নারী মুক্তি নারী শক্তি, ফিরে দেখা নারী দিবসের ইতিহাস

Rupa Mitra
২ মিনিট
নারী মুক্তি নারী শক্তি, ফিরে দেখা নারী দিবসের ইতিহাস

"নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার

কেহ নাহি দিবে অধিকার

হে বিধাতা?

নত করি মাথা

পথ প্রান্তে কেন রব জাগি

ক্লান্ত ধৈর্য্য প্রত্যাশার পূরণের লাগি

দৈবগত দিনে।"

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে রবীন্দ্রনাথেক এই কবিতা খানি বারংবার মনের গহিনে উঁকি দেয়। আজকের দিনটি প্রতিবছর নানানরকম ভাবে আমরা পালন করি। কিন্তু অনেকেই হয়তো আর স্মরণ করেন না এই দিনটির আসল তাৎপর্য।

১৮৫৭সালে প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের একটি সুতা কারখানায় মহিলা শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে প্রথম আন্দোলন করে।পুরুষরা ৮ ঘন্টা কাজ করলেও মেয়েদের ১২ ঘন্টা কাজ করতে হতো এবং পারিশ্রমিকও তারা কম পেতো।কারন মালিকের ধারণা ছিলো মেয়েরা পুরুষদের তুলনায় কম কাজ করে। কাজের সময় ১২ ঘন্টা থেকে ৮ঘন্টা এবং উপযুক্ত পারিশ্রমিক আদায়ের জন্য মেয়েরা পথে নামে। সেই শুরু,এরপর আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস।নারী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম।১৯০৮ সালে নিউইয়র্কের "সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট"-নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী 'ক্লারা জেটকিন'-এর নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৭টি দেশ থেকে মোট ১০০জন নারী প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন।১৯১০ সালের ৮-ই মার্চ এই দিনটি নারী দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেন ক্লারা জেটকিন। কিন্তু বিরোধীতার শেষ ছিলোনা।তাই ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে ১৯১১ সালের ১৯শে মার্চ গোটা ইউরোপ জুড়ে মহিলারা রাস্তায় বেড়িয়ে এলেন। মহিলাদের ভোটাধিকার,তাদের জনপ্রতিনিধি হবার অধিকার এবং একই সঙ্গে কাজের জন্য পুরুষ দের সমান মজুরীর দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠলো ইউরোপের শহরের রাজপথগুলি।

এরপর কেটে গেলো আরোও ৬ বছর।১৯১৭ সাল।পেত্রোগ্রাদ।সেই ৮-ই মার্চ।শহর জুড়ে মহিলারা রাস্তায় বেড়িয়ে এলেন। সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিলেন। তাদের দাবি-"রুটি আর শান্তি"।যুদ্ধের অবসান হোক। রাশিয়ার 'জার' নিপাত যাক্।সূচনা হলো ফ্রেব্রুয়ারি রেভোলিউশন-এর।সূচনা হলো International Working Women's Day-এর।

দুনিয়া কাঁপানো দশদিনের সমাপ্তি শেষে সোভিয়েত ইউনিয়নে আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী নারী দিবস কে ছুটির দিন ঘোষণা করা হলো।আলেক্সান্দ্রা কোলোনতাই,এমা গোল্ডম্যান, নারী অধিকারের পক্ষে বক্তব্য রাখলেন। কিন্তু তখনো সম্পূর্ণ জয় আসেনি। ইংল্যান্ডে মহিলাদের ভোটাধিকারের দাবীতে শহীদ হলেন এমিলি ডেভিডসন।জেলে অনশনরত মহিলাদের গলা বা নাক দিয়ে জোর করে টিউব ঢুকিয়ে তাদের খাওয়ানোর চেষ্টা চলতে লাগল। ইতিমধ্যেই সোভিয়েতে কোলোনতাইয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় চালু হলো নতুন সিভিল আইন। ডিভোর্স,যৌনতা, অ্যাবর্শন,মাতৃত্ব,-সব নিজস্ব বিষয়গুলিতে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হল।মাতৃত্ব, উত্তরাধিকার, সম্পত্তি সবকিছুতেই নারীদের সামনে এক নতুন উন্মেষ ঘটল।

১৯২৮-এ ইংলন্ডে মহিলারা ভোটাধিকার পেল। এরপর কেটে গেলো বহু দশক। একে একে এলো জয়, শিক্ষার অধিকার, সম্পত্তির অধিকার, ভোটদানের অধিকার ইত্যাদি। ভারতে তখন লড়েছিলেন সাবিত্রীবাই ফুলে,বেগম রোকেয়া, সাখাওয়াত হোসেন। এরপর এল সেই দিন- ১৯৭৭ সাল। United Nations-এ প্রস্তাব পাশ হলো, বিশ্বজুড়ে ৮-ই মার্চ নারী দিবস ঘোষনার। International Working Women's Day হয়ে গেলো International Women's Day.

লিখেছেন
Rupa Mitra
Rupa Mitra
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।