ডি কোম্পানির সঙ্গে যোগ? নাকি আরিয়ানের পক্ষ নেওয়ার মাশুল গুণছেন নবাব মালিক?

Piya Saha
৩ মিনিট
ডি কোম্পানির সঙ্গে যোগ? নাকি আরিয়ানের পক্ষ নেওয়ার মাশুল গুণছেন নবাব মালিক?

টানা ৮ ঘণ্টার জেরার পরে গ্রেফতার করা হয়েছে মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা নবাব মালিককে। দাউদ ইব্রাহিমের পরিবারের সাথে বেআইনি লেনদেনের মামলায় তাঁকে আটক করেছেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট( ইডি)। নবাবের অভিযোগ তাঁকে ‘ মিথ্যা অভিযোগে’ ফাঁসানো হয়েছে। দফতর থেকে বের করে আনার সময় মালিক উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে জানিয়েছেন,” মাথা নত করব না। ভয় পাই না। লড়াই করব এবং জিতব। সত্যটা সকলের সামনে আনবো।“ এনসিপি এবং মহারাষ্ট্রের শাসক জোটেরও মত নবাবের গ্রেফতারি আদতে বিজেপির প্রতিহিংসার রাজনীতির ফল। কিন্তু কে এই নবাব মালিক? হঠাৎ কেন তাঁর বিরুদ্ধে কেন আদাজল খেয়ে নামল কেন্দ্র? বিশদে জেনে নেওয়া যাক তাঁর পরিচয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে ।

কে নবাব মালিক ?

মুম্বইয়ের অনুশক্তি নগর থেকে পাঁচবার বিধায়ক পদে নির্বাচিত হয়েছেন নবাব মালিক। ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির জাতীয় মুখপাত্র এবং বর্তমানে রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য। তিনি বর্তমানে মহারাষ্ট্রের সংখ্যালঘু উন্নয়ন,ওয়াকফ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা দফতরের মন্ত্রী। ১৯৫৯ সালে উত্তরপ্রদেশের ধুশওয়া গ্রামে জন্ম হয় নবাবের।খুবই সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠেন তিনি। ১৯৭০ সালে পরিবারের সাথে মুম্বই চলে আসেন এবং কুরলাতে ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র বেচা কেনার ব্যবসা শুরু করেন তিনি ও তাঁর বাবা। তাই অনেকে তাঁকে ‘কাগজওয়ালা’ বলেও ডাকেন।১৯৮৪ সালে প্রথম লোকসভা নির্বাচনে লড়েছিলেন কংগ্রেস নেতা প্রয়াত গুরুদাস কামাতের বিরুদ্ধে। ১৯৯২-৯৩ সালে দাঙ্গার সময় যোগ দেন সমাজবাদী পার্টিতে। বেশ কয়েকবার ভোটেও জেতেন সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী হিসেবে। তবে ২০০১ সালে দল থেকে বহিষ্কার করা হলে সে বছরই যোগ দেন এনসিপিতে। দলে যোগ দিয়েই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান মালিক। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে বিচারপতি পি বি সাওয়ান্তের কমিশন দুর্নীতির অভিযোগে ওঠায় ২০০৫ সালে মন্ত্রীত্ব পদ ছেড়ে দেন তিনি। এর তিন বছর পর ২০০৮ সালে অশোক চাভান পরিচালিত ক্যাবিনেটে শ্রমমন্ত্রীর পদ পেলেও ২০০৯ সালে কংগ্রেস-এনসিপি জমানায় বঞ্ছিত হন মালিক। ২০১৪ সালের নির্বাচনে মালিক ১,০০৭ ভোটে হেরে যান।

দাউদ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ কেন ?

ইডির আধিকারিকদের দাবি,নবাবের বেশকিছু লেনদেন থেকে মনে করা হচ্ছে তাঁর সাথে দাউদ ইব্রাহিম এবং তাঁর ভাই ইকবাল কাসকারের যোগাযোগ রয়েছে। এর স্বপক্ষে প্রমাণও রয়েছে মালিকের বিরুদ্ধে এমনই দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাঁরা আরও জানিয়েছেন, মালিক দাউদের বোন হাসিনা পারকারকে ৫৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। অবৈধ ভাবে একটি জমি নেওয়ার জন্যে এই ৫৫ লক্ষ টাকার ডিল হয়েছিল তাঁদের দুজনের মধ্যে।আদতে ওই জমির মালিক ছিলেন মুনিরা প্লামবার। ইডির অভিযোগ, হাসিনা পারকারকে টাকা দেওয়ার অর্থ দাউদকে সাহায্য করা।দাউদ সহযোগী ছোটা শাকিল,জাভেদ চিকনাদেরও টাকা পাঠিয়েছেন মালিক।

মুনিরা প্লামবার ও তাঁর মা সেই জমির দেখাশোনা করতে পারতেন না এমনকি তাঁরা জমির আশেপাশেও যেতে পারতেন না। আর সে সুযোগ কাজে লাগিয়েই নাকি নবাব মালিক ও হাসিনা পারকার অবৈধভাবে ওই জমির দখল নিয়েছেন। বর্তমানে ওই জমির দাম ৩০০ কোটি টাকা কিন্তু খুব সামান্য অর্থেই কিনে নিয়েছেন এই জমি। তদন্তের সূত্রে হাসিনা পারকারের বাড়িতেও হানা দেন ইডির আধিকারিকরা। অন্তত ১০ জায়গায় অভিযান চালিয়ে বুধবার শেষ বেলায় দাউদের ভাই ইকবাল কাসকরকেও গ্রেফতার করেছে ইডি।

ইডির আদাজল খেয়ে নামার কারণ কী?

মহারাষ্ট্রের দাপুটে নেতা মালিক রাজনৈতিক জীবনে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করে সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন। সম্প্রতি শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খানের মাদক মামলায় গ্রেফতারি নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। নারকোটিক্স কন্ট্রোল সংস্থার সিনিয়র অফিসার সমীর ওয়াংখেড়ের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দেগেছিলেন নবাব। তাঁর অভিযোগ ছিল বিজেপি চক্রান্ত করে আরিয়ানকে ফাঁসিয়েছে। নবাবের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে অবশেষে সরিয়ে দেওয়া হয় ওয়াংখেড়েকে। উল্লেখ্য, এর আগে মাদক মামলায় নবাব মালিকের জামাইকেও গ্রেফতার করেছিলেন সমীর ওয়াংখেড়ে। সমীরের ধর্ম নিয়েও মন্তব্য করেছিলেন নবাব।

শুধু মাদক মামলা নয় গতবছর রিপাবলিক টিভির টিআরপি বিতর্কেও তাঁর মন্তব্য আগুনে ঘি ঢেলেছিল। রিপাবলিক টিভির স্টিং অপারেশনে চ্যানেলের এডিটর- ইন- চিফের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ওঠে। স্টিং অপারেশনে দেখা গিয়েছিল, মালিক আন্দাজ করেছিলেন টিআরপি বিতর্কের জেরে অর্ণব গোস্বামী আত্মহত্যা করবেন। এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার বলেছেন,’নবারের গ্রেফতারি কেন্দ্রের ক্ষমতা অপব্যাবহারের উদাহরণ। মালিক সর্বসমক্ষে বিজেপির বিরুদ্ধে কথা বলেছে তাই তাঁকে আটক করেছে ইডি’।

মালিকের গ্রেফতারি উস্কে দিচ্ছে নব্বইয়ের দশকে ব্রিজভূষণ চরণ সিংয়ের দাউদ যোগসূত্রের কথা। সেসময় চরণ সিং ছিলেন সমাজবাদী পার্টির নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে তিনি নাকি দাউদের ডি কোম্পানির শুটারদের আশ্রয় দিতেন।সেই মামলায় কাল্পনাথ রাই, চরণ সিং এমনকি তাঁর সেক্রেটারিকেও আটক করা হয়। সমাজবাদী দল ত্যাগ করে একসময় বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। বাকিদের জেল হলেও উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের অভাবে আদালত তাঁকে বেকসুর খালাস বলে ঘোষণা করে। বর্তমানে তিনি বিজেপি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তবে মহারাষ্ট্র সরকার এখনই মালিককে মন্ত্রী পদ থেকে সরিয়ে দিতে নারাজ। এখন দেখার মালিকের পরিণতি শেষ পর্যন্ত কী হয়!

লিখেছেন
Piya Saha
Piya Saha
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশ্বমঞ্চ যেভাবে দেখছে ভারতের নির্বাচন কমিশনারকে

Global Spotlight on Gyanesh Kumar: ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে, জেন-জি আন্দোলন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে কভার হয়েছে। বিবিসি, রয়টার্স, গার্ডিয়ান, আল জাজিরা, ডিডাব্লিউ, এপি, নিউ ইয়র্ক টাইমস, আরএফআই, ফ্রান্স ২৪, ডন, সবাই জানিয়েছে, এসআইআরে ১৩ কোটি নাম বাদের কথা, ভারতের মুসলিম নাগরিকদের এসআইআরের মাধ্যমে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানোর কথা, রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী সাংসদরা বারবার আটকের কথা।

সিইসি-র পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, রাজধানীতে বিক্ষোভ শুরুর আগেই ৫০০ আটক, ৪০,০০০-এরও বেশি নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন

Delhi’s October 10 protest: যন্তর মন্তর ও কনট প্লেসের আশপাশ থেকে আন্দোলনকারীদের আটক করা হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ৫০০। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিও।

বিক্ষোভের আগেই কড়াকড়ি: দিল্লিতে ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ, দেশজুড়ে পুলিশি তৎপরতা

Cockroach Janata Party: এই বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা, ট্রেন বাতিল এবং ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যেই দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে খবর আসছে, বহু আন্দোলনকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, আটক করা হচ্ছে কিংবা বিক্ষোভে যোগ না দেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।

শুভেন্দুর নৌকোয় মুসলিম ভোট?

Nandigram, Rejinagar Bypolls: ভোটগণনার শেষে হাসিরানি রথ পেয়েছেন ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৪২৭টি ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের মিলন প্রধান পেয়েছেন ৪১ হাজার ৬৭৪টি ভোট। বামফ্রন্ট, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) এবং তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরাও অনেক পিছিয়ে রয়েছেন।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাভি পিল্লাই কেন পেলেন নোবেল শান্তি পুরস্কার?

Navi Pillay Nobel Peace Prize 2026: ১৯৪১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে এক দরিদ্র ভারতীয় তামিল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নাভি পিল্লাই। তাঁর ঠকুমা-ঠাকুরদা ১৮৯০-এর দশকে ভারত থেকে চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার নাতাল প্রদেশের চিনি বাগানে কাজ করতে এসেছিলেন।

আরশোলা কর্মী শেখ আব্দুল হাফিজকে বেআইনিভাবে আটক, কী ঘটেছিল?

Cockroach abdul Detained for Dissent: ৮ অক্টোবর, ২০২৬, কলকাতা পুলিশ বাঁকুড়ার সিজেপি কর্মী শেখ আব্দুল হাফিজ ও তাঁর দলকে আটক করে। অভিযোগ, পুলিশি হেফাজতে মারধর ও মহিলা সদস্যদের নিগ্রহের। ৯ ঘণ্টা থানায় আটকে রেখে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয়। ১০ অক্টোবরের যন্তর মন্তর সমাবেশ ঘিরে, ১০ হাজার কর্মী আটকের অভিযোগ করেছে সিজেপি। অগাস্ট মাসে সিজেপির 'স্কুল ঠিক করো' অভিযানের পর, আব্দুলের বাবার মৃত্যু হয়েছিল।

বিপাকে ভারতীয় কর্মীরা, গ্রিন কার্ডের আবেদন থেকে কেন বাদ টিসিএস, উইপ্রো- সহ ৮ তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা?

US Green Card Restrictions: মার্কিন প্রশাসনের দাবি, বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক সংস্থা এমন ব্যবস্থার সুযোগ নিয়েছে, যার ফলে আমেরিকার নাগরিকদের চাকরির সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও অভিবাসন ব্যবস্থার উপর নজরদারি আরও কঠোর করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ছ’বছর ধরে জেলবন্দি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রক্ষক সম্মান পেলেন উমর খালিদ

Umar Khalid Human Rights Award: এ বছর তাঁর সঙ্গে আরও চার জন মানবাধিকারকর্মী এই সম্মান পেয়েছেন। তাঁরা হলেন ইরানের মৃত্যুদণ্ড-বিরোধী আন্দোলনকর্মী আহমদরেজা হায়েরি, অ্যাঙ্গোলার গণতন্ত্রকর্মী লরিন্ডা ম্যানুয়েল গুভেইয়া, ব্রাজিলের ব্ল্যাক ট্রান্স নারী ও অধিকারকর্মী আদ্দা ভিক্টোরিয়া কায়েতানো এবং সার্বিয়ার শান্তি ও নারীবাদী আন্দোলনের কর্মী লিলিয়ানা নেশিচ।