বোর্ন অ্যান্ড শেফার্ড: ছাইয়ের স্তূপে চাপা পড়া রাজকীয় গল্প

Bourne and Shepherd: বোর্ন অ্যান্ড শেফার্ড কেবল ছবি তোলার জায়গা ছিল না, এটি ছিল আভিজাত্যের প্রতীক। উনিশ শতকের কলকাতায় প্রবাদ ছিল, "বোর্ন অ্যান্ড শেফার্ডে ছবি না তুললে আভিজাত্য প্রমাণ হয় না।" ​কাদের ছবি ছিল না তাদের আর্কাইভে? ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড ক্যানিং থেকে শুরু করে লর্ড কার্জন— ভারতের মসনদে বসা প্রায় সব বড়লাটরাই এখানে পোজ দিয়েছেন।

inscript
৫ মিনিট
বোর্ন অ্যান্ড শেফার্ড: ছাইয়ের স্তূপে চাপা পড়া রাজকীয় গল্প

কলকাতার ধর্মতলা চত্বর। ব্যস্ত শহরের হৃৎপিণ্ড। ট্রামের টিং-টিং, বাসের কালো ধোঁয়া, হকারদের চিৎকার আর নিত্যযাত্রীদের ইঁদুর দৌড়— এই নিয়েই ১৪১, এস এন ব্যানার্জি রোড। এই প্রবল কোলাহলের ঠিক মাঝখানেই, সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি মৃতপ্রায় ইমারত। জরাজীর্ণ শরীর, পলেস্তারা খসে বেরিয়ে পড়েছে ইটের পঞ্জর। ছাদ নেই, মাথার ওপর আকাশটাই এখন তার একমাত্র আচ্ছাদন। পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া হাজারো মানুষ হয়তো খেয়ালও করেন না, এই হাড়গোড় বের করা বাড়িটি আসলে ইতিহাসের এক বিশাল মহাফেজখানা। নাম— বোর্ন অ্যান্ড শেফার্ড (Bourne & Shepherd)।

​একসময় এই বাড়ির গায়ে গর্বের সঙ্গে ঝুলত একটি হলুদ বোর্ড, যাতে লাল হরফে লেখা ছিল নামটা। এটি কেবল কোনো দোকান ছিল না; এটি ছিল বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এবং এশিয়ার প্রাচীনতম সচল ফটোগ্রাফিক স্টুডিও। আজ সেই স্টুডিওর শাটার চিরতরে বন্ধ, কিন্তু তার প্রতিটি ইটের ভাঁজে লুকিয়ে আছে সাহেব-বিবি, রাজা-মহারাজা আর পুরনো কলকাতার সাদা-কালো সোনালী দিনের গল্প।

​

এই স্টুডিওর যাত্রা শুরু হয়েছিল ক্যামেরার শাটার টেপার অনেক আগে। সালটা ১৮৪০। উইলিয়াম হাওয়ার্ড নামে এক ইংরেজ ভদ্রলোক কলকাতায় প্রথম ফটোগ্রাফি স্টুডিও খোলেন। তখন ফটোগ্রাফি আজকের মতো সহজ ছিল না, ছিল এক জাদুকরি বিদ্যা। এর ঠিক কিছু বছর পর, ১৮৬৩ সালে ভারতে পা রাখেন স্যামুয়েল বোর্ন। তিনি ছিলেন একজন দক্ষ ফটোগ্রাফার এবং শিল্পী। অন্যদিকে ছিলেন চার্লস শেফার্ড, যার দক্ষতা ছিল ছবি প্রিন্ট করায়।

​ভাগ্য বা সময়ের টানে এই দুই প্রতিভাবান মানুষ এবং উইলিয়াম হাওয়ার্ড এক সুতোয় বাঁধা পড়েন। প্রথমে সিমলা, তারপর কলকাতা— ১৮৬৬ সাল নাগাদ জন্ম নিল 'বোর্ন অ্যান্ড শেফার্ড'। হাওয়ার্ড ততদিনে পাট চুকিয়েছেন, তাই স্যামুয়েল আর চার্লসের নামেই শুরু হলো এক ঐতিহাসিক পথচলা। সে যুগে এই স্টুডিওটি ছিল প্রাচ্যের বিস্ময়। ইউরোপের ভিয়েনা বা লন্ডনের নামীদামি স্টুডিওর সাথে পাল্লা দিত কলকাতার এই প্রতিষ্ঠান।

স্যামুয়েল বোর্ন (বাঁদিকে) ও চার্লস শেফার্ড (ডানদিকে), ছবি সৌজন্য: ARTISERA

​বোর্ন অ্যান্ড শেফার্ড কেবল ছবি তোলার জায়গা ছিল না, এটি ছিল আভিজাত্যের প্রতীক। উনিশ শতকের কলকাতায় প্রবাদ ছিল, "বোর্ন অ্যান্ড শেফার্ডে ছবি না তুললে আভিজাত্য প্রমাণ হয় না।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লুইজ থেকে লোডিং ক্রেন: খিদিরপুর ডকের ১৩৩ বছরের যাত্রাপথ

Khidirpur Dock: সুকুমার সেন, 'বাংলার স্থাননাম' গ্রন্থে, খিদিরপুরের নামের ব্যাখ্যা হিসেবে বলেছেন, এটি খিঞ্জিরপুরের অপভ্রংশ। আরবি শব্দ খিঞ্জিরের অর্থ হল শুয়োর। একসময় গঙ্গা তীরবর্তী অঞ্চলে বিপুল পরিমাণে শুয়োর দেখা যেত।

​কাদের ছবি ছিল না তাদের আর্কাইভে? ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড ক্যানিং থেকে শুরু করে লর্ড কার্জন— ভারতের মসনদে বসা প্রায় সব বড়লাটরাই এখানে পোজ দিয়েছেন। ১৯১১ সালে যখন পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে আসেন, তখন তাঁর ও রানী মেরির রাজকীয় ছবি তোলার দায়িত্ব পেয়েছিল এই স্টুডিও। তাদের কাজের নিখুঁত ফিনিশিং আর আলোর ব্যবহার এতটাই রাজকীয় ছিল যে, ব্রিটিশ রাজপরিবার তাদের 'কাইজার-ই- হিন্দ' (Kaiser-i-Hind) উপাধিতে ভূষিত করেছিল।

১৯১১-র দিল্লি দরবার, রাজা পঞ্চম জর্জ ও রানী মেরি মঞ্চে বসে রয়েছেন, ছবি সৌজন্য: ARTISERA

​তবে কেবল সাহেবরাই নন, ভারতের নবজাগরণের আইকনরাও ধরা দিয়েছিলেন এদের লেন্সে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই বিখ্যাত চিন্তামগ্ন ছবি, কিংবা সত্যজিৎ রায়ের ছোটবেলার ছবি— সবই এদের তোলা। এমনকি শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের যে বিখ্যাত সমাধিস্ত ছবিটি আজ ঘরে ঘরে পূজিত হয়, সেটিও এই স্টুডিওর ক্যামেরাতেই বন্দি হয়েছিল। ভাওয়াল সন্ন্যাসী মামলার সেই ঐতিহাসিক প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত ছবিগুলোও ছিল এদেরই সৃষ্টি। 'জাঙ্গল বুক'-এর স্রষ্টা রুডইয়ার্ড কিপলিং-এর স্মৃতিও জড়িয়ে আছে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে।

​

​স্টুডিওর চার দেওয়ালের বাইরেও বোর্ন অ্যান্ড শেফার্ডের অবদান ছিল অসামান্য। স্যামুয়েল বোর্ন ছিলেন একজন অ্যাডভেঞ্চার-প্রেমী। তিনি বিশ্বাস করতেন, ভারতের প্রকৃত রূপ কেবল স্টুডিওর কৃত্রিম আলোয় নয়, লুকিয়ে আছে দুর্গম পাহাড়ে।

১৮৮০ সালের দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের লুপ, ছবি সৌজন্য: Tasveer

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

​১৮৬০-এর দশকে, যখন যাতায়াতের সুব্যবস্থা ছিল না, তখন তিনি প্রায় ৩০০০ থেকে ১৪,০০০ ফুট উচ্চতায় হিমালয়ে অভিযান চালান। সঙ্গে ছিল বিশাল ক্যামেরার সরঞ্জাম, কাঁচের প্লেট আর রাসায়নিকের বোতল— যা বহন করতে লাগত জনা পঞ্চাশেক কুলি। তাঁর তোলা হিমালয়ের সেই ল্যান্ডস্কেপগুলো আজও ফটোগ্রাফির ইতিহাসে বিস্ময়। ভারতের ভূ-প্রকৃতিকে বিশ্বের দরবারে প্রথম তুলে ধরেছিল এই স্টুডিওটিই।

​

​বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত স্টুডিওটির রমরমা ছিল দেখার মতো। কিন্তু সময়ের চাকা ঘোরে। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হলো। ইংরেজরা চলে গেল, কিন্তু রেখে গেল তাদের স্মৃতি। বোর্ন অ্যান্ড শেফার্ড তখন ভারতীয়দের হাতে। মালিকানা বদল হতে হতে একসময় এর দায়িত্ব নেন জয়ন্ত গান্ধী।

​ততদিনে প্রযুক্তি পাল্টাচ্ছে। বড় বড় বক্স ক্যামেরা আর কাঁচের প্লেটের জায়গা নিচ্ছে ফিল্ম রোল। এরপর এল রঙিন ছবি। বোর্ন অ্যান্ড শেফার্ড নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ডিজিটাল যুগের ঝড়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি এই প্রবীন প্রতিষ্ঠানটি। তবুও, পুরনো দিনের এক বিশ্বস্ত অভিভাবকের মতো সে দাঁড়িয়ে ছিল।

১৮৬৪ সালে শিমলায় ভাইসরয়ের এক্সেকিউটিভ কাউন্সিল এবং সেক্রেটারিরা, ছবি সৌজন্য: thewire.in

​বোর্ন অ্যান্ড শেফার্ডের কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতা হয়েছিল ১৯৯১ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি। এক অভিশপ্ত সকাল। দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল এস এন ব্যানার্জি রোডের এই ঐতিহাসিক বাড়িটি। আগুনের লেলিহান শিখা কেবল কাঠ আর পাথর পোড়ায়নি, পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছিল প্রায় দেড়শ বছরের সঞ্চিত অমূল্য ইতিহাস।

​আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায় স্টুডিওর মূল আর্কাইভ। যেখানে সংরক্ষিত ছিল ১৮৪০ থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত তোলা হাজার হাজার দুর্লভ গ্লাস নেগেটিভ। পুড়ে যায় সত্যজিৎ রায়ের পোট্রেট, পুরনো কলকাতার দুর্লভ দৃশ্য এবং রাজকীয় সব নথি। দমকল কর্মীরা যখন আগুন নেভাল, তখন পড়ে আছে কেবল ছাই। সেই ছাইয়ের স্তূপে চাপা পড়ে গিয়েছিল বাঙালির এক বড় আবেগের অধ্যায়। যে ক্ষতি সেদিন হয়েছিল, তা পূরণ করার ক্ষমতা কারোর ছিল না।

​আগুনের পরেও ধুঁকতে ধুঁকতে বেঁচে ছিল স্টুডিওটি। নিচতলায় টিমটিম করে জ্বলত আলো। কিন্তু বিপদ পিছু ছাড়েনি। বাড়ির মালিকানা নিয়ে লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (LIC)-র সঙ্গে শুরু হয় দীর্ঘ আইনি লড়াই। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায় সেই মামলা। লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন দাবি করে, বাড়িটি বিপজ্জনক এবং মেরামতের অযোগ্য।

২০১১-র কলকাতার বোর্ন অ্যান্ড শেফার্ড স্টুডিও বিল্ডিং , ছবি সৌজন্য: thewire.in

​দীর্ঘ ১৪ বছর মামলা চলার পর, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে আসে সেই চূড়ান্ত রায়। আদালতের নির্দেশে চিরতরে বন্ধ করে দিতে হয় বোর্ন অ্যান্ড শেফার্ডের দরজা। ১৬ এপ্রিল, ২০১৬— যেদিন শেষবারের মতো তালা ঝুলল গেটে, সেদিন হয়তো নীরবে কেঁদেছিল কলকাতার ফটোগ্রাফি প্রেমীরা। এশিয়ার প্রাচীনতম স্টুডিওটি হার মানল রিয়েল এস্টেট আর আইনি জটিলতার কাছে।

​আজ ১৪১, এস এন ব্যানার্জি রোডের সামনে দাঁড়ালে দেখা যায় এক কঙ্কালসার অট্টালিকা। জানলা দিয়ে উঁকি মারে বটগাছের শিকড়। ভেতরে এখন আর ফ্ল্যাশবাল্ব জ্বলে না, কেউ বলে না "স্মাইল প্লিজ"। কিন্তু বাতাসে কান পাতলে হয়তো শোনা যায় স্যামুয়েল বোর্নের ক্যামেরার খচখচ শব্দ, কিংবা চার্লস শেফার্ডের ব্যস্ত পায়ের আওয়াজ।

​বোর্ন অ্যান্ড শেফার্ড আজ শুধুই ইতিহাস। কিন্তু এই ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কলকাতা একদিন কতটা রাজকীয় ছিল। নতুন শপিং মল আর মাল্টিপ্লেক্সের ভিড়ে এই ভাঙা বাড়িটি আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।