মোদির স্বপ্নের লোকসভা ভবনে শৌচাগারের হাল ভয়াবহ! এ কী বলছেন জয়া?
Parliament Washroom Problem: সমস্ত আধুনিক সুবিধায় মোড়া সেই সংসদ ভবনে নাকি শৌচাগার খারাপ। লোকসভার শীতকালীন অধিবেশনের হইহইয়ের ভিড়ে এমনটাই অভিযোগ করে বসলেন সমাজবাদী পার্টি নেত্রী জয়া বচ্চন।

শীতকালীন অধিবেশন জুড়ে লোকসভা তোলপাড়। কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের সাংসদ পদ খোয়ানো থেকে শুরু করে একের পর এক বিরোধী সাংসদের বরখাস্ত হয়ে যাওয়া। সংসদ ইতিমধ্যেই প্রায় বিরোধীশূন্য। এরই মধ্যে আবার সংসদে হলুদ ধোঁয়ার ক্যানেস্টার হাতে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে দুই হামলাকারী। এত সব ঘটনার ঘনঘটার মধ্যেই মোদির স্বপ্নের লোকসভা ভবনের শৌচাগারের বেহাল দশা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বসলেন সমাজবাদী পার্টির তারকা-নেত্রী জয়া বচ্চন।
খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। পুরনো লোকসভা ভবন থেকে অধিবেশন গিয়ে উঠেছে মোদির স্বপ্নের নিউ পার্লামেন্ট ভবনে। বাস্তুশাস্ত্র মেনে তৈরি সেই লোকসভা ভবনের নাম দিয়েছেন মোদি সংবিধান ভবন। সমস্ত আধুনিক সুবিধায় মোড়া সেই সংসদ ভবনে নাকি শৌচাগার খারাপ। লোকসভার শীতকালীন অধিবেশনের হইহইয়ের ভিড়ে এমনটাই অভিযোগ করে বসলেন সমাজবাদী পার্টি নেত্রী জয়া বচ্চন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Opposition MPs suspended from Lok Sabha and Rajya Sabha: মঙ্গলবার সাসপেন্ড হওয়া সাংসদদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেস নেতা শশী থারুর, মণীশ তিওয়ারি, কার্তি চিদাম্বরম, এনসিপি-র সুপ্রিয়া সুলে, সমাজবাদী পার্টির ডিম্পল যাদব, ন্যাশনাল কনফারেন্সের ফারুক আবদুল্লা-সহ আরও অনেকেই।
গত তিনদিনে ১৪১ জন বিরোধী সাংসদকে বরখাস্ত করা হয়েছে শীতকালীন অধিবেশন থেকে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল বিরোধী সব ক'টি দল। সেই ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যসভা থেকে ওয়াক আউট করার আগে নেত্রী জানিয়েছেন, নতুন এই লোকসভা ভবনের শৌচাগারের অবস্থাও ভয়ানক। শুধু কি তাই, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড় তাঁকে বলতে দেননি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
জয়া বচ্চনের অভিযোগ, সকাল থেকে কথা বলার চেষ্টা করেছেন তিনি। তাঁদের ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে বলা হয়েছে কার্যত। প্রতি পাঁচ মিনিট অন্তর অন্তর জল খাওয়া ও শৌচাগারে যাওয়ার জন্য বিরতি নিয়েছেন তারা। যাতে অধিবেশন রাত এগারোটা পর্যন্ত চলে। এরপরেই অভিযোগ তোলেন সমাজবাদী পার্টির নেত্রী যে শৌচাগারের অবস্থা ভয়াবহ নতুন সংসদ ভবনের।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Parliament Security Breach: প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, দুপুর একটা নাগাদ অধিবেশন চলাকালীন হঠাৎ করেই পাবলিক গ্যালারির দিক দিয়ে লাফ দেয় দুই অনুপ্রবেশকারী।
জয়া আরও জানান, কেন্দ্র চেষ্টা করছে, বিরোধীদের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা না করেই বিল পাশ করে দিতে। তার জন্যই এই ভাবে গণবরখাস্তের ঢেউ বলে মনে করছেন জয়া। এতসব নাটক কীসের জন্য, প্রশ্ন তুলেছেন নেত্রী। বরাবরই স্পষ্ট কথা স্পষ্ট ভাবে বলতে পছন্দ করেন জয়া। এদিনও চেনা ছন্দেই দেখা মিলছে অভিনেত্রীর।

লোকসভার এই গণবরখাস্তের ঘটনা আদতে গণতন্ত্রের হত্যা বলেই দাবি করেছেন বিরোধীরা। সংসদে হামলার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্যের দাবি করেছিলেন বিরোধীরা। পাশাপাশি এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার দাবিও জানিয়েছিলেন বিরোধী সাংসদেরা। আর এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলেই বরখাস্ত করা হচ্ছে একের পর এক বিরোধী সাংসদকে।
তবে জয়া নিজে এখনও পর্যন্ত চেয়ারটি বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছেন শীতকালীন অধিবেশনে। তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন, শিবসেনা নেত্রী ও প্রিয়ঙ্কা চতুর্বেদী- এই তিন মহিলা সাংসদই এখনও টিকে রয়েছেন। এদিকে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ধনখড় আবার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে অভিযোগ জানিয়েছেন, সিঁড়িতে বসে তাঁকে উপহাস করেছেন বরখাস্ত হওয়া কয়েকজন সাংসদ। আর তাতে তিনি আহত। তবে শিবসেনা নেত্রী প্রিয়ঙ্কা জানান, তাঁরাও এই গোটা ঘটনায় আহত। রাজ্যসভার চেয়ারম্যানও সাংসদদের কষ্টের দিকেও নজর দেবেন বলে তিনি আশাবাদী। সব মিলিয়ে শীতকালীন অধিবেশন জুড়ে নাটকীয় ঘটনার ঘনঘটা যেন শেষই হচ্ছে না। আর যে কটা দিন বাকি রয়েছে অধিবেশনের, তাতে আর কী কী ঘটে, সেদিকেই চোখ থাকবে গোটা দেশের।






