কাজ করছে না ইউপিআই, BNPL পদ্ধতিকে বিকল্প বাছছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন যে বিপদ

BNPL Service : আগে জিনিস পরে দাম, হাতে টাকা না থাকলেও কুছ পরোয়া নেই! বেছে নিচ্ছেন BNPL পদ্ধতি, অজান্তেই ডেকে আনছেন যে বিপদ

Kankana Mukherjee
২ মিনিট
কাজ করছে না ইউপিআই, BNPL পদ্ধতিকে বিকল্প বাছছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন যে বিপদ

‘বাই নাউ পে লেটার’ অর্থাৎ আগে জিনিস পরে দাম। ঠিক যেন ‘ফেলো কড়ি মাখো তেল’-এর বিপরীত। শুনে তো মনে হচ্ছে দারুণ সুবিধা। হাতে এখন টাকা না থাকলেও কুছ পরোয়া নেই, পছন্দমত জিনিস মিলবে ধার বাকিতেই। পরে সেই বাকি অর্থ চুকিয়ে দিলেই হল। আগে মুদির দোকান অথবা বাঁধা কিছু জামা কাপড়ের দোকানে ঠিক এরকম খাতা থাকত। মাস মাইনে হাতে পেলে একটা একটা করে দাম মেটাত অনেকেই। তবে সময় বদলেছে, এখন ধার বাকিও চলে অনলাইনে। আর আধুনিক যুগে তারই নাম BNPL বা ‘বাই নাউ পে লেটার’।

ব্যাংকে গেলেই হামেশাই ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার জন্য জোর করা হয় আমানতকারীদের। এতে সুবিধা একটা, প্রত্যেকের আয়ের ওপর নির্ভর করে ওই কার্ডের একটি নির্দিষ্ট পরিসীমা রাখা হয়, যত টাকা পর্যন্ত ধারে জিনিস কেনা যাবে। তবে এই সুবিধার পিছনে রয়েছে সুদের গল্পও। বাকি ফেরত দেওয়ার সময় গুনতে হয় সেই হিসেবও। সময়ের মধ্যে শোধ করতে না পারলে আবার আরেক বিপদ,চাপ পড়ে ব্যক্তির সিবিল স্কোরের ওপর। যার জেরে কমে যায় ক্রেডিটের পরিমাণ। অর্থাৎ সব মিলিয়ে বলতে গিয়ে একটা জটিল অনলাইন জাল। একবার প্রবেশ করে গেলেই চক্রবুহ, বেরিয়ে আসা মুশকিল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মাঝ রাস্তায় ডাকাতি, অনলাইনে গচ্চা তিন হাজার, মধ্যরাতে কতটা নিরাপদ কলকাতা?

Digital economy : কেবল শপিং মল অথবা গাড়ি ভাড়াই নয়, চোরেও আছে ফোন পে!

সম্প্রতি ফুড ডেলিভারি অ্যাপগুলিও নিজেদের এই BNPL পদ্ধতির আওতায় নিয়ে এসেছে। জোম্যাটো আগেই শুরু করেছিল এই পরিষেবা। সম্প্রতি সুইগিও দিচ্ছে আগে খাবার, পরে দামের সুবিধা। অর্থাৎ নগদ, ডেবিট কার্ড অথবা ইউ পি আই -এর সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ধার বাকির বিকল্পের দিকে ঝুঁকতে চাইছে অনেকেই। শুধু তাই নয় একটি নতুন বিষয় সামনে রাখছে সংস্থাগুলি। যাতে লেখা থাকছে, ইউআইপি পদ্ধতি কাজ করছে না, কোনও চিন্তা নেই আপনি এখন অর্ডার করুন, পরে দাম দেবেন। ব্যাস এই দেখে অপশনে ক্লিক করে ফেলছেন অনেকেই, না জেনে। এর পরেই আসছে লম্বা বিলের ফিরিস্তি।

সম্প্রতি টুইটারে এই বিষয়ে সরব হয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন এক ব্যক্তি। তিনি সরাসরি বলেছেন এই ক্রেডিট পদ্ধতি সম্পর্কে বেশিরভাগ মানুষই অবগত নয়। ফলে না জেনেই পা বাড়াচ্ছেন এই পথে। মাস শেষে খাবারের বিল দেখে বিপদে পড়তে হচ্ছে। উল্লেখ করেছেন, অতীতে কিছু ব্যবহারকারীর সাথে অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে এবং তাদের BNPL 'ঋণ' ফেরত দিতে হয়েছিল অথচ তারা ঋণ নেওয়ার বিষয়ে সঠিকভাবে অবগতই ছিল না। পাশাপাশি ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI) এবং কনজিউমার অ্যাফেয়ার্সের মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্যও জানিয়েছেন।

আধুনিকতার সঙ্গে পাল্লা দিতে দিতে বর্তমানে সব কিছু এতই যান্ত্রিক হয়ে উঠেছে যে আমরা চলতে ফিরতে এখন নগদের বদলে upi করি। খুচরো সমস্যা এতে খানিকটা হলে মিটেছে ঠিকই তবে সরাসরি ব্যাংক থেকে টাকা দেওয়ার সুবিধায় খরচ হয়ে গিয়েছে মাত্রা ছাড়া। ব্যাগের টাকা কমছে না দেখে খরচ কমানোর কথা মাথায় থাকছে না বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অথচ ব্যাংক থেকে কেটে চলেছে অর্থ। তবে এই সব কিছুরই রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম। তাই অনলাইন পদ্ধতিতে কেনাকাটা করার সময় মাথায় রাখা দরকার সেইসব কিছু। নচেৎ বলা তো যায় না, ঘটি বাটি বিক্রির উপক্রম হলে, মহা বিপদ। যদিও ভারতের বাজারে যথেষ্ট জনপ্রিয় বিএনপিএল পদ্ধতি। এমনকী সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে হয়তো সত্যিই প্রয়োজন ক্রেডিট, ডেবিট সব পদ্ধতিই, কেবল মাথায় রাখবেন সম্পূর্ণ অবগত হয়ে তবেই ঢুকবেন অদৃশ্য এই জালে।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।