'সাপ'ই এখানে নস্টালজিয়া, পাবজি-ক্যান্ডি ক্রাশের ভিড়ে আজও বহাল তবিয়তে স্নেক গেম
History of Snake Game : বাইল স্ক্রিনের বিভিন্ন জায়গায় ভেসে উঠছে তার ‘খাবার’। সেই খাবারগুলি যত খাচ্ছে, ততই বেড়ে উঠছে সাপটি।

পাবজি-র (PUBG) নাম শোনেননি, এরকম মানুষ খুব কমই আছেন। কিংবা ফিফা, ক্যান্ডি ক্রাশ, ক্ল্যাশ অফ ক্ল্যানের কথা? প্রতিটাই এই মুহূর্তে বিখ্যাত মোবাইল গেম। ঝাঁ চকচকে স্মার্টফোনে, আঙুলের ছোঁয়ায় এমন সব গেমেই রাতদিন মশগুল হয়ে আছে কৈশোর থেকে যৌবন। আজকাল তো এই বিখ্যাত গেমগুলির জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্তরে টুর্নামেন্টও আয়োজিত হয়। রীতিমতো গ্রুপ তৈরি করে, একে অন্যের সঙ্গে লড়ে ‘শক্তি’ দেখে নেওয়া। কিন্তু যতই ঝাঁ চকচকে, আকর্ষণীয় মোবাইল গেম আসুক না কেন, তাকে কি সহজে ভোলা যায়? সেই যে এঁকেবেঁকে চলছে একটা ছোট্ট সাপ; আর মোবাইল স্ক্রিনের বিভিন্ন জায়গায় ভেসে উঠছে তার ‘খাবার’। সেই খাবারগুলি যত খাচ্ছে, ততই বেড়ে উঠছে সাপটি।
তখন অবশ্য পাবজি অনেক দূরের তারা। মোবাইলে গ্রাফিক্সও তেমন নয়। স্মার্টফোনও তখন স্রেফ খাতায় আর কলমেই রয়েছে। সেই সময় বাড়ির কারও মোবাইল নিয়েই অনেকে খেলতে শুরু করত এই বিশেষ খেলাটি। সাপটা একের পর এক খাবার খেয়েই যাচ্ছে, আর ছোট ছোট বাচ্চারাও মন দিয়ে সেই খেলা খেলে যাচ্ছে। ‘স্নেক গেম’-এর (Snake Game) কথা কি এখনও ভুলতে পেরেছে নব্বইয়ের জাতকরা?
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Nokia Company History : তার পরের গল্পটা একটু আলাদা। কখনও উত্থান, আবার কখনও মুখ থুবড়ে পড়া, এভাবেই এগিয়েছে নোকিয়ার যাত্রা।
দুই ইঞ্চির ছোট্ট স্ক্রিনে একটা সরীসৃপ এঁকেবেঁকে এগোচ্ছে আর খাচ্ছে, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এমন মোবাইল গেমের কাছে অনেকেই ঘেঁষবে না। কিন্তু এই স্নেক গেমই ছিল এক সময়ের সঙ্গী। বাবা-মা ফোন না দিলে কাকু বা মাসির ফোনটি নিয়েই শুরু হতো খেলা। এখন কে বলবে, সামান্য এই স্নেক গেমই আসলে বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত মোবাইল গেম! একটা গোটা প্রজন্ম এর হাত ধরেই যে বড় হয়েছে!
বিশ্ব বিখ্যাত এই স্নেক গেমের যাত্রা শুরু হয়েছিল অবশ্য অনেক আগে থেকে। সালটা ১৯৭৬। ব্রিটিশ গেমিং সংস্থা গ্রেমলিন ইন্টারেকটিভ প্রথমবার এই গেম বাজারে আনে। অবশ্য সেই গেমটি চিরপরিচিত স্নেক গেমের থেকে অনেকটাই আলাদা ছিল। নামও ছিল ‘ব্লকেড’। আলাদা হলেও, মূল ধারণা মোটামুটি একই ছিল। একটা সময় এই গেমটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর একটু একটু করে পরিবর্তন ঘটতে থাকে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইতিমধ্যেই ১৯৯৭ সালে বাজারে চলে আসে নোকিয়া ৬১১০ মোবাইলটি (Nokia 6110)। ততদিনে টেলিকম ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় দৈত্যের পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে নোকিয়া। একের পর এক চমকপ্রদ কাজ করেই চলেছে এই সংস্থাটি। তাদেরই নতুন এই ফোনে প্রথমবার আত্মপ্রকাশ করল স্নেক গেমটি। তৈরি করলেন ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার টানেলি আরমান্তো। খেলাটির কনসেপ্ট মোটামুটি সকলেরই জানা। ১৯৯৭ সাল থেকেই একেবারে তরতরিয়ে যাত্রা শুরু করল স্নেক গেম। তবে ‘স্নেক ২’-এর পর থেকেই জনপ্রিয়তা সমস্ত বাঁধ ভেঙে দেয়। এখনও অবধি ৪০০ মিলিয়ন মোবাইলে জায়গা করে নিয়েছে এই বিখ্যাত গেমটি।
মূলত এই স্নেকের হাত ধরেই মোবাইল গেমের জয়যাত্রা শুরু হয়। গেমিং ইন্ডাস্ট্রির পুরো ছবিটাই বদলে দিল এই একটি খেলা। এখন অত্যাধুনিক স্মার্টফোনে আরও অনেকগুলি ভালো গেম রয়েছে। সেখানে গ্রাফিক্সের কাজও চমৎকার। রয়েছে টানটান উত্তেজনাও। কিন্তু সবকিছুর শুরুটা ছিল ওই একটি সাপ। আজও বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত মোবাইল গেমের জায়গা দখল করে আছে স্নেক গেম। তার চেহারাও এখন বদলেছে, বিভিন্ন বদলও এসেছে। কিন্তু স্নেক গেম তার জায়গা হারায়নি। ২০০৫ সালে এই গেমের জন্য ইঞ্জিনিয়ার টানেলি আরমান্তো বিশেষ সম্মানও পান। ভবিষ্যতের মিউজিয়ামে এই গেমটি সংরক্ষণ করে রাখারও প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এসবের সঙ্গেই রয়েছে লাখ লাখ তরুণ-তরুণী। যাদের ছোটবেলার একটা অংশের সঙ্গে জুড়েছিল এই গেমটি। নস্টালজিয়া এত সহজে কি মুছে ফেলা যায়!






