অভিষেকের উত্থানই কি মমতার পতনের কারণ? তৃণমূলের অন্দরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন
১৭ ডিসেম্বর, ২০২০ তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু ঘনিষ্ঠরা দল ছাড়তে থাকেন। জিতেন তিওয়ারির মতো নেতাদের সেদিন নিজে ফোন করেও ধরে রাখতে পারেননি। এই পর্বে শুভেন্দু তদানীন্তন রাজ্যপালকে একটি চিঠি দিয়ে জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’র বশে পুলিশ-প্রশাসনকে দিয়ে তাঁর এবং তাঁর অনুগামীদের ফৌজদারি মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে।
২০১১-তে রাইটার্সের সামনে সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বারান্দা থেকে মমতা হাত নাড়লেন। জনতা তাকে অভিনন্দন জানাল। আমরা তো সেদিন প্রোডাকশানের দায়িত্বে ছিলাম, অফিস থেকে সামাল দিতে হতো। আমরা রাইটার্সে গিয়েছিলাম শুধুই উত্তেজনার বশে। সেদিনের পালাবদলটা ছিল প্রত্যাশিত, জনতার আকাঙ্খা। আর বেশিরভাগ লোকের কাছে আজকের এই বদলটার কোনো ইউনিকনেস নেই।
বলছিলেন প্রাক্তন সংবাদকর্মী, লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক সুস্নাত চৌধুরী। বাংলায় পালাবদলের পর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গিয়েছে। পাড়ার চায়ের দোকাগুলির চুলচেরা বিশ্লেষণ থেমে নেই। সেখানে প্রধান মত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতনের কারণ হলো। কিন্তু সত্যিই কি তাই? এই অভিযোগের কোনো সারবত্তা আছে?
২০২৬ এর নির্বাচনী প্রচারে অভিষেক আগাগোড়া রণং দেহী মেজাজে ছিলেন। তাঁকে বলতে শোনা যায়,
চার তারিখে রবীন্দ্রসংগীতের সাথে গ্রামে একটু করে ডিজেও বাজবে, তৈরি থেকো। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো উদার নই।
তিনি আরও বলেন,
৪ তারিখ ১২ টার পরে কোন জল্লাদের কত ক্ষমতা আর কার দিল্লির বাবা কাকে বাঁচাতে আসে, আমি ৪ তারিখ দেখব।
অতীতে নন্দীগ্রামে ভাঙা পা নিয়ে প্রচার করা, রাজনীতির ময়দানে ক্ষিপ্র বক্তব্যের জন্য সুবিদিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও যেন ম্রিয়মাণ লাগছিল তাঁর সামনে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছিল, তৃণমূলের ভরকেন্দ্র বদল তবে নিশ্চিত?
অথচ ভোটের ফল আসতেই দেখা যাচ্ছে, বাংলার অন্যান্য জায়গা তো বটেই, অভিষেকের কেন্দ্রের অন্তর্গত ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা আসনে গত লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় এ বার বিজেপির ভোট বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ওই বিধানসভা আসনে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছিল ৪৩ হাজার ১৭৬টি ভোট। এ বার পেয়েছে ৮৮ হাজারের বেশি ভোট। ভোট বেড়েছে বজবজ বিষ্ণুপুরে। সাতগাছিয়া কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিশ্বর নস্কর ৪০১ ভোটে হারিয়েছেন তৃণমূলের সোমাশ্রী বেতালকে। তৃণমূল যে শুধু অভিষেকের গড়ে খারাপ ফল করেছে তা নয়। সূত্রের খবর অন্তত ৭০টি কেন্দ্রে অভিষেকের বাছাই করা প্রার্থীকে টিকিট দেয় দল। তাদের অধিকাংশই হেরেছেন। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে ফলতা থেকে দেড় লাখের বেশি লিড পেয়েছিলেন অভিষেক। কিন্তু এবার দ্বিতীয় দফার ভোটে ফলতায় ব্যাপক রিগিং ও ইভিএম কারচুপির অভিযোগ ওঠায় নির্বাচন কমিশন ফলতার ২৮৫টি বুথেই আগামী ২১ মে পুনর্নির্বাচন ঘোষণা করে। কিন্তু পুনর্নির্বাচনের মুখে ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন অভিষেকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতার জন্য ‘বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজ’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাই তিনি নাকি আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।
ফলশ্রুতি ক্ষোভে ফেটে পড়ছে তৃণমূল। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে অভিষেক-কেন্দ্রিক অভিযোগের পাহাড়। বহু কর্মী সমর্থরাই অভিষেকের নেতৃত্ব মানতে অপারগ। এমনকী এই জরুরি অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর দলের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বহু সাংসদই আসতে চাননি। সম্প্রতি বিধায়কদের বৈঠকেও বেশ কয়েকজন বিধায়ক কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। প্রশ্ন তুলেছেন, দলের অন্দরের পরিবেশ নিয়ে। বুধবার সকালে ভোট পরবর্তী হিংসা ও হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিধানসভায় ধরনায় বসলেন তৃণমূলের বিধায়করা। সেখানে কুণাল ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও বেশ কয়েকজন বিধায়কের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও সেখানে ছিলেন না দলের ৫০ বিধায়ক। অতএব, দলের ফাটল যে ক্রমশ চওড়া হচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
বাবার হাত ধরে তৃণমূলে এসেছিলেন বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক, মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়। মাঝে বিজেপিতে গেলেও আবার বাবার সঙ্গেই তৃণমূলে ফেরা। শুভ্রাংশু অভিষেক বড় হয়েছেন একসঙ্গে, পারিবারিক যোগাযোগ ছিল গভীর। এবার শুভ্রাংশু টিকিটই পাননি। শুভ্রাংশু বলেন,
বাংলার গ্রামাঞ্চলের মানুষ অভিষেকের কর্পোরেট স্টাইলটাকে মেনে নেয়নি। দিদি মাটিতে নেমে দল করেছেন। শূন্য থেকে শুরু করেছেন। শুভেন্দু অধিকারীও তাই করেছেন। আর অভিষেক ঠান্ডাঘরের রাজনীতি করেছেন। এভাবে বাংলায় দল চালানো সম্ভব নয়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অভিষেক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছিলেন, "আপনাদের বাংলা-বিরোধী গুজরাটি গ্যাং আর তাদের হাতের পুতুল জ্ঞানেশ কুমার মিলে ১০ জন্ম চেষ্টা করলেও আমার 'ডায়মন্ড হারবার মডেল'-এ একটা দাগও লাগাতে পারবে না। আপনাদের যত ক্ষমতা আছে, সব নিয়ে আসুন। আমি গোটা ভারত সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি—ক্ষমতা থাকলে ফলতায় আসুন। আপনাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থীকে পাঠান, দরকার হলে দিল্লি থেকে কোনো গডফাদারকে নিয়ে এসে দাঁড় করান। যদি বুকে সাহস থাকে, তবে ফলতায় এসে লড়াই করে দেখান।"
তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী অবশ্য শুভ্রাংশুর তত্ত্ব মানতে নারাজ। তাঁর কথায়,
অভিষেক আর মমতা আলাদা নয়। শোরুম আর গোডাউন আলাদা নয়। দু'জনের নেতৃত্বে পদ্ধতিগত ফারাক আমাদের হারের কারণ নয়। ৩৪ টি আসনে এসআইআর-এর অপপ্রয়োগে আমাদের হার হয়েছে। এর সঙ্গে জুড়তে হবে ভোট কাউন্টিংয়ের দিনের নানা ম্যালপ্র্যাক্টিস।
যত দোষ অভিষেকের, এমনটাও অবশ্য মানতে নারাজ অনেকেই।
নব্য নির্বাচিত বিধায়ক, তৃণমূল মুখপাত্র, দলের বর্ষীয়াণ নেতা কুণাল ঘোষ বলেন,
আমাদের কাছে বিষয়টা এক। আমরা দিদি আর অভিষেকের মধ্যে বিভেদ করি না, করতে চাই না। মমতাদি একা লড়ে শুরু করেছিলেন। সেখানে ইমোশন, স্ট্রাগল, স্যাক্রিফাইসটাই বড় ছিল। নতুন জেনারেশনের ডেডিকেশন আছে। মর্ডান অ্যাপ্রোচ আছে, কর্পোরেট ধাঁচায় কাজ করার অভ্যেস আছে। এবার ভোটে ইলেকশান মেশিনারির অপব্যবহার হয়েছে। আর ভোটে হেরেছি বলেই দিদি আর অভিষেককে লড়িয়ে দেব এটা হয় না। তবে হ্যাঁ আমাদের সেলফ ক্রিটিসিজমের জায়গা আছে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রাক্তন বিধায়ক বলছিলেন,
আমরা তো ২০২১-২০১৪ নির্বাচনে অভিষেকের স্ট্র্যাটেজিতেই ভরসা করেছিলাম। যখন জিতেছিলাম তখন বলেছিলাম আমাদের জয়। আর যখন হারছি আজ তখন বলছি অভিষেকের হার, এটা ঠিক নয়।
তৃণমূলে অভিষেকের আবির্ভাব
১৯৯২ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৯৮ সালের পয়লা জানুয়ারি তৃণমূল যাত্রা শুরু করে। পরের বছর লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল ৮টি আসনে জয়লাভ করে। তখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়স মাত্র ১১। শূন্য থেকে দলকে যখন ধীরে ধীরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পূর্ণতার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন তখন তার ছায়াসঙ্গী ছিলেন সুব্রত বক্সী, মুকুল রায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, শিশির অধিকারী, শুভেন্দু অধিকারী, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, দোলা সেন-রা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরণের দুই মূল স্তম্ভ: সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলন। এই আন্দোলনে জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। এই আন্দোলন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জননেত্রীর মর্যাদা দিয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার সঙ্গীসাথীরা উঠে এসেছিলেন গণআন্দোলন থেকে, মানুষের ভিড় থেকে। রাজনীতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেখড়ি পালাবদলের পর, তৃণমূলের প্রকৃত সুসময়ে। ২০১১ সালের ২১ জুলাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মঞ্চে ডেকে নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম কয়েক বছর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের আর পাঁচজন মাঝারি নেতার মতোই গুরুত্ব পেতেন। মমতার ভ্রাতুষ্পুত্র বলে তার প্রতি স্নেহ আর পক্ষপাত ছিল মুকুল রায়, সুব্রত বক্সীদের। দলে অভিষেকের গুরুত্ব বাড়ল মুকুল রায় দল ছাড়তেই। মুকুল রায় বিজেপিতে যেতে সময় নেন তিন বছর। কিন্তু দেখা যায়, তিনি যাওয়ার আগেই, ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি অভূতপূর্ব ফল করেছে। মুকুলের সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক বিজেপির কাজে লাগছে, পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল।
মুকুল পুত্রের আক্ষেপ,
কাউকে সিংহাসন দেওয়ার জন্য একজন মানুষকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল সেদিন।
রাজনীতিতে শূন্যতা থাকে না। মুকুল রায়ের অনুপস্থিতিতে দলের সাংগঠনিক বিস্তারের দায়িত্ব কে নেবেন এই নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়। অর্গানিক লিডার হিসেবে উঠে আসে শুভেন্দু অধিকারীর নাম। পক্ষপাতদুষ্টরা সেদিন এগিয়ে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
২০১৯ লোকসভার দলের খারাপ পরিণতির পর তৃণমূলের সঙ্গে জোট বাঁধে আইপ্যাক। আইপ্যাক-অভিষেক জুটির দাপটের সামনে ক্রমে ফিকে হতে থাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া তৃণমূল, ম্লান হয়ে যায় তার মেঠো রাজনীতি। ঝড়ের বেগে তৃণমূলের মাটি মানুষের রাজনীতির জায়গা দখল করতে থাকে কর্পোরেট রাজনীতি, সার্ভেভিত্তিক বোঝাপড়া। অভিষেক ডানা ছাঁটতে শুরু করেন শুভেন্দুর। পূর্ব-পশ্চিম মেদিনীপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং, উত্তর দিনাজপুরের পর্যবেক্ষক পদ থেকে শুভেন্দু অধিকারীকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
১৭ ডিসেম্বর, ২০২০ তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু ঘনিষ্ঠরা দল ছাড়তে থাকেন। জিতেন তিওয়ারির মতো নেতাদের সেদিন নিজে ফোন করেও ধরে রাখতে পারেননি। এই পর্বে শুভেন্দু তদানীন্তন রাজ্যপালকে একটি চিঠি দিয়ে জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’র বশে পুলিশ-প্রশাসনকে দিয়ে তাঁর এবং তাঁর অনুগামীদের ফৌজদারি মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে।
সেই সময়টার কথা মনে করিয়ে দিতেই কুণাল ঘোষ বলেন,
আমি আমার দলীয় পদে থেকে এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে পারি না। শুধু বলতে পারি, একেকটা সময়ে এই ধরনের পরিস্থিতি আসে যখন ছেড়ে দিতে হয়।
শুভ্রাংশু রায় বলেন,
শুভেন্দুদা জননেতা হিসেবে দলে দিদির উত্তরসূরী ছিলেন। তাঁকে রাখা গেলে এদিনটা দেখতে হতো না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুভেন্দুকে ধরে রাখতে না পারা সেদিন বুঝিয়ে দিয়েছিল দলের রাশ আর মমতার একার হাতে নেই। ২০১৯ লোকসভা ভোটে ১৮টি আসন পায় বিজেপি। আর ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল পেয়েছিল ২১৫টি আসন। অভিষেক আপাতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছিলেন তার পথটাই ঠিক। প্রতিষ্ঠিত হয় নতুন ক্ষমতাতন্ত্র। মমতার রাজনীতি ওল্ড ফ্যাশান হয়ে যাচ্ছিল ক্রমে। আনুষ্ঠানিক ভাবেই অভিষেক দলের আনুষ্ঠানিক সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এই সময়ে।
তৃণমূলের আভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, সরকারের মাথায় মমতা আর দলের মাথায় অভিষেক, খাতায় না হলেও কর্মীদের বড় অংশের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল এই সত্য। প্রার্থীবাছাই থেকে শুরু করে আইটি সেলের ন্যারেটিভ, বহু সিদ্ধান্তই নিয়ন্ত্রিত হতো অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে।
চূড়ান্ত সংঘাত
২০২৪ সালের ৮ অগাস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকের ধর্ষণের ঘটনা রাজ্য প্রশাসনের ভিত নাড়িয়ে দেয়। সেসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিটি পদক্ষেপ সমাজের সর্বস্তরে ক্ষোভের জন্ম দেয়। তৃণমূলের অন্দরের খবর সে সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অবস্থানে ছিলেন। সন্দীপ ঘোষের বদলি থেকে শুরু করে নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগকে আমল না দেওয়া, তৃণমূল নেত্রীর প্যাসিভ অবস্থানকে মেনে নেননি অভিষেক।





