রাজনৈতিক দলগুলোর অনুদান আসে কোত্থেকে? সত্যিই জানার অধিকার নেই নাগরিকদের?

Electoral Bonds Case Hearing : যে দলগুলি বিরোধী, অর্থাৎ যারা কেন্দ্রে বা রাজ্যে কোথাও ক্ষমতায় নেই তাঁদের অনুদান প্রায় শূন্য।

inscript
৩ মিনিট
রাজনৈতিক দলগুলোর অনুদান আসে কোত্থেকে? সত্যিই জানার অধিকার নেই নাগরিকদের?

রাজনৈতিক দলগুলির ব্যাপক অনুদানের উৎস, নির্বাচনী বন্ড নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি শুরু হয়েছে আদালতে। সুপ্রিম কোর্ট ভারতের নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলির প্রাপ্ত অনুদানের তথ্য (৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় এবং বিচারপতি সঞ্জীব খান্না, বিআর গাভাই, জেবি পারদিওয়ালা এবং মনোজ মিশ্রের একটি বেঞ্চ কংগ্রেস নেত্রী জয়া ঠাকুর এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী) দায়ের করা আবেদন সহ মোট ৪ চারটি আবেদনের শুনানি করে। অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রাইটস (এডিআর) সংস্থার পক্ষ থেকেও জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি সরকার এই ইলেক্টোরাল বন্ড স্কিমটি আনে। রাজনৈতিক দলগুলিতে নগদ অনুদানের বিকল্প হিসাবে তৈরি করা হয়েছিল বন্ড প্রকল্প।

শুনানির সময়, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা রাজনৈতিক অনুদান এবং নির্বাচনী বন্ড প্রকল্পের গুরুত্ব বোঝাতে পিটিশনকারী, অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মসেরই (ADR) একটি ২০১৮ সালের রিপোর্ট উল্লেখ করেন। ওই প্রতিবেদনে ২০০৪-০৫ এবং ২০১৪-১৫ সালের জাতীয় ও আঞ্চলিক দলগুলোর অর্থায়নের উৎস বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তুষার মেহতা বলছেন, এডিআর রিপোর্টে যে পরিসংখ্যানগুলি রয়েছে তা রাজনৈতিক দলগুলি স্বেচ্ছায় প্রকাশ করেছে। আবেদনকারীরা যে যুক্তি দিয়েছেন যে, শাসক দলই বেশি অনুদান পাচ্ছে, এই বিষয়টিকেও অত্যন্ত স্বাভাবিক মনে করছেন তুষার মেহেতা। তাঁর ব্যাখ্যা, শাসক দলে বেশি অনুদান দেওয়াটাই তো লাভজনক।

নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলের অনুদান সংগ্রহকে চ্যালেঞ্জ করে একাধিক আবেদন জমা পড়ে সুপ্রিম কোর্টে। কেন্দ্রের হয়ে সলিসিটর জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানি জানান, রাজনৈতিক দলগুলো কোথা থেকে কত টাকা পাচ্ছে, অনুদান পাচ্ছে তার উৎস জানার অধিকার নাগরিকদের থাকতে পারে না। অন্যদিকে আবেদনকারীদের তরফে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, কপিল সিব্বল, শাদান ফরাসত এবং নিজাম পাশারা বলেন, গণতন্ত্রের স্বার্থেই এই অনুদানের উৎস সম্পর্কে সবটা জানা উচিত নাগরিকদের। কারা কোন দলকে কেন কত টাকা দিচ্ছে এবং তার বিনিময়ে এই ব্যক্তি বা সংস্থারা কী কী সুবিধা আদায় করে নিচ্ছে, তা জানাই যাবে না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিজেপি তৃণমূলের দুর্নীতি ধরতে পারছে না, নাকি ধরতে চাইছে না?

Abhishek Banerjee Delhi : বিজেপিও মানুষকে বোঝাতে পারল না যে ১০০ দিনের কাজ হোক বা আবাস যোজনার টাকা — এগুলি নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে।

প্রশান্ত ভূষণ বলেছিলেন, দলগুলোর প্রাপ্ত মোট অনুদানের তথ্য খতিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে এই বন্ডের মাধ্যমে শাসক দলগুলিই লাভবান হচ্ছে। যে দলগুলি বিরোধী, অর্থাৎ যারা কেন্দ্রে বা রাজ্যে কোথাও ক্ষমতায় নেই তাঁদের অনুদান প্রায় শূন্য। এই একতরফা অনুদানে দুর্নীতিই বাড়ছে। শাসক ও বিরোধী দলগুলির মধ্যে চরম বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। আইন অনুযায়ী বিদেশি সংস্থাও তার অধীনস্থ দেশি সংস্থার মাধ্যমে বন্ড কিনতে পারে, অর্থাৎ ভুয়ো সংস্থা তৈরি করে বাইরে থেকে টাকা দেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়ে যাচ্ছে।

আইনজীবী সিব্বল বলছেন, কোনও নাগরিক যদি ২০ হাজার টাকার চেয়ে দামী নির্বাচনী বন্ড কেনেন, তাহলে তিনি নিজের নাম জানাতে বাধ্য। অথচ কোনও কর্পোরেট সংস্থার বেলায় সেই নিয়ম খাটছে না। এক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা কেন পাচ্ছে কর্পোরেট সংস্থাগুলি? কপিল সিব্বল বলছেন, নির্বাচনী বন্ড ব্যবস্থা আসলে কালো টাকাকে ঠেকাচ্ছে না বরং সাদা টাকাকে সন্দেহের তালিকায় ফেলে দিচ্ছে।

“শাসক দলের কাছে বিরোধী দলের অনুদান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার অনেক পথ ও উপায় রয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী দল কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের দাতা কারা তা হয়তো জানতেও পারবে না, কিন্তু ক্ষমতাসীন দল বিরোধীদের দাতাদের সম্পর্কে জানতে পারবে। ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তির পক্ষে তথ্য পাওয়া সহজ।," বলেন বিচারপতি সঞ্জীব খান্না।

প্রধান বিচারপতি নিজের পর্যবেক্ষণে জানাচ্ছেন, রাজনৈতিক অনুদানে সাদা টাকা আনার চেষ্টায় 'তথ্যের বড়সড় অভাব' তৈরি হয়েছে। উদ্দেশ্যটি প্রশংসনীয় হলেও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য কি সঠিক পথ ব্যবহার করা হয়েছে আদৌ? প্রশ্ন তুলেছেন চন্দ্রচূড়।

লিখেছেন
inscript
inscript
15 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এআইয়ের বাড়বাড়ন্তে বিপদে চিনের কমিউনিস্ট পার্টি?

AI Threat to China’s Communist Party: এআই শুধু প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ বদলাবে, নাকি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও রাজনীতিতেও তৈরি করবে নতুন সংকট? কেন চিনের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্তা এআইকে কমিউনিস্ট পার্টির ক্ষমতার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখছেন? বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে এআই গেলে কী ধরনের বিপদ তৈরি হতে পারে? আর কেন শি জিনপিং এআইকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বলছেন?

টোকিওর জিম্বোচো: বইয়ের শহরে পাঠকের খোঁজে

Tokyo book market: কফিহাউজ যেমন কলেজস্ট্রিটের প্রাণকেন্দ্র, তেমনই জিম্বোচোতে রয়েছে একাধিক কিস্‌সাতেন—শান্ত নিঝ্‌ঝুম কফির দোকান। এর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো কিস্‌সাতেনের নাম সাবোরু।

জার্মানিতে ফের যেভাবে বাড়ছে নাৎসি রাজনীতির ছায়া

AfD Rise in Germany: জার্মানিতেই এখন আবার এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে, যার বক্তব্যে অভিবাসীবিরোধিতা, জাতিগত জাতীয়তাবাদ, ইসলামবিদ্বেষ এবং ‘জার্মান পরিচয়’ রক্ষার নামে বহিষ্কারের রাজনীতি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। দলটির নাম অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডি।

পেপার চাই, মান পরে: শিকারি জার্নালের বাজার তৈরি করে কে?

Predatory Journals: ইউজিসি-র ২০১৬ সালের বিধিতে থিসিস জমা দেওয়ার আগে অন্তত একটি রেফার্ড জার্নালে পেপার প্রকাশ বাধ্যতামূলক ছিল। ২০২২ সালে নতুন পিএইচডি বিধি এনে আগের নিয়ম খারিজ করা হয় এবং থিসিস জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশ জুড়ে পেপার প্রকাশের সেই বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবু নিয়ম বদলালেই কি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ‘প্রকাশ করো, নইলে মরো’ (publish or perish) সংস্কৃতি রাতারাতি বদলে যায়?

গাজার মানুষ থাকবে গাজাতেই, স্বাধীন প্যালেস্টাইনের পক্ষে দিল্লি ঘোষণাপত্র

BRICS Delhi Declaration: দিল্লিতে শেষ হওয়া ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাধীন, সার্বভৌম ও কার্যকর প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে সমর্থন জানানো হয়েছে। সেই রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ১৯৬৭ সালের সীমারেখা। গাজা ও পশ্চিম তীরকে সেই ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে ধরে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করার কথাও বলা হয়েছে।

ব্রিকস সম্মেলনে ভারত কী পেল, কী পেল না?

BRICS Summit 2026: ২০২৬ সালের ব্রিকস সম্মেলন থেকে ভারত ঠিক কী পেল? কূটনীতি, বাণিজ্য, ডিজিটাল প্রযুক্তি, সন্ত্রাসবাদ ও গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ভারতের কতটা লাভ হলো? চিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিলতার মধ্যে কোন কোন ক্ষেত্রে ভারত নিজের অবস্থান শক্ত করতে পারল, আর কোন প্রত্যাশাগুলি পূরণ হলো না?

জেন-জির হাত ধরে যেভাবে বদলে যাচ্ছে রাজনীতির মানচিত্র

Gen Z politics: ‘জেন-জি’ (Gen Z) সমাজমাধ্যমকে শুধু আড্ডা বা ছবি দেওয়ার জায়গা হিসেবে দেখেনি; বরং শাসকের অন্যায়, সামাজিক বৈষম্য আর রাজনৈতিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান হাতিয়ার বানিয়ে নিয়েছে।

নাগা সন্ন্যাসীরা কি শুধুই ধর্মীয় তপস্বী ছিলেন? ইতিহাস কী বলছে?

History of naga sadhus: প্রয়াগরাজের শাহী স্নানে ছাইমাখা নাগা সন্ন্যাসীরা আজও লক্ষ ভক্তের ভিড়ে প্রথম ডুব দেন। কিন্তু এই জটাজুটের আড়ালে লুকিয়ে আছে রক্তপাত, টাকা, ভূমি-রাজনীতি, দাসত্ব আর সাম্প্রদায়িক হিংসার দীর্ঘ ইতিহাস। অনুপগিরি গোসাঁই থেকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কুম্ভমেলা দখল—উইলিয়াম পিঞ্চ ও ধীরেন্দ্র ঝার গবেষণায় উঠে এসেছে, ইতিহাসের সেই অজানা অধ্যায়।