আদানির বিরুদ্ধে প্রশ্ন, মাশুল দিচ্ছেন মহুয়া?

Mahua Maitra, Cash For Query Row: আদানির বিরুদ্ধে সংসদে প্রশ্ন করে দুর্নীতির ক্রসফায়ারে কী ভাবে ফাঁসলেন মহুয়া? লিখলেন সাংবাদিক পরঞ্জয় গুহ ঠাকুরতা ও অয়স্কান্ত দাস

inscript
৬ মিনিট
আদানির বিরুদ্ধে প্রশ্ন, মাশুল দিচ্ছেন মহুয়া?

সত্যিই কি ঘুষের বদলে সংসদে প্রশ্ন করেছেন তৃণমূল কংগ্রসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র? গৌতম আদানির প্রতিপক্ষ হিরানন্দানিকে ব্যবসায়িক সুবিধা পাইয়ে দিতেই কি সাংসদ তাঁর অ্যকাউন্টের আইডি-পাসওয়ার্ড শেয়ার করেছেন? নাকি আসলে মহুয়া কোনও রাজনৈতিক ফাঁদের শিকার? ইনস্ক্রিপ্টের হয়ে লিখলেন সাংবাদিক পরঞ্জয় গুহ ঠাকুরতা এবং অয়স্কান্ত দাস

ধমরা এলএনজি টার্মিনাল নিয়ে ফের সংসদে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। চলতি বছরের মার্চ মাসে। টার্মিনালের ক্যাপাসিটি ব্যবহারের জন্য আইওসিএল এবং গেইলকে কোনও রকম আর্থিক মূল্য চোকাতে হয় কি না তা নিয়ে প্রশ্ন করেন মহুয়া। এ ছাড়াও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি ধরমা টার্মিনালের সঙ্গে কী কী চুক্তি করেছে তা নির্দিষ্ট করে জানতে চান তৃণমূল সাংসদ।

এর আগেই বলেছি মহুয়ার প্রাক্তন বয়ফ্রেন্ড আইনজীবী অনন্ত দেহাদরাই সিবিআই-এর কাছে বেশ কিছু নথি তুলে দেন। নথিতে আইনজীবীর অভিযোগ, 'ধরমা এলএনজি টার্মিনাল নিয়ে মহুয়ার এত প্রশ্ন করার পিছনে অন্য উদ্দেশ্য আছে। কেননা বঙ্গোপসাগরের ওই পূর্ব উপকূল বরাবর গ্যাস পাইপলাইন বসাতে দরপত্র জমা দেওয়ার কথা ভেবেছে আদানির প্রতিপক্ষ হিরানন্দানি গোষ্ঠী।'

আদানিকে মহুয়ার আরও যে সব প্রশ্ন

আদানি সংক্রান্ত আরও চারটি প্রশ্ন মহুয়া মৈত্র করেছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
টাকার বিনিময়ে আদানি-দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন! মহুয়া বিতর্কে কেন চুপ তৃণমূল?

Mahua Moitra Bribery Case: মহুয়ার বিরুদ্ধে এ হেন গুরুতর অভিযোগ ওঠা ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক শুরু হলেও আশ্চর্যজনক ভাবে মুখ খুলতে দেখা যায়নি তৃণমূলকে।

১। অন্ধ্রের গঙ্গাভরম বন্দর ২। ছত্তীসগঢ়ের কয়লাখনির নতুন করে বণ্টন ৩। আদানি গোষ্ঠীর বৈদেশিক বিনিয়োগ ৪। সরকার নিয়ন্ত্রিত ছ'টি বিমানবন্দর আদানি গোষ্ঠীকে হস্তান্তর।

২০২১ সালে আদানি গোষ্ঠীর একাধিক বৈদেশিক পোর্টফোলিয়ো বিনিয়োগ নিয়ে বিশদে প্রশ্ন তোলেন মহুয়া। প্রশ্ন তোলেন, এ ধরনের সংস্থাগুলি যার সঙ্গে আদানি গোষ্ঠী জড়িয়ে, তাদের সন্দেহজনক লেনদেন কেন্দ্রের এজেন্সি এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট বা ইডি তদন্ত করে দেখে কি না? সেবি খতিয়ে দেখে কি না? তদন্ত হয়ে থাকলে তা থেকে কী রিপোর্ট বেরিয়ে এসেছে? তাও বিশদে জানতে প্রশ্ন তোলেন মহুয়া।

আদানি বন্দর অ্যান্ড স্পেশাল ইকনমিক জোন লিমিটেড এবং ইন্ডিয়াল অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেডের মধ্যে গঙ্গাভরম বন্দর সংক্রান্ত বিস্তারিত কী চুক্তি হয় তা নিয়ে বিশদে তথ্য জানতে প্ৰশ্ন তোলেন তৃণমূল সাংসদ। ওই ২০২১ সালেই মহুয়ার প্রশ্ন, আদানি গোষ্ঠীকে দেশের ছয় বিমানবন্দর হস্তান্তরের বিষয়টি নিয়ে। গুজরাটের আমেদাবাদ, উত্তর প্রদেশের লখনউ, রাজস্থানের জয়পুর, অসমের গুয়াহাটি, কর্নাটকের মেঙ্গালুরু এবং কেরলের তিরুঅনন্তপুরম। এই ছয় বিমানবন্দর অধিগ্রহণ করতে আদানির সংস্থার কেন দেরি হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন করেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।

২০২৩-এর এপ্রিল। কেন্দ্রের কয়লা মন্ত্রকের সামনে ছত্তীসগঢ়ের কয়লাখনির পুনর্বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন করেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। পরসা পূর্ব এবং কেটে বাসান কয়লাব্লক আদানি গোষ্ঠীকে পুনর্বণ্টন এবং সেই বণ্টনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন করেন তিনি। ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট দেশের ২১৪ কয়লাব্লকের বণ্টন অবৈধ ঘোষণা করে নতুন করে প্রতিযোগিতামূলক ভাবে দরপত্র হাঁকার নির্দেশ দেয়। মহুয়ার অভিযোগ, সেই নির্দেশকে অগ্রাহ্য করেই ছত্তীসগঢ়ের কয়লাখনির পুনর্বন্টন করে কেন্দ্রের মোদি সরকার। মহুয়ার অভিযোগের এক মাস আগেই আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এই একই অভিযোগ আনে জাতীয় কংগ্রেস।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আদানির বিরুদ্ধে প্রশ্ন, মাশুল দিচ্ছেন মহুয়া?

Mahua Maitra, Cash For Query Row: আদানির বিরুদ্ধে সংসদে প্রশ্ন করে দুর্নীতির ক্রসফায়ারে কী ভাবে ফাঁসলেন মহুয়া? লিখলেন সাংবাদিক পরঞ্জয় গুহ ঠাকুরতা ও অয়স্কান্ত দাস

মহুয়ার পাশে রাহুলের কংগ্রেস

কয়লাখনি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১৫-এর ১১(ক) ধারার প্রসঙ্গ টেনে এনে কংগ্রেস কয়লাব্লক পুনর্বণ্টনে দুর্নীতির অভিযোগ আনে। বলা হয়, ২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে পরেই এই আইনে বদল আনে তৎকালীন মোদি সরকার। একইসঙ্গে কংগ্রেস দাবি করে, ওই ধারার কিছু ফাঁকফোকরের কারণেই আদানির গোষ্ঠীর হাতে কয়লাব্লকের পুনর্বণ্টন করে মন্ত্রক। আদানি গোষ্ঠী খনির ডেভেলপার এবং পরিচালক হিসেবে নতুন করে বরাত পায়। এক ধরনের চুক্তিভিত্তিক কয়লা উত্তোলনের ছাড়পত্র পায়। পারসা পূর্ব এবং কাটে বাসান কয়লাখনি। যে খনি এক সময়ে বিজেপি শাসিত রাজ্য রাজস্থান এবং গুজরাট দ্বারা পরিচালিত হত।

মহুয়া মৈত্রের সংকটের সময় পাশে দাঁড়ায় কংগ্রেস। বিতর্কে মুখ খোলেন লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। মহুয়া বিতর্কে মোদি সরকার ছোট ঘটনাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বিরাট করে দেখানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন অধীর। মহুয়ার ঘটনার সঙ্গে তিনি রাহুল গান্ধিরও তুলনা টেনে আনেন। আদানির বিরুদ্ধে প্রশ্ন করায় রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ যেভাবে কেড়ে নেওয়া হয় সে প্রসঙ্গেরও উল্লেখ করেন অধীর। যদিও রাহুলের সাংসদ পদ খারিজের জন্য গুজরাট আদালতের রায়কেই কারণ হিসেবে দেখায় কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রীর পদবি নিয়ে অসম্মানসূচক মন্তব্যের অভিযোগে বিজেপি শাসিত গুজরাটের আদালত রাহুলকে দোষী সাব্যস্ত করে।

অধীর চৌধুরীর বক্তব্য, 'জানি না ঠিক কী ঘটেছে। কিন্তু সাধারণভাবে একজন সাংসদের অধিকার রয়েছে সংসদে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করার। শাসক দল সংসদের ভিতরে হোক বাইরে হোক প্রত্যেকের কণ্ঠরোধ করতে চায়।'

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সব অভিযোগ মনগড়া! 'উপহারের বিনিময়ে প্রশ্ন' বিতর্কে নিজেকে বাঁচাতে পারবেন মহুয়া?

Mahua Maitra, Cash For Query Row: টাকার বিনিময়ে আদানি-মোদিকে জড়িয়ে প্রশ্ন করা তো দূর, তিনি যাতে সংসদে এ নিয়ে প্রশ্ন না করতে পারেন, সে জন্যই তাঁর মুখ বন্ধ করার চেষ্টা চলছে বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন মহুয়া।

মহুয়া মৈত্রের নিজের দল অবশ্য ঘুষ নিয়ে প্রশ্ন বিতর্কে সেই অর্থে সরব হয়নি। সম্ভবত এথিক্স কমিটির রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি দলের নেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আদানি পরিচালিত এনডিটিভি চ্যানেলের ওয়েবসাইটে একজন কলাম লেখক কেন তৃণমূল কংগ্রেস এ নিয়ে চুপ তার কিছু সম্ভাব্য কারণ বিশ্লেষণ করেছেন। মহুয়ার অভিযোগ, বিজেপির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এই সব বিতর্কের মধ্যে টেনে এনে যে কোনও উপায়ে তাঁর সাংসদ পদ বাতিল করা। যাতে তাঁকে সংসদের বাইরে রাখা যায়। যাতে মহুয়া আদানির বিরুদ্ধে সংসদে আর প্রশ্ন করতে না পারেন।

নিশিকান্ত দুবের অভিযোগপত্র পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে লোকসভার অধ্যক্ষ বিষয়টি পাঠিয়ে দেন এথিক্স কমিটিতে। এথিক্স কমিটি হচ্ছে সংসদের ভিতরের একটি প্যানেল যা সাংসদদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ, বা কোনও বেনিয়ম খতিয়ে দেখে। লোকসভার প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল, বিশ্লেষক পি ডি টি আচারির মতে, কোনও সাংসদদের বিরুদ্ধে ওঠা কোনও অভিযোগ যদি সত্যিই খতিয়ে দেখতে হয় তো এথিক্স কমিটি নয়, বিষয়টি প্রিভিলেজ কমিটিতে পাঠানো জরুরি ছিল। এই বিতর্কের মধ্য়েই ২৬ অক্টোবর এথিক্স কমিটি নিশিকান্ত দুবে এবং অনন্ত দেহাদরাইয়ের সঙ্গে কথা বলে। ৩১ অক্টোবর মহুয়া মৈত্রের হাজিরা দেওয়ার কথা। মহুয়া যদিও চিঠি লিখে ওই দিন হাজিরা দিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

কাহিনির ফোকাসে ফের হিরানন্দানি

সংসদের এথিক্স কমিটির কাছে দর্শন হিরানন্দানি তাঁর হলফনামা জমা দিয়েছেন। মহুয়ার মৈত্রের প্রশ্ন হিরানন্দানির ওই হলফনামা কী ভাবে মিডিয়ায় ফাঁস হয়ে গেল? হিরানন্দানি প্রথম দিকে 'বন্ধু' মহুয়ার দিকেই ছিলেন। পরে সম্ভবত তাঁর মনোভাব বদলেছেন। অন্য রাস্তা ধরেছেন। হলফনামায় হিরানন্দানি দাবি করেন, মহুয়া মৈত্র তাঁর সংসদীয় ইমেল লগ-ইন এবং পাসওয়ার্ড শেয়ার করেছেন। মহুয়ার হয়ে তিনি পোর্টালে লগ-ইন করে প্রশ্ন করেছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন 'দেশদ্রোহী'র তকমা পরঞ্জয়, অভিসার, ভাষাদের? আসলে ঠিক কী লিখতেন এই সাংবাদিকরা?

NewsClick Journalist : মোদ্দা কথা, দেশের শাসকের স্বাস্থ্যের জন্য উপাদেয় ছিল না নিউজক্লিকের খবর।

হলফনামা সূত্র ধরেই পালটা অভিযোগ করেন তৃণমূল সাংসদ। মহুয়ার অভিযোগ, 'দর্শন হিরানন্দানিকে ভয় দেখিয়ে জোর করে হলফনামায় সই করানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দফতর তার 'কুখ্যাত বন্দুক' দর্শন এবং তাঁর বাবার মাথায় ঠেকিয়ে মাত্র কুড়ি মিনিট সময় দেয়। ওই সময়ের মধ্যে হলফনামায় সই করে ফেরত দিতে বলে।'

মহুয়ার এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পরেই তাকে বিবৃতি দিয়েছেন হিরানন্দানি। লোকসভার দেওয়া লগ-ইন আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে তিনি নিয়মের প্রতি সুবিচার করেননি। একইসঙ্গে হিরানন্দানির দাবি, তিনি দুবাই থেকে হলফনামা জমা দিয়েছেন। কোনও রকম চাপের কাছে নতি স্বীকার করে বা কাউকে সুবিধা পাইয়ে দিতে তিনি এই হলফনামা দেননি।

এরইমধ্যে দিল্লি হাইকোর্টে একটি সম্মানহানির মামলা দায়ের করেন মহুয়া। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে এবং তাঁর প্রাক্তন বয়ফ্রেন্ড আইনজীবী জয় দেহাদরাইয়ের বিরুদ্ধে ওই মামলা করা হয়। মামলায় যুক্ত করা হয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলকেও। লোকসভার অধ্যক্ষকে জমা করা চিঠির নথি এবং তার বিষয়বস্তু চ্যানেলটি সম্প্রচার করে। মহুয়া একইসঙ্গে অভিযোগ করেন, যে তার ব্যক্তিগত ফটোগ্রাফ এডিট করে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মহুয়া মৈত্রের সমর্থনে ব্যাট ধরেন তিরুঅনন্তপুরমের সাংসদ শশী থারুর। শশীর বক্তব্য, 'নিশিকান্ত দুবের লোকজন এবং বিজেপি নোংরা, সস্তার রাজনীতি করছে। মহুয়ার জন্মদিনে তোলা ছবি সোশাল মিডিয়ায় ছড়ানো হচ্ছে।' এরকমই এক ছবিতে দেখা যায় শশী থারুর তাঁর বোন এবং মহুয়ার কাঁধে হাত রেখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কিন্তু ছবি এডিট করে ক্রপ করে শশীর বোনকে ফ্রেম থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। তারপর সেই ছবি সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এরইমধ্যে তাঁর মহুয়া তাঁর প্রাক্তন বয়ফ্রেন্ড জয় দেহাদরাইয়ের বিরুদ্ধে পুলিসে অভিযোগ দায়ের করেন। পোষ্য রট উইলারের হেফাজত নিয়ে পুলিসে অভিযোগ করেন সাংসদ। পরে অবশ্য পোষ্যকে ফেরত পেয়ে তিনি অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন।

কাহিনি আরও জটিল হয় যখন মহুয়ার আইনজীবী গোপালা শংকরনারায়ণা নিজেকে এই মামলা থেকে সরিয়ে নেন। দিল্লি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে তিরস্কার এবং সমালোচনার মুখে পড়তে হয় মহুয়ার আইনজীবী গোপালাকে। অভিযোগ ওঠে, গোপালা আদালতের বাইরে জয় দেহাদরাইয়ের সঙ্গে মামলার সমঝোতা সেরে ফেলতে চেয়েছেন। অভিযোগ ওঠে, সমঝোতার র্শত ছিল, দেহাদরাইকে পোষ্য রট উইলারের হেফাজত দেওয়া হবে, বদলে মহুয়ার বিরুদ্ধে সিবিআই-এর কাছে জমা করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেবেন তাঁর প্রাক্তন বয়ফ্রেন্ড।

যাই হোক মহুয়া মৈত্রের উপর লাগাতার আক্রমণ হচ্ছে, তাঁকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে কুরুচিকর প্রচার চলছে এতে বিষ্মিত হওয়ার কিছু নেই। এই প্রতিবেদনের এক লেখক (পরঞ্জয়) মোবাইলের সিগন্যাল অ্যাপে একটি অচেনা নম্বরের টেক্সট পান। সেখানে মহুয়ার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। হোয়াটস গ্রুপেও মহুয়ার ব্য়ক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চা-গসিপ এসব চলতেই থাকে।

এই বিতর্কের জেরে মহুয়ার সাংসদ পদ যদি বাতিল হয়ে যায় তা হলে খুব কম লোকজনই বিষ্মিত হবেন। যেমন রাহুল গান্ধির হয়েছিল। কিন্তু এটা ঠিক যে ইদানিং কালে কোনও মহিলা সাংসদের বিরুদ্ধে এ রকম কুরুচিপূর্ণ, নোংরা প্রচার হয়নি। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে টেনে আনা হয়নি। একজন মহিলা যিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং আদানির বিরুদ্ধে তাঁর স্পষ্ট মত জানিয়েছেন। চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করেছেন।

কাহিনির এখানেই শেষ নয়।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

প্যান্ডেলের ভিতরে অন্ধকার থেকেই বিপত্তি! চোরবাগান দুর্ঘটনায় বিস্ফোরক অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীর

রিয়াঙ্কার কথায়, তাঁরা ছ’জন বন্ধু মিলে মণ্ডপে গিয়েছিলেন। ভিআইপি লাইনে প্রবেশ করেও তাঁদের প্রায় দু’ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। তাঁর দাবি, মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার আগে থেকেই ঠেলাঠেলি শুরু হয়েছিল।

ফ্রান্সের গণবিক্ষোভ থেকে কী শিখবে বিশ্ব?

France student protest: বিদ্যালয়ের দুরবস্থা ও পারকুরসুপ ব্যবস্থা থেকে শুরু হয়ে কীভাবে ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়ল দেশব্যাপী তীব্র জনরোষ?

চোরবাগানের দুর্ঘটনা: দায় কার, কী বলছে রাজনৈতিক দলগুলি?

Kolkata pandal Chorbagan stampede: কলকাতার চোরবাগানে দুর্গাপুজোর মণ্ডপে দুর্ঘটনা ঘিরে প্রশাসনিক ব্যর্থতা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। কী বলছে রাজনৈতিক দলগুলি?

প্রত্যক্ষদর্শীদের চোখে সপ্তমীর চোরবাগান

Chorbagan Durga Puja incident: মণ্ডপের ভিতরে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। বাইরে হঠাৎ বৃষ্টি নামায় বাইরের দর্শনার্থীরা ভিতরে ঢুকতে চাইছিলেন কিন্তু ভিতরের দর্শনার্থীরা বাইরে যেতে চাইছিলেন না। প্রবেশ ও প্রস্থান দ্বার ছিল সংকীর্ণ—সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক হুড়োহুড়ি ও পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি। এই ঘটনায় মৃত্যু হয় ১৯ জনের, আহত অন্তত ২৫। মণ্ডপে নিরাপত্তা ও ভিড় ব্যবস্থাপনার ফাঁকফোকরগুলি কীভাবে কেড়ে নিল এতগুলি প্রাণ, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে।

পুজোয় বইয়ের স্টলে বুলডোজার, যাদবপুরে রাতভর প্রতিরোধ, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

Durga Puja book stall controversy: উৎসবের আবহে বইয়ের স্টল ঘিরে উত্তেজনা কলকাতায়। যাদবপুরে পুরসভার পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মানববন্ধন বাম কর্মীদের, ভোররাতে ভাঙা হলো এপিডিআর-এর স্টল।

বরাত জোরে বেঁচে গিয়েছেন, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই চোরবাগানে ছিলেন সম্পূর্ণা

পুজোর মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরতে গিয়ে ভিড় সামলানোর অব্যবস্থা দেখে আগেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল সম্পূর্ণার মনে। হাওড়ার বেলুড়ের বাসিন্দা, ৩০ বছর বয়সি সম্পূর্ণার কথায়, চোরবাগানে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত ভয়াবহ।

যা ঘটেছিল চোরবাগান দুর্গাপুজো মণ্ডপে

Chorbagan Durga Puja incident: এই ঘটনার পর থেকেই পুজো কমিটির ব্যবস্থাপনা এবং এর পিছনের পট পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক ও তোলপাড় শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, পুজোর ঠিক আগেই চোরবাগান পুজো কমিটির রদবদল হয়েছিল এবং নতুন কমিটি পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিল।

নিষিদ্ধ নয়, বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, কী আছে ফিলিস্তিনপন্থী স্যালি রুনির বইয়ে

Sally Rooney: ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে রয়্যালটি দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশের পর ব্রিটেনে স্যালি রুনির বই সরবরাহ বন্ধ করেছে ফ্যাবার।