ত্রিপুরায় কি বঙ্গ-বিজেপির মতোই অবস্থা হবে তৃণমূলের?

 

রাজ্যে রাজ্যে তৃণমূলের বিস্তার ঘটানোর ছবিটা এখন অনেকটাই ঝাপসা৷ জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের প্রাসঙ্গিক করতে তৃণমূল কংগ্রেস পা রাখে হরিয়ানা এবং গোয়া-য়৷ এই দুই রাজ্যে সংগঠন গড়ে তোলার লক্ষ্যে দলের 'মুখ' করা হয় যথাক্রমে অশোক তানওয়ার এবং কিরন কাণ্ডোলকরকে৷ কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এই দু'জনই মাসচারেকের মধ্যে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে দেন৷ তানওয়ার কেজরির আম আদমি পার্টিতে যোগ দিলেও এখনও পর্যন্ত কাণ্ডোলকর কোনও দলে যাননি৷ ফলে ওই দুই রাজ্যেই ধাক্কা খেয়েছে বাংলার শাসক দল৷

গোয়ায় ভোটে লড়লেও কোনও সাফল্য আসেনি তৃণমূলের৷ পরাজয়ের ধাক্কা সামলানোর আগেই ফের ধাক্কা, তৃণমূল ছাড়লেন দলের সভাপতি কাণ্ডোলকর৷ "গোয়ায় তৃণমূলের কিচ্ছু হবে না", একথা বলেই পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কাণ্ডোলকর৷ একই সঙ্গে দুষেছেন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরকে৷ পিকে-কে কাঠগড়ায় তুলে কাণ্ডোলকর বলেছেন, "পিকে গোয়ায় এসেছিল বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে৷ গোয়ায় তৃণমূলের জয় নয়, কংগ্রেসকে ব্ল্যাকমেল করাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল৷"

ওদিকে ওই প্রশান্ত কিশোরেরই নিয়ে আসা হরিয়ানায় দুঁদে কংগ্রেস নেতা অশোক তানওয়াকে সামনে রেখেই হরিয়ানায় ঘাসফুল ফোটানোর লক্ষ্যে ছিল তৃণমূল৷ একুশের নির্বাচনে বাংলায় তৃতীয় বার ক্ষমতা দখলের পর নভেম্বর মাসে দিল্লি গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তখন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর মমতার কাছে নিয়ে আসেন তানওয়ারকে৷ এরপরই অশোক কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে এসেছিলেন। তানওয়ারই ছিলেন তৃণমূলের ঘোড়া৷ হরিয়ানায় সংগঠন তৈরির পাশাপাশি উত্তর পূর্বের রাজ্যে সংগঠন গড়তেও তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তৃণমূল নিয়ে তানওয়ারের মোহভঙ্গ হল। এক বছরের মধ্যেই দ্বিতীয় বার দল বদল করেন অশোক। ৪ এপ্রিল তৃণমূল ছেড়ে আপাতত আপ-এ গেলেন হরিয়ানায় তৃণমূলের 'মুখ' অশোক তানওয়ার৷ এই দুই দলত্যাগীর ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, প্রশান্ত কিশোরের ভূমিকা রয়েছে৷

আরও পড়ুন: মুকুল-রাজীব না কি…? দেবাংশুর চোখে ‘ড্রেনের জল’ আজ কারা?

ঠিক এই রকম অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখেই শুক্রবার ত্রিপুরার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষস্তর৷ উত্তর পূর্বের এই রাজ্যে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি করা হয়েছে প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক সুবল ভৌমিককে। ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির বড় দায়িত্বে বাংলার প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজীবকে দলের 'ইন-চার্জ' করা হয়েছে৷ ত্রিপুরা তৃণমূলের অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন দলের প্রাক্তন সভাপতি আশিসলাল সিংহ-কে স্রেফ রাজ্য কোর কমিটির সদস্য করায়৷ এই কোর কমিটিতে রয়েছেন মোট ৬ জন৷ আশিসলাল সিংহ ছাড়া বাকি সদস্যরা হলেন, রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব, সুবল ভৌমিক, আশিস দাস, ভি রিয়াং ও মামন খান। প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি আশিসলাল সিংহ স্রেফ সদস্য পদে তাঁর নাম প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, "কে বলেছে ত্রিপুরাতেই রাজনীতি করতে হবে। দেশের অন্যত্রও রাজনীতি করা যেতে পারে। ছাত্র জীবনে বাংলায় রাজনীতি করেছি। উত্তরপ্রদেশেও দায়িত্ব সামলেছি।" আর এক নেতা, প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক আশিস দাস দলের নয়া কমিটি ঘোষণার পর বলেছেন, "এখন কিছু বলব না। সময় হলে বলব।" এই দু'জনের কেউই এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংবাদিক বৈঠকেও হাজির ছিলেন না। ফলে নতুন এক জল্পনাও তৈরি হয়েছে। ঘোষিত রাজ্য কমিটিতে ৮ জন সহ সভাপতি, ৫ জন সাধারণ সম্পাদক, ১৪ জন সম্পাদক, ৭ জন যুগ্ম সম্পাদক রাখা হয়েছে৷ ওদিকে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোট ৭২ জন। সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমোদনের পরই ত্রিপুরায় ১৩২ সদস্যের রাজ্য কমিটি ঘোষণা করেছে তৃণমূল৷ তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্য কমিটিতে ১৬ জন তফসিলি জাতি, ১৮ জন তফসিলি উপজাতি ও ৩২ জন ওবিসি গোষ্ঠীভুক্ত প্রতিনিধি রয়েছেন। ১৪ জন মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিও রয়েছেন।

বাংলার বাইরে দলকে ছড়িয়ে দিতে অনেকদিন ধরেই চেষ্টা চালাচ্ছেন তৃণমূল চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাখির চোখ করা হয়েছে বাংলার লাগোয়া উত্তর-পূর্ব প্রান্তের বাঙালি-অধ্যুষিত রাজ্য ত্রিপুরাকে। কিছুদিন আগে ত্রিপুরার পুর নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল তৃণমূল৷ যদিও একটি আসনও পায়নি ঘাসফুল৷ ইতিমধ্যেই ওই রাজ্যে একাধিকবার পা রেখেছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। ত্রিপুরার মাটিতে দাঁড়িয়েই শাসক বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বারবার অভিষেক বলেছেন, ২০২৩ সালে ত্রিপুরার শাসন ক্ষমতা থেকে পদ্ম সরবেই, ফুটবে জোড়া-ফুল। বিধানসভা ভোটের আগেই শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে ত্রিপুরায় দলের রাজ্য কমিটি ঘোষণা করে দিল তৃণমূল।

প্রসঙ্গত, ত্রিপুরা বিধানসভায় মোট আসন ৬০টি৷ ম্যাজিক ফিগার ৩১৷ এই মুহূর্তে শাসক জোট বিজেপি এবং আইপিএফটি-র আসনসংখ্যা যথাক্রমে ৩৩ এবং ৭, মোট ৪০টি৷ বিরোধী সিপিএমের আসনসংখ্যা ১৫, বাকি ৫ আসন আপাতত শূন‍্য আছে৷

ত্রিপুরার সর্বশেষ পুর নির্বাচনে প্রায় ৯৮.৫ শতাংশ আসন জিতেছে বিজেপি। এই ফলাফলকে বিরাট সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছে বিজেপি৷ ওদিকে তৃণমূল-সহ বিরোধী শিবির ভোট-পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সন্ত্রাস প্রসঙ্গে দফায় দফায় অভিযোগ এনেছে৷ এরই ফাঁকে তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, এই দাবি কতখানি বাস্তব? সর্বশেষ ভোটের ফলাফলের নিরিখে সত্যিই কি তৃণমূল ত্রিপুরায় প্রধান বিরোধী দলের স্থান অধিকার করেছে?

ত্রিপুরায় হয়ে যাওয়া পুরভোটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০টি পুরসভার সবক'টিতেই জিতেছে বিজেপি। মোট ৩৩৪টি পুর আসনের মধ্যে ৩২৯টি আসন জিতেছে পদ্মশিবির৷ অর্থাৎ, মোট আসনের ৯৮.৫ শতাংশ৷ ওদিকে এই ২০টি পুরসভার ৭টিতে বিজেপি-বিরোধীরা একটি আসনেও প্রার্থী দিতে পারেনি। মোট ৩৩৪টি আসনের মধ্যে ১১২টি আসন বিজেপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছে। বিরোধীদের স্বাভাবিক অভিযোগ, বিজেপি এবং প্রশাসন তাঁদের মনোনয়ন জমা দিতেই দেয়নি। বাংলার শেষ পঞ্চায়েত ভোট হয়েছে ২০১৮ সালে৷ ওই ভোটে শাসক তৃণমূলের বিরুদ্ধে ঠিক এই অভিযোগই এনেছিল বাম, কংগ্রেস এবং বিজেপি-সহ অন্যান্য বিরোধীরা৷ ত্রিপুরায় বিরোধীদের অভিযোগ, এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচনই হয়নি। বাংলায় পঞ্চায়েত ভোটেও বিরোধীদের অভিযোগ ছিল ৩৪% আসনে ভোট হয়নি৷ সব আসন লুঠ করে নিয়েছে তৃণমূল৷ আর যেখানে নির্বাচন হয়েছে সেখানে ভোটারদের ভয় দেখানো ও বুথ দখলের ঘটনা ঘটেছে।

এবার দেখা যাক, ত্রিপুরায় তৃণমূলের প্রধান বিরোধী দলের দাবির ভিত্তি কতখানি ?

পরিসংখ্যান বলছে, ত্রিপুরার পুরভোটে যে সমস্ত আসনে নির্বাচন হয়েছে সেখানে বামপন্থীরা পেয়েছে ১৯.৬৫ শতাংশ। তৃণমূল ১৬.৩৯ শতাংশ। আসলে তৃণমূল মূলত, আগরতলা পুরসভার ফলাফলকেই সামনে এনেছে৷ ওই পুরসভায় তৃণমূল মোট ওয়ার্ডের নিরিখে ভোট পেয়েছে ২০.১৪ শতাংশ ভোট। আর বামেরা পেয়েছে কিছুটা কম, ১৭.৯৪ শতাংশ ভোট। ভোট কম হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বামেদের বক্তব্য, আগরতলা পুরসভার সব ওয়ার্ডে বামেরা নির্বাচন লড়তে পারেনি৷ এর কারণ দু'টি, প্রথমত, তাদের মনোনয়ন জমা দিতে দেওয়া হয়নি, দ্বিতীয়ত, বাম প্রার্থীদের ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হয়েছে, এর জেরেই মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। ফলে প্রাপ্ত ভোটের হার কমেছে৷ উল্টোদিকে, তৃণমূলকে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি। ঘাসফুল প্রার্থীরা বামেদের না-লড়া ওয়ার্ডেও লড়তে পেরেছে। এই প্রসঙ্গে বামফ্রন্টের ব্যাখ্যা, যেসব ওয়ার্ডে বামেরা প্রার্থী দিতে পারেনি, সেইসব ওয়ার্ডের বিজেপি-বিরোধী বাম ভোটের একাংশ তৃণমূল প্রার্থীদের পক্ষে গিয়েছে৷ তাই ভোট বেড়েছে তৃণমূলের৷

ওদিকে, আগরতলা পুর এলাকার বাইরে তৃণমূলের প্রার্থীরা মোট ৭.৭৮ শতাংশ ভোট পেয়েছে৷ তথ্য বলছে, ওই একই এলাকায় বামদের প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল ২৩.৫৫ শতাংশ।

লোকসভা নির্বাচনে ত্রিপুরায় কংগ্রেসের ভোট ছিল ২৫.৩৪ শতাংশ৷ পুরভোটে তা নেমে দাঁড়ায় ২.৭% শতাংশে৷ রাজনৈতিক মহলের মতে, কংগ্রেসি ভোটের বড় একটি অংশ পুরভোটে তৃণমূলের পক্ষে গিয়েছে৷ এবং এমন এধার-ওধার মূলত হয়েছে আগরতলায়। তাই বাম এবং কংগ্রেসের দাবি, আলোচ্য নির্বাচনে মোট ভোটের শতাংশেও তৃণমূল প্রধান বিরোধী দলের জায়গায় আসতে পারেনি৷ আগরতলা পুরভোটের ভোট প্রাপ্তির নিরিখে তৃণমূল অনেকখানি নজর কাড়লেও আগরতলার বাইরে ভোটের শতাংশ ৮% পার হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছেই, শুধু আগরতলাই তো গোটা ত্রিপুরা নয়৷ তাহলে কোন তথ্য ও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তৃণমূল ত্রিপুরার প্রধান বিরোধী দলের দাবি করছে?

আসলে তৃণমূল ত্রিপুরায় এখনও সীমাবদ্ধ রয়েছে আগরতলা এবং সন্নিহিত কিছু অঞ্চলে৷ কোনও সংগঠন ছাড়া, শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের ওপর ভরসা করে ভোটের মাত্র ৩ মাস আগে ত্রিপুরাতে পা রাখে৷ সেভাবে সংগঠন এখনও গড়ে ওঠেনি৷ দাগ কাটার মতো কোনও কর্মসূচি তারা এখনও গ্রহণ করেনি৷ বাংলা থেকে দলে দলে তৃণমূল নেতা-কর্মী অবশ্যই যেতে পারে৷ কিন্তু একুশের ভোটে বাংলায় বিজেপি তো এই পথে হেঁটেই ক্ষমতায় আসতে চেয়েছিল৷ ভিন রাজ্য থেকে প্লেনবোঝাই ওজনদার নেতা, ভোট-বিশেষজ্ঞ, সংগঠক বাংলায় এনেছিল গেরুয়া ব্রিগেড৷ কী লাভ হলো তাতে ? ক্ষমতার কাছাকাছিও যেতে পারেনি বিজেপি৷ আর এই হতাশায় বঙ্গ-বিজেপি আজ শতধাবিভক্ত৷ ত্রিপুরায় তৃণমূল কী বিধানসভা নির্বাচন এভাবেই লড়বে ? ত্রিপুরায় তৃণমূলের একমাত্র লক্ষ্যই ছিল কংগ্রেস ভেঙে নিজেদের দিকে নেতা টেনে আনা৷ নেতা এলে কিছু কর্মীও আসবে৷ সেই টার্গেট অবশ্য অনেকটাই পূরণ করতে পেরেছে টিম তৃণমূল৷ পুরভোটে প্রার্থী দিতে পেরেছে৷ এর পরের কাজ কিছুটা সামলেছেন প্রশান্ত কিশোরের টিম, বাকিটা পুষিয়ে দিয়েছে অর্থ৷ কিন্তু এভাবে কী বিধানসভা নির্বাচনে সফল হবে ঘাসফুল ? বিজেপি-বিরোধী ভোটে এতে হয়তো ভাগ বসানো যাবে৷ দলীয় বিধায়কও হয়তো জনাকয়েক হবে৷ কিন্তু শুধু ভোট কাটার জন্য, ২-৪জন বিধায়ক পাওয়ার জন্য তৃণমূল ত্রিপুরায় লড়বে, এটা কখনওই মানা সম্ভব নয়৷ এদিকে আরও একটা কথা, এমনও তো হতে পারে, এটাই চাইছে বিজেপি। বিরোধী ভোট যত ভাগ হবে, ততই লাভ বিজেপির৷ বিজেপি অনেক রাজ্যেই এভাবে ক্ষমতায় আছে৷

তৃণমূলকে একই সঙ্গে মাথায় রাখতে হবে, ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনে ‘তিপ্রা মথা’ সব দলকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে প্রস্তুত। রাজ্য রাজনীতিতে নতুন এই দলই এখন ত্রিপুরার অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে উঠে এসেছে। এখনই মথা বাকি দলগুলোর চূড়ান্ত মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে৷ ২০২১ সালের এডিসি বা Autonomous District Council-এর ভোটের ফলাফল থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার, তিপ্রা মথা ছাড়া অন্য কোনও দলের প্রতি রাজ্যের পাহাড়ি এলাকার মানুষের এখন আর তেমন আগ্রহ নেই। বিশেষ করে আইপিএফটি দলের শোচনীয় ফলাফল থেকে এটা স্পষ্টতই বলা যায়, এই দলের প্রতি পাহাড়ের মানুষের ভরসা প্রায় নেই বললেই চলে। শুধু তাই নয়, নতুন একটি রাজনৈতিক দল এক লাফে ৩৭.৪৩% ভোট পেয়ে এডিসি-র মসনদে বসে যাওয়ার এমন নজিরও বিরল বলা যায়। তবে ‘তিপ্রা মথা’ ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সর্বভারতীয় কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের নির্বাচনী জোটের কোনও সম্ভাবনা নেই। আগামী ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনে একাই লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ত্রিপুরার আদিবাসীদের উন্নয়নের জন্য লড়াই করা এই দল। তবে এই সিদ্ধান্তকে 'আপাতত' বলাই ভালো৷

তাই এই মুহূর্তে ত্রিপুরা তৃণমূল কমিটির প্রধানতম এবং একমাত্র কাজ হবে নিজেদের ঘর গোছানো, মুখে বা বক্তৃতায় নয়, সংগঠনের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়া, তৃণমূল ত্রিপুরায় এবার 'পলিটিক্যাল ফ্যাক্টর'৷ কোন্দলের ঊর্ধ্বে উঠে ঘর গোছানোর কাজটা তো করতে হবে ত্রিপুরা তৃণমূলকেই৷ বাংলা বা অসম থেকে গিয়ে ত্রিপুরায় বক্তৃতা দিয়ে আসা যায়, ওখানে পড়ে থেকে সংগঠন তৈরি করা যায় না৷ বিধানসভা নির্বাচনে কোন দলের সঙ্গে জোট হবে, ভাগে ক'টা আসন পড়বে, সেসব দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বুঝবে৷ ত্রিপুরা তৃণমূলের দায়িত্ব পাওয়া ১৩২ জন সমানভাবে সচেষ্ট না হলে ত্রিপুরায় গোয়া-র রিপ্লে হওয়া বিচিত্র নয়৷

 

More Articles

;