেছনে সামাজিক মাধ্যম, এমনকী সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ডঃ চক্রবর্তী জানাচ্ছেন, “কোনও গ্রামে বাঘরোল দেখা গেলে বড় বড় সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে, ছোটখাটো ভ্লগার পর্যন্ত প্রচার করে 'ভয়ঙ্কর অজানা জন্তুর' দেখা মিলেছে। এরকম ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্কের সঞ্চার করে। মানুষও সন্ত্রস্ত হয়ে এবং খানিকটা সচেতনতা ও শিক্ষার অভাবে বাঘ ভেবে বাঘরোলকে মেরে ফেলে।"

পুকুর বা ভেড়ির আশেপাশে ক্যামেরা ট্র্যাপ বসালে, সেটি নজরে রাখার জন্য এলাকার বাসিন্দাদের সাহায্য লাগে। গবেষকদের পক্ষে সপ্তাহের পর সপ্তাহ সেখানে বসে ক্যামেরা ট্র্যাপ পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে সরকারের পরে ভরসার জায়গা সাধারণ মানুষই। “বাঘরোল নিয়ে মানুষের উদাসীনতা ও সহযোগীতার অভাবের জন্য উত্তরবঙ্গেও সার্ভে করতে সমস্যা হয়েছে। ফলে উত্তরবঙ্গে আমরা নানা প্রতিকূলতার জন্যে বাঘরোল গণনার কাজ চালাতে পারিনি”, জানাচ্ছেন ডঃ চক্রবর্তী।

সরকারি গাফিলতি

ডঃ চক্রবর্তীর মতে বাঘরোল নিয়ে সরকারের উদাসীনতা স্পষ্ট। “যার ফলে নিউটাউন, রাজারহাট, ভাঙড় বা তার আশেপাশের অঞ্চলগুলিতে আমরা সার্ভে করতে পারিনি। সরকারের তরফ থেকে কোনও প্রকল্প নেই। যা না থাকলে গবেষণা এগোনো আমাদের পক্ষে

সম্ভব নয়”, আক্ষেপ করলেন তিনি।

এছাড়াও উত্তরবঙ্গে সমীক্ষা চালানোর সময় যে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন গবেষকরা, তা মাথায় রেখে তাঁরা প্রস্তাব দিয়েছিলেন কেবল উত্তরবঙ্গের কথা মাথায় রেখেই মালদা, দুই দিনাজপুর, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং অবশ্যই তরাই অঞ্চলকে সামনে রেখে সমীক্ষা

করার কথা। কিন্তু বোর্ড বা বনদফতর কারও তরফ থেকেই কোনও সাহায্য পাওয়া যায়নি। ফলে উত্তরবঙ্গে সম্ভাব্য অঞ্চলগুলিও বাদের খাতায় থেকে গেছে। যার প্রভাবে এই অঞ্চলের মানুষদেরও বাঘরোল নিয়ে আর সচেতন করা সম্ভব হচ্ছে না।

বাঘরোলে সংরক্ষণের জন্য পদক্ষেপ দরকার

এই গবেষণা উল্লেখ করছে,সংরক্ষিত অঞ্চলগুলিতে বাঘরোল নিরাপদে আছে। বিশেষ নজর দরকার সংরক্ষিত অঞ্চলের বাইরে, যে অঞ্চলের বিস্তার সংরক্ষিত অঞ্চলের থেকেও বেশি। তাই সবার আগে প্রয়োজন মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো। গবেষকদের মতে, সড়কপথে দুর্ঘটনাপ্রবণ অঞ্চলগুলিতে স্পিড ব্রেকার এবং সাবধানবাণী লিখে কমানো যেতে পারে দুর্ঘটনা। ঠিক যেমনটা হাতি, হরিণ, নীলগাই বা অন্যান্য বন্যপ্রাণী অধ্যুষিত জায়গাগুলিতে করা হয়। এছাড়াও নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে যানবাহনের গতিবেগ বেঁধে দিয়েও আটকানো যেতে পারে বাঘরোলের মৃত্যু।

ডঃ চক্রবর্তীর মতে, “সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে সমাজমাধ্যম, সবাইকে দায়িত্ব নিয়ে আমজনতার মাঝে বাঘরোল নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে, ভুয়ো খবর বা আতঙ্ক না ছড়িয়ে।" বাঘরোল মাছ খেয়ে যায় বলে বহু মানুষের রোষ থাকে এদের উপর। কিন্তু প্রকৃতিতে মানুষ যে সবার উর্ধ্বে নয়, সবাইকে নিয়েই যে প্রকৃতি এবং প্রাকৃতিক সম্পদে যে সমস্ত জীবের অধিকার রয়েছে, এ কথা বিশ্বায়ন মানুষকে ভুলিয়ে দিয়েছে। প্রাণী ও প্রকৃতিবিদ ডঃ জেন গুডঅল নিজের নব্বইতম জন্মদিনে ‘মঙ্গাবে’-র একটি পডকাস্টে উল্লেখ করেছিলেন, “প্রকৃতিকে বাঁচানোর জন্য সমস্ত জীব-জগতের উপর মানুষের সহানুভূতির প্রয়োজন”। বাঘরোল সংরক্ষণের প্রসঙ্গে ঠিক একই কথাই

প্রতিধ্বনিত হলো ডঃ চক্রবর্তীর কথাতেও।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কোথায় আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় মুরাসু, কতটা ক্ষয়ক্ষতি, বাংলায় কী প্রভাব?

Cyclone Murasu: ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয় ঘূর্ণিঝড় মুরাসু। মঙ্গলবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়ে শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়। নেল্লোর, প্রকাশম ও বাপটলা জেলায় গাছ উপড়ে পড়েছে, নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। তামিলনাড়ু ও ওড়িশাতেও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি হয়েছে। বাংলায় কতটা প্রভাব ফেলবে মুরাসু?

ভুটানে হড়পা বানের জেরে উত্তরবঙ্গে আতঙ্ক, কী পরিস্তিতি এখন?

Bhutan Flash Flood: ভুটানের শিনতাফু হ্রদ ভেঙে হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তা ও পর্যটনকেন্দ্রের পরিকাঠামো। বন্যার আশঙ্কায় আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরানোর উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। শুক্রবার সকালে সংকোশ নদীর জলস্তর না বাড়ায় কিছুটা স্বস্তি ফেরে। পরিস্থিতি এখন কেমন?

মাত্র ১০০ বই থেকে ১০ হাজার! অসমের চা-বাগানের শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ছেন অনিন্দিতা

Assam Library Initiative: মাত্র ১০০টি বই নিয়ে ২০২০ সালে অসমের চা-বাগান এলাকার শিশুদের জন্য লাইব্রেরি শুরু করেছিলেন অনিন্দিতা গগৈ। আজ তিনটি লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। পরিবারের ৪০ লক্ষ টাকারও বেশি বিনিয়োগে এগিয়ে চলেছে এই উদ্যোগ। কীভাবে শিশুদের পড়াশোনা ও সৃজনশীলতার সুযোগ তৈরি করছেন অনিন্দিতা?

Cyclone Arnab: কোথায় আছড়ে পড়ল অর্ণব, কতটা ক্ষয়ক্ষতি? বাংলায় কতটা প্রভাব?

Cyclone Arnab: অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া, ভারী বৃষ্টি ও জল জমার জেরে বিপর্যস্ত একাধিক এলাকা। ৮৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছে। বাংলার কোন কোন জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, আর কতটা প্রভাব পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়ের?

অ্যানথ্রোপিকের মতো এআই সংস্থাগুলি যেভাবে হয়ে দাঁড়াচ্ছে জলবায়ু সংকটের কারণ

The AI Carbon Bill: অ্যানথ্রোপিকের আইপিও ফাইলিংয়ে জলবায়ু পরিবর্তনকে বড় ব্যবসায়িক ঝুঁকি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো। ডেটা সেন্টার ঠান্ডা করতে বিদ্যুৎ-জলের ব্যয় বাড়ছে। ২০২৫-এ ডেটা সেন্টারগুলিতে ঘণ্টা প্রতি বিদ্যুৎ ব্যবহার, ৪৪৮ টেরাওয়াটে পৌঁছবে।

লুলার জয়ের পরেও কেন স্বস্তিতে নেই 'পৃথিবীর ফুসফুস' আমাজন?

lula's amazon policy: প্রথম পর্বে পিছিয়ে থাকার পর, কুড়ি দিনে এক কোটিরও বেশি ভোট বাড়িয়ে লুলা দা সিলভা চতুর্থবার ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন। লুলার আমলে, আমাজনের জঙ্গল উজাড় হওয়া ৭১% কমেছে, তবু আইনসভায় ডানপন্থীদের শক্তিবৃদ্ধি হওয়ায়, আমাজনের সংকটজনক সীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেলই।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব : কোথায় রয়েছে, বাংলায় কতটা দুর্যোগের আশঙ্কা?

Cyclone Arnab: বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে অর্ণব। বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে এই ঝড়। সরাসরি বাংলায় আঘাত না হানলেও মঙ্গলবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টি হতে পারে। কোন কোন জেলায় দুর্যোগের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি?

রেকর্ড ভাঙা সমুদ্রের উষ্ণতা: কতটা বিপদের মুখে পৃথিবী?

super el nino 2026: অক্টোবরে নিনো ৩.৪ অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার পার্থক্য, ২০১৫-১৬-র রেকর্ড ভেঙে ৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়াতে চলেছে। ডব্লিউএমও বলছে, এই এল নিনো ২০২৭ পর্যন্ত প্রভাব ফেলবে। ভারতে বর্ষায় ১৩% ঘাটতি, ৩৯.৮% কৃষিজমিতে খরা, ফসল উৎপাদন ৪% কমার আশঙ্কা রয়েছে।