এটিই ছিল চিরপরিচিত কম্পিউটার ওয়ালপেপার, বিখ্যাত এই ছবির পেছনে লুকিয়ে কোন ইতিহাস?
Windows XP Famous Wallpaper : জানলে অবাক হবেন, এরকম জায়গা সত্যি সত্যিই নাকি রয়েছে! আর সত্যিই সেখানে গিয়েই ছবিটি তোলা হয়েছিল।

নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা ভেসে যাচ্ছে। ঠিক নিচে সুন্দর, মখমলের মতো সবুজ মাঠ। ঘাসেদের বিছানা যেন কেউ যত্ন করে সাজিয়ে দিয়েছে উঁচু ঢিবির গায়ে। আর তার ওপরই রোদ আর ছায়ার খেলা চলছে। বেশ সুন্দর দৃশ্য, তাই না? খুব চেনা চেনা লাগছে কি? লাগবেই তো! একটা সময় বাড়িতে হোক বা সাইবার ক্যাফে, কম্পিউটার খুললেই ভেসে উঠত এই ছবিটি। শুধু বাংলা বা ভারত নয়, গোটা পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের কাছে এতটাই পরিচিত হয়ে গিয়েছে এই দৃশ্যটি যে, চোখ বন্ধ করলেও এর প্রতিটি কোণা বলে দিতে পারবেন আপনি।
আমদের আশেপাশে থাকা অধিকাংশ কম্পিউটারই উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে চলে। এখন সেই উইন্ডোজও নিজেকে উন্নত করতে করতে আরও বড় জায়গায় চলে গিয়েছে। বাজারে এসে গিয়েছে উইন্ডোজ ১১। কিন্তু নব্বইয়ের দশকে যারা জন্মেছেন বা বড় হয়েছেন, তাঁরা কী করে ভুলতে পারেন সেই কম্পিউটারগুলির কথা! কী করে ভোলা যায় উইন্ডোজ এক্সপি-র কথা? একটা প্রজন্ম এই কম্পিউটার, অপারেটিং সিস্টেমের হাত ধড়ে বেড়ে উঠেছে। আর তাঁরা একবার দেখলেই চিনে ফেলবেন এই ছবিটিকে। কম্পিউটার খুললেই ডিফল্ট ওয়ালপেপার হিসেবে থাকত এই নীল আকাশ, সবুজ ঘাসে ভরা পাহাড়ের ছবিটি। জানলে অবাক হবেন, এরকম জায়গা সত্যি সত্যিই নাকি রয়েছে! আর সত্যিই সেখানে গিয়েই ছবিটি তোলা হয়েছিল। এই পুরো কাহিনির পেছনে লুকিয়ে আছে ছোট্ট, অথচ চমকপ্রদ একটা ইতিহাস।
সেই কথা জানার জন্য চলে যাওয়া যাক আজ থেকে অন্তত ২৬-২৭ বছর আগে। ১৯৯৬ সালের জানুয়রি মাস। অকুস্থল ক্যালিফোর্নিয়া। ফটোগ্রাফার চার্লস ও’রিয়ার গাড়ি করে নিজের হবু স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। হঠাৎই রাস্তায় সোনোমা কাউন্টির কাছে দাঁড়িয়ে পড়লেন তিনি। মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলেন আশেপাশের প্রকৃতির দিকে। আকাশে পেঁজা তুলোর মতো সাদা মেঘ ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নীল আকাশে খেলে যাচ্ছে রোদ। আর ঠিক নিচে বিস্তীর্ণ সবুজ গালিচা পাতা। মেঘের ফাঁক দিয়ে ঝকঝকে রোদ এসে পড়ছে ঘাসের ওপর। চোখ মেলে সেই দৃশ্য দেখলেন চার্লস। এমনকী, ক্যামেরা বের করে ছবিও তুলে রাখলেন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Teenagers Watching Pornography Frequently : যত দিন যাচ্ছে, শিশু, কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ‘নীল ছবি’ অর্থাৎ পর্নোগ্রাফিক সিনেমা, ভিডিও দেখার প্রবণতা বাড়ছে।
আসল কাহিনি শুরু এরপর। আর্কাইভিং অ্যান্ড ইমেজ লাইসেন্সিং ফার্ম ‘করবিস’-এর মাধ্যমে এই ছবিটি সবার সামনে আনলেন চার্লস ও’রিয়ার। কাকতালীয়ভাবে, সেই সময় ‘করবিস’-এর মালিক ছিলেন বিল গেটস। তিনি এর প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন। উইন্ডোজের জনক বিল গেটস খোদ এই ছবিটি দেখে চমকে ওঠেন। এটা তো দারুণ ছবি! এমন কিছু কারুকাজ নেই, খুবই সাধারণ। আসতে যেতে হামেশাই এই দৃশ্য দেখেন অনেকে। কিন্তু সেই সহজ ছবিটির মধ্যেও একটা সুন্দর, মন ভরিয়ে দেওয়া ব্যাপার আছে। ছবির ভেতর লুকিয়ে রয়েছে একটা অদ্ভুত শান্তি, সঙ্গে রয়েছে স্বাধীনতা, নতুন কিছু করার আশা। মাইক্রোসফটও তো তা-ই চায়। উইন্ডোজের মূল লক্ষ্য তো এটাই।

ব্যস। বাকিটা ইতিহাস। ২০০০ সালে মাইক্রোসফট এই ছবিটির স্বত্ব কিনে নিল। তারপর থেকে উইন্ডোজ এক্সপি-র ডিফল্ট ওয়ালপেপার হিসেবে এটিই ব্যবহার করা হয়। বহু বছর অতিক্রান্ত হয়েছে, নদী দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গিয়েছে। কিন্তু ছবিটা এখনও বদলায়নি। বরং পৃথিবীর সবচেয়ে বেশিবার দেখা ছবি হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে এটি।
এ তো গেল পুরনো কথা। আর এখন? এখনও কি এই জায়গাটি আছে? জানা গিয়েছে, এই জায়গাটির নাম ছিল বুকোলিক গ্রিন হিল। জানলে অবাক হবেন, এখনও সোনোমা কাউন্টিতে ওই জায়গায় একইভাবে রয়েছে এই পাহাড়টি। তবে বদল এসেছে বেশ কিছুটা। একটা সময় খা খা পাহাড় এখন বিশাল বড় আঙুরক্ষেত। ওয়াইন তৈরি করার জন্য আঙুর চাষ করা হয় এখানে। সেই সবুজ ঘাসের গালিচার ওপর পরত পড়েছে। কিন্তু দৃশ্যটি একই আছে। নস্টালজিয়া এভাবে মোছা যায় কখনও!















