কোথায় আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় মুরাসু, কতটা ক্ষয়ক্ষতি, বাংলায় কী প্রভাব?
Cyclone Murasu: ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয় ঘূর্ণিঝড় মুরাসু। মঙ্গলবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়ে শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়। নেল্লোর, প্রকাশম ও বাপটলা জেলায় গাছ উপড়ে পড়েছে, নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। তামিলনাড়ু ও ওড়িশাতেও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি হয়েছে। বাংলায় কতটা প্রভাব ফেলবে মুরাসু?
কিছুদিন আগেই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ গত ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়েছিল। প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম, অনাকাপল্লি, কাকিনাড়া, কোনাসীমা ও পশ্চিম গোদাবরী জেলার বিভিন্ন অংশে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে। এর ফলে ব্যাহত হয় বিদ্যুৎ পরিষেবা। জল জমে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েন বহু মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৮৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
অর্ণবের প্রভাব কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয় নতুন ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। ২ নভেম্বর, সোমবার এটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় এবং ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়ে। এর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর, প্রকাশম ও বাপটলা, তামিলনাড়ুর চেন্নাই ও তিরুভাল্লুর এবং ওড়িশার গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, কোরাপুট ও মালকানগিরিতে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বইছে।
কোথায় আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় মুরাসু?
ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় মুরাসু দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী অঞ্চলে, ওঙ্গোলের কাছে আছড়ে পড়েছে। ৩ নভেম্বর রাত্রি ১টা নাগাদ স্থলভাগে প্রবেশ করতে শুরু করে মুরাসু। আবহাওয়া দফতরের পরবর্তী তথ্য অনুযায়ী, ভোর সাড়ে ৩টে থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম করে। স্থলভাগে প্রবেশের সময় মুরাসুর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Cyclone Arnab: অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া, ভারী বৃষ্টি ও জল জমার জেরে বিপর্যস্ত একাধিক এলাকা। ৮৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছে। বাংলার কোন কোন জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, আর কতটা প্রভাব পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়ের?
এখন কী পরিস্থিতি? কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে?
মুরাসুর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর, প্রকাশম ও বাপটলা জেলায় বহু গাছ উপড়ে পড়েছে। নিচু এলাকাগুলিতে জল জমে গিয়েছে। উপকূলবর্তী অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। তবে প্রাথমিক রিপোর্টে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়া বা বড় ধরনের কোনো বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের খবর পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবারের সকালের রিপোর্ট অনুযায়ী, কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু ভোর সাড়ে ৩টের সময় জেলাশাসক ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। উদ্ধার ও ত্রাণের কাজে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে। ঝড়ের পরে রাস্তায় পড়ে থাকা গাছ ও অন্যান্য বাধা সরানোর আগে বাসিন্দাদের বাইরে না বেরোনোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Cyclone Arnab: বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঝড়ের গতিপথ ও শক্তির দিকে নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা। বাংলার আবহাওয়ায় কি পড়বে অর্ণবের প্রভাব?
অন্যদিকে, প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কায় তামিলনাড়ুর চেন্নাই ও তিরুভাল্লুরে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। খারাপ আবহাওয়ার কারণে চেন্নাই বিমানবন্দরে একাধিক উড়ান বাতিল হয়েছে। বিজয়ওয়াড়া বিমানবন্দরেও বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে বলে খবর।
কোন কোন এলাকায় কী প্রভাব পড়েছে?
অন্ধ্রপ্রদেশ: নেল্লোর, প্রকাশম ও বাপটলা জেলায় বহু গাছ উপড়ে পড়েছে এবং নিচু এলাকায় জল জমেছে। ওঙ্গোলের কাছাকাছি উপকূলবর্তী অঞ্চলে ঝড়ের প্রভাব বেশি পড়েছে। ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার ফলে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
তামিলনাড়ু: চেন্নাই ও তিরুভাল্লুরে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। বিমান পরিষেবাতেও বিঘ্ন ঘটেছে। উত্তর তামিলনাড়ুর উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।
ওড়িশা: গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, কোরাপুট ও মালকানগিরি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় বিপর্যয় মোকাবিলা এবং উদ্ধারকারী দলকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তেলেঙ্গানা: রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।






