তৃণমূল কংগ্রেসের সংকট ও সম্ভাবনা
Trinamool Congress: তৃণমূল কংগ্রেস কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, নেতৃত্বের সংকট, পদত্যাগের মিছিল এবং বিজেপি-বিরোধী রাজনীতির নতুন বাস্তবতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল কি নিজেদের পুনর্গঠন করে আবারও বাংলার রাজনীতিতে শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে উঠে আসতে সক্ষম হবে?
তৃণমূল কংগ্রেসের সংকট ও সম্ভাবনা
শুভঙ্কর দাস
সাড়ে পাঁচ দশকের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সম্ভবত সব থেকে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। যে দলকে তিনি নিজে হাতে গড়ে তুলেছিলেন আজ সেই দলের রাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠিন লড়াই করতে হচ্ছে তাঁকে। ৪ মে-র পর থেকে দলের অন্দরেই চলছিল অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের পরিবেশ। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর দায় চাপানোর তরজা গড়ে উঠেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার মধ্যে দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙ্গন আরো চওড়া হয়ে উঠেছে। দলের মধ্যেই আলংকারিক অর্থে সুপ্রিমো হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার উপর নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে দলের অভ্যন্তরীণ ভাঙ্গন আগেও হয়েছে। কিন্তু তা কখনোই আজকের মতো এত প্রকট হয়ে দেখা দেয়নি।
১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে আত্মপ্রকাশ করে তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বামফ্রন্ট সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যে এই দলের যাত্রা শুরু হয়েছিল। ১৯৯৮ এবং ১৯৯৯ লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে পেছনে ফেলে রাজ্যের প্রধান বিরোধীদলের যোগ্য মর্যাদা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০০০ সালে কলকাতা পৌরসভা জয়ের মধ্যে দিয়ে নজির গড়েছিল মমতার হাতে তৈরি করা জোড়া ফুল চিহ্ন সম্বলিত দলটি। কিন্তু ২০০১ সালে 'now or never' ডাক দিয়েও শেষ পর্যন্ত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে রাইটার্সকে থেকে টলাতে পারেনি বাংলার অগ্নিকন্যা। এরপরেই পতনের দিকে ধাবমান হতে থাকে তৃণমূল কংগ্রেসের সেই সময় রাজনৈতিক যাত্রাপথ। ২০০৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে একটিমাত্র আসন পায় তৃণমূল।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Trinamool Congress: ৫০-এর বেশি বিধায়কের সমর্থনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের নতুন সমীকরণ স্পষ্ট করে দিল, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত আর সকলের কাছে শেষ কথা নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবিষ্যৎ এবং তৃণমূলের প্রকৃত ক্ষমতার কেন্দ্র কোথায়, সেই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।
২০০৫ কলকাতা পৌরসভা নির্বাচনের ঠিক আগের মুহূর্তে রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি করে দলত্যাগী হন সুব্রত বন্দোপাধ্যায়। তিনি শুধু একা যাননি তাঁর সঙ্গে এক ঝাঁক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-নেত্রীরা জোড়া ফুল ত্যাগ করেছিলেন। সেই কঠিন সময়ের মধ্যে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের গুরুত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য লড়াই করতে হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসকে। রাজ্যের দু'নম্বর গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল হয়ে ওঠার জন্য কংগ্রেসের বিরুদ্ধেই লড়তে হয়েছিল তৃণমূলকে। ২০০৫-এর কলকাতা পৌরসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টের কাছে পর্যদস্তু হলেও দু'নম্বর স্থানে উঠে এসেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল। সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আর ফিরে পাননি মেয়রের পথ। বামফ্রন্টের মেয়র হিসেবে আত্মপ্রকাশ সেই সময় করেছিলেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। এমনকি ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত কেন্দ্রের যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার গঠন হয়েছিল তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের সুসম্পর্ক ধারাবাহিক ছিল না।
১৯৯৯ সালে রেলমন্ত্রী হলেও পরবর্তী সময় সেই পদ থেকে অব্যাহতি নিয়ে এনডিএ থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে আবার শেষের দিকে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে মন্ত্রী করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তৃণমূল সুপ্রিমো প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপের বিরোধী ছিল। ফলে সুদীপ বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দূরত্ব বাড়তে থাকে। ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০০৪ থেকে ২০০৬ এর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের ভাবমূর্তি টিকিয়ে রাখতে নিদারুণ সংগ্রাম করে যেতে হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কারণ সেই সময় কংগ্রেসের সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রিয়রঞ্জন দাশমন্ত্রী, অধীর চৌধুরীরা রাজ্যে প্রকৃত সিপিএম বিরোধী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন।
নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুর আন্দোলনের পর রাজ্য রাজনীতি তৃণমূল কংগ্রেসের অনুকূল হয়ে ওঠে। ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তার প্রতিফলন দেখা যায়। ২০১১ তে ক্ষমতায় আসার পর বিক্ষিপ্তভাবে দলের অন্দরে বিরোধের পরিস্থিতি দেখা দেয়। কখনও দীনেশ ত্রিবেদী তো কখনও তৃণমূলের টিকিটের জয়ী হয়ে আসা লোকসভার সাংসদ কবীর সুমনও বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন। কিন্তু সে সবই দলের ভিতকে কখনও টলিয়ে দিতে পারেনি। বর্তমানে সর্বভারতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ নিজেকে একটি পরীক্ষাগারে পরিণত করেছে। যেখানে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের দুই প্রধান বিরোধী দলনেতাকে দেখতে পাওয়া যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পছন্দের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে অস্বীকার করে ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এগিয়ে এসেছেন তৃণমূলের সিংহভাগ বিধায়ক। ঋতব্রতকে নিয়ে সেই সংখ্যাটা প্রথমে ৫৮ থাকলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তা প্রায় ৬০ গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলার মানুষ এতদিন পর্যন্ত এটাই মনে করে এসেছে যে তৃণমূল কংগ্রেস মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে বাদ দিয়ে তৃণমূল দলের অস্তিত্ব ভাবা যায় না। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই অমান্য করে ঋতব্রতর দিকে হেলে পড়ল সিংহভাগ বিধায়কের দল। কার্যত তৃণমূল সুপ্রিমোকে দলের অন্দরে ক্ষমতাহীন 'Titler head' পরিণত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আগামী দিনে লোকসভা এবং রাজ্যসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দল যদি নিজেদের পছন্দের মতো পরিষদীয় দলনেতা বেছে নেয়। তবে আক্ষরিক অর্থে নিজের দলের মধ্যেই ক্ষমতাহীন হয়ে পড়বেন এককালের বাংলার অগ্নিকন্যা এবং জাতীয় রাজনীতিতে একমাত্র প্রভাবশালী বাঙালি নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে, যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে, যাঁর ছত্রছায়ায় থেকে তাঁর নতুন করে রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি হওয়া, আজ নাকি সেই দলের ভিতরে থেকে খোদ দলনেত্রীকেই একপ্রকার নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার খেলায় মেতেছেন তিনি!
ইতিহাস এবং সাহিত্যের পাতায় এমন বিয়োগান্ত ঘটনা সাক্ষী আমরা থেকেছি। কিন্তু বহুদলীয় সংসদীয় রাজনীতিতে এমন দৃশ্য বিরল থেকে বিরলতর। সম্প্রতি রাজ্যসভায় রাঘব চাড্ডা-সহ আম আদমি পার্টির গোটা পরিষদীয় দলটি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিল। মহারাষ্ট্রের শিবসেনার একনাথ শিন্ডে এবং এনসিপি অজিত পাওয়ার গোষ্ঠী বিজেপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছিল।একনাথ শিন্ডের ক্ষমতা রয়েছে নিজে-সহ একাধিক প্রার্থীকে বিধানসভায় নির্বাচনে জিতিয়ে নিয়ে আসা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ক্ষেত্রে যে ৫৮ জন বিধায়ক তৃণমূল সুপ্রিমোর বিরুদ্ধাচরণ করলেন তাঁদের কারোর ক্ষমতা নেই একটি পৌরসভার নির্বাচনে ওয়ার্ডে জিতে আসা। তাঁরা প্রত্যেকে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। তৃণমূল সুপ্রিমোর রাজনৈতিক কারিশমা ও হাল না ছাড়া লড়াইয়ের জন্য তাঁ রা নির্বাচিত হতে পেরেছিলেন। সেই সব তাঁরা ভুলে গিয়ে কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই ক্ষমতাহীন করে রাখার চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছেন। তাই তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বদলে তাঁকে 'উপদেষ্টা' হিসেবে দেখতে মরিয়া।
অন্যদিকে এতদিন পর্যন্ত সরকার গড়ার ক্ষেত্রে ম্যাজিক ফিগার বা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য দল ভাঙাত বিজেপি। তার সবথেকে বড় উদাহরণ হচ্ছে মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেসের জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে নিজেদের দলের মধ্যে নিয়ে আসা। এবার নিজেদের পছন্দের মতো প্রধান বিরোধী দল পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে তৈরি করল বিজেপি। কার্যত পর্দার আড়ালে থেকে কিং মেকারের ভূমিকা অবতীর্ণ হয়েছে গেরুয়া শিবির। তাই আজকে ভারতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার প্রধান বিরোধী দল হয়ে ওঠার এই প্রতিযোগিতাটি একটি পরীক্ষাগারের পরীক্ষায় নিজেকে পরিণত করেছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে গোবলয়ের মতোই পশ্চিমবঙ্গকে নিজেদের শক্ত গড়ে পরিণত করতে চাইছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ৪২টি আসনের মধ্যে প্রায় সিংহভাগ আসন নিজেদের দখলে রাখতে চাইছে বিজেপি। এক্ষেত্রে প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে উঠছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। তাই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ার ফলে আখেরের লাভ হবে বিজেপির।
আবার হকার উচ্ছেদ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সিপিআইএম যে ক্রমাগত লড়াই করে চলেছে তার সুফল ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনে পাওয়া যাবে না। এখনও দীর্ঘ প্রসারী আন্দোলনই ভরসা সিপিআইএমের। কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আজও মমতার প্রতি নরম মনোভাব পোষণ করে থাকে। সে ক্ষেত্রে প্রদেশ কংগ্রেসেরও বিজেপিকে এ রাজ্যে লড়াই দেওয়ার মতো ক্ষমতা নেই। অন্যদিকে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের একচল্লিশ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। এই একচল্লিশ শতাংশের উপর ভাগ বসলে সেটা বিজেপির জন্য সুখবর। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে যে দল ক্ষমতারচ্যুত হয়ে বিরোধী বেঞ্চে বসেছে তারা কোনদিনই তৃণমূলের মতন এত বিপুল সংখ্যক আসন পাইনি। তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের এই সংখ্যাটা একেবারেই ফেলে দেওয়ার মতন ছিল না। এবার সেখানে ভাগ বসানোর ফলে রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিসর প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়ে যাচ্ছে।
গণতন্ত্রে প্রধান বিরোধীদলের ভূমিকা অপরিসীম। সিপিআইএম গণআন্দোলনে লিপ্ত থাকলেও বিধানসভায় তাদের একজন বিধায়ক রয়েছে। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের ৮০ জন বিধায়ক যে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে তা বর্তমানে বিরোধী বেঞ্চে বসে থাকা অন্য কোন দল পারবে না। এমন গুরুত্বপূর্ণ পরিসরে আজকে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে কে প্রকৃত তৃণমূল তা নেই দ্বন্দ্ব ক্রমাগত চলছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে রাজ্যের বৃহত্তর গণতান্ত্রিক পরিসরের পরিধি একদলীয় শাসন যন্ত্রের দিকে নিজেকে নিয়ে যাবে। যেখানে সরকার এবং প্রধান বিরোধী দলকে নিয়ন্ত্রণ করবে একটিমাত্র সত্ত্বা। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলনেতার শিরোপা পাওয়ার পর হকার উচ্ছেদ নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান বিরোধী দলনেতা হয়ে বর্তমানে রাজ্যের এত জ্বলন্ত ইসুতে তাঁর নীরবতা আদতে দুর্বল বিরোধী শক্তির পরিচয় বহন করে চলেছে।
পাশাপাশি ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের পরে কংগ্রেস মুক্ত ভারত গড়ার ডাক দেওয়া হয়েছিল। খুব সচেতন ভাবে সেই সময়ে বৈদ্যুতিক সংবাদমাধ্যম এবং সমাজমাধ্যম এই প্রচার চালিয়ে যাচ্ছিল। যেন মনে করা হচ্ছিল যে ৪৪ টি আসন পেয়ে কংগ্রেস ইতিহাসের পাতায় চলে গিয়েছে। ঠিক একইভাবে ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের পর এই রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক জীবনাবসানের দলিল তৈরি করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে বৈদ্যুতিক সংবাদমাধ্যম এবং সমাজমাধ্যম। চলতি এই হাওয়ায় গা ভাসিয়েছে বামপন্থীরা। এখন দেখার বিষয় তৃণমূল কংগ্রেস কি পারবে কংগ্রেসের মতো ফিরে আসতে। ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হলেও ২০২৪-এ দেশের প্রধান বিরোধী দল হয়ে ওঠে কংগ্রেস। প্রধান বিরোধী দলনেতার মর্যাদা পান রাহুল গান্ধী। সেই পথে আদৌ কতটা সফল হবে তৃণমূল এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে নির্দ্বিধায় বলা যেতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগে যতগুলি প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে এই প্রতিকূলতা তার থেকে অনেক বড় ও বিকট। কারণ তৃণমূল কংগ্রেসের গঠনতন্ত্র তৈরি হয়েছে সিপিএম বিরোধিতা করার জন্য। সেখানে বিজেপি বিরোধিতা কিভাবে করতে হবে তা এখনও জানে না তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব।
এখানে প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখা ভালো, কংগ্রেস থেকেই যেহেতু তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম হয়েছে তাই পূর্বপুরুষের থেকে গোষ্ঠী কোন্দলের চরিত্র সে পেয়েছে। আর গোষ্ঠী কোন্দলকে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি তৃণমূল। এমনকি আইপ্যাককে দিয়েও এই গোষ্ঠী কোন্দল দূর করতে পারেননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমানে যেভাবে একের পর এক রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার তৃণমূল কাউন্সিলার থেকে শুরু করে চেয়ারম্যান ও মেয়ররা পদত্যাগ করছেন তাতে করে দলের মনোবল যে তলানিতে ঠেকে গিয়েছে সেটা বলাই বাহুল। সে ক্ষেত্রে দলীয় কর্মীরাই এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান ভরসা। ওয়াই চ্যানেলে অপ্রসস্থ পরিসরে ২ জুন যে সভা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে দলীয় কর্মীদেরই উচ্ছ্বাস বেশি দেখা গিয়েছে। ফলে আগামী দিনে অর্থাৎ আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে যদি তৃণমূল ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে তৃণমূলের তৃণমূলস্তরের কর্মীরাই।









