৮ বছর ধরে কোনো অফিস নেই! বিশ্বজুড়ে সফল ব্যবসা গড়ে তুলেছেন বেঙ্গালুরুর এই তরুণ

Remote Work: সংকল্প সিনহা তাঁর ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে শেয়ার করেছেন যে, ২০১৮ সালে তিনি পুরোপুরি রিমোট ওয়ার্কের দুনিয়ায় পা রাখেন। তারপর থেকে আজ ২০২৬ সাল পর্যন্ত কেরিয়ারে তিনি আর কখনো পিছনে ফিরে তাকাননি।

inscript
৩ মিনিট
৮ বছর ধরে কোনো অফিস নেই! বিশ্বজুড়ে সফল ব্যবসা গড়ে তুলেছেন বেঙ্গালুরুর এই তরুণ

‘রিমোট ওয়ার্ক’ শব্দটার সঙ্গে আমরা সবাই কম-বেশি পরিচিত। এবং এই ‘রিমোট ওয়ার্ক’ অর্থাৎ বাড়ি বা অন্য যেকোনো জায়গা থেকে কাজ করার এই স্বাধীনতা কীভাবে একজন মানুষের গোটা জীবনকে বদলে দিতে পারে, তার এক দারুণ উদাহরণ তৈরি করেছেন বেঙ্গালুরুর এক তরুণ উদ্যোক্তা— সংকল্প সিনহা।

পেশায় প্রোডাক্ট ডিজাইনার থেকে সলোপ্রেনিউর (একাই ব্যবসা চালানো উদ্যোক্তা) হয়ে ওঠা সংকল্পের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট সম্প্রতি ইন্টারনেট দুনিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল। কারণ— গত ৮ বছর ধরে তাঁর কোনো স্থায়ী অফিস নেই, অথচ তিনি বিশ্বজুড়ে নিজের ব্যবসা বাড়িয়ে চলেছেন দারুণ গতিতে।

বেঙ্গালুরুর সেরা অফিস: কোনো চারদেওয়ালের ঘর নয়!

সিনহা তাঁর ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে শেয়ার করেছেন যে, ২০১৮ সালে তিনি পুরোপুরি রিমোট ওয়ার্কের দুনিয়ায় পা রাখেন। তারপর থেকে আজ ২০২৬ সাল পর্যন্ত কেরিয়ারে তিনি আর কখনো পিছনে ফিরে তাকাননি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এক বামহাতি সাংবাদিকের জেদে যেভাবে জন্ম নিয়েছিল ডট পেন

আজকের দিনে বলপয়েন্ট বা ডট পেন ব্যবহারের সময় এই সমস্যায় আমাদের খুব একটা পড়তে হয় না। কিন্তু গত শতাব্দীর তিরিশের দশকেও এই একটা যন্ত্রণায় দুনিয়ার সমস্ত লেখক, সাহিত্যিক আর সাংবাদিকদের রাতের ঘুম উড়ে যেত। ঠিক এই সাধারণ বিরক্তি থেকেই জন্ম নিয়েছিল ডট পেন।

বেঙ্গালুরুর ট্রাফিক জ্যাম আর চারদেওয়ালের অফিসের ধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সংকল্পের মত, এই শহরে সবচেয়ে সুন্দর অফিস হতে পারে সবুজ গাছপালায় ঘেরা কোনো সুন্দর আবাসন বা গেটেড কমিউনিটির লন। কোনো ঘেরাটোপের মধ্যে না থেকে প্রকৃতির মাঝে বসে কাজ করার এই সিদ্ধান্ত তাঁর সামনে এমন সব অভাবনীয় সুযোগের দরজা খুলে দিয়েছে, যা আগে ভাবাই যেত না।

ঘুরে বেড়ানোর সঙ্গে কাজ

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, অফিস না থাকলে কাজটা হয় কীভাবে? সংকল্প দেখিয়েছেন, রিমোট ওয়ার্কের আসল সুবিধাই হলো কাজ সচল রেখে দুনিয়া দেখার স্বাধীনতা।

২০১৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তিনি বিশ্বের প্রায় ৪০টি শহরে ঘুরে ঘুরে কাজ করেছেন। তবে তিনি শুধু সাধারণ পর্যটকদের মতো ঘুরতে যাননি। প্রতিটা শহরে তিনি গড়ে অন্তত তিন সপ্তাহ করে কাটিয়েছেন। এর ফলে খুব কাছ থেকে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মেশা, তাঁদের সংস্কৃতিকে জানা এবং সেই জায়গার দৈনন্দিন জীবনকে গভীরভাবে অনুভব করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাসের কন্ডাক্টর থেকে পদ্মশ্রী! ২০ লক্ষ বইয়ের লাইব্রেরি গড়ে ইতিহাস আঙ্কে গৌড়ার

কর্ণাটকের এক কৃষক পরিবারের ছেলে আঙ্কে গৌড়া বহু বছর ধরে বিভিন্ন কাজ করার পাশাপাশি বই সংগ্রহ করে গিয়েছেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল একটি বিনামূল্যের লাইব্রেরির। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তব রূপ নিয়েছে 'পুস্তক মানে' (Pustak Mane) নামক একটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহারযোগ্য লাইব্রেরিতে, যেখানে রয়েছে প্রায় ২০ লক্ষ বই। সেখানে এখন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ পাঠক থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, গবেষকদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়।

সংকল্প এখন আর পাঁচটা সাধারণ চাকরিজীবীর মতো নন। তিনি এখন একজন সলোপ্রেনিউর, অর্থাৎ একাই নিজের একাধিক ডিজিটাল প্রজেক্ট সামলাচ্ছেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলে তিনি তাঁর মোটা মাইনের ফুল-টাইম চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিজের স্টার্টআপগুলিতে পুরোপুরি মন দেন।

বর্তমানে ২০২৬ সালেও তিনি কোনো স্থায়ী অফিস ছাড়াই সম্পূর্ণ রিমোটলি নিজের সফটওয়্যার কোম্পানি গড়ে তুলছেন। তাঁর প্রধান প্রজেক্ট হলো NextDoor.Company (একটি স্টার্টআপ জব প্ল্যাটফর্ম)। এ ছাড়াও ReallyGood.CV এবং 3Goals.Today-এর মতো প্রজেক্টও তিনি একাই বিল্ড করছেন।

ব্যবসার দিক থেকেও তিনি দারুণ সফল। তাঁর প্ল্যাটফর্মটি ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ টাকার রেভিনিউ জেনারেট করছে এবং প্রতিদিন হাজার হাজার ভিজিটর সেখানে আসছেন। কিন্তু এই সফলতার নেপথ্যে কোনো বড় কর্পোরেট অফিস বা শত শত কর্মীর টিম নেই, আছে শুধু সংকল্পের একটি ল্যাপটপ আর ইন্টারনেট কানেকশন।

কাজের জন্য প্রতিনিয়ত ল্যাপটপ নিয়ে ক্যাফে বা নতুন নতুন দেশে ঘুরে বেড়ানো সংকল্প কিন্তু ঘরের সাধারণ মুহূর্তগুলিকেও সমানভাবে ভালোবাসেন। তিনি জানিয়েছেন, রিমোট ওয়ার্কের কারণে তিনি বাড়িতে নিজের মতো করে সময় কাটানোর সুযোগ পান। এখন তিনি প্রায়ই তাঁর বাড়ির পিছনের লনে বসে শান্তিতে কাজ করেন। আর সেখানে বসে কাজ করার সময় প্রতিবারই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ৮ বছর আগের সেই সাহসী সিদ্ধান্তের জন্য।

নিজের এই অসাধারণ জার্নির কথা মনে করে সংকল্প আবেগঘনভাবে লিখেছেন— একসময় একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা ২১ বছরের এক তরুণের পক্ষে এই সময়, স্বাধীনতা আর আর্থিক সাফল্য কল্পনা করাও সম্ভব ছিল না।

রিমোট ওয়ার্ক কি আসলেই সহজ?

সংকল্প একটি জরুরি বাস্তব সত্যও মনে করিয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, বাইরে থেকে জীবনটা যতটাই ‘সহজ’ বা ‘আরামের’ মনে হোক না কেন, রিমোট জব পাওয়া যতটা সহজ, তা বছরের পর বছর ধরে বজায় রাখা তার চেয়ে ১০ গুণ কঠিন। এর জন্য প্রয়োজন কড়া আত্মনিয়ন্ত্রণ, সঠিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার। রিমোট ওয়ার্ককে তিনি কোনো সাময়িক ব্যবস্থা বা ত্রুটি হিসেবে দেখেন না, বরং এটিকে কেরিয়ারের একটি দারুণ সুবিধা বলে মনে করেন।

নতুনদের উদ্দেশ্যে তাঁর পরামর্শ, যদি সুযোগ থাকে তবে অন্তত একটা বছর রিস্ক নিয়ে রিমোট ওয়ার্কের চেষ্টা করে দেখা উচিত। এটি মানুষের চিন্তাভাবনা আর জীবনযাত্রাকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কারও ফেরা হলো না মায়ের কোলে, কারও চোখের সামনেই চলে গেলেন মা, সপ্তমীর ভিড় কেড়ে নিল চেনা মুখগুলো

Kolkata Durga Puja stampede: যে শিশুটি বাবার হাত ধরে মণ্ডপ দেখতে চেয়েছিল, কিংবা যে তরুণ উৎসবের দিনেও শুধু মায়ের হাসিমুখ দেখতে ভিড়ে সামিল হয়েছিল—মুহূর্তের হুড়োহুড়িতে তাদের সব হিসাব ওলটপালট হয়ে গেল।

ভূমিকম্পে নদী শুকোল, গ্রাম ছাড়লেন কারিগররা: আজরাখপুর যেভাবে বাঁচিয়ে রাখল ৪০০ বছরের শিল্পকে

Ajrakh block printing: ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকেই শুকিয়ে যেতে থাকে সরন নদী। নিয়মিত বহমান জল ছাড়া কাপড়ে স্বাভাবিক রং ফোটানো কঠিন হয়ে পড়ায় গ্রামবাসীরা কূপ খনন করেছিল। নলকূপের জলে অতিরিক্ত মাত্রায় লোহা থাকার কারণে কাপড়ে রঙের কাঙ্ক্ষিত উজ্জ্বলতা আনা কঠিন হয়ে পড়েছিল। ফলে ফিকে হতে থাকে প্রাকৃতিক ও ভেষজ রঙের এই ঐতিহ্যবাহী আজরাখ শিল্প। জীবিকার সন্ধানে এক সময় গ্রামের বহু মানুষ ভিন্ন পেশা বেছে নিয়ে দেশের নানা প্রান্তে পাড়ি দিতে বাধ্য হন।

শাক্ত, শৈব ও বৈষ্ণব ধারার মেলবন্ধন: খড়দহে নিত্যানন্দের কাত্যায়নী পুজো

Khardaha Nityananda Prabhu Durga Puja: নিত্যানন্দের পূজিতা দেবী কাত্যায়নী দশভুজা। ঘোড়ামুখো সিংহ তাঁর বাহন। ত্রিশূল হাতে অসুরকে তিনি হত্যা করছেন। তাঁর ডানে জয়া ও বামে বিজয়া। জয়ার নিচে গণেশ আর বিজয়ার নিচে কার্তিকের অবস্থান।

কৈলাসী থেকে দশাবতারী, দুর্গার চালচিত্রে যেভাবে ধরা পড়ে বাংলার পুরাণ ও লোকবিশ্বাস

Durga Puja Chalchitra: প্রতিমার ঠিক পিছনে যে অর্ধবৃত্তাকার বা বিস্তৃত কাঠামো থাকে, তাকে বলা হয় চালি। আর তার উপর অঙ্কিত কাহিনিমূলক চিত্রই হলো চালচিত্র। তবে এই চালচিত্রকে শুধুমাত্র শৈল্পিক অলংকরণ হিসেবে দেখা যায় না, বরং বহু শতাব্দীর ধর্মীয় স্মৃতি, লোকবিশ্বাস, পুরাণকথা, সামাজিক কল্পনা ও নন্দনতাত্ত্বিক চেতনার এক জটিল ও সমৃদ্ধ ভাণ্ডার হলো এই চালচিত্র।

অথর ইজ ডেড, যে লেখে সে আমি নয় এআই?

Caine Prize winning story AI allegations: ১১ অক্টোবর লেখক ও সাংবাদিক ভোহিনি ভারা ‘দ্য আটলান্টিক’-এ একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেন—যার শিরোনাম ছিল “Yet Another Literary Prizewinner Seems to Be AI”। সেখানে তিনি জানান, ‘পাংগ্রাম’ নামের একটি এআই-ডিটেকশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে গল্পটি পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে এটি প্রায় পুরোটাই কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত।

জমিদারগিন্নির অপমানের জবাব দিতেই শুরু পাঞ্জা বাড়ির দুর্গাপুজো

Panja family Durga Puja: এক বর্ষামুখর দুর্গাষ্টমীর দিনে জমিদারবাড়ির মহিলারা, জমিদারগিন্নির সঙ্গে, বাড় সিউড়ির দুর্গাপ্রতিমা দর্শনে যান। ফেরার পথে কর্দমাক্ত রাস্তা পেরোনোর সময় দামি শাড়ি কাদা থেকে বাঁচাতে তাঁরা শাড়ির পাড় কিছুটা তুলে হাঁটছিলেন। কথিত আছে, তা দেখে পাড়ার কয়েকজন কটূক্তি করে বলেন— “পাঞ্জা বাড়ির বউ কাপড় উঠিয়ে চলছে!”

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।