মাইক্রোসফট থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এল বিল গেটস ফাউন্ডেশন

Bill Gates Foundation: গেটস ফাউন্ডেশনের ট্রাস্ট তাদের হাতে থাকা মাইক্রোসফটের শেষ ৭.৭ মিলিয়ন শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে। এই শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৩.২ বিলিয়ন ডলার।

inscript
৩ মিনিট
মাইক্রোসফট থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এল বিল গেটস ফাউন্ডেশন

প্রযুক্তির জগতে বিল গেটসের নাম উঠলেই মাইক্রোসফটের কথা স্বাভাবিকভাবেই মনে আসে। ১৯৭৫ সালে যে সংস্থাটি তিনি পল অ্যালেনের সঙ্গে গড়ে তুলেছিলেন, সেই কোম্পানির শেয়ারই পরবর্তী কয়েক দশক ধরে তাঁর বিপুল সম্পদের প্রধান উৎস ছিল। আর সেই সম্পদ থেকেই তৈরি হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সংস্থা গেটস ফাউন্ডেশন। কিন্তু অবশেষে সেই দীর্ঘ আর্থিক সম্পর্কেরও ইতি ঘটল। গেটস ফাউন্ডেশনের ট্রাস্ট তাদের হাতে থাকা মাইক্রোসফটের শেষ ৭.৭ মিলিয়ন শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে। এই শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৩.২ বিলিয়ন ডলার।

এতদিন পর্যন্ত বিল গেটস ব্যক্তিগতভাবে মাইক্রোসফটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও তাঁর প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কোম্পানির সঙ্গে একটি আর্থিক সম্পর্ক ছিল। সেই শেষ সেতুটিও এখন ভেঙে গেল।

গেটস ফাউন্ডেশন ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং বৈষম্য কমানোর কাজে অর্থ ব্যয় করা। আফ্রিকায় ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ, পোলিও নির্মূল, টিকাকরণ কর্মসূচি, কৃষি উন্নয়ন থেকে শুরু করে শিক্ষাক্ষেত্রে নানা প্রকল্পে এই সংস্থা বিপুল অর্থ খরচ করেছে। বিশ্বের অন্যতম দাতব্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল বিল গেটসের মাইক্রোসফট থেকে অর্জিত সম্পদের।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সাত বছর ধরে বানিয়েছিলেন তিনশো শ্রমিক, বিশ্বশ্রেষ্ঠ ধনী বিল গেটসের বাড়ির অন্দর কেমন?

বিশ্বের সেরা ধনী ব্যক্তি গেটসের বাড়ি তৈরি করতে সময় লেগেছিল সাত বছর। এটি আমেরিকার ওয়াশিংটনের মেডিনায় লেক ওয়াশিংটনের পাশে ৬৬ হাজার স্কোয়ারফুটের ওপর নির্মিত।

এক সময় গেটস ফাউন্ডেশনের বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর বড় অংশ জুড়ে ছিল মাইক্রোসফটের শেয়ার। ২০২২ সালে এই শেয়ারগুলির মূল্য ফাউন্ডেশনের মোট সম্পদের প্রায় ২৭ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। অর্থাৎ, মাইক্রোসফটের শেয়ার থেকেই বিল গেটস বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছিলেন, আর সেই সম্পদের বড় অংশই পরে বিশ্বের নানা সমাজসেবামূলক কাজে ব্যয় হয়েছে।

তবে গত কয়েক বছরে ফাউন্ডেশন তাদের বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনতে শুরু করে। ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে ধাপে ধাপে মাইক্রোসফটের শেয়ার কমানো হয়। ২০২৫ সালে সেই শেয়ার বিক্রির গতি আরও বাড়ে। অবশেষে ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে হাতে থাকা সব শেয়ার বিক্রি করে গেটস ফাউন্ডেশন মাইক্রোসফটে তাদের সব বিনিয়োগ তুলে নেয়।

২০২৫ সালে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, তাঁর জীবদ্দশাতেই ফাউন্ডেশনের অধিকাংশ সম্পদ সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করতে চান। বিল গেটস তাঁর নিজস্ব ব্লগ গেটস নোটসে বলেছেন, ২০৪৫ সালের মধ্যে ফাউন্ডেশন কার্যত তাদের তহবিল শেষ করে ফেলবে। অর্থাৎ, অনির্দিষ্টকালের জন্য সম্পদ ধরে রাখার বদলে আগামী দু'দশকে দ্রুত অর্থ ব্যয় করার নীতি নিয়েছে সংস্থাটি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এটিই ছিল চিরপরিচিত কম্পিউটার ওয়ালপেপার, বিখ্যাত এই ছবির পেছনে লুকিয়ে কোন ইতিহাস?

Windows XP Famous Wallpaper : জানলে অবাক হবেন, এরকম জায়গা সত্যি সত্যিই নাকি রয়েছে! আর সত্যিই সেখানে গিয়েই ছবিটি তোলা হয়েছিল।

বিল গেটস বহু আগেই মাইক্রোসফটের দৈনন্দিন কাজ থেকে সরে এসেছেন। ২০০০ সালে তিনি প্রধান নির্বাহীর পদ ছাড়েন। ২০০৮ সালে পূর্ণকালীন কাজ থেকে অবসর নেন। ২০১৪ সালে চেয়ারম্যানের পদ ছাড়েন এবং ২০২০ সালে পরিচালনা পর্ষদ থেকেও সরে দাঁড়ান।

তবু আর্থিকভাবে মাইক্রোসফটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি। কারণ, ফাউন্ডেশনের হাতে কোম্পানির বড় অঙ্কের শেয়ার ছিল। এই শেয়ার বিক্রির ফলে সেই সম্পর্কের শেষ অবশিষ্টটুকুও মুছে গেল।

সম্প্রতি মাইক্রোসফট আবারও প্রযুক্তি বিশ্বের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। সত্য নাদেলার নেতৃত্বে কোম্পানিটি ক্লাউড কম্পিউটিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নতুন করে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। ওপেন এআই-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগ এবং নতুন সফটওয়্যার পণ্যের মাধ্যমে মাইক্রোসফট এখন বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযুক্তি সংস্থা।

অর্থাৎ, যে সময়ে মাইক্রোসফট নতুন প্রযুক্তি বিপ্লবের নেতৃত্ব দিচ্ছে, সেই সময়েই বিল গেটসের ফাউন্ডেশন কোম্পানিটির সঙ্গে তাদের সব আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন করল।

ফাউন্ডেশন শেয়ার বিক্রি করলেও বিল গেটস ব্যক্তিগতভাবে এখনও কিছু মাইক্রোসফট শেয়ারের মালিক। তবে ফাউন্ডেশনের দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিক্রি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তন।

বিশ্বজুড়ে টিকাকরণ, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, কৃষি এবং শিক্ষার মতো ক্ষেত্রে গেটস ফাউন্ডেশনের ভূমিকা অপরিসীম। অনেক উন্নয়নশীল দেশের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থাও এই সংস্থার সহায়তার উপর নির্ভরশীল। তাই বিনিয়োগ কাঠামোর এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে ফাউন্ডেশনের ব্যয় বাড়ানোর পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: সর্বোচ্চ আদালতের ভূমিকা নিয়েও কথা হোক

SIR controversy: নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে যখন একের পর এক অভিযোগ উঠছে, তখন সুপ্রিম কোর্টের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও কি প্রশ্ন উঠবে না? ফর্ম ৬, ভোটার তালিকা থেকে বাদ এবং ট্রাইবুনালে দীর্ঘসূত্রিতার মতো ঘটনায় সর্বোচ্চ আদালত কি তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে?

নেহা বোরার সভার পরেই যাদবপুরে কমিটি ভাঙল! রাজনৈতিক অনুষ্ঠান ঘিরে কেন তুঙ্গে বিতর্ক?

Neha Bora Jadavpur University: আয়োজক ছাত্র সংগঠন আইসার যাদবপুর ইউনিট দাবি করেছে যে তারা যথাযথ নিয়ম মেনে ২০ সেপ্টেম্বরই আবেদনপত্র জমা দিয়েছিল এবং ২৫ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট কমিটি থেকে অনুষ্ঠানটির অনুমোদনও পেয়েছিল। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার দেবজিৎ দত্ত দাবি করেন, এই ধরনের কোনো ফাইল বা অনুমতির চিঠি তাঁর দপ্তরে পৌঁছয়নি।

এসআইআর ফর্ম ৭ বিতর্ক, ৩০ জন মুসলিম ভোটারের নাম বাদের অভিযোগে এফআইআর

SIR Form 7 Controversy: হায়দরাবাদে এসআইআর-এ ফর্ম ৭ নিয়ে বিতর্ক। ৩০ জন মুসলিম ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন করার অভিযোগে বিজেপির এক বুথ এজেন্টের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। নির্বাচন আধিকারিকদের যাচাইয়ে ওই ভোটারদের ঠিকানায় থাকার প্রমাণ মেলে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বামের যে ভোট রামে গিয়েছে, তার অধিকাংশই ফেরানো যাবে বলে মনে করি: দীপ্সিতা

Dipsita Dhar Interview: ৮০ শতাংশ মানুষ মমতার বিরুদ্ধে ক্রোধ এবং ঘৃণায় বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন। বাকি ২০ শতাংশ দিয়েছিলেন ‘হিন্দুত্বের’ কারণে। সিপিএমের নেত্রী মনে করেন, সেই ৮০ শতাংশ মানুষকে বুঝিয়ে ফেরানো সম্ভব।

স্কুল বন্ধ, রাস্তায় বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ: ফ্রান্সে ছাত্র আন্দোলনের নেপথ্যে কী?

France Student Protests 2026: কেন উত্তাল ফ্রান্স? হাজার হাজার পড়ুয়া কেন স্কুল ছেড়ে রাজপথে? পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কেন বাড়ছে উত্তেজনা?

জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে আট ঘণ্টা ধরে আকাশবাণী ভবনে বিরোধীদের অবস্থান

Gyanesh Kumar Resignation Demand: জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর বন্ধের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভে নামে ইন্ডিয়া জোট। নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে বিরোধী সাংসদদের মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। ব্যারিকেড টপকে আকাশবাণী ভবনে পৌঁছন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ নেতারা। অখিলেশ যাদব, ডেরেক ও’ব্রায়েন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতাকে আটক করা হয়।

অভিজিৎ, সৌরভ, আশুতোষ গ্রেফতার হলেই থেমে যাবে আন্দোলন?

Possible detention of cockroaches:যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কে.পি. বসু মেমোরিয়াল হলে, বাম ছাত্রসংগঠনগুলির ‘জেন-জি আন্দোলন’ কনভেনশনে উপস্থিত হলেন, আইসা-র নেহা বোরা ও এসএফআই-এর সৃজন ভট্টাচার্য। তাঁদের দাবি, এসআইআর প্রত্যাহার, এনইপি বাতিল, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। অন্যদিকে ঘনাচ্ছে অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেফতারির আশঙ্কা। এরই মাঝে, ১০ অক্টোবর বড় সমাবেশের ডাক দিয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। নেতৃত্বহীন জনগণ কি চালিয়ে যেতে পারবে আন্দোলন?

নন্দীগ্রামে প্রতীকহীন তৃণমূল, রেজিনগরে গ্রেফতার হুমায়ুন: কেমন হচ্ছে উপনির্বাচন?

Nandigram Rejinagar by - election 2026: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রে ১৮,৮৯৫টি ভোটার আপিল হয়েছে, নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৯০টিতে। অযোগ্য ভোটার হিসাবে ঘোষিতদের, ৯৪-৯৫ শতাংশ মুসলিম। নন্দীগ্রামে তৃণমূলের নিজের প্রতীক নেই, কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে রেজিনগরে, ভোট চলাকালীন, হুমায়ুন কবীর গ্রেফতার হয়েছেন। উপনির্বাচনের ফল জানা যাবে, ৯ অক্টোবর।