'সাপ'ই এখানে নস্টালজিয়া, পাবজি-ক্যান্ডি ক্রাশের ভিড়ে আজও বহাল তবিয়তে স্নেক গেম

History of Snake Game : বাইল স্ক্রিনের বিভিন্ন জায়গায় ভেসে উঠছে তার ‘খাবার’। সেই খাবারগুলি যত খাচ্ছে, ততই বেড়ে উঠছে সাপটি।

inscript
৩ মিনিট
'সাপ'ই এখানে নস্টালজিয়া, পাবজি-ক্যান্ডি ক্রাশের ভিড়ে আজও বহাল তবিয়তে স্নেক গেম

পাবজি-র (PUBG) নাম শোনেননি, এরকম মানুষ খুব কমই আছেন। কিংবা ফিফা, ক্যান্ডি ক্রাশ, ক্ল্যাশ অফ ক্ল্যানের কথা? প্রতিটাই এই মুহূর্তে বিখ্যাত মোবাইল গেম। ঝাঁ চকচকে স্মার্টফোনে, আঙুলের ছোঁয়ায় এমন সব গেমেই রাতদিন মশগুল হয়ে আছে কৈশোর থেকে যৌবন। আজকাল তো এই বিখ্যাত গেমগুলির জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্তরে টুর্নামেন্টও আয়োজিত হয়। রীতিমতো গ্রুপ তৈরি করে, একে অন্যের সঙ্গে লড়ে ‘শক্তি’ দেখে নেওয়া। কিন্তু যতই ঝাঁ চকচকে, আকর্ষণীয় মোবাইল গেম আসুক না কেন, তাকে কি সহজে ভোলা যায়? সেই যে এঁকেবেঁকে চলছে একটা ছোট্ট সাপ; আর মোবাইল স্ক্রিনের বিভিন্ন জায়গায় ভেসে উঠছে তার ‘খাবার’। সেই খাবারগুলি যত খাচ্ছে, ততই বেড়ে উঠছে সাপটি।

তখন অবশ্য পাবজি অনেক দূরের তারা। মোবাইলে গ্রাফিক্সও তেমন নয়। স্মার্টফোনও তখন স্রেফ খাতায় আর কলমেই রয়েছে। সেই সময় বাড়ির কারও মোবাইল নিয়েই অনেকে খেলতে শুরু করত এই বিশেষ খেলাটি। সাপটা একের পর এক খাবার খেয়েই যাচ্ছে, আর ছোট ছোট বাচ্চারাও মন দিয়ে সেই খেলা খেলে যাচ্ছে। ‘স্নেক গেম’-এর (Snake Game) কথা কি এখনও ভুলতে পেরেছে নব্বইয়ের জাতকরা?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সামান্য কাগজের মিল থেকে মোবাইলের জগতে বিপ্লব, নস্টালজিয়ার আরেক নাম নোকিয়া

Nokia Company History : তার পরের গল্পটা একটু আলাদা। কখনও উত্থান, আবার কখনও মুখ থুবড়ে পড়া, এভাবেই এগিয়েছে নোকিয়ার যাত্রা।

দুই ইঞ্চির ছোট্ট স্ক্রিনে একটা সরীসৃপ এঁকেবেঁকে এগোচ্ছে আর খাচ্ছে, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এমন মোবাইল গেমের কাছে অনেকেই ঘেঁষবে না। কিন্তু এই স্নেক গেমই ছিল এক সময়ের সঙ্গী। বাবা-মা ফোন না দিলে কাকু বা মাসির ফোনটি নিয়েই শুরু হতো খেলা। এখন কে বলবে, সামান্য এই স্নেক গেমই আসলে বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত মোবাইল গেম! একটা গোটা প্রজন্ম এর হাত ধরেই যে বড় হয়েছে!

বিশ্ব বিখ্যাত এই স্নেক গেমের যাত্রা শুরু হয়েছিল অবশ্য অনেক আগে থেকে। সালটা ১৯৭৬। ব্রিটিশ গেমিং সংস্থা গ্রেমলিন ইন্টারেকটিভ প্রথমবার এই গেম বাজারে আনে। অবশ্য সেই গেমটি চিরপরিচিত স্নেক গেমের থেকে অনেকটাই আলাদা ছিল। নামও ছিল ‘ব্লকেড’। আলাদা হলেও, মূল ধারণা মোটামুটি একই ছিল। একটা সময় এই গেমটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর একটু একটু করে পরিবর্তন ঘটতে থাকে।

ইতিমধ্যেই ১৯৯৭ সালে বাজারে চলে আসে নোকিয়া ৬১১০ মোবাইলটি (Nokia 6110)। ততদিনে টেলিকম ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় দৈত্যের পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে নোকিয়া। একের পর এক চমকপ্রদ কাজ করেই চলেছে এই সংস্থাটি। তাদেরই নতুন এই ফোনে প্রথমবার আত্মপ্রকাশ করল স্নেক গেমটি। তৈরি করলেন ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার টানেলি আরমান্তো। খেলাটির কনসেপ্ট মোটামুটি সকলেরই জানা। ১৯৯৭ সাল থেকেই একেবারে তরতরিয়ে যাত্রা শুরু করল স্নেক গেম। তবে ‘স্নেক ২’-এর পর থেকেই জনপ্রিয়তা সমস্ত বাঁধ ভেঙে দেয়। এখনও অবধি ৪০০ মিলিয়ন মোবাইলে জায়গা করে নিয়েছে এই বিখ্যাত গেমটি।

মূলত এই স্নেকের হাত ধরেই মোবাইল গেমের জয়যাত্রা শুরু হয়। গেমিং ইন্ডাস্ট্রির পুরো ছবিটাই বদলে দিল এই একটি খেলা। এখন অত্যাধুনিক স্মার্টফোনে আরও অনেকগুলি ভালো গেম রয়েছে। সেখানে গ্রাফিক্সের কাজও চমৎকার। রয়েছে টানটান উত্তেজনাও। কিন্তু সবকিছুর শুরুটা ছিল ওই একটি সাপ। আজও বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত মোবাইল গেমের জায়গা দখল করে আছে স্নেক গেম। তার চেহারাও এখন বদলেছে, বিভিন্ন বদলও এসেছে। কিন্তু স্নেক গেম তার জায়গা হারায়নি। ২০০৫ সালে এই গেমের জন্য ইঞ্জিনিয়ার টানেলি আরমান্তো বিশেষ সম্মানও পান। ভবিষ্যতের মিউজিয়ামে এই গেমটি সংরক্ষণ করে রাখারও প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এসবের সঙ্গেই রয়েছে লাখ লাখ তরুণ-তরুণী। যাদের ছোটবেলার একটা অংশের সঙ্গে জুড়েছিল এই গেমটি। নস্টালজিয়া এত সহজে কি মুছে ফেলা যায়!

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।