উত্তরপ্রদেশে মসনদে ফের যোগী, কেন দাগ কাটতে ব্যর্থ বিরোধীরা

Aritra Dasgupta
৩ মিনিট
উত্তরপ্রদেশে মসনদে ফের যোগী, কেন দাগ কাটতে ব্যর্থ বিরোধীরা

চ্যালেঞ্জ ছিল অনেক। কিন্তু সেসব অতিক্রম করে ফের একবার উত্তরপ্রদেশের মসনদে যোগী আদিত্যনাথ। এইবারের ভোটে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাওয়া নিয়ে সংশয় ছিল বিজেপির অন্দরে ও। করোনার সময় থেকে একের পর এক ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে বেশ চাপেই ছিলেন যোগী। কিন্তু ২০২২-এর ভোটের অঙ্ক প্রমাণ করল যোগীর প্রতি উত্তরপ্রদেশের আমজনতার ভরসা এখনও অটুট।

করোনা পরিস্থিতিতিতে ইউপির সামগ্রিক চিত্র গোটা দেশের কাছেই দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছিল। গঙ্গার চর ধরে কমলা শালুতে মুড়িয়ে মৃতদেহের সারির ছবি কিংবা অক্সিজেনের অভাবে ছটফটিয়ে রোগীর মৃত্যু সবমিলিয়েই সিঁদুরে মেঘ দেখেছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এমনকি এই পরিস্থিতিতে ড্যামেজ কন্ট্রোলের জন্য মাঠে নেমেছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এবং বারানসীর সাংসদ নরেন্দ্র মোদী। উত্তরপ্রদেশে যোগী সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতে গুজরাট ক্যাডারের পোড় খাওয়া আমলা একে শর্মাকে পাঠিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। বলাই বাহুল্য নিজের রাজ্যে কোনও দিল্লির আমলার খবরদারিকে কার্যত পাত্তাই দেননি যোগী আদিত্যনাথ।

করোনা পরিস্থিতি ছাড়া ও বিজেপির অন্যতম পথের কাঁটা ছিল কেন্দ্রের কৃষি বিল নিয়ে উত্তরপ্রদেশের কৃষকদের ক্ষোভ। এই সব অশান্তির রেশ ধরেই পুর ভোটে বেশ খারাপ ফল করেছিল বিজেপি। বিরোধীরা ও এর সুযোগ নিতে কসুর করেননি। সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের আগে বিজেপির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু লখনউর সিংহাসন থেকে খালি হাতেই ফিরতে হল সমাজবাদী পার্টিকে।

আশা জাগিয়েও কেন ব্যর্থ অখিলেশ?

উত্তরপ্রদেশের ভোটের আগে গোটা দেশের যে বিজেপি বিরোধিতা তাকে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন অখিলেশ যাদব। কৃষি বিল নিয়ে উত্তরপ্রদেশের কৃষকদের ক্ষোভ থেকে শুরু করে যোগীর মেরুকরণের রাজনীতি সব নিয়েই মানুষের কাছে পৌঁছতে চেষ্টা করেছিলেন মুলায়ম পুত্র। উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে জাতের রাজনীতি ভোটের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা ট্রাম্প কার্ড। কৃষকদের মধ্যে জাঠ, কুর্মি সম্প্রদায়ের মানুষদের একটা অংশের সমর্থন পেয়েছিলেন অখিলেশ। আবার মুসলিম ভোটারদের ক্ষেত্রে ও একটা অংশ সমাজবাদীর পার্টির পক্ষে ছিল। অপরদিকে উত্তরপ্রদেশের উচ্চবর্ণ হিন্দুদের সমর্থন অটুট ছিল বিজেপির প্রতি। এমনকি নিম্নবর্গের কিছু গোষ্ঠীকেও নিজেদের হিন্দুত্ববাদী ছাতার তলায় আনতে সমর্থ হয়েছিলেন যোগী।

কিন্তু অখিলেশের পূর্ব উত্থানও মিথ্যে ছিল না। উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের আগে অখিলেশের জনসভায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। কিন্তু শেষমেশ এই টক্করে পারলেন না অখিলেশ। যদি ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে উত্তরপ্রদেশের গদিতে অখিলেশের বসা হল না ঠিকই কিন্তু বিজেপির নিরঙ্কুশ আধিপত্যে খানিক হলে ও থাবা বসাতে পেরেছেন অখিলেশ। আসনের বিচারে দেখলে ২০১৭ এর নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টি পেয়েছিল ৪৭ টি আসন। অন্যদিকে বিজেপির ঝুলিতে ছিল ৩১২ টি আসন। সেখানে এইবার ২০২২ এর নির্বাচনে বিজেপি ২৬৯ টি আসনে এগিয়ে।অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টি ৪৭ থেকে এইবার ১১৫ টি আসনে এগিয়ে। সেই দিক থেকে দেখতে গেলে খানিকটা হলেও জাতধর্মের রাজনীতি এবং বিজেপি বিরোধিতার ফায়দা তুলতে পেরেছেন অখিলেশ। নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র কারহল থেকে ও বড় মাপের জয় পেয়েছেন অখিলেশ যাদব।

কিন্তু তাত ও যোগীর বিজয়রথকে আটকানো যায়নি। বিজেপির অন্দরে যোগীর উগ্র হিন্দুত্ব নিয়ে অসন্তোষ থাকলে ও নাগপুরের নির্দেশেই যোগীকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করেছিল বিজেপি। যোগী বিরোধীরা যতই যোগীর শাসনের দিকে আঙুল তুলুক সাধারণ মানুষের সমর্থন ছিল তার দিকেই। পেট্রোল ডিজেলের ক্রমাগত দাম বৃদ্ধি, করোনা কালে পরিযায়ী শ্রমিকদের অবস্থা, বাজারের মন্দা সব নিয়েই উত্তরপ্রদেশের বেশিরভাগ মানুষের মত ছিল গোটা বিশ্বের যেখানে এমন শোচনীয় অবস্থা সেখানে আলাদা করে এই ব্যর্থতার দায় আদিত্যনাথ বা মোদীর নয়। এই যে বিজেপির উত্তরপ্রদেশ বিজয় তার মূলেই রয়েছে হাজার ব্যর্থতার পরও সফলভাবে ভোটারদের মন জয়।

ভোটের আগে হিন্দু মুসলিম মেরুকরণে আশি- কুড়ির তত্ত্ব থেকে শুরু করে বিরোধীদের গুঁড়িয়ে দিতে বুলডোজার থিওরি সবমিলিয়ে যোগী আদিত্যনাথ তার হিন্দু রাজনীতি নিয়ে ছিলেন অবিচল নির্বিকল্প। যোগীর রাজ্যে ঠাকুর সম্প্রদায়ের বাড়াবাড়ি নিয়ে ব্রাহ্মণদের ক্ষোভ ছিল হয়তো কিন্তু যোগী জানতেন কোন দেবতা কোন ফুলে তুষ্ট। ফলে এইবার সব বিরোধিতাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে লখনউ-এর তখতে যোগীই।

লিখেছেন
Aritra Dasgupta
Aritra Dasgupta
1 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।