মাঝ রাস্তায় ডাকাতি, অনলাইনে গচ্চা তিন হাজার, মধ্যরাতে কতটা নিরাপদ কলকাতা?

Digital economy : কেবল শপিং মল অথবা গাড়ি ভাড়াই নয়, চোরেও আছে ফোন পে!

Kankana Mukherjee
৩ মিনিট
মাঝ রাস্তায় ডাকাতি, অনলাইনে গচ্চা তিন হাজার, মধ্যরাতে কতটা নিরাপদ কলকাতা?

দুনিয়াদারির চক্করে জীবন এখন ডিজিটাল। চলতে ফিরতে স্ক্যান করাই এখন দস্তুর। একসময় পকেটে টাকার টান পড়লে ধার করতে হতো কিন্তু এখন সেসব অতীত। বিপদে পড়লেই পকেট থেকে ফোন ভার করে স্ক্যান করে সরাসরি দেওয়া যায় প্রয়োজনীয় অর্থ। দোকানে জিনিস কিনতে গেলেও অনেকেই খোঁজ করেন, ‘দাদা ফোন পে, গুগল পে হয় তো?’ বড় দোকানের লম্বা বিল থেকে শুরু করে মুদির দোকান, ফুচকার দোকানের দশ বিশ টাকার হিসেব মেলাতেও স্ক্যান করেছেন হামেশাই। কিন্তু এই যান্ত্রিক যুগে দাঁড়িয়ে কতটা ভালো আর কতটা কালোর মধ্যে দিনদিন পর্যবসিত হচ্ছি আমরা সেই খোঁজ রাখেন কি?

একটা সময় ছিল দূরপাল্লার ট্রেনে বাসে অথবা রাস্তায় প্রায়ই ছোট বড় চুরি ডাকাতি অথবা ছিনতাই এর কবলে পড়তেন অনেকেই। বাধ্য হয়েই মানুষ এখন রাস্তাঘাটে সোনার জিনিস পরে না, এমনকী নগদ অর্থও নিয়ে বেরোতে চান না অনেকেই। ডিজিটাল যুগের সুবিধা অবশ্য অনেক। টাকা না থাকলেও কার্ড আছে, নিদেন পক্ষে স্ক্যানার আছে। কিন্তু এই সুফল ভোগ করতে গিয়ে যদি ভাবেন চুরি ডাকাতি ঠেকাতে পারবেন তবে হয়তো সত্যিই ভুল করছেন। ডিজিটাল জমানায় চোরও ডিজিটাল। পকেটে টাকায় টান? কুছ পরোয়া নেই, ফোন পে করেই চোরের অ্যাকাউন্টে যাচিত অর্থ পাঠাতে হবে এমনটাই দাবি চোরের। শুনতে অবাক লাগলেও সম্প্রতি ঠিক এরকম একটি ঘটনারই সাক্ষী থেকেছে আগরপাড়া নিবাসী সৌত্রিক চক্রবর্তী।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মৃত্যুর পরে সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের কী হয়? 'ডিজিটাল উইল'-এর যে তথ্য অজানাই

Social Media Digital Will: স্থাবর সম্পত্তির উইল সম্ভব, কিন্তু ডিজিটাল সম্পদের উত্তরাধিকার হবে কে?

উত্তর কলকাতার মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে সৌত্রিক। পেশায় একজন ট্রাভেল এজেন্সির মালিক। নতুন বছরের ২ তারিখ রাতের ঘটনা। দক্ষিণেশ্বর থেকে ডানলপ ফেরার রাস্তায় হঠাৎ হাত দেখিয়ে দাঁড় করে দুই বাইক আরোহী। মুহূর্তের মধ্যে পকেট থেকে বের হয় বন্দুক। কিন্তু হায় রে চোর পকেটে তখন কানাকড়ি বিশেষ কিছুই নেই সৌত্রিকবাবুর। বাধ্য হয়েই পরনের জ্যাকেট আর পকেটে থাকা সিগারেটের প্যাকেট নিয়ে নেয় তারা।

সৌত্রিক বাবুর সাফ কথা, “আমরা এমন একটা সময়ে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে চাকরি নেই, পড়াশোনাও প্রায় অস্তাচলে। তার ওপর আবার রাজনৈতিক দাদাদের সঙ্গে মাতামাতি সব মিলিয়ে এমন একটা সময়ে দাঁড়িয়ে রয়েছি আমরা যাতে করে চোর, ডাকাত তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক কিছুই নয়। তাই সমাজ বদলানোর দায় না নিয়ে কেবল চোরের দিকে আঙুল তুলে লাভ নেই।”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গান্ধীছাপ নোটের দিন শেষ? ডিসেম্বর থেকেই আসছে ডিজিটাল মুদ্রা, কীভাবে করবেন ব্যবহার?

Digital Currency : কাগজের নোটের মতো ডিজিটাল রুপি যেহেতু আরবিআই বাজারে আনছে, ফলে সাধারণ টাকার মতোই এই ডিজিটাল রুপি বিশ্বাসযোগ্য হবে

ডিজিটাল মাধ্যমে ৩০০০ টাকা হারিয়েও ডিজিটাল দুনিয়াকে দোষ দিতে নারাজ সৌত্রিক চক্রবর্তী। বরং তিনি জানালেন, “ওদের মুখের দিকে তাকিয়ে মনে হয়েছিল পাকা হাতের কাজ নয়। কিন্তু খুব প্রয়োজন টাকার। মনে মনে ভাবলাম যদি ডিজিটাল মাধ্যমে টাকা দিতে পারি তাহলে ওদের ধরার কাজ সহজ হবে পুলিশের পক্ষে। তাই নিজে থেকেই বলি ফোন পের কথা। জানতে পারলাম চুরি করলেও সেসব বিষয় চৌখস তারা। তাই স্ক্যান করে টাকা নিতে রাজি হয়ে গেল।”

উক্ত অ্যাকাউন্টে বেশি টাকা নেই দেখে নাকি দর দস্তুরও করেছে চোর। গরীবের কষ্ট হয়তো ওরাও ভালোই বোঝে তাই ৩০০০ টাকাতেই সওদা করে। দুনিয়ার গোলকধাঁধাই তো তৈরি করে এদের মতো মানুষকে। এ দায় তো কেবল সেদিনের ওই দুটি চোরের নয়, বরং দায় বর্তমান সময়ের। থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয় সেইদিনই। ইতিমধ্যে ধরাও পড়েছেন একজন, নাম রাজীব গুই। জানা গিয়েছে মাত্র ছয় মাসের একটি ছেলেও রয়েছে তাঁর।

আগেই বল হয়েছে, পাকা হাতের চোর নয় তারা। তাহলে হয়তো দামী বাইক অথবা দামী ফোন নিতে চাইত তারা, দাবী সৌত্রিক চক্রবর্তীর। কিন্তু ঠিক কী কারণে এই চুরির পথ বেঁচে নিয়েছিল তারা এখনও ধোঁয়াশা।থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয় সেইদিনই। ইতিমধ্যে ধরাও পড়েছেন একজন, নাম রাজীব গুই। জানা গিয়েছে মাত্র ছয় মাসের একটি ছেলেও রয়েছে তাঁর।

আগেই বল হয়েছে, পাকা হাতের চোর নয় তারা। তাহলে হয়তো দামী বাইক অথবা দামী ফোন নিতে চাইত তারা, দাবী সৌত্রিক চক্রবর্তীর। কিন্তু ঠিক কী কারণে এই চুরির পথ বেঁচে নিয়েছিল তারা এখনও ধোঁয়াশা। সময়ের সঙ্গে যান্ত্রিক হচ্ছি আমরা। সাইবার ক্রাইমের ঘটনা এখন হামেশাই শোনা যায়। তবে মাঝরাস্তায় ফোন পে দিয়ে স্ক্যান করে টাকা চুরি এ ঘটনা অভিনবই বটে। ভাবতে অবাক লাগে কলকাতার ব্যস্ত রাস্তায় রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ ঘটছে এই ঘটনা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতটাই শিকেয়! আজ একটা বন্দুক কপালে ঠেকিয়ে যে ঘটনা ঘটছে, বলা তো যায় না কাল আরও দুটি বন্দুক দেখিয়ে একই ঘটনার সাক্ষী হবে কলকাতা। তিলোত্তমাকে বিদেশ বানাতে গিয়ে মর্মে মর্মে এত এত অন্ধকার জমা হচ্ছে কেন, সেই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার মানুষের সত্যিই বড় অভাব।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?