কাজ করছে না ইউপিআই, BNPL পদ্ধতিকে বিকল্প বাছছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন যে বিপদ
BNPL Service : আগে জিনিস পরে দাম, হাতে টাকা না থাকলেও কুছ পরোয়া নেই! বেছে নিচ্ছেন BNPL পদ্ধতি, অজান্তেই ডেকে আনছেন যে বিপদ

‘বাই নাউ পে লেটার’ অর্থাৎ আগে জিনিস পরে দাম। ঠিক যেন ‘ফেলো কড়ি মাখো তেল’-এর বিপরীত। শুনে তো মনে হচ্ছে দারুণ সুবিধা। হাতে এখন টাকা না থাকলেও কুছ পরোয়া নেই, পছন্দমত জিনিস মিলবে ধার বাকিতেই। পরে সেই বাকি অর্থ চুকিয়ে দিলেই হল। আগে মুদির দোকান অথবা বাঁধা কিছু জামা কাপড়ের দোকানে ঠিক এরকম খাতা থাকত। মাস মাইনে হাতে পেলে একটা একটা করে দাম মেটাত অনেকেই। তবে সময় বদলেছে, এখন ধার বাকিও চলে অনলাইনে। আর আধুনিক যুগে তারই নাম BNPL বা ‘বাই নাউ পে লেটার’।
ব্যাংকে গেলেই হামেশাই ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার জন্য জোর করা হয় আমানতকারীদের। এতে সুবিধা একটা, প্রত্যেকের আয়ের ওপর নির্ভর করে ওই কার্ডের একটি নির্দিষ্ট পরিসীমা রাখা হয়, যত টাকা পর্যন্ত ধারে জিনিস কেনা যাবে। তবে এই সুবিধার পিছনে রয়েছে সুদের গল্পও। বাকি ফেরত দেওয়ার সময় গুনতে হয় সেই হিসেবও। সময়ের মধ্যে শোধ করতে না পারলে আবার আরেক বিপদ,চাপ পড়ে ব্যক্তির সিবিল স্কোরের ওপর। যার জেরে কমে যায় ক্রেডিটের পরিমাণ। অর্থাৎ সব মিলিয়ে বলতে গিয়ে একটা জটিল অনলাইন জাল। একবার প্রবেশ করে গেলেই চক্রবুহ, বেরিয়ে আসা মুশকিল।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Digital economy : কেবল শপিং মল অথবা গাড়ি ভাড়াই নয়, চোরেও আছে ফোন পে!
সম্প্রতি ফুড ডেলিভারি অ্যাপগুলিও নিজেদের এই BNPL পদ্ধতির আওতায় নিয়ে এসেছে। জোম্যাটো আগেই শুরু করেছিল এই পরিষেবা। সম্প্রতি সুইগিও দিচ্ছে আগে খাবার, পরে দামের সুবিধা। অর্থাৎ নগদ, ডেবিট কার্ড অথবা ইউ পি আই -এর সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ধার বাকির বিকল্পের দিকে ঝুঁকতে চাইছে অনেকেই। শুধু তাই নয় একটি নতুন বিষয় সামনে রাখছে সংস্থাগুলি। যাতে লেখা থাকছে, ইউআইপি পদ্ধতি কাজ করছে না, কোনও চিন্তা নেই আপনি এখন অর্ডার করুন, পরে দাম দেবেন। ব্যাস এই দেখে অপশনে ক্লিক করে ফেলছেন অনেকেই, না জেনে। এর পরেই আসছে লম্বা বিলের ফিরিস্তি।
সম্প্রতি টুইটারে এই বিষয়ে সরব হয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন এক ব্যক্তি। তিনি সরাসরি বলেছেন এই ক্রেডিট পদ্ধতি সম্পর্কে বেশিরভাগ মানুষই অবগত নয়। ফলে না জেনেই পা বাড়াচ্ছেন এই পথে। মাস শেষে খাবারের বিল দেখে বিপদে পড়তে হচ্ছে। উল্লেখ করেছেন, অতীতে কিছু ব্যবহারকারীর সাথে অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে এবং তাদের BNPL 'ঋণ' ফেরত দিতে হয়েছিল অথচ তারা ঋণ নেওয়ার বিষয়ে সঠিকভাবে অবগতই ছিল না। পাশাপাশি ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI) এবং কনজিউমার অ্যাফেয়ার্সের মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্যও জানিয়েছেন।
আধুনিকতার সঙ্গে পাল্লা দিতে দিতে বর্তমানে সব কিছু এতই যান্ত্রিক হয়ে উঠেছে যে আমরা চলতে ফিরতে এখন নগদের বদলে upi করি। খুচরো সমস্যা এতে খানিকটা হলে মিটেছে ঠিকই তবে সরাসরি ব্যাংক থেকে টাকা দেওয়ার সুবিধায় খরচ হয়ে গিয়েছে মাত্রা ছাড়া। ব্যাগের টাকা কমছে না দেখে খরচ কমানোর কথা মাথায় থাকছে না বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অথচ ব্যাংক থেকে কেটে চলেছে অর্থ। তবে এই সব কিছুরই রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম। তাই অনলাইন পদ্ধতিতে কেনাকাটা করার সময় মাথায় রাখা দরকার সেইসব কিছু। নচেৎ বলা তো যায় না, ঘটি বাটি বিক্রির উপক্রম হলে, মহা বিপদ। যদিও ভারতের বাজারে যথেষ্ট জনপ্রিয় বিএনপিএল পদ্ধতি। এমনকী সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে হয়তো সত্যিই প্রয়োজন ক্রেডিট, ডেবিট সব পদ্ধতিই, কেবল মাথায় রাখবেন সম্পূর্ণ অবগত হয়ে তবেই ঢুকবেন অদৃশ্য এই জালে।







