উধাও ‘পুষ্পা’, তালাবন্ধ বাড়ি, অভিষেক কি ফেরাতে পারবেন নিজের গড়?
Falta bypoll 2026: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল তুঙ্গে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন জাহাঙ্গির খান ওরফে ‘পুষ্পা’। ভোটের দিন তাঁকে এলাকায় দেখা যায়নি। তাঁর তালাবন্ধ বাড়ি ও দলীয় দফতর ঘিরে জল্পনা ছড়ায় রাজনৈতিক মহলে।
২১ মে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো পুনর্নির্বাচন। এই ভোটে নজর ছিল গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের। কারণ ফলতা পড়ে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে, যা দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক গড় হিসেবে পরিচিত।
ভোটের দিন সকাল থেকেই ফলতায় ছিল কড়া নিরাপত্তা। বুথের বাইরে লম্বা লাইন, এলাকায় টহল কেন্দ্রীয় বাহিনীর। সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোট পড়ে ২০.৪৭ শতাংশ। বেলা ১১টায় তা পৌঁছে যায় ৪২.৮৩ শতাংশে। দুপুর ৩টে পর্যন্ত ভোটদানের হার ৭৪.১০ শতাংশ। প্রশাসনের তরফে আগের চেয়ে বেশি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়। প্রতি বুথে চারজনের বদলে ছয়জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান রাখা হয়। গোটা এলাকায় টহল দেয় ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।
এই ভোটে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন ফলতা এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান ওরফে ‘পুষ্পা’। স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী এই নেতাকে ভোটের দিন এলাকায় দেখা যায়নি। তাঁর বাড়ি এবং দলীয় দফতর ছিল তালাবন্ধ। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১৭ ডিসেম্বর, ২০২০ তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু ঘনিষ্ঠরা দল ছাড়তে থাকেন। জিতেন তিওয়ারির মতো নেতাদের সেদিন নিজে ফোন করেও ধরে রাখতে পারেননি। এই পর্বে শুভেন্দু তদানীন্তন রাজ্যপালকে একটি চিঠি দিয়ে জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’র বশে পুলিশ-প্রশাসনকে দিয়ে তাঁর এবং তাঁর অনুগামীদের ফৌজদারি মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে।
বিজেপি এবং বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, গত কয়েকটি নির্বাচনে ফলতায় ভোট প্রক্রিয়ার উপর প্রভাব বিস্তার করত জাহাঙ্গিরের অনুগামীরা। বহু স্থানীয়ের দাবি, তাঁরা বুথে গিয়েও ভোট দিতে পারেননি। কারও অভিযোগ, হাতে কালি লাগিয়ে বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। আবার কেউ জানতে পেরেছিলেন, তাঁদের নামে আগেই ভোট পড়ে গিয়েছে।
এই অভিযোগগুলিকেই সামনে রেখে এবার ফলতার ভোটকে ‘গণতন্ত্র ফেরানোর লড়াই’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে বিজেপি। অন্যদিকে তৃণমূলের কাছে এই নির্বাচন ছিল রাজনৈতিক সম্মান রক্ষার লড়াই। কারণ ডায়মন্ড হারবার মানেই এতদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই অঞ্চলে তৃণমূল ভালো ফল করেছিল। ফলতা কেন্দ্রেও তৃণমূলের সংগঠন ছিল যথেষ্ট প্রভাবশালী।
কিন্তু ২০২৬-এর এই পুনর্নির্বাচন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে দিয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটে অনিয়মের কারণেই নির্বাচন কমিশনকে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। সেই কারণেই এই ভোট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কতটা অটুট রয়েছে, তারও পরীক্ষা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, অভিষেকের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সংগঠনের ভাবমূর্তি পুনর্গঠন। ডায়মন্ড হারবার মডেল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধীরা আক্রমণ শানিয়েছে। তাই পুনর্নির্বাচনের পর যদি তৃণমূল জিততেও পারে, তাহলেও শুধুমাত্র জয় যথেষ্ট হবে না। অভিষেককে দেখাতে হবে যে তাঁর সংগঠন এখনও সাধারণ ভোটারদের উপর নির্ভর করেই জিততে সক্ষম।
সেই কারণেই এবার তৃণমূলের প্রচারে স্থানীয় উন্নয়ন, সামাজিক প্রকল্প এবং সংগঠনের শক্তিকে সামনে আনার চেষ্টা দেখা গিয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি চেষ্টা করেছে ভয়মুক্ত ভোটের প্রশ্নকে রাজনৈতিক ইস্যু করে তুলতে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেও ফলতায় সভা করে এই লড়াইকে মর্যাদার প্রশ্নে পরিণত করেন।
এখন নজর ২৪ মে-র গণনায়। ফলতার ফল অনেকটাই বলে দেবে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অভেদ্য গড়’ এখনও আগের মতো অটুট রয়েছে কি না।







