গান্ধী পরিবারের একচেটিয়া দখলদারিতে বিরক্ত নেতারা, ২০২৪-এর আগে কোথায় দাঁড়িয়ে কংগ্রেস?

সিবালের প্রস্থানে G-23 গোষ্ঠীও অচিরেই ভেঙে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ গোলাম নবি আজাদ, আনন্দ শর্মার মতো নেতারা এই মুহূর্তে রাজ্যসভার টিকিট পেতে উদগ্রীব।

pampii adhikari
৫ মিনিট
গান্ধী পরিবারের একচেটিয়া দখলদারিতে বিরক্ত নেতারা, ২০২৪-এর আগে কোথায় দাঁড়িয়ে কংগ্রেস?

হৃত গৌরব ফিরে পেতে আগাপাশতলা রদবদলের কথা শোনা গিয়েছিল। প্রবীণ-নবীন সকলকে একজোট করে অক্সিজেনের জোগান বাড়ানোর কথা ফিরছিল মুখে মুখে। উদয়পুরে মহাসমারোহে ‘চিন্তন শিবির’ সেরে দিল্লি ফেরার পর এখনও দু’সপ্তাহও কাটেনি। তার মধ্যেই বড় রদবদল ঘটে গেল কংগ্রেসে। দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেন গান্ধী পরিবারের বিশ্বস্ত সৈনিক কবিল সিবাল। শুধু তাই নয়, যে উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের দায়িত্বে রয়েছেন খোদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সেখানে বসেই সমাজবাদী পার্টির সমর্থনে রাজ্যসভার জন্য মনোনয়নও জমা দিলেন তিনি। দীর্ঘ তিন দশক কংগ্রেসের ছত্রছায়ায় থাকার পর জানিয়ে দিলেন, কারও অনুগত থেকে নয়, সংসদে স্বাধীনভাবে বিচরণ করতে চান তিনি। কারও অঙ্গুলিহেলনে নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে একা, নিজের মতো করে লড়াই চালিয়ে যাবেন।

আইনি ঝামেলা হোক বা দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা, দীর্ঘ দিন কংগ্রেসের ড্যামেজ কন্ট্রোল ম্যান হয়েছিলেন সিবাল। কিন্তু ভেতরে ভেতরে দলের সর্বত্র যে ঘুণ ধরেছে, তা বছরদুয়েক আগেই টের পেয়েছিলেন। তাই গান্ধী পরিবারের প্রতি ভক্তিভাব সরিয়ে রেখে, নতুন করে দল সাজানোর জিগিরের অন্যতম হোতা হয়ে উঠেছিলেন। কংগ্রেসে থেকেই বিক্ষুব্ধ নেতাদের নিয়ে তৈরি করেছিলেন G-23। সর্বক্ষণের নেতা না থাকা, সুষ্ঠু পরিকল্পনা না থাকা নিয়ে প্রকাশ্যেই দলের, সর্বোপরি গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন তিনি। তবে দিনদশেক আগেই যে তিনি ইস্তফা দিয়ে ফেলেছেন, তা এতদিন চাউর হয়নি। বুধবার অখিলেশ যাদবকে পাশে নিয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় নিজেই তা খোলসা করলেন সিবাল।

কপিলের মতো সুবক্তা, বিচক্ষণ এবং সর্বজ্ঞ নেতার এমন প্রস্থানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে পড়ছে গান্ধী পরিবার। সত‍্যি ‘চিন্তন শিবির’-এ ভারী ভারী কথা বলে দলকে পুনরুজ্জীবিত করার কথা বললেও, আদৌ কংগ্রেস নেতৃত্ব তা নিয়ে ভাবিত কি না, উঠছে প্রশ্ন। কারণ শুধু সিবাল নন, গত পাঁচ মাসে এই নিয়ে পঞ্চম তথাকথিত হেভিওয়েট নেতা কংগ্রেস ছাড়লেন। সিবাল ছাড়াও এই তালিকায় যাঁরা রয়েছেন তাঁরা হলেন:

সুনীল জাখর: প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। চরণজিৎ সিংহ চান্নির সমালোচনায় সরব হওয়ায় তাঁকে শোকজ করেছিলেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। তা নিয়ে হইচই না বাধালেও, চলতি মে মাসেই কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপি-তে যোগদান করে জবাব দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, শ্লেষমেশানো সুরে গান্ধীদের উদ্দেশে বার্তা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “কে বন্ধু, কে শত্রু, তা চিনতে শেখা উচিত দলীয় নেতৃত্বের।”

হার্দিক প্যাটেল: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে গুজরাতে কংগ্রেসের ইতিবাচক সম্ভাবনা নিয়ে যে-সময় আলোচনা তুঙ্গে, সেই সময়ই সব সম্ভাবনায় কার্যত জল ঢেলে দেন পতিদার আন্দোলনের নেতা হার্দিক প্যাটেল। জানিয়ে দেন, দলে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে তাঁকে। সোনিয়া গান্ধীকে লেখা পদত্যাগপত্রে সাফ জানিয়ে দেন, দেখা করতে গেলে, অভাব-অভিযোগ শোনার বদলে মোবাইলেই বুঁদ হয়ে বসে থাকেন দলের নেতা। সরাসরি নাম না নিলেও, তাঁর ইশারা যে রাহুল গান্ধীর দিকে, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি কারওরই। দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলিকে চিহ্নিত করে সমাধানের রাস্তা খোঁজার বদলে গুজরাত কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য চিকেন স্যান্ডউইচের ব্যবস্থা করতে বেশি তৎপর বলেও কটাক্ষ ছুড়ে দেন হার্দিক।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কংগ্রেসের ঘোর কলি! কপিল সিবালের দলত্যাগ যে বার্তা দিল

২০২৪-কে সামনে রেখে বিরোধীরা যখন ঘুঁটি সাজাতে ব্যস্ত, তখন কংগ্রেসের এ কী হাল! রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বারবার বলছেন, এক্ষেত্রে কংগ্রেসকে বড় ভূমিকা নিতে হবে। লড়াই তো পরের কথা।

অশ্বনি কুমার: দীর্ঘ ৪০ বছর পর প্রাক্তন আইনমন্ত্রী অশ্বনি কুমার এ-বছর ফেব্রুয়ারি মাসে কংগ্রেস থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। সোনিয়াকে লেখা পদত্যাগপত্রে সাফ জানান, দলে থেকে আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে তাঁর। অদূর ভবিষ্যতে মুখ থুবড়ে খাদে পড়ে যাওয়া ব্যতীত, কংগ্রেসের মধ্যে কোনও সম্ভাবনাই দেখতে পাচ্ছেন না বলেও জানান তিনি।

রঞ্জিত প্রতাপ নারায়ণ সিংহ: গত বছর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, দীর্ঘ ৩২ বছর কংগ্রেসে কাটিয়েছেন তিনি।কিন্তু আগের সেই দল আর নেই।

তাঁরও আগে আবার ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং, জিতিন প্রসাদ, যোগানন্দ শাস্ত্রীও কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে যান। নিজের নতুন দল গড়ে, বিজেপি-র সঙ্গে হাত মিলিয়ে নির্বাচনে কংগ্রেসকেই টেক্কা দেন ক্যাপ্টেন। জিতিন আবার সরাসরি বিজেপি-তেই গিয়ে উঠেছেন। শাস্ত্রী বেছে নিয়েছেন ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টিকে।

এককালে দলের হয়ে, পূর্বতন ইউপিএ সরকারের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন যে নেতারা, একে একে তাঁদের এই প্রস্থানে প্রশ্নাতীতভাবেই কাঠগড়ায় গান্ধী পরিবার। বিশেষ করে রাহুল গান্ধী। কারণ খাতায়-কলমে সোনিয়া অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি হিসেবে দলের মাথায় থাকলেও, আদতে আড়াল থেকে রাহুলই সবকিছু পরিচালনা করছেন বলে কংগ্রেসের অন্দরে, বাইরে, সর্বত্রই প্রচলিত। তাই রাহুল সরাসরি নেতৃত্বেও আসছেন না, আবার নেতাদের দলত্যাগ আটকাতে, বিক্ষুব্ধদের মান ভাঙাতে কেন কিছু করছেনও না, তা ভাবিয়ে তুলছে সকলকেই।

কারণ হিমন্ত বিশ্বশর্মা থেকে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, ক্যাপ্টেন থেকে সিবাল, কারও চলে যাওয়া আটকাতেই তেমন গরজ দেখা যায়নি কংগ্রেস নেতৃত্বের মধ্যে। সিবালের ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি। বুধবার তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আসতে আত্মসমীক্ষার পরিবর্তে সিবালকে আক্রমণ করতেই দেখা যায় কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ প্রদীপ তামতাকে। তিনি বলেন, “কংগ্রেস ওঁকে সবকিছু দিয়েছে। এটা ওঁর দলকে দেওয়ার সময় ছিল। কিন্তু রাজ্যসভায় একটি আসনের বিনিময়ে দল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়াকেই বেছে নিয়েছেন উনি।”

রাহুল নিজে যদিও এখনও পর্যন্ত সিবালের প্রস্থান নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। কিন্তু সিবালের প্রস্থানে কংগ্রেস নেতৃত্ব একরকম স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন বলেই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। তাঁদের মতে, বিক্ষুব্ধদের নিয়ে G-23 গঠনের হোতা সিব্বলই। কারণে-অকারণে লাগাতার গান্ধী পরিবারকে নিশানা করে গিয়েছেন তিনি। অথচ সংসদে জ্বালাময়ী ভাষণ ছাড়া সাম্প্রতিককালে দলের হয়ে মাঠে নামতে দেখা যায়নি সিবালকে। G-23 গোষ্ঠীর অংশ হয়েও সম্প্রতি উদয়পুরে ‘চিন্তন শিবির’-এ যোগদান করেছিলেন শশী থারুরের মতো নেতারা সেখানে সিবাল ছিলেন অনুপস্থিত।

সিবালের প্রস্থানে G-23 গোষ্ঠীও অচিরেই ভেঙে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ গোলাম নবি আজাদ, আনন্দ শর্মার মতো নেতারা এই মুহূর্তে রাজ্যসভার টিকিট পেতে উদগ্রীব। রাজস্থান থেকে আজাদের নাম প্রস্তাব করা একরকম পাকাও হয়ে গিযেছে। তাই গান্ধীদের চটানোর রাস্তায় তাঁরা যাবেন না বলে মত বিশেষজ্ঞদের। তাঁদের দাবি, দল ছাড়লে লোকসভার সাংসদ পদটিও চলে যাবে। তাই থারুর, মণীশ তিওয়ারির মতো নেতারাও সেই ঝুঁকি নেবেন না। তাই কংগ্রেসের ঘাড় থেকে একটি বোঝা নেমেই গেল বলে ধরেই নিচ্ছেন তাঁরা।

আবার ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে, সিবালের এই প্রস্থানকে রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখছেন অনেকে। তাঁদের মতে, গান্ধীদের বিরুদ্ধে আঙুল তোলায় কংগ্রেস ছেড়ে বেরনো ছাড়া উপায় ছিল না সিবালের। কিন্তু দল ছেড়ে বেরনোর পরও কংগ্রেস সম্পর্কে কোনও কুকথা বলতে শোনা যায়নি। বরং ৩০-৩২ বছরের সম্পর্ক শেষ করা সহজ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। সমাজবাদী পার্টির সমর্থনে রাজ্যসভার মনোনয়ন জমা দিলেও, অখিলেশের দলে যোগ দেননি সিবাল। বরং স্বাধীন, নির্দল প্রার্থী হিসেবেই নিজেকে তুলে ধরার কথা বলেছেন। এর পিছনে বিজেপি-বিরোধী জোটের অঙ্ক রয়েছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের।

এ-প্রসঙ্গে গত বছর বাজেট অধিবেশের সমাপ্তির পর সিবালের ডাকা নৈশভোজের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, ২০১৬ সালেও সিবালের রাজ্যসভায় যাওয়ায় সমর্থন জানিয়েছিল সমাজবাদী পার্টি। বাবা মুলায়ম সিং যাদবের সঙ্গে প্রতীক নিয়ে লড়াইয়ের সময় অখিলেশের হয়ে নির্বাচন কমিশনে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন সিবাল।রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা লালুপ্রসাদ যাদবের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক ভালো।১৯৯৮ সালে লালুই রাজ্যসভায় সিবালকে পাঠানোর জন্য সোনিয়ার কাছে দরবার করেছিলেন।

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও সুসম্পর্ক রয়েছে সিবালের। তৃণমূলের হয়ে মামলাও লড়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, রাজ্যসভায় যেতে প্রথমে মমতার সমর্থনই প্রার্থনা করেছিলেন সিবাল। কিন্তু তৃণমূল নেত্রী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে দলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তাতে রাজি হননি সিবাল। তাই শেষমেশ অখিলেশের হাত ধরেন। বিজেপিবিরোধী দলগুলোর সঙ্গে এই সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে আগামিদিনে বিজেপি-বিরোধী জোটে সিবালকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাতে সফল হলে আগামিদিনে রাহুলের সঙ্গে সিবালের মনোমালিন্য মিটে যাওয়াও অসম্ভব নয়।

লিখেছেন
pampii adhikari
pampii adhikari
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।