বিশ্বের বিস্ময় পূর্ব কলকাতা জলাভূমি—যে কারণে আজও বেঁচে আছে কলকাতা

East Kolkata Wetlands: আমাদের শরীরে কিডনি ঠিক যেরকম ভাবে শরীরকে সুস্থ রাখতে রক্ত থেকে সব নোংরা আর বর্জ্য ছেঁকে বের করে দেয়, সেরকম ভাবেই কলকাতার ক্ষেত্রে এই কাজটি করে পূর্ব কলকাতা জলাভূমি। তাই পরিবেশবিদরা একে ভালবেসে ডাকেন ‘কলকাতার প্রাকৃতিক কিডনি’।

inscript
৬ মিনিট
বিশ্বের বিস্ময় পূর্ব কলকাতা জলাভূমি—যে কারণে আজও বেঁচে আছে কলকাতা

এই তো সেদিনের কথা। টানা কয়েক দিনের রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টিতে মুম্বইয়ের থমকে যাওয়ার ছবিগুলি চারিদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। জলমগ্ন রাস্তা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকা রেলের চাকা আর কোমর জলে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ। স্রেফ মুম্বই নয়, আজকাল পুরো ভারত জুড়েই একটু বৃষ্টি হলেই এইধরনের ছবি দেখা যায়। মেঘভাঙা বৃষ্টি আর হুট করে আসা প্রবল বর্ষণে শহরগুলির ঝাঁ-চকচকে কংক্রিটের ড্রেন আর পুরনো নগর পরিকল্পনা যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। কোটি কোটি টাকা খরচ করেও জলমগ্নতা থেকে রেহাই পাওয়া যায় না।

ঠিক এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতির মাঝেই, আমাদের তিলোত্তমা কলকাতার ছবিটা কিন্তু একদম আলাদা। যে সমস্যার সমাধানে বড় বড় ইঞ্জিনিয়াররা হিমশিম খাচ্ছেন, কলকাতা সেই সমস্যার সমাধান করে চলেছে কোনো কৃত্রিম যন্ত্র ছাড়াই।

শহরের পূর্ব প্রান্ত ঘেঁষে রাজারহাট, সল্টলেক আর ইএম বাইপাসের ঠিক পাশেই রয়েছে পূর্ব কলকাতা জলাভূমি (East Kolkata Wetlands)। প্রায় ১২,৫০০ হেক্টরের এই বিস্তীর্ণ এলাকাটি আসলে কলকাতার এক মস্ত বড় ঢাল। এটি কোনো সিমেন্ট-কংক্রিটের তৈরি পরিকাঠামো নয়, বরং প্রকৃতির নিজের হাতে তৈরি এমন এক ব্যবস্থা, যা শহরকে বাঁচিয়ে রাখছে বছরের পর বছর।

তিলোত্তমার কিডনি

আমাদের শরীরে কিডনি ঠিক যেরকম ভাবে শরীরকে সুস্থ রাখতে রক্ত থেকে সব নোংরা আর বর্জ্য ছেঁকে বের করে দেয়, সেরকম ভাবেই কলকাতার ক্ষেত্রে এই কাজটি করে পূর্ব কলকাতা জলাভূমি। তাই পরিবেশবিদরা একে ভালবেসে ডাকেন ‘কলকাতার প্রাকৃতিক কিডনি’।

কলকাতা শহরের প্রতিদিনের ঘরকন্না এবং কলকারখানার উৎপাদিত নোংরা জলের প্রায় ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ— অর্থাৎ প্রায় ৭৫০ থেকে ৯৮০ মিলিয়ন লিটার অশোধিত নোংরা জল সরাসরি গিয়ে পড়ে এই পূর্ব দিকের জলাভূমিতে। অথচ, এই বিশাল পরিমাণ বিষাক্ত জলকে পরিষ্কার করার জন্য সেখানে কিন্তু কোনো কোটি কোটি টাকার আধুনিক ইলেকট্রিক ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নেই, খরচ হয় না কোনো রাসায়নিক।

তাহলে এই ম্যাজিকটা হয় কীভাবে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দিল্লিতে আজ ক্লাউড সিডিং, কিন্তু ৭০ বছর আগেই কলকাতার আকাশে বৃষ্টি নামিয়েছিলেন এক বাঙালি বিজ্ঞানী

Artificial Rain: তিনি ডক্টর সুধাংশু কুমার ব্যানার্জি। ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের (IMD) প্রথম ভারতীয় ডিরেক্টর জেনারেল। তবে সহকর্মী আর শান্তিনিকেতনের প্রতিবেশীদের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন অন্য এক ভালবাসার নামে—‘মেঘ ব্যানার্জি’।

এখানে কাজ করে প্রকৃতির চারজন নিজস্ব কর্মী— সূর্যের আলো, শৈবাল (Algae), জলজ উদ্ভিদ (যেমন কচুরিপানা) এবং জলের নিচে থাকা কোটি কোটি প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া অণুজীব। খোলা আকাশের নিচে থাকা এই বিশাল জলাশয়গুলিতে সূর্যের আলো যখন পড়ে, তখন অণুজীব আর শৈবালেরা মিলে নোংরা জলকে প্রাকৃতিকভাবেই পরিশোধন করতে শুরু করে। আর কচুরিপানাগুলি জল থেকে ক্ষতিকারক তেল, গ্রীস ও ভারী ধাতু শুষে নেয়। ফল? কোনো খরচ ছাড়াই প্রতিদিন শহরের নোংরা জল নিজে থেকেই একেবারে সাফ হয়ে যায়!

বিজ্ঞানীরা একেই বলেন ‘প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান’। এর ফলে কলকাতা কর্পোরেশনের প্রতি বছর জল পরিশোধনের জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকা বেঁচে যায়। ২০০২ সালে এই অনন্য অবদানের জন্য বিশ্বমঞ্চে একে আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন একটি জলাভূমি বা ‘র্যামসার সাইট’ (Ramsar Site) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এটি আজ বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক সম্পদ পুনরুদ্ধার বাস্তুতন্ত্রের অন্যতম সেরা উদাহরণ।

বর্জ্য থেকে সম্পদ

এই জলাভূমির আসল সৌন্দর্য শুধু জল পরিষ্কার করার মধ্যেই শেষ হয়ে যায় না। এখানে যা বর্জ্য, সেটাই আবার অন্য জায়গায় সম্পদ! পরিষ্কার হওয়া এই পুষ্টিগুণে ভরপুর জলকে কিন্তু ফেলে দেওয়া হয় না। একে কাজে লাগিয়ে এখানে গড়ে উঠেছে এক চমৎকার চক্রাকার অর্থনীতি (Circular Economy)। এই জলাভূমিতে প্রায় ২৫০ থেকে ২৬০টি মাছের ভেড়ি রয়েছে। পরিশোধিত এই পুষ্টিকর জলে হওয়া শৈবালগুলিই মাছের সেরা খাবার। এখান থেকে বছরে প্রায় ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়, যা প্রতিদিন কলকাতার বাজারের মাছের চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মেটায়। নোংরা জলের তলানি আর কলকাতার জৈব বর্জ্য দিয়ে তৈরি সার ব্যবহার করে ধাপা এবং তার আশেপাশের এলাকায় দেদার সবজি চাষ হয়। বছরে প্রায় ৫০,০০০ মেট্রিক টন তাজা সবজি এই অঞ্চল থেকে কলকাতার বাজারে আসে। হাজার হাজার হেক্টর জমিতে এই জলেই চাষ হয় বিঘার পর বিঘা ধান।

সবচেয়ে বড় কথা, এই পুরো ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে এই অঞ্চলের প্রায় ২০,০০০ থেকে ৫০,০০০ মৎস্যজীবী, কৃষক ও তাঁদের পরিবারের জীবিকা টিকে রয়েছে। পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের পেটের ভাতের জোগান দেওয়া— এমন নিখুঁত ভারসাম্য পৃথিবীর খুব কম জায়গাতেই দেখা যায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
একদিনে প্রায় ৪০০ বজ্রপাত: কেন কলকাতায় এত বাজ পড়া বাড়ছে?

Kolkata Lightning: কলকাতায় ইদানীং আকাশ ভেঙে যে হারে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টি নামছে, তা আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা আর হঠাৎ ধেয়ে আসা তীব্র বজ্রঝড় নিয়ে ইনস্ক্রিপ্ট কথা বলেছিল বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ডঃ স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী-র সঙ্গে।

কলকাতার মস্ত বড় ‘স্পঞ্জ’ আর নিখরচায় এসি

বর্ষাকালে যখন প্রবল বৃষ্টিতে কলকাতার রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়, তখন এই জলাভূমি রূপ নেয় এক বিশাল ‘স্পঞ্জ’-এর। শহরের সমস্ত অতিরিক্ত জলকে এটি নিজের বুকে টেনে নেয়। জল বয়ে যাওয়ার গতি কমিয়ে দিয়ে সেটিকে সাময়িকভাবে নিজের মধ্যে ধরে রাখে এবং ধীরে ধীরে তা ছেড়ে দেয়। এর ফলে কলকাতা শহর অনেকসময়ই মস্ত বড় বন্যার হাত থেকে বেঁচে যায়।

শুধু বন্যা আটকানোই নয়, এই জলাভূমি কলকাতার ভূগর্ভস্থ জলের স্তর ধরে রাখতে সাহায্য করে। এখানকার গাছপালা ও জলভাগ প্রচুর পরিমাণে কার্বন শোষণ করে (Carbon Sequestration), যা শহরের বিষাক্ত বাতাসকে শুদ্ধ করতে সাহায্য করে। এমনকী কলকাতার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। এক কথায়, কলকাতা শহরের প্রাকৃতিক এসি এবং ফিল্টার— দুটোই হলো এই জলাভূমি।

আজ আমরা যেভাবে সাজানো-গোছানো তথ্য দিয়ে এই জলাভূমিকে চিনি, একসময় কিন্তু তা ছিল না। ১৮৮০-এর দশক থেকে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও কৃষকরা তাঁদের বংশপরম্পরায় পাওয়া নিজস্ব পরিবেশগত জ্ঞান (Traditional Ecological Knowledge) দিয়ে এই জল শোধন ও চাষবাসের কাজটা করে আসছিলেন। তাঁরা কিন্তু কোনো বড় ডিগ্রিধারী ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন না, অথচ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার সবচেয়ে মোক্ষম কায়দাটা তাঁরাই জানতেন।

পরবর্তীতে ১৯৮০-এর দশকে কলকাতার এক কৃতি স্যানিটেশন ইঞ্জিনিয়ার ও পরিবেশবিদ ড. ধ্রুবজ্যোতি ঘোষ শহরের নোংরা জলের গতিপথ খুঁজতে গিয়ে প্রথম এই এলাকার বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব আবিষ্কার করেন। তিনিই প্রথম এই অঞ্চলের নাম দেন ‘ইস্ট কলকাতা ওয়েটল্যান্ডস’ বা ‘পূর্ব কলকাতা জলাভূমি’। তাঁরই একক লড়াই আর প্রচেষ্টায় এই অঞ্চল বিশ্ব দরবারে পরিচিতি পায় এবং রাষ্ট্রসংঘের তরফ থেকে তাঁকে সম্মানিত করা হয়।

পরবর্তীকালে ১৯৯২ সালে কলকাতার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের (PUBLIC) করা মামলার ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্ট এই জলাভূমি রক্ষার পক্ষে এক ঐতিহাসিক রায় দেয়, যা আজও ভারতে পরিবেশ রক্ষার ইতিহাসে এক মাইলফলক।

আন্তর্জাতিক স্তরে এত নামডাক থাকা সত্ত্বেও, পূর্ব কলকাতা জলাভূমি দিন দিন ছোট হয়ে আসছে। শহরের পরিধি যত বাড়ছে, ততই রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী আর প্রোমোটারদের নজর পড়ছে এই সস্তা জমির উপর। সল্টলেক বা নিউ টাউনের বিস্তারের চক্করে বেআইনিভাবে জলাভূমি ভরাট করে তৈরি হচ্ছে একের পর এক বহুতল ও আবাসন।

গত ৩০ বছরে এই জলাভূমির এক বিশাল অংশ চিরতরে হারিয়ে গিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কলকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য, প্লাস্টিক দূষণ এবং জলাশয়গুলিতে পলি জমে যাওয়ার মতো মারাত্মক সমস্যা। যদিও ২০০৬ সালে রাজ্য সরকার এই জলাভূমি সংরক্ষণের জন্য আইন এনেছে এবং একটি বিশেষ কমিটি (EKWMA) তৈরি করেছে, তবুও চোরাগোপ্তা জমি দখল আর ভরাট পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে দিচ্ছেন— প্রকৃতির দেওয়া এই সুরক্ষাকবচ যদি একবার ভেঙে পড়ে, তবে কলকাতার কপালে কিন্তু চরম দুঃখ আছে। একটু বৃষ্টি হলেই কলকাতা নিমেষের মধ্যে তাসের ঘরের মতো জলের তলায় চলে যাবে। বিপন্ন হবে শয়ে শয়ে প্রজাতির পরিযায়ী পাখি, মেছো বেড়াল, কচ্ছপ আর সাপের মতো জীববৈচিত্র্য। কাজ হারাবেন হাজার হাজার দরিদ্র মৎস্যজীবী ও কৃষক, আর টান পড়বে কলকাতার সস্তার মাছ ও সবজির বাজারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের এই চরম অনিশ্চয়তার যুগে পূর্ব কলকাতা জলাভূমি আমাদের চোখের সামনে থাকা এমন এক আদর্শ উদাহরণ, যা প্রমাণ করে যে প্রকৃতির বিরুদ্ধে গিয়ে নয়, বরং প্রকৃতির হাত ধরে চললেই মানবসভ্যতা সবচেয়ে সুরক্ষিত থাকতে পারে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জলবায়ু বদলেছে, নদীর প্রবাহ বদলেছে: ৩০ বছরের পুরনো ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তিতে কোন কোন পরিবর্তন দরকার?

A Flawed Pact of Farakka: ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ। বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ মনজুর এ চৌধুরীর মতে, চুক্তিটি 'ত্রুটিপূর্ণ', এতে নেই গ্যারান্টি ক্লজ, নেই পরিবেশগত প্রবাহের হিসাব, নেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিধান। তাঁর প্রস্তাব, তিন বছরের নতুন অন্তর্বর্তী চুক্তি হোক, তারপর নেপালকে যুক্ত করে তৈরি করা হোক ত্রিপাক্ষিক কাঠামো।

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

তেলের বদলে বিদ্যুৎ! আরব সাগরের তলায় ভারত-সৌদির ৯ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প

India Saudi Arabia submarine power link: আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত ২১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন বিদ্যুৎ সংযোগের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হচ্ছে, যার ক্ষমতা থাকবে ৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। প্রযুক্তি হিসাবে ব্যবহৃত হবে HVDC, এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার। আজ, ৫ অক্টোবর, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হবে প্রকল্পটির ব্যয় কমানো, অর্থায়ন মডেল ও ঝুঁকি ভাগাভাগি নিয়ে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতের ওয়ান সান ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান গ্রিড প্রকল্প ও জি-২০ তে প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এই প্রকল্পটিকে চিনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিকল্প হিসেবে দেখা যেতে পারে।

কয়লার দেশ হয়েও কেন বিদ্যুৎ সংকটে ভারত?

India's energy crisis 2026: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায়, ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক সময় জ্বালানিক্ষেত্রে ‘ঘাটতি নেই’ বললেও সেপ্টেম্বরে স্বীকার করলেন, জ্বালানির পরিস্থিতি বর্তমানে ‘টানটান’। ৭৬টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংকটজনক ভাবে মজুত করা কয়লায় চলছে। চলছে এলপিজির কালোবাজারি। ডিসকমগুলির বকেয়া জমে রয়েছে প্রায়, ৩,৩৩০ কোটি টাকা।

প্রকৃতির কোলে পিকনিক, শেষে প্লাস্টিকের পাহাড়: মানুষ কি সত্যিই প্রকৃতিকে ভালোবাসে?

Environmental Pollution: প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত দূষণ ছড়ানো কলকারখানা সিল করে দেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়তো নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতেই কি সমস্যার সমাধান মিলবে? কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত যানবাহনের দাপট এবং বৈদ্যুতিন বর্জ্য। শ্রমবিমুখ হয়ে সবকিছু প্রস্তুত পাওয়ার মানসিকতা এবং দেশে সংস্কারের লড়াই না করে সহজে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট। এই দায় এড়িয়ে কি সার্বিক সমাধান সম্ভব?

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।