বদলে গেল অফিসিয়াল বল, বিশ্বকাপে নতুন কি পরিবর্তন আনল ফিফা?

FIFA World Cup 2022 : বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন তো প্রতিটা ফুটবলারের। সেই স্বপ্নকে সামনে রেখেই তৈরি করা হয়েছে এই বল, জানিয়েছে ফিফা।

Aritra Som
২ মিনিট
বদলে গেল অফিসিয়াল বল, বিশ্বকাপে নতুন কি পরিবর্তন আনল ফিফা?

একটু একটু করে ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ লগ্ন চলেই এল। গ্রুপ পর্যায় পেরিয়ে শেষ ১৬-র লড়াই, তারপর কোয়ার্টার ফাইনাল – এবার শেষ চারটি ম্যাচ। ঘটনা, অঘটন পেরিয়ে সেমি ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা, ক্রোয়েশিয়া, ফ্রান্স ও মরক্কো। সোনালি ট্রফিটি কে হাতে নেবে, সেটা তো জানা যাবে ১৮ ডিসেম্বরে। তবে তার আগেই বিশ্বকাপে পরিবর্তন আনল ফুটবল নিয়ামক সংস্থা ফিফা (FIFA)।

প্রতি বিশ্বকাপেই সেমি ফাইনালের আগে বদল হয় অফিসিয়াল বল। পুরনো প্রথা বজায় রেখে এবারও সেই বল পরিবর্তন করল ফিফা। এতদিন বিশ্বখ্যাত সংস্থা অ্যাডিডাসের (Adidas) তৈরি ‘আল রিহলা’ (Al Rihla) বল দিয়েই কাতারে চলছিল বিশ্বকাপের আসর। এবার তার জায়গায় এল নতুন বল। এটিও তৈরি করেছে অ্যাডিডাস, নাম ‘আল হিম’ (Al Hilm)। আরবি ভাষায় যার অর্থ ‘স্বপ্ন’ (The Dream)। অন্যদিকে, আল রিহলার অর্থ ছিল ‘যাত্রা’ (The Journey)। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন তো প্রতিটা ফুটবলারের। সেই স্বপ্নকে সামনে রেখেই তৈরি করা হয়েছে এই বল, জানিয়েছে ফিফা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
‘টিয়েন্টো’ থেকে ‘আল রিহালা’, ৯২ বছরে বিশ্বকাপের ফুটবলখানাই হয়ে উঠলো ‘হাইটেক’

Fifa World cup 2022 : বিশ্বকাপের ময়দানই যেন অতিসাধারণ এক ফুটবলকে নিমেষের মধ্যে করে দিলো হাইটেক

কী কী পরিবর্তন হয়েছে? মূলত বলের রঙটি আগের থেকে বদলেছে। এতদিন আল রিহলার রঙ ছিল দুধ সাদা। তার সামনে ছিল বিভিন্ন রঙের নকশা আঁকা। নতুন বল আল হিমের রঙ সোনালি ঘেঁষা। ফিফার তরফ থেকে বলা হয়েছে, মরুভূমি, বিশ্বকাপের ট্রফিতে সোনালি আভা ছড়িয়ে থাকে। সেই আভাই এবার ছড়িয়ে দেওয়া হল বলেও। সেইসঙ্গে কাতারের পতাকার রঙের (সাদা এবং মেরুন) নকশাও দেখা যাবে।

ফিফা জানিয়েছে, মূল পরিবর্তন বলতে এটাই। তবে আগের বলের মতো এই বলেও থাকছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সেন্সর। উল্লেখ্য, ২০২২ কাতার ফুটবল বিশ্বকাপে ময়দানে অনেক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে ফিফা। ভিএআর টেকনোলজি, রেফারিদের অত্যাধুনিক ঘড়ি, গোললাইন টেকনোলজির পাশাপাশি বলের ভেতরেও রয়েছে নানা যন্ত্র। রয়েছে অনেক চিপ এবং সেন্সর।

ম্যাচের আগে এই বলকে রীতিমতো চার্জ দিয়ে মাঠে নামানো হয়। ভেতরে থাকা চিপ ও সেন্সর ম্যাচের যাবতীয় তথ্য ট্র্যাক করতে থাকে। ফুটবলারদের অবস্থান, অফসাইড, গোললাইন ইত্যাদি বহু তথ্যই সঙ্গে সঙ্গে চলে যায় ম্যাচ অফিসিয়ালদের কাছে। হেডে গোল হলে বলটি কোন খেলোয়াড়ের মাথায় লেগেছে, হাতে ছুঁয়েছে কিনা ইত্যাদি বিভিন্ন ব্যাপার নিয়ে প্রায় নিখুঁত তথ্য পাওয়া যায়। ফিফার পক্ষ থেকে আল রিহলাকে বলা হয়েছিল ‘কানেকটেড বল’। এই সমস্ত প্রযুক্তিই আরও ভালোভাবে আল হিমের মধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। যাতে বিশ্বকাপের শেষ চারটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কোনও বিতর্ক দানা না বাঁধে। আপাতত মাঠে আল হিমের জাআওয়ার অপেক্ষা। সেইসঙ্গে আবারও রাত জাগার প্রস্তুতি শুরু।

লিখেছেন
Aritra Som
Aritra Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নারী টেস্টে এত অনীহা কেন, লর্ডসের ইতিহাসও বদলাবে না সেই ছবি?

Women’s Test Cricket: লর্ডসে ভারতের নারী ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয় নারী টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বদলানোর সুযোগ এনে দিয়েছে? এত সাফল্য ও জনপ্রিয়তার পরও কেন এই ফরম্যাটে নিয়মিত ম্যাচ নেই?

শিব-পরশুরামের যুদ্ধবিদ্যা কালারিপায়াট্টু থেকেই জন্ম কুংফুর!

Kalaripayattu Indian Martial Art: ভারতীয় পৌরাণিক ঐতিহ্যে কালারিপায়াট্টুকে স্রেফ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে দেখা হয়নি, বরং এটিকে মানব শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রাণশক্তিকে জাগিয়ে তোলার এক মহান সাধনা বলে মনে করা হয়।

দু'হাজার বছর পুরনো ‘আত্য পাত্যা’: এই খেলাই শিখিয়েছিল যুদ্ধের কৌশল!

Atya Patya Traditional Indian Game: আনুমানিক ১০০ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত প্রাচীন তামিল সাঙ্গম সাহিত্য ‘নাটতৃণৈ’-তে এই খেলার প্রথম লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়। অতএব, এই খেলার বয়স প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি। সেখানে বলা আছে, প্রাচীন চোল রাজবংশের সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে নিজেদের ক্ষিপ্রতা, দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষমতা আর শরীরকে এক নিমেষে বাঁকানোর চপলতা বাড়াতে এই খেলায় মেতে উঠত।

১৬ বছর পর ফের ভারতের পথে ললিত মোদী

Lalit Modi return to India: দীর্ঘ সময় পর দিল্লির আপিল ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আর্থিক অনিয়মের বড় অভিযোগ ও জরিমানা বাতিল করে দেওয়ার পরেই এই আলোচনার সূত্রপাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ললিত মোদী নিজেই স্পষ্ট করেছেন, সমস্ত বড়সড় আইনি জটিলতা কাটার পর ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭-এর শুরুতেই ফের তিনি ভারতে পা রাখতে চলেছেন।

গোলের আড়ালে ঘৃণার খেলা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ট্রাম্প, ফিফা আর ফুটবলের পরাজয়

Trump FIFA World Cup: এই বিশ্বকাপ শুধুই একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; মাঠের লড়াই ছাপিয়ে তা হয়ে উঠেছে ভূ-রাজনীতি, বর্ণবিদ্বেষ এবং বাণিজ্যিক আধিপত্যের এক জটিল ময়দান।

একটা রাজপুত্তুর যার মুকুট হারিয়ে গিয়েছে

Lionel Messi Retirement: তিনটে ফাইনালের বোঝা। একে একে ছেড়ে যায় সহযোদ্ধারা। রক্তাক্ত মাসচেরানো চলে যান, কুন আগুয়েরোর অসুখ... তবু লিও পড়ে থাকে, আমরা পড়ে থাকি আর কিছুদিন। বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজন ছিল একজন স্ক্যালোনির, তিনি সেটুকু সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নিলেন। আমরা অপেক্ষা করলাম লুসাইলে। আমরা তো কবেই হেরে গিয়েছিলাম, সৌদি আরব শুধু চিনিয়ে দিয়েছিল আশপাশটা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: যেভাবে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হল ফুটবল

FIFA Revenue 2026: 'কুইন্টেট প্রাইভেট ব্যাংক'-এর সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অনুঘটক হওয়ার চেয়ে বিশ্বকাপ আসলে একটি শক্তিশালী স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক উদ্দীপক হিসেবেই বেশি কাজ করে। ফিফা, সম্প্রচারকারী সংস্থা, স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড এবং আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) ক্ষেত্রগুলি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করলেও, কোম্পানির শেয়ারের দামে সেই ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে রাখা বেশ কঠিন।

যখন ইউরোপে নারীরা গৃহবন্দি, তখন অসমে মেয়েরা খেলছিলেন ধোপখেল

Dhop Khel Assam: আহোম রাজাদের রাজপ্রাসাদ থেকে বিহুর মেঠো মাঠ—অসমের মাটিতে একসময় গমগম করত ধোপখেলের আওয়াজ। ফুটবল, কাবাডি আর দূরন্ত নিশানার এই অদ্ভুত রোমাঞ্চকর খেলাটি শুধু পুরুষদের বীরত্ব প্রমাণের লড়াই ছিল না; যখন ইউরোপে নারীদের জীবন ছিল চার দেওয়ালে বন্দি, তখন অসমে মেয়েরাও মাঠে নেমে মেতে উঠতেন ধোপখেলে।