শতবর্ষে পা রাখছেন প্রধানমন্ত্রীর মা, জানুন হীরা বেনের জীবনের অজানা তথ্য

১৮ জুন শতবর্ষে পা দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মা হীরা বেন। হীরা বেনের জন্মশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে তাই রাজকীয় আয়োজনের ব্যবস্থা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ১৯২৩ সালের ১৮ জুন গুজরাতের মেহাসানা জেলার ভাদনগর গ্রামে জন্ম হীরা বেনের। খুবই অল্প বয়সে গ্রামেরই দামোদরদাস মূলচাঁদ মোদি-র সঙ্গে বিবাহ হয় হীরা বেনের। মূলচাঁদ পেশায় ছিলেন চা-বিক্রেতা।

হীরা বেনের পরিবারও আয়তনে বেশ বড়। হীরা বেন এবং মূলচাঁদ মোদির পাঁচ ছেলে, এক মেয়ে। বড় ছেলে সোমা মোদি গুজরাত সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিক ছিলেন। বাকি ছেলেদের মধ্যে পঙ্কজ মোদি কাজ করেন গুজরাত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগে। অন্য দুই ছেলের মধ্যে প্রহ্লাদ মোদি ব্যবসা করেন এবং অমৃত মোদি লেদ মেশিন কারখানায় কাজ করতেন। হীরা বেনের তৃতীয় সন্তান নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে দিল্লির মসনদে বসেন। যদিও তার আগে প্রায় দীর্ঘ ১৪ বছর গুজরাতের কুর্সি সামলেছেন হীরা বেনের তৃতীয় পুত্র।

বর্তমানে গুজরাতের রাইসান গ্রামে ছোট ছেলে পঙ্কজ মোদির সঙ্গে থাকেন হীরা বেন। সেখানেই হীরা বেনের একশো তম জন্মদিন উদযাপনের আয়োজন করেছে মোদি পরিবার। পরিকল্পনা অনুযায়ী হীরা বেনের দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ চণ্ডীযজ্ঞ করা হবে। মায়ের জন্মদিন উপলক্ষে গুজরাতের গ্রামের বাড়িতে যাবেন নরেন্দ্র মোদিও। এছাড়াও সারাদিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। হীরা বেনের জন্মদিন উপলক্ষে গ্রামের হটকেশ্বর মন্দিরে সংগীতানুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনুরাধা পড়োয়াল-সহ একাধিক বলিউড-খ্যাত শিল্পী সেই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।এছাড়াও হীরা বেনের জন্মদিন উপলক্ষে আহমেদাবাদের জগন্নাথ মন্দিরে ভান্ডারো বা গণ আহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জাতীয় নেত্রীর ভূমিকায় ট্রায়াল, প্রথম বারে কতটা সফল মমতা?

প্রধানমন্ত্রীও একদিনের গুজরাত সফরে মন্দিরের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। আবার পাভাগর মন্দির পরিদর্শনের পাশাপাশি ভাদোদরায় একটি জমায়েতে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নরেন্দ্র মোদি নিজের জীবনে মা হীরা বেনের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। ২০১৫ সালে মোদির আমেরিকা সফরের সময় ফেসবুকের অধিকর্তা মার্ক জুকারবার্গের সঙ্গে একটি আলোচনাসভায় মায়ের কথা বলতে বলতে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মোদি।

দিল্লির তখতে বসার পরেই ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর রেসকোর্স রোডের বাসভবনে মা হীরা বেনকে নিয়ে নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাগান মা হীরা বেনকে ঘুরে দেখাচ্ছেন, এমন একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারও করেন প্রধানমন্ত্রী।

২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশজুড়ে নোটবন্দির কথা ঘোষণা করেন। গোটা দেশে প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা শুরু হয়। একাধিক অর্থনীতিবিদ এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করেন। দেশজুড়ে যখন নোটের আকাল তৈরি হল, এটিএমগুলোর বাইরে যখন মানুষের লাইন পড়ে গিয়েছিল, হীরা বেন ছেলে নরেন্দ্র মোদির এই সিদ্ধান্তের সমর্থনে এটিএমে নগদ টাকা তোলার লাইনে দাঁড়ান আমজনতার পাশে।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে মায়ের আশীর্বাদ নিতে গুজরাতে নিজের গ্রামে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃদ্ধ বয়সে ভগ্ন শরীর নিয়েও বিজেপির হয়ে ভোট দিতে গিয়েছিলেন হীরা বেন। লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল বিজয়ের পর হীরা বেন সাংবাদিক সম্মেলন করে পুত্র নরেন্দ্র মোদি-সহ বিজেপির গোটা দলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। ২০১৪ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মা হীরা বেনকে একটি শাড়ি উপহার হিসেবে পাঠান। এর আগে নরেন্দ্র মোদির 'কূটনৈতিক বন্ধু' নওয়াজ শরিফের মাকে একটি শাল উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। এই আদানপ্রদান সেইসময় ভারত-পাক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতিতে বিশেষভাবে কাজ করেছিল।

প্রধানমন্ত্রীর মায়ের জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে গান্ধিনগরের একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে হীরা বেনের নামে। রাজনীতি-সচেতন হীরা বেনের একশোতম জন্মদিনে পুত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তা স্মরণীয় করে রাখতেই এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

More Articles

;