আর্জেন্টিনা হেরেছে, এমি মার্তিনেস হারেননি
Emiliano Martinez: ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা হারলেও এমিলিয়ানো মার্তিনেসের দুর্দান্ত গোলরক্ষণের প্রশংসায় মুগ্ধ ফুটবলবিশ্ব। একের পর এক নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন তিনি। তবে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলেই স্পেন জেতে বিশ্বকাপ।
বিশ্বকাপ ফাইনালের ফল বলছে, আর্জেন্টিনা হেরেছে। কিন্তু ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে অনেক ফুটবলপ্রেমীর মনে একটাই কথা ঘুরপাক খাচ্ছে—এমিলিয়ানো ‘এমি’ মার্তিনেস হারেননি। শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে ১-০ গোলে শিরোপা হারালেও, আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমন এক পারফরম্যান্স উপহার দিলেন, যা পরাজয়ের মধ্যেও তাঁকে ম্যাচের অন্যতম বড় নায়ক করে তুলেছে। আর স্পেনকে বিশ্বকাপ এনে দেওয়া গোলটি এসেছে এমন এক ফুটবলারের পা থেকে, যিনি কয়েক মাস আগেও অস্ত্রোপচার এড়ানোর জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই ফেরান তোরেসই শেষ পর্যন্ত ইতিহাস লিখলেন।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের হাতে। লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, পেদ্রি এবং দানি ওলমো বারবার আর্জেন্টিনার ডিফেন্সে চাপ তৈরি করছিলেন। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন এমি মার্তিনেস। ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই তিনি একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে স্পেনকে হতাশ করতে থাকেন। কখনও ইয়ামালের শট, কখনও নিকো উইলিয়ামসের প্রচেষ্টা, আবার কখনও দানি ওলমোর দূরপাল্লার শট—সবকিছুর সামনেই যেন অদম্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।
স্পেন যতই আক্রমণ বাড়িয়েছে, ততই নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছেন মার্তিনেস। এক সময় মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপ ফাইনাল হয়তো টাইব্রেকারেই গড়াবে। কারণ আর্জেন্টিনা আক্রমণে খুব একটা সফল না হলেও তাদের গোলরক্ষক দিবু একাই ম্যাচটিকে জীবিত রেখেছিলেন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Argentina World Cup Final: বিশ্বকাপ ফাইনালে কেন হারল আর্জেন্টিনা? কেন ছন্দে দেখা গেল না লিওনেল মেসিকে? লাউতারো মার্টিনেজের অনুপস্থিতি কতটা প্রভাব ফেলল? শেষ তিন ম্যাচের আগ্রাসী ফুটবল ফাইনালে কোথায় হারিয়ে গেল? শিরোপার লড়াইয়ে ঠিক কোন ভুলগুলির খেসারত দিতে হলো স্কালোনির দলকে?
এই কারণেই ম্যাচ শেষে অনেকেই বলছেন, আর্জেন্টিনা পরাজিত হয়েছে, কিন্তু এমি মার্তিনেস নন। তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গিয়েছেন। গোলটি না হওয়া পর্যন্ত স্পেনের প্রতিটি সুযোগ তিনি প্রতিহত করেছেন। সব মিলিয়ে অন্তত ১১ টি নিশ্চিত গোল সেভ করেছেন তিনি।
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ডান দিক থেকে পেদ্রো পোরো নিখুঁত একটি পাস বাড়ান। নিকো উইলিয়ামস হেড করে বলটি নামিয়ে দেন ফেরান তোরেসের সামনে। এতক্ষণ যিনি সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন, সেই তোরেস এক মুহূর্তও নষ্ট করেননি। বাঁ পায়ের জোরালো শটে তিনি বল জালে জড়িয়ে দেন। এমি মার্তিনেস ঝাঁপিয়েও সেই শট আটকাতে পারেননি। হয়তো ওই অবস্থায় বিশ্বের আর কোনো গোলরক্ষকের পক্ষেও বলটি বাঁচানো সম্ভব ছিল না।
আসলে স্পেনের তারুণ্যকে একাই রুখে দিয়েছিলেন মার্তিনেস। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তাঁর ভূমিকা যেন কর্ণের। ১৯৬৬ বিশ্বকাপ ছাড়া ফাইনালে এইরকম পারফরমেন্স গোটা বিশ্বে আর কোনো গোলকিপারের নেই। অথচ নিয়তির পরিহাস এমন গোল্ডেন গ্লাভস পেলেন স্পেনের গোলকিপার উনাই সিমন।
গত ২০মে আঙুলে চোট পান মার্তিনেস। তাঁর ডান হাতের অনামিকা আঙুলটি ভেঙে যায়। ৩৩ বছর বয়সেই এই আর্জেন্টাইন বিশেষ স্ট্রেপিং করে খেলা চালিয়ে যান। নিয়মিত খেয়েছেন ব্যথা কমানোর ওষুধ। চিকিৎসকরা বলেছেন অস্ত্রোপচার ছাড়া খেলা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব। তিনি সে কথা শোনেননি। ২০২২ বিশ্বকাপে ফাইনালে ফ্রান্সকে ট্রাইব্রেকারে রুখে দিয়েছিলেন মার্তিনেস। এদিন সেই দেওয়াল ভাঙল শুধু একবার।
ইতিহাস বিজয়ীকে মনে রাখে ফলে আর্জেন্টিনা ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে বিজিত দল হিসেবেই মানুষের মনে থেকে যাবে। কিন্তু এ কথাও সত্য ফুটবল মহাকাব্য ট্র্যাজিক নায়ক হিসেবে চিরকাল স্মরণ করবে মার্তিনেসকে।






