টাটা থেকে দেবী শেট্টি, বাংলা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের কী ভাবনা?

Sindhu Som
৩ মিনিট
টাটা থেকে দেবী শেট্টি, বাংলা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের কী ভাবনা?

বাংলার বিশ্ব বাণিজ্য শীর্ষসম্মেলন ২০২২-র প্রথম দিনেই মোট বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এসেছে ৩.৪২ লক্ষ কোটি টাকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এমনটাই জানিয়েছেন। সমাপ্তি ভাষণে তিনি উল্লেখ করেন সর্বমোট ১৩৭ টি সমঝোতা স্মারক এবং লেটারস্‌ অব ইন্টেন্টে সই করা হয়েছে বিনিয়োগের জন্য। এতে ৪০ লক্ষ কর্মসংস্থান হবে বলেই মনে করছে সরকার। তাঁর ব্লু প্রিন্ট অনুসারে, মুখ্যসচিবের নির্দেশনায় একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হবে, যারা বিশেষভাবে এই বিনিয়োগ গুলি দ্রুত সুষ্ঠু ব্যবহারের ব্যবস্থা করবে। চাষাবাদ, এমএসএমই, রপ্তানি, সার্ভিস সেক্টর এবং পর্যটনের সেক্টোরাল কমিটি গঠিত হয়েছে সম্মেলনে। এই কমিটি গুলি শিল্পপতিদের নিয়ে মাসে একবার সভা করবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই কমিটগুলিই ঠিক করবে নতুন নিয়মনীতি কী হবে, কীভাবে আরো বেশি কর্মসংস্থান করা সম্ভব, আরো বেশি বিনিয়োগ বাংলায় আনা সম্ভব তা নিয়ে আলোচনা করবে। এই শীর্ষ সম্মেলনে ৪২টি দেশ থেকে ৪৩০০ জন অংশগ্রহণ করেছিলেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। আগামী সম্মেলনের ২০২৩-এর ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হবে বলেই সরকারি ঘোষণা।

গত বুধবার আদানি গ্রুপ বাংলায় ১০০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আগামী দশ বছরে এই বিনিয়োগ খেপে খেপে হবে বলে জানিয়েছেন আদানি গ্রুপের প্রধান গৌতম আদানি। শীর্শসম্মেলনের প্রারম্ভিক সেশনে আদানি জানান, বিশ্বমানের বন্দরের পরিকাঠামো গড়ে তোলা, ডেটা সেন্টার, সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে কেবলের মধ্যে দিয়ে যা একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, ডিগিটাল ইনোভেশনের কেন্দ্র, ওয়েরহাউস এবং লজিস্টিক্স পার্ক—এই সমস্ত খাতে ঐ বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ কাজে লাগানো হবে। হলদিয়ায় আদানির একটি ভোজ্য তেলের কারখানা রয়েছে। তাজপুরের গভীর সমুদ্র বন্দরের সর্বোচ্চ দরদাতা এ পর্যন্ত আদানিই। কিন্তু রাজ্য এখনও আদানিকে তাজপুর দেয়নি। আদানি জানান, “আদানি গ্রুপের শীর্ষকর্তাদের পশ্চিমবঙ্গে আনব। পরিকাঠামো ও কর্মচালনায় আমাদের দক্ষতা এবং আমাদের অভিজ্ঞতা আমরা ভাগ করে নিতে চাইছি। যে মানের প্রযুক্তি আমরা আনতে চাইছি, তাতে পশ্চিমবঙ্গের পরিকাঠামোও উন্নত হয়ে উঠবে।”

তিনি দাবি করেন, এই বিনিয়োগের ফলে ২৫০০০ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে। পশ্চিমবঙ্গে মমতা সরকারের ‘উৎকর্ষ বাংলা’ বা ‘সবুজ সাথী’র মতো প্রকল্পগুলির অত্যন্ত প্রশংসা করেন আদানি। এই এত কাজের জন্যেই মমতার জনপ্রিয়তা জাওও অক্ষুণ্ণ, মানুষ এখনও তাঁকে ভরসা করে বিশ্বাস করে—মত আদানির।

জেএসডব্লিউ-এর চেয়ারম্যান এমন কোনও অঙ্কের প্রতিশ্রুতি দেননি। তবে ৯০০ মেগা ওয়াটের বিরাট একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। এই মাপের পরিকল্পনা অন্তত সাত-সাড়ে সাত হাজার কোটির বিনিয়োগ পেতে পারে বলেই আশা করা হচ্ছে।

অন্য দিকে হিন্দুস্থান ইউনিলিভারের এম ডি সঞ্জীব মেহ্‌রা বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কার্যকলাপ একটু খতিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে দিনের সঙ্গে তাল রেখে নিজেদের নিয়মনীতি বদল করতে তাঁরা সক্ষম,। এতেই প্রতিযোগিতার বাজারে নিজের স্থান ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।” তিনি আরোও বলেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সেই পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখার সাহস ও ক্ষমতা রয়েছে। বাংলায় বর্তমানে হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের চারটি ফ্যাক্টরি রয়েছে। এবং এমএনসি ফিজিক্যাল ইনফ্রাস্টাকচার ও বাজারে বিনিয়োগ চালু রাখবে।

টাটা স্টিলের এম ডি এবং সিইও টিভি নরেন্দ্রন মমতার প্রশংসা করেন, সরকারের প্রশংসা করেন এবং ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন। সিআইআইকে ন্যাশনাল পার্টনার রূপে আমন্ত্রিত করার জন্য এবং বিনিয়োগ শীর্ষসম্মেলনের জন্য তিনি রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আরো বলেন, টিসিএস এবং টাটার হোটেল শাখাটি বাংলায় আরো বাণিজ্যবিস্তার করবে। হীরানন্দিনী গ্রুপের প্রধান নিরঞ্জন হীরানন্দিনী ১৫০০ কোটির বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন তথ্যকেন্দ্র ও ইন্দাস্ট্রিয়াল লজিস্টিক পার্কের জন্য। “কোভিড মহামারীর সময় দেশের অর্থনৈতিক হাল যখন বিপর্যস্ত, সে সময় পশ্চিমবঙ্গের উন্নতি দেখে আমি চমকিত”, জানান তিনি। উইপ্রোর চেয়ারম্যান ঋষদ প্রেমজী বলেন, কোম্পানি দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রোজেক্ট শুরু হবে, এবং তাতে কয়েকশো কোটি বিনিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।

ডঃ দেবীপ্রসাদ শেট্টি শহর কলকাতায় একটি হাজার বেডের হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এতে থাকবে চিকিৎসা, সার্জারি, অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্ট এবং অন্যান্য সুবিধা ইত্যাদি নানা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে। মমতার উপরে ভরসা তাঁর বরাবর অর‍্যেছে বলেই জানান দেবী শেট্টি। নারায়ণ হেলথ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান শেট্টি জানান, হাসপাতালটিতে অঙ্কোলজি সার্জারি এবং অর্থোপেডিক অপারেশনের সুবিধাও থাকবে। দু থেকে তিন বছরের মধ্যে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করবেন তিনি। সরকারকে তিনি আরো নার্সিং কলেজ খোলার পরামর্শ দেন। “আপনি বরাবরই নারী ক্ষমতায়ন চেয়ে এসেছেন আমরা জানি। আজ তার পরম সুযোগ। রাজ্যে হাজার খানেক নার্সিং কলেজ গড়ে তোলা হোক। প্রতি হাসপাতাল থেকে অন্তত ১০০ খানা বেড দানের অনুরোধ করা হোক। এতে নার্সিং কলেজ স্থাপনের সুবিধা হবে। মাত্র বছর চারেকের মধ্যে কয়েক হাজার উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবার যথেষ্ট পরিমাণ রোজগার করতে শুরু করবে। আপনিই পারবেন, আর কারোর পক্ষে সম্ভব নয়।”--মমতাকে উদ্দেশ্য করে কথাগুলি বলেন শেট্টি।

লিখেছেন
Sindhu Som
Sindhu Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।