বাঙালির রক্তে স্বাধীন হওয়া ভারতে, আমরাই গণহত্যার দ্বারপ্রান্তে

West Bengal : ১৯৭১-এর পরে সারা বিশ্বে মুসলমান বাঙালির উপর ঘটা সবচেয়ে বড় গণহত্যাও ঘটেছে এই ভারতবর্ষে। এবং সেটা কিন্তু হিন্দু বাঙালির দ্বারা নয়, সেটাও ঘটেছে অন্য জাতির দ্বারা। 

Garga Chattopadhay
৪ মিনিট
বাঙালির রক্তে স্বাধীন হওয়া ভারতে, আমরাই গণহত্যার দ্বারপ্রান্তে

ভারতে বাঙালির আত্মপরিচয়, বাঙালির মাতৃভাষার পরিচয় এখন হয়ে গেছে একটি অপরাধীর পরিচয়। এবং এই ঘটনাটি কিন্তু একদিনে ঘটেনি। দীর্ঘকাল ধরে হিন্দি সাম্রাজ্যবাদীরা বাঙালি জাতির বিরুদ্ধে চরম ঘৃণার চাষ করেছে। হুগলির দেবাশিষ দাস, মুর্শিদাবাদের সুজন সরকার, কোচবিহারের আরতি ঘোষ, পূর্ব বর্ধমানের পলাশ অধিকারী, বীরভূমের গঙ্গাধর প্রামাণিক থেকে শুরু করে অজস্র মতুয়া সম্প্রদায়ের বাঙালি, অজস্র এদেশিয় মুসলমান বাঙালি, তাঁদের হেনস্থার কোনো শেষ নেই।

গণহত্যার দিকে বাঙালি জাতিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে— এই কথা শুনে অনেকে প্রথমে একটু চকিত হয়ে যাবেন। 'গণহত্যা'? গণহত্যা বলতে তো আমরা ১৯১৯-এ যে তিরিশ লক্ষ বাঙালিকে খুন করেছিল পাকিস্তানি এবং জামাতি রাজাকাররা, সেটা বুঝি। কিংবা 'গণহত্যা' বলতে আমরা বুঝি নাৎসিরা ইহুদিদের যেভাবে খুন করেছিল সেই ঘটনাকে। কিন্তু আমরা গণহত্যা বলতে ভুলে যাই যে ১৯৪৩-এ এই বাংলায় বড়বাজার, কালোবাজারি এবং মজুতদারি করে ৬০ লক্ষ বাঙালিকে খুন করা হয়েছিল। আমরা গণহত্যা বলতে ভুলে যাই যে ১৯৭১-এর পরে সারা বিশ্বে সবচেয়ে বৃহৎ হিন্দু বাঙালির উপর যে গণহত্যা ঘটেছে। এই ঘটনা ভারতবর্ষেই ঘটেছে এবং সেটা ঘটেছে মুসলমান বাঙালির দ্বারা নয়, অন্য জাতির হিন্দুদের দ্বারা। বাঙালি জাতির ‘শিলা পাথর’, ‘গোঁয়েশ্বর’— এই গণহত্যাগুলির কথা জানা দরকার। আবার ১৯৭১-এর পরে সারা বিশ্বে মুসলমান বাঙালির উপর ঘটা সবচেয়ে বড় গণহত্যাও ঘটেছে এই ভারতবর্ষে। এবং সেটা কিন্তু হিন্দু বাঙালির দ্বারা নয়, সেটাও ঘটেছে অন্য জাতির দ্বারা।

মহারাষ্ট্রে পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবার

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বেছে বেছে বাঙালিকেই ঘাড়ধাক্কা! বিধানসভা ভোটে 'কি ফ্যক্টর' বাংলাদেশি জুজু?

Migrant Workers: বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। সুতরাং ২৬-এর নির্বাচনে 'বাংলাদেশি হটাও'রাজনৈতিক ইস্যু হতে চলেছে বলে মত ওয়াকিবহল মহলের।

আজকের দিনে, ২০২৫ সালে আমরা আসলে গণহত্যার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছি এবং এটা কীসের ভিত্তিতে বলছি? গণহত্যার নিরীক্ষণ করা বিশ্ববরেণ্য সংস্থার সভাপতি টেন স্টেজেস অফ জেনোসাইড গণহত্যার ১০টি ধাপের একটি মাপকাঠি তৈরি করেছেন। এই মাপকাঠির মাধ্যমে গণহত্যার দিকে একটা জাতিকে কীভাবে ঠেলে দেওয়া হয়, তা চরিত্রায়ন করার চেষ্টা করেছেন তিনি। আমি যদি ধাপগুলো বলি, আপনারা নিজেরাই মিলিয়ে নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে, ১০টির মধ্যে প্রায় ৭টি ধাপ প্রযোজ্য।

প্রথম স্টেজ হচ্ছে, ক্লাসিফিকেশন; পিপল আর ডিভাইডেড ইনটু দেম অ্যান্ড আস— এটা বাঙালির ক্ষেত্রে প্রচন্ডভাবে সত্য। কারণ বাঙালি মানেই ফরেনার, বাংলাদেশি ইত্যাদি। দ্বিতীয় হচ্ছে, সিম্বোলাইজেশন; অর্থাৎ কোনো একটা ভাবে তার চরিত্রায়ন চিহ্নিতকরণ। যেমন 'মছলিখোর ', 'বাঙ্গালান ' (বাঙালি নারীদের বলা হয়) — হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী পুরুষতন্ত্রের যৌন আকাঙ্ক্ষা মেটানোর বস্তু হিসেবে যখন দেখানো হয়। যেকোনো বিজিত দাস জাতির ক্ষেত্রে নারীদের এইভাবেই চরিত্রায়ন করে সাম্রাজ্যবাদীরা। এমনকি এই কাংলু— এখন যেগুলো পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিকেই বলা হচ্ছে, এটা তো আসলে আমাদের যে নিজস্ব জীবনঅভ্যাস, সেগুলোকে বিজাতীয় বলে যে চরিত্রায়ন করা।আমাদের ধর্মাচরণ নিয়ে যা বলা হচ্ছে সেটাও চিন্তার। দিল্লির চিত্তরঞ্জন কলোনির যে কালি মন্দির, বাঙালী মৎস্য-বিক্রেতারা যে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেটাকে বলা হচ্ছে বাঙালীর কালীপুজো, বলা হচ্ছে অশুদ্ধ, অপবিত্র, অ-শাস্ত্রীয় ইত্যাদি।

তৃতীয় ধাপ হচ্ছে, ডিসক্রিমিনেশন। ডিসক্রিমিনেশন মানে ফুল সিভিল রাইটস। পূর্ণ যে নাগরিক অধিকার, সেটা। এবং ডিনায়াল অফ ভোটিং রাইটস। আমরা করোনার সময় দেখতে পেয়েছিলাম পরিযায়ী বাঙালিদের হিন্দিভাষী রাজ্যে, করোনার টিকাটিও দেওয়া হয়নি। এগুলো কিন্তু মানবাধিকারের মধ্যে পড়ে। এই সব কিছু থেকে শুরু করে, এই মুহূর্তে যে ডিনায়াল অফ ভোটিং রাইটস, ভোটাধিকার সংকুচিত করে দেওয়া— এই যে, বাংলাদেশি বলা, এনআরসির মাধ্যমে, ১২ লক্ষ হিন্দু বাঙালি এবং পাঁচ লক্ষ মুসলমান বাঙালিকে বেনাগরিক ঘোষণা করে দেওয়া— এগুলির কথা বিশেষভাবে ভাবা প্রয়োজন।অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের কার্ড দিয়েছে বিজেপি এমপি শান্তনু ঠাকুর। সেই কার্ড দেখানোর পরেও, তাদেরকে বেনাগরিক হিসেবে প্রতিপন্ন হতে হয়েছে। অর্থাৎ, তুমি হিন্দু হতে পারো, বিজেপি হতে পারো, ভারতীয় হতে পারো, যা কিছু হতে পারো, মতুয়া মহাসংঘের কার্ডও থাকতে পারে, পয়সা দিয়ে পাওয়া (পয়সা নিয়েছে শান্তনু ঠাকুর)। কিন্তু, তোমার মাতৃভাষা যদি বাংলা হয়, তাহলে তোমার প্যান্ট খুলে, তোমাকে বিদেশী কিনা চেক করবে না, তুমি মুখ খুলে বাংলা বেরুলেই, তোমাকে বিদেশী হিসেবে দাগানো হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাঙালি অস্মিতাকে চুম্বক করেই ছাব্বিশের লড়াই, একুশের সভায় বুঝিয়ে দিলেন মমতা

Mamata Banerjee: বাঙালি অস্মিতা, বাঙালির অপমানের কথা বলে, বাঙালির অধিকারের প্রশ্ন তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করিয়ে দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাতের কথা। বাঙালি জাতীয়তাবাদকে চুম্বক করে টান দিতে চাইছেন নারিতে।

চতুর্থ ধাপ হচ্ছে, ডিহিউমাইনাইজেশন। যখন একটি জাতিগোষ্ঠীকে একদম এবং তার এলাকাকেও জন্তু, কীট পতঙ্গ, বর্জ্য পদার্থ প্রভৃতিভাবে চরিত্রায়ন করা হয়। যেরকম অমিত শাহ যখন উইপোকা বলেছিলেন। বা যখন পশ্চিমবঙ্গ, ওয়েস্ট বেঙ্গলকে ওয়েস্ট (W.A.S.T.E.) অর্থাৎ জঞ্জাল, ওয়েস্ট বেঙ্গল বলা হয়।

গুরুগ্রাম, গুজরাট

পঞ্চম হচ্ছে, অর্গানাইজেশন। অর্থাৎ, সংগঠিত হওয়া এবং সংগঠিত করা, বাঙালির বিরুদ্ধে ঘৃণা বৃদ্ধির জন্য, ঘৃণামূলক অ্যাকশন নেবার জন্য। যেরকম আমি দু’ক্ষেত্রেই বলছি, এরকম ভার্চুয়াল দুনিয়ায়, বাঙালীর বিরুদ্ধে, সে বিজেপির আইটি সেল হোক বা বাঙালী বিদ্বেষী নানা হিন্দিভাষী গোষ্ঠীর নিজস্ব গ্রুপিং হোক, বিশেষত অনেকগুলো এরকম ইউপি, বিহার, রাজস্থান এবং দিল্লি থেকে অপারেট করা হয়। তারা টুইটার, ফেসবুক, ভয়ঙ্কর সব জিনিস চালায়। এমনকি গণহত্যার স্পষ্ট হিংসাও প্রকাশ করা হয়। যেরকম যখন আমফান এসেছিল, তখন একখানা মিম বেরিয়েছিল একটা হিন্দিভাষী গ্রুপ থেকে, যে, আমফানটা এসে পুরো পশ্চিমবঙ্গটাকে যেন উড়িয়ে নিয়ে গেছে। আমফানের পরে ম্যাপে পশ্চিমবঙ্গ নেই। মিমটির অর্থ এরকম হলে কত ভালো হতো আর কি!

ষষ্ট ধাপ হল পোলারাইজেশন বা মেরুকরণ। সেটা আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন, অমিত শাহ থেকে শুরু করে, নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে, হিন্দি ভাষার মিডিয়া থেকে, সবকিছুই সারাক্ষণ বাঙালিদের বিরুদ্ধে এরকম জিনিস করে যাচ্ছে। আমার মনে পড়ছে, দিল্লিতে, এক সময়ে বাড়িতে ঢুকে, একজন সাংবাদিক ওখানে বলছে, 'আজতক চ্যানেল ম্যায় জো বাংলা বোলতা হ্যায়, উও রোহিঙ্গা হ্যায়, রোহিঙ্গা হ্যায়'। কথাটা ভেবে দেখুন, রোহিঙ্গারা কিন্তু আদৌ বাংলা ভাষা বলে না, রোহিঙ্গা একটি আলাদা ভাষা। কিন্তু, এই যে ঘৃণার চর্চা সেটা সারা দেশ জুড়ে চলছে। কেবল ভাষা ও জাতির পরিচয়ের ভিত্তিতে অত্যচার চলছে। এর পরের স্তরগুলিতে রয়েছে ডিটেনশন ক্যাম্প, তারপর এক্সটারমিনেশন। এখন শুধু গণহারে হত্যা করাটা বাকি আছে। এবং এরপরের ধাপটাই হল ডিনায়াল বা অস্বীকার। যখন গণহত্যার পর সেই গণহত্যাকে অস্বীকার করা হবে। এই অব্দি এখনও আমরা পৌঁছয়নি। তবে এই দশম ধাপ বেশি দূর নয়। এই হল টেন স্টেজেস অফ জেনোসাইড। এখন বাঙালিদের ভাবা উচিত, তাঁদের রক্তে স্বাধীন হওয়া এই দেশে তাঁদের অবস্থা আজ কতটা কোণঠাসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনও যদি না ভাবি তাহলে বাঙালির প্রতি হেনস্থা, তাচ্ছিল্য, অপমান শীঘ্রই গণহত্যার পর্যায়ে পৌঁছে যাবে।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘মহাকাব্য যদি কোথাও জন্মে থাকে, তবে তা ফুটপাতে’—কৃষ্ণপ্রিয় দাশগুপ্তের সঙ্গে 'আড্ডা'য় অত্রি ভট্টাচার্য

The Other Kolkata of krishnapriya Dasgupta: কলকাতার সেই অচেনা ফুটপাতের মানুষরা কীভাবে বেঁচে থাকেন? সাংবাদিকতার দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় আজকালের প্রাক্তন সাংবাদিক কৃষ্ণপ্রিয় দাশগুপ্ত কী দেখেছেন? আর আজকের সংবাদমাধ্যম কেন বদলে গেল তাঁদের দেখার চোখে? তাঁর স্মৃতি, সাংবাদিকতা ও আজকের বদলে যাওয়া শহর নিয়েই তাঁর সঙ্গে আলাপচারিতায় অত্রি ভট্টাচার্য।

১৯৭১ থেকে ২০১১: কলকাতার ফুটপাথে থাকা মানুষদের রোজনামচা কেমন ছিল?

Kolkata pavement dwellers survey: ১৯৭১ থেকে ২০১১—এই চার দশকে কলকাতার ফুটপাথবাসীর সংখ্যা ৫০ হাজার থেকে বেড়ে প্রায় ৭০ হাজারে পৌঁছেছে। ফুটপাথবাসীদের নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা নেই। কেউ থাকেন উড়ালপুলের নীচে, কেউ রেললাইনের পাশে, আবার কেউ পরিত্যক্ত পাইপের ভিতরে। শহরের অসংগঠিত অর্থনীতিতে ফুটপাথবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের জীবনযাপন, কাজ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি নিয়ে অতীতে বেশ কিছু গবেষণা ও সমীক্ষাও হয়েছে।

শুধু আমেরিকা বা আফ্রিকাতেই নয়, বাংলাতেও ছিল দাসপ্রথা

International Day for the Remembrance of the Slave Trade and its Abolition: ২৩ আগস্ট আন্তর্জাতিক দাসব্যবসা স্মরণ দিবস। হাইতির দাসবিদ্রোহের পাশাপাশি স্মরণ করতে হবে, বাংলার মাটি থেকে লক্ষাধিক মানুষকে বলপূর্বক নির্বাসিত করার ইতিহাস। চট্টগ্রাম, হুগলি, সুন্দরবন হয়ে আরব, আফ্রিকা, মরিশাসে পৌঁছেছেন বাংলার দাসেরা। শুধু ইতিহাসে নয়, আজও বাঙালির আন্তর্জাতিকতা চর্চায় দাসেদের উল্লেখ প্রাসঙ্গিক।

ঘাড়ধাক্কা খেয়ে ওপারে, বাংলাদেশে যেভাবে বেঁচে আছেন সাইদা ফকির

Saida Fakir Deportation: বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগের পর কী ভাবে দিন কাটছে সাইদা ফকিরের? বাংলাদেশের কোথায় আছেন? কারা আশ্রয় দিল তাঁকে?

সোনালি সুইটির পর এবার সাইদা, 'ঘাড়ধাক্কা'র তালিকায় নতুন নাম যে প্রশ্ন তুলছে

Saida Fakir Case: সাইদা ফকিরকে বাংলাদেশি সন্দেহে সীমান্ত পার করে দেওয়ার অভিযোগ নতুন করে নাগরিকত্ব যাচাই ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সোনালি খাতুন ও সুইটি বিবির ঘটনারই যেন পুনরাবৃত্তি। কাউকে দেশছাড়া করার আগে যথাযথ তদন্ত ও সাংবিধানিক সুরক্ষা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, সেই বিতর্ক ফের উঠে এসেছে।

ফিরে দেখা: সোনালি-সুইটিদের নরক যাত্রা

Sonali Khatun, Sweety Bibi: দু'দশক দিল্লিতে থাকার পরও কেন সোনালি খাতুন ও সুইটি বিবিদের ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে সীমান্ত পেরিয়ে পাঠানো হলো? নাগরিকত্বের নথি থাকা সত্ত্বেও কেন জেল, পুশব্যাক ও অপমানের শিকার হতে হলো তাঁদের? সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ কি প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও মানবাধিকার প্রশ্নকে আরও সামনে এনে দিল?

উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যে নবম, তবু ফল প্রকাশের দিন হোটেলে কাজে ব্যস্ত সাগর

Sagar Mondal: উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যে নবম। মোট ৪৮৮ নম্বর। কিন্তু ফল প্রকাশের দিন বাড়িতে নয়, গুজরাটের আমেদাবাদের একটি হোটেলে কাজে ব্যস্ত ছিল পূর্ব বর্ধমানের সাগর মণ্ডল। পরিযায়ী শ্রমিকের ছেলে সাগরের স্বপ্ন আইএএস হওয়ার।