শতবর্ষে পা রাখছেন প্রধানমন্ত্রীর মা, জানুন হীরা বেনের জীবনের অজানা তথ্য

বর্তমানে গুজরাতের রাইসান গ্রামে ছোট ছেলে পঙ্কজ মোদির সঙ্গে থাকেন হীরা বেন। সেখানেই হীরা বেনের একশো তম জন্মদিন উদযাপনের আয়োজন করেছে মোদি পরিবার।

Aritra Dasgupta
৩ মিনিট
শতবর্ষে পা রাখছেন প্রধানমন্ত্রীর মা, জানুন হীরা বেনের জীবনের অজানা তথ্য

১৮ জুন শতবর্ষে পা দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মা হীরা বেন। হীরা বেনের জন্মশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে তাই রাজকীয় আয়োজনের ব্যবস্থা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ১৯২৩ সালের ১৮ জুন গুজরাতের মেহাসানা জেলার ভাদনগর গ্রামে জন্ম হীরা বেনের। খুবই অল্প বয়সে গ্রামেরই দামোদরদাস মূলচাঁদ মোদি-র সঙ্গে বিবাহ হয় হীরা বেনের। মূলচাঁদ পেশায় ছিলেন চা-বিক্রেতা।

হীরা বেনের পরিবারও আয়তনে বেশ বড়। হীরা বেন এবং মূলচাঁদ মোদির পাঁচ ছেলে, এক মেয়ে। বড় ছেলে সোমা মোদি গুজরাত সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিক ছিলেন। বাকি ছেলেদের মধ্যে পঙ্কজ মোদি কাজ করেন গুজরাত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগে। অন্য দুই ছেলের মধ্যে প্রহ্লাদ মোদি ব্যবসা করেন এবং অমৃত মোদি লেদ মেশিন কারখানায় কাজ করতেন। হীরা বেনের তৃতীয় সন্তান নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে দিল্লির মসনদে বসেন। যদিও তার আগে প্রায় দীর্ঘ ১৪ বছর গুজরাতের কুর্সি সামলেছেন হীরা বেনের তৃতীয় পুত্র।

বর্তমানে গুজরাতের রাইসান গ্রামে ছোট ছেলে পঙ্কজ মোদির সঙ্গে থাকেন হীরা বেন। সেখানেই হীরা বেনের একশো তম জন্মদিন উদযাপনের আয়োজন করেছে মোদি পরিবার। পরিকল্পনা অনুযায়ী হীরা বেনের দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ চণ্ডীযজ্ঞ করা হবে। মায়ের জন্মদিন উপলক্ষে গুজরাতের গ্রামের বাড়িতে যাবেন নরেন্দ্র মোদিও। এছাড়াও সারাদিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। হীরা বেনের জন্মদিন উপলক্ষে গ্রামের হটকেশ্বর মন্দিরে সংগীতানুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনুরাধা পড়োয়াল-সহ একাধিক বলিউড-খ্যাত শিল্পী সেই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।এছাড়াও হীরা বেনের জন্মদিন উপলক্ষে আহমেদাবাদের জগন্নাথ মন্দিরে ভান্ডারো বা গণ আহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জাতীয় নেত্রীর ভূমিকায় ট্রায়াল, প্রথম বারে কতটা সফল মমতা?

অলৌকিক কিছু ঘটনা না ঘটলে বিরোধী প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা যে ক্ষীণ, তৃণমূল নেত্রী যে তা জানেন না, এমন হতেই পারে না। তাহলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, হারা ম্যাচ খেলতে কেন এতখানি সক্রিয় হয়ে উঠলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

প্রধানমন্ত্রীও একদিনের গুজরাত সফরে মন্দিরের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। আবার পাভাগর মন্দির পরিদর্শনের পাশাপাশি ভাদোদরায় একটি জমায়েতে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নরেন্দ্র মোদি নিজের জীবনে মা হীরা বেনের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। ২০১৫ সালে মোদির আমেরিকা সফরের সময় ফেসবুকের অধিকর্তা মার্ক জুকারবার্গের সঙ্গে একটি আলোচনাসভায় মায়ের কথা বলতে বলতে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মোদি।

দিল্লির তখতে বসার পরেই ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর রেসকোর্স রোডের বাসভবনে মা হীরা বেনকে নিয়ে নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাগান মা হীরা বেনকে ঘুরে দেখাচ্ছেন, এমন একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারও করেন প্রধানমন্ত্রী।

২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশজুড়ে নোটবন্দির কথা ঘোষণা করেন। গোটা দেশে প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা শুরু হয়। একাধিক অর্থনীতিবিদ এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করেন। দেশজুড়ে যখন নোটের আকাল তৈরি হল, এটিএমগুলোর বাইরে যখন মানুষের লাইন পড়ে গিয়েছিল, হীরা বেন ছেলে নরেন্দ্র মোদির এই সিদ্ধান্তের সমর্থনে এটিএমে নগদ টাকা তোলার লাইনে দাঁড়ান আমজনতার পাশে।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে মায়ের আশীর্বাদ নিতে গুজরাতে নিজের গ্রামে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃদ্ধ বয়সে ভগ্ন শরীর নিয়েও বিজেপির হয়ে ভোট দিতে গিয়েছিলেন হীরা বেন। লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল বিজয়ের পর হীরা বেন সাংবাদিক সম্মেলন করে পুত্র নরেন্দ্র মোদি-সহ বিজেপির গোটা দলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। ২০১৪ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মা হীরা বেনকে একটি শাড়ি উপহার হিসেবে পাঠান। এর আগে নরেন্দ্র মোদির 'কূটনৈতিক বন্ধু' নওয়াজ শরিফের মাকে একটি শাল উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। এই আদানপ্রদান সেইসময় ভারত-পাক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতিতে বিশেষভাবে কাজ করেছিল।

প্রধানমন্ত্রীর মায়ের জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে গান্ধিনগরের একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে হীরা বেনের নামে। রাজনীতি-সচেতন হীরা বেনের একশোতম জন্মদিনে পুত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তা স্মরণীয় করে রাখতেই এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

লিখেছেন
Aritra Dasgupta
Aritra Dasgupta
1 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।