কেন ম্যাচজুড়ে হাত তুলে দাঁড়িয়ে থাকেন এই কঙ্গোলিজ সমর্থক?

DR Congo World Cup Fan: গণতান্ত্রিক কঙ্গোর পতাকার রঙে রঞ্জিত কোট-প্যান্ট পরে ৯০ মিনিট কোনো বিশ্রাম ছাড়া হাত তুলে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন মাঠে তাঁর ওভাবে হাত তুলে দাঁড়িয়ে থাকার কারণ কী? এ কি নিছকই নিজের দেশের ফুটবল দলের প্রতি সাধারণ অনুরাগ, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে তাঁদের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের এক জ্বলন্ত কাহিনি?

Shankhodeep Chakraborty
৩ মিনিট
কেন ম্যাচজুড়ে হাত তুলে দাঁড়িয়ে থাকেন এই কঙ্গোলিজ সমর্থক?

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় ইতিমধ্যে গোটা বিশ্ব একের পর এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হয়েছে। এখনকার আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাগুলির গুরুত্ব অপরিসীম। যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগী ইসরায়েল ক্রমাগত মানবসভ্যতার বিপরীতমুখী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, সেখানে এই দেশগুলির প্রতিনিধি দল ও সমর্থকরা খেলার মাঠে এবং মাঠের বাইরে নিজেদের কণ্ঠস্বর বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিচ্ছেন। ফুটবল মাঠ আজ আর কেবল খেলার আসর নয়, তা হয়ে উঠেছে বিশ্বরাজনীতির এক অন্যতম প্রতিবাদের মঞ্চ।

সোমালিয়ার তথা আফ্রিকার অন্যতম সেরা রেফারিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিজের দেশে ঢুকতে না দেওয়া, আফ্রিকা ও এশিয়া থেকে আসা বিভিন্ন দেশের দলকে নিরাপত্তার নামে হেনস্থা করা এবং ইরানের ফুটবল দলকে আমেরিকায় থাকতে না দেওয়ার মতো একাধিক ঘটনা ইতিমধ্যে ঘটেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতাকে ক্রীড়াপ্রেমীদের বড় অংশই ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত বিশ্বকাপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

ফুটবল কারোর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এই খেলা চিরকাল শ্রমিক শ্রেণির খেলা হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের সবচেয়ে গরিব এবং আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া দেশগুলির গোটা বিশ্বের কাছে পৌঁছে যাওয়ার এবং নিজেদের কথা বলার মঞ্চ এই ফুটবল। ইতিহাস চিরকাল তার সাক্ষী থেকেছে।

এবারের বিশ্বকাপও সেই অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে সমর্থকদের নিজেদের আওয়াজ পৌঁছনোর বড় মঞ্চ হয়ে উঠেছে। ইসরায়েল কর্তৃক ফিলিস্তিনের নিরীহ মানুষদের হত্যার প্রতিবাদে হাজার হাজার সমর্থক মাঠে নিয়ে আসছেন ফিলিস্তিনের সাদা-কালো-লাল-সবুজ পতাকা। একইভাবে ইরানের উপর আক্রমণের প্রতিবাদে নিষিদ্ধ ইসলামিক রিপাবলিকের পতাকা মাঠে ওড়াচ্ছেন সমর্থকরা। খেলার মাঠে যখন সবাই নিজেদের দিক বেছে নিচ্ছেন, ঠিক তেমনই মাঠের বাইরেও নিজেদের মতামত ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জাহির করছেন তাঁরা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মেসি-রোনাল্ডো নন, ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সাহসী খেলোয়াড় ছিলেন এই ডাক্তার

তিনি ছিলেন একাধারে একজন পেডিয়াট্রিশিয়ান বা শিশু বিশেষজ্ঞ এবং অর্থোপেডিক সার্জন। ভাবলে অবাক হতে হয়, যে মানুষটি রবিবার বিকেলে ব্রাজিলের জাতীয় দলের হয়ে মারাকানা স্টেডিয়ামে লক্ষাধিক দর্শকের সামনে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরে খেলছেন, তিনিই আবার সোমবার সকালে স্টেথোস্কোপ গলায় ঝুলিয়ে হাসপাতালের জেনারেল ওয়ার্ডে গরিব শিশুদের চিকিৎসা করছেন।

৫২ বছর পর বিশ্বকাপের ময়দানে নামতে চলেছে 'ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক দে কঙ্গো' (ডি.আর. কঙ্গো)। আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম এই দেশের আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফেকন) খেলার সময় ২০২৫ থেকেই সমাজমাধ্যমে এক বিশেষ সমর্থকের ছবি দেখা গিয়েছে। তাঁকে নিয়ে ইতিমধ্যে উত্তাল হয়েছে গোটা বিশ্বের ক্রীড়াপ্রেমী মহল।

গণতান্ত্রিক কঙ্গোর পতাকার রঙে রঞ্জিত কোট-প্যান্ট পরে ৯০ মিনিট কোনো বিশ্রাম ছাড়া হাত তুলে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন মাঠে তাঁর ওভাবে হাত তুলে দাঁড়িয়ে থাকার কারণ কী? এ কি নিছকই নিজের দেশের ফুটবল দলের প্রতি সাধারণ অনুরাগ, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে তাঁদের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের এক জ্বলন্ত কাহিনি? যে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে চিরকালের মতো ভুলিয়ে দিতে চায় সাম্রাজ্যবাদীরা।

ডি.আর. কঙ্গো এককালে ছিল বেলজিয়ামের উপনিবেশ। দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের গোটা জাতির মর্যাদা হারিয়ে, মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার ন্যূনতম সম্মানটুকু খুঁইয়ে ক্রমাগত লুণ্ঠিত হয়েছে এই দেশের মানুষ। দাসপ্রথার দ্বারা আক্রান্ত এবং মানুষ হিসেবে মাথা তুলে বাঁচার অধিকারের কথা যখন ভুলে যেতে বসেছিল সমগ্র জাতি, তখন গোটা জাতির মেরুদণ্ড সোজা করতে হাত তুলে দাঁড়িয়েছিলেন কঙ্গোর সমাজতান্ত্রিক নেতা প্যাট্রিস লুমুম্বা। ভয়ডরহীন এই নেতা মানবমুক্তির লক্ষ্যে নিজের জীবন উৎসর্গ করার আঙিনায় নিজেকে এনে ফেলেছিলেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের দিনই যে কারণে রাস্তায় নামলেন হাজার হাজার শিক্ষক

FIFA World Cup 2026 Mexico: বিশ্বকাপের সমস্ত জাঁকজমককে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সামনে উঠে আসে সাধারণ শিক্ষকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন।

চে গেভেরা বক্তৃতায় যাঁকে 'বিশ্ববিপ্লবের শহিদ' হিসেবে সম্মান জানিয়েছেন, সেই লুমুম্বা ছিলেন কঙ্গোর বেলজিয়ানবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রধান পথিকৃৎ। ১৯৬০ সালে বেলজিয়ামের উপনিবেশকে হটানোর পর প্রতিষ্ঠিত হয় 'রিপাবলিক দে কঙ্গো', যার প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন প্যাট্রিস লুমুম্বা। তাঁর সেই হাত তুলে দাঁড়ানোর ভঙ্গিমাটিই ছিল শোষণের বিরুদ্ধে কঙ্গোর সংগ্রামের প্রধান প্রতীক।

ইতিহাস সাক্ষী, যখনই কোনো শোষিত জাতির মানুষ জীবনে প্রথমবার মাথা তুলে মানুষের মতো করে বাঁচার চেষ্টা করে, তখনই দাঁত-নখ বের করে তার শরীর চিরে দিতে চায় ঔপনিবেশিক শক্তিরা। চে গেভেরা, ঘাসান কানাফানি, চারু মজুমদার থেকে শুরু করে নিজেদের মাটির ও মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে শহিদ হওয়া লক্ষ লক্ষ মানুষ এর বড় উদাহরণ। কঙ্গোর জাতীয় নেতা প্যাট্রিস লুমুম্বার পরিণতিও হয়েছিল সালফিউরিক অ্যাসিডের প্রয়োগে সশরীর চিরতরে উবে যাওয়ার মধ্য দিয়ে অমর হওয়ার মতো।

১৯৬০ সালে বেলজিয়াম ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ উদ্বেগে কঙ্গোয় মিলিটারি ক্যুপ বা সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। বন্দি করা হয় রাষ্ট্রনায়ক লুমুম্বাকে ও তাঁর কমরেডদের। পিছমোড়া করে বাঁধা বিধ্বস্ত লুমুম্বার সেই ছবি আজও খুঁজলে ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। ১৯৬১ সালে গাছে বেঁধে কয়েক রাউন্ড গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় লুমুম্বা-সহ তাঁর আরও দুই কমরেডের দেহ। যাতে জনগণের ক্ষোভের মুখে পড়তে না হয় এবং এই হত্যাকাণ্ড লুকিয়ে রাখা যায়, সেই জন্য লুমুম্বার দেহ সালফিউরিক অ্যাসিড দিয়ে চিরতরে গায়েব করে দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু একজন মানুষকে মারলেও তাঁর ভাবনাকে কি হত্যা করা যায়?

তার উত্তরই হচ্ছে ডি.আর. কঙ্গোর এই ফুটবল সমর্থক। লুমুম্বার সেই বিপ্লবী চেতনা আজও ৬০ বছর পরেও বয়ে নিয়ে চলেছেন তিনি। বিশ্বের সামনে কঙ্গোর খেলা চলাকালীন তিনি লুমুম্বার মতো হাত তুলে ৯০ মিনিট দৃঢ় দৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে থাকেন।

১৭ জুন ছিল পর্তুগালের সঙ্গে ডি.আর. কঙ্গোর ৫২ বছর পর প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ। ১-১ স্কোরের মাধ্যমে নিজেদের বিশ্বকাপের প্রথম পয়েন্ট এনেছে তারা। ইতিমধ্যে ডি.আর. কঙ্গোর ফুটবল ফেডারেশন এই সমর্থকের সমস্ত যাতায়াত ও টিকিটের খরচের দায়িত্ব নেওয়া সত্ত্বেও গতকাল তাঁকে মাঠে দেখা যায়নি। কী কারণে তিনি মাঠে ছিলেন না তা স্পষ্ট না হলেও মনে করা হচ্ছে, আমেরিকা তাঁকেও ভিসা দেয়নি।

এই ঘটনা অবশ্য একদমই অবাক করার মতো নয়। যাকে তিনি প্রতিদিন ম্যাচে অনুকরণ করেন, সেই লুমুম্বাকে হত্যা করার চক্রান্তে অন্যতম শরিক ছিল খোদ মার্কিনরাই। কিন্তু মাঠে তাঁর উপস্থিতি মানসিক শক্তি জোগায় কঙ্গোর খেলোয়াড়দের। তাই তাঁরা তাঁদের দেশের প্রেসিডেন্টের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যাতে উজবেকিস্তানের সঙ্গে পরের খেলায় তাঁকে মাঠে আনার বন্দোবস্ত করা হয়।

এম্বোলাডিঙ্গা শুধু একজন ক্রীড়া সমর্থক নন। তিনি মানবমুক্তির পক্ষের রাজনীতির একজন সক্রিয় কর্মী। নিপীড়িত, লুণ্ঠিত, অপমানিত মানুষের বিশ্বের কাছে এক অনন্য প্রতিনিধি। গণতান্ত্রিক কঙ্গোর ১২ নম্বর খেলোয়াড় তিনি, তথা প্রত্যেকটি নিপীড়িত দেশের এবারের বিশ্বকাপের ১২ নম্বর খেলোয়াড়। তিনি জীবন ও ফুটবলের দর্শনের মিলনের এক প্রতীক।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নারী টেস্টে এত অনীহা কেন, লর্ডসের ইতিহাসও বদলাবে না সেই ছবি?

Women’s Test Cricket: লর্ডসে ভারতের নারী ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয় নারী টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বদলানোর সুযোগ এনে দিয়েছে? এত সাফল্য ও জনপ্রিয়তার পরও কেন এই ফরম্যাটে নিয়মিত ম্যাচ নেই?

শিব-পরশুরামের যুদ্ধবিদ্যা কালারিপায়াট্টু থেকেই জন্ম কুংফুর!

Kalaripayattu Indian Martial Art: ভারতীয় পৌরাণিক ঐতিহ্যে কালারিপায়াট্টুকে স্রেফ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে দেখা হয়নি, বরং এটিকে মানব শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রাণশক্তিকে জাগিয়ে তোলার এক মহান সাধনা বলে মনে করা হয়।

দু'হাজার বছর পুরনো ‘আত্য পাত্যা’: এই খেলাই শিখিয়েছিল যুদ্ধের কৌশল!

Atya Patya Traditional Indian Game: আনুমানিক ১০০ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত প্রাচীন তামিল সাঙ্গম সাহিত্য ‘নাটতৃণৈ’-তে এই খেলার প্রথম লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়। অতএব, এই খেলার বয়স প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি। সেখানে বলা আছে, প্রাচীন চোল রাজবংশের সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে নিজেদের ক্ষিপ্রতা, দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষমতা আর শরীরকে এক নিমেষে বাঁকানোর চপলতা বাড়াতে এই খেলায় মেতে উঠত।

১৬ বছর পর ফের ভারতের পথে ললিত মোদী

Lalit Modi return to India: দীর্ঘ সময় পর দিল্লির আপিল ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আর্থিক অনিয়মের বড় অভিযোগ ও জরিমানা বাতিল করে দেওয়ার পরেই এই আলোচনার সূত্রপাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ললিত মোদী নিজেই স্পষ্ট করেছেন, সমস্ত বড়সড় আইনি জটিলতা কাটার পর ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭-এর শুরুতেই ফের তিনি ভারতে পা রাখতে চলেছেন।

গোলের আড়ালে ঘৃণার খেলা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ট্রাম্প, ফিফা আর ফুটবলের পরাজয়

Trump FIFA World Cup: এই বিশ্বকাপ শুধুই একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; মাঠের লড়াই ছাপিয়ে তা হয়ে উঠেছে ভূ-রাজনীতি, বর্ণবিদ্বেষ এবং বাণিজ্যিক আধিপত্যের এক জটিল ময়দান।

একটা রাজপুত্তুর যার মুকুট হারিয়ে গিয়েছে

Lionel Messi Retirement: তিনটে ফাইনালের বোঝা। একে একে ছেড়ে যায় সহযোদ্ধারা। রক্তাক্ত মাসচেরানো চলে যান, কুন আগুয়েরোর অসুখ... তবু লিও পড়ে থাকে, আমরা পড়ে থাকি আর কিছুদিন। বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজন ছিল একজন স্ক্যালোনির, তিনি সেটুকু সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নিলেন। আমরা অপেক্ষা করলাম লুসাইলে। আমরা তো কবেই হেরে গিয়েছিলাম, সৌদি আরব শুধু চিনিয়ে দিয়েছিল আশপাশটা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: যেভাবে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হল ফুটবল

FIFA Revenue 2026: 'কুইন্টেট প্রাইভেট ব্যাংক'-এর সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অনুঘটক হওয়ার চেয়ে বিশ্বকাপ আসলে একটি শক্তিশালী স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক উদ্দীপক হিসেবেই বেশি কাজ করে। ফিফা, সম্প্রচারকারী সংস্থা, স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড এবং আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) ক্ষেত্রগুলি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করলেও, কোম্পানির শেয়ারের দামে সেই ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে রাখা বেশ কঠিন।

যখন ইউরোপে নারীরা গৃহবন্দি, তখন অসমে মেয়েরা খেলছিলেন ধোপখেল

Dhop Khel Assam: আহোম রাজাদের রাজপ্রাসাদ থেকে বিহুর মেঠো মাঠ—অসমের মাটিতে একসময় গমগম করত ধোপখেলের আওয়াজ। ফুটবল, কাবাডি আর দূরন্ত নিশানার এই অদ্ভুত রোমাঞ্চকর খেলাটি শুধু পুরুষদের বীরত্ব প্রমাণের লড়াই ছিল না; যখন ইউরোপে নারীদের জীবন ছিল চার দেওয়ালে বন্দি, তখন অসমে মেয়েরাও মাঠে নেমে মেতে উঠতেন ধোপখেলে।