এক প্রযুক্তিতেই বন্যা ও খরা, দুই সমস্যার সমাধান! ভারতের 'ইকো ব্লক' মডেল

Eco Bloc RR Sivaram: আমরা সচরাচর যে সমস্ত কংক্রিটের ড্রেন দেখি, ইকো ব্লক কিন্তু তার চেয়ে একেবারে আলাদা। এটি তৈরি হয় মূলত ফেলে দেওয়া পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক দিয়ে। ফলে পরিবেশের প্লাস্টিক বর্জ্যের সমস্যাও এতে কমে।

inscript
৩ মিনিট
এক প্রযুক্তিতেই বন্যা ও খরা, দুই সমস্যার সমাধান! ভারতের 'ইকো ব্লক' মডেল

তীব্র গরম আর জলকষ্ট থেকে বাঁচতে আমরা শুধু বলতে থাকি, "উফ! বর্ষা যে কবে নামবে?" কিন্তু বর্ষার আগমন হলেই, বাড়ি থেকে বেরোতেই ইচ্ছে করে না। বাড়ির বাইরে পা দিলেই তো হাঁটু-জল পেরোতে হবে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রাফিক জ্যামে গাড়ি থমকে দাঁড়িয়ে থাকবে। তারপর, কখনও রক্সময় গন্তব্যে পৌছনো যাবে। অথচ চরম পরিহাস এটাই যে, একদিকে যখন লক্ষ লক্ষ লিটার মূল্যবান বৃষ্টির জল নোংরা ড্রেন দিয়ে স্রেফ নষ্ট হয়ে বয়ে চলে যায়, অন্যদিকে তার ঠিক কয়েক মাস পরেই সেই শহরগুলিতেই আবার পানীয় জলের তীব্র হাহাকার শুরু হয়।

কিন্তু কেমন হতো, যদি আমাদের প্রতিদিনের চলার এই রাস্তাগুলিই একাধারে বন্যা এবং জলসঙ্কট—দুটো বড় সমস্যারই সমাধান করে দিতে পারত?

শুনতে রূপকথার মতো মনে হলেও, এই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন কোয়িম্বাটুরের এক পরিবেশপ্রেমী উদ্যোক্তা আর. আর. সিভারাম (RR Sivaram)। তাঁর তৈরি ‘ইকো ব্লক’ (Eco Bloc) প্রযুক্তি আজ ভারতের শহুরে জল ব্যবস্থাপনায় এক বিরাট বিপ্লব নিয়ে এসেছে।

এক অভিনব ভাবনা: চেন্নাইয়ের বন্যা ও খরা থেকে শিক্ষা

এই আবিষ্কারের পিছনে রয়েছে এক দূরদর্শী গল্প। ২০১৫ সালে চেন্নাইয়ের সেই বিধ্বংসী বন্যা হয়তো অনেকেরই মনে আছে। ঠিক তার চার বছর পর, ২০১৯ সালে সেই চেন্নাই শহরই সাক্ষী থাকল এক মারাত্মক খরার। জলের জন্য হাহাকার পড়ে গিয়েছিল চারিদিকে।

এই দুটি চরম বিপর্যয় খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন আর. আর. সিভারাম। তিনি ভাবলেন, বৃষ্টির জলকে স্রেফ অপচয় হতে না দিয়ে যদি বৈজ্ঞানিক উপায়ে মাটির নিচে জমিয়ে রাখা যায়, তবে একই সঙ্গে বন্যাও আটকানো সম্ভব, আবার খরার সময়ে জলের অভাবও মেটানো সম্ভব। এই ভাবনা থেকেই জন্ম নিল তাঁর কোম্পানি ‘স্টোন হ্যান্ডস প্রজেক্ট অ্যান্ড কনসালটেন্সি প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং তাদের হাত ধরে এল ‘ইকো ব্লক’।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চারদিকে সমুদ্রের নোনাজল, বৃষ্টির জলে ভর করেই ৪০০ বছর ধরে ৬৫ হাজার মানুষের বসবাস!

Bermuda Island: নদী নেই, কোনো মিষ্টি জলের হ্রদ নেই, নেই কোনো প্রাকৃতিক ঝরনাও। চারপাশ শুধু থৈ থৈ করছে সমুদ্রের নোনা জল। এমন একটা জায়গায় ৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে থাকছে মানুষ। আজব মনে হলেও, আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে এক ছোট্ট দ্বীপ ‘বারমুডা’ এই অসম্ভবকেই সম্ভব করেছে। কোনো কেন্দ্রীয় পাইপলাইন বা বিশাল সরকারি জলাধারের উপর ভরসা না করে, এখানকার প্রায় ৬৫,০০০ মানুষ সম্পূর্ণ নিজস্ব এক পদ্ধতিতে নিজেদের খাওয়ার জলের ব্যবস্থা করে নিয়েছেন।

কংক্রিটের ড্রেন নয়, এ যেন মাটির নিচের ‘স্পঞ্জ’

আমরা সচরাচর যে সমস্ত কংক্রিটের ড্রেন দেখি, ইকো ব্লক কিন্তু তার চেয়ে একেবারে আলাদা। এটি তৈরি হয় মূলত ফেলে দেওয়া পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক দিয়ে। ফলে পরিবেশের প্লাস্টিক বর্জ্যের সমস্যাও এতে কমে।

এর কাজের পদ্ধতিটি বেশ চমৎকার এবং বিজ্ঞানসম্মত:

  • মৌচাকের মতো দেখতে: এই ড্রেনগুলির ভিতরের অংশটি দেখতে অনেকটা মৌচাকের মতো। এই বিশেষ গঠনের কারণে এটি রাস্তা থেকে প্রায় ৯৬ শতাংশ বৃষ্টির জল নিমেষের মধ্যে শুষে নিতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিশ্বের বিস্ময় পূর্ব কলকাতা জলাভূমি—যে কারণে আজও বেঁচে আছে কলকাতা

East Kolkata Wetlands: আমাদের শরীরে কিডনি ঠিক যেরকম ভাবে শরীরকে সুস্থ রাখতে রক্ত থেকে সব নোংরা আর বর্জ্য ছেঁকে বের করে দেয়, সেরকম ভাবেই কলকাতার ক্ষেত্রে এই কাজটি করে পূর্ব কলকাতা জলাভূমি। তাই পরিবেশবিদরা একে ভালবেসে ডাকেন ‘কলকাতার প্রাকৃতিক কিডনি’।

  • ধাপে ধাপে ছাঁকা: প্রতি ১৫ মিটার পরপরই এতে জল ধরে রাখার বিশেষ ব্যবস্থা আছে। রাস্তা থেকে নোংরা জল ড্রেনে ঢোকার পর সেটি চার স্তরের একটি আধুনিক ফিল্টারিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। ফলে কাদা, বালি ও অন্যান্য আবর্জনা পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যায়।

  • মাটির নিচের অদৃশ্য ব্যাংক: ফিল্টার হওয়া এই পরিষ্কার জলটি জমা হয় রাস্তা কিংবা পার্কের নিচে তৈরি করা বিশেষ মডুলার ট্যাংকে। উপর থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে নিচে জলের এত বড় ভাণ্ডার রয়েছে।

ট্যাংকগুলির শক্তি ও স্থায়িত্ব কতখানি?

অনেকের মনে হতে পারে, রাস্তার নিচে প্লাস্টিকের ট্যাংক বসালে তা ভারী গাড়ির চাপে ভেঙে যাবে না তো? সিভারাম ও তাঁর দল এই ট্যাংকগুলি এমনভাবে ডিজাইন করেছেন যা ৬০ টন পর্যন্ত ওজন অনায়াসে সহ্য করতে পারে। অর্থাৎ, উপর দিয়ে লরি বা বাস চলে গেলেও এর কোনো ক্ষতি হবে না। এই ট্যাংকগুলির আয়ু ৫০ বছরেরও বেশি এবং প্রয়োজনে এগুলিকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়েও নিয়ে যাওয়া যায়।

ইকো ব্লকের কার্যকারিতা প্রথম প্রমাণিত হয় ২০২০ সালে, চেন্নাইয়ে এর প্রথম পরীক্ষামূলক ব্যবহারের মাধ্যমে। সেখানে একটি মন্দিরের দিঘি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে সম্পূর্ণ শুকনো ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করার পর, মাত্র এক বছরের মধ্যে সেই দিঘি আবার কানায় কানায় জলে ভরে ওঠে।

এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কোয়িম্বাটুরের বিখ্যাত ‘রেস কোর্স রোড’-এ মাত্র ৯০০ মিটারের একটি ড্রেনেজ সিস্টেম তৈরি করে প্রায় ১ লক্ষ লিটার জল সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। চেন্নাই কর্পোরেশন এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের (NDMA) যৌথ উদ্যোগে এখন বিভিন্ন পার্ক, খেলার মাঠ ও স্কুলে এই ব্যবস্থা দ্রুত বসানো হচ্ছে। খেলার মাঠের উপরটা যেমন ছিল তেমনই থাকছে, আর তার নিচেই তৈরি হয়ে যাচ্ছে ৫ লক্ষ লিটার ধারণক্ষমতার একেকটি বিশাল জলের ট্যাংক!

শহরগুলির জন্য কেন এটি সেরা বিকল্প?

ঐতিহ্যবাহী কংক্রিটের স্টর্মওয়াটার ড্রেনের তুলনায় ইকো ব্লক ভারতের মতো দেশের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এর মূল কারণগুলি হলো, প্রচলিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার তুলনায় ইকো ব্লক তৈরি ও ইনস্টল করতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ খরচ কম হয়। এটি বসাতে খুব বেশি শ্রমিক লাগে না এবং খুব কম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যায়। এই প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য হলো শহরগুলিকে একটি ‘স্পঞ্জের’ মতো গড়ে তোলা। বৃষ্টি হলেই শহর সেই জল শুষে নেবে, যার ফলে মাটির নিচের জলের স্তর আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।

বর্তমানে এই দেশীয় ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিটি ভারতের বিভিন্ন শহরের প্রায় ৫,০০০-এরও বেশি জায়গায় সফলভাবে কাজ করছে। এর মাধ্যমে ইতিমধ্যে ৫ কোটি (৫০ মিলিয়ন) লিটারেরও বেশি বৃষ্টির জল মাটির নিচে জমিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে। প্রতি বছর এর মাধ্যমে প্রায় ৫০ টন কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমানো যাচ্ছে, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত জরুরি।

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন জাতীয় স্তরের সংবাদমাধ্যমে আজ আর. আর. সিভারামের এই ‘ইকো ব্লক’ মডেল প্রশংসিত হচ্ছে। ভারতের শহরগুলি যখন আরও একটি বর্ষার মুখোমুখি হতে চলেছে, তখন এই প্রযুক্তি আমাদের মনে আশা জাগায়। এটি প্রমাণ করে, সঠিক পরিকল্পনা আর আধুনিক বিজ্ঞানকে কাজে লাগালে প্রকৃতির দেওয়া বৃষ্টি আমাদের কাছে আর জলমগ্ন রাস্তার অভিশাপ হয়ে থাকবে না, বরং তা হয়ে উঠবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বেঁচে থাকার আসল চাবিকাঠি।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কয়লার দেশ হয়েও কেন বিদ্যুৎ সংকটে ভারত?

India's energy crisis 2026: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায়, ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক সময় জ্বালানিক্ষেত্রে ‘ঘাটতি নেই’ বললেও সেপ্টেম্বরে স্বীকার করলেন, জ্বালানির পরিস্থিতি বর্তমানে ‘টানটান’। ৭৬টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংকটজনক ভাবে মজুত করা কয়লায় চলছে। চলছে এলপিজির কালোবাজারি। ডিসকমগুলির বকেয়া জমে রয়েছে প্রায়, ৩,৩৩০ কোটি টাকা।

প্রকৃতির কোলে পিকনিক, শেষে প্লাস্টিকের পাহাড়: মানুষ কি সত্যিই প্রকৃতিকে ভালোবাসে?

Environmental Pollution: প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত দূষণ ছড়ানো কলকারখানা সিল করে দেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়তো নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতেই কি সমস্যার সমাধান মিলবে? কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত যানবাহনের দাপট এবং বৈদ্যুতিন বর্জ্য। শ্রমবিমুখ হয়ে সবকিছু প্রস্তুত পাওয়ার মানসিকতা এবং দেশে সংস্কারের লড়াই না করে সহজে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট। এই দায় এড়িয়ে কি সার্বিক সমাধান সম্ভব?

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।

নেপাল বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেবে কে?

Climate Justice for nepal: ২৬ অগাস্ট লাংটাং লিরুং-এর হিমবাহ ধসে নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়—নিহত ১,৩৪৪, নিখোঁজ ৪,৮৮৭। পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৪-৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডে আছে মাত্র ৮২২ মিলিয়ন ডলার।নেপালের দাবি, চিন-ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায় আছে। জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক কাঠগড়ায়।

নেপালের হড়পা বান থেকে বেঁচে ফিরলেন যাঁরা, তাঁদের চোখে ২৬ অগাস্ট

Nepal flash floods 2026: ২৬ অগাস্ট, ২০২৬-এ নেপালের হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও কিছু মানুষ বেঁচে ফিরেছেন। কেউ এক কাপ চায়ের বিরতির জন্য, কেউ গাড়ির একটা রিভার্স গিয়ারের কারণে, কেউ ডালপালা ছড়ানো একটা আমগাছ আঁকড়ে ধরে, আবার কেউ কেবল ১৫ সেকেন্ডের দৌড়ে ছিনিয়ে এনেছেন নিজের শ্বাস। মৃত্যু খুব কাছ থেকে অনুভব করে ফেরা সেই মানুষগুলির অভিজ্ঞতায় রইল রাসুয়া আর নুয়াকোটের সেই সকালের কথা।

হিমালয়ের বরফ গলছে দ্বিগুণ হারে, নেপালের বিপর্যয়ের বিজ্ঞান কী বলছে?

Nepal Flood 2026: বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন, ৪৫০০ থেকে ৬০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে থাকা হিমবাহ অঞ্চলের অন্তত ৭৮ শতাংশ উচ্চতা-নির্ভর উষ্ণায়নের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাঁচ মাস পর সেই সতর্কবাণীই যেন সত্যি হয়ে উঠল নেপালের উপত্যকায়।