লোকসভায় গেরুয়া-রাজ! কেন গত তিনদিনে বরখাস্ত ১৪১ বিরোধী সাংসদ?

Opposition MPs suspended from Lok Sabha and Rajya Sabha: মঙ্গলবার সাসপেন্ড হওয়া সাংসদদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেস নেতা শশী থারুর, মণীশ তিওয়ারি, কার্তি চিদাম্বরম, এনসিপি-র সুপ্রিয়া সুলে, সমাজবাদী পার্টির ডিম্পল যাদব, ন্যাশনাল কনফারেন্সের ফারুক আবদুল্লা-সহ আরও অনেকেই।

Sohini Das
৩ মিনিট
লোকসভায় গেরুয়া-রাজ! কেন গত তিনদিনে বরখাস্ত ১৪১ বিরোধী সাংসদ?

মহুয়া মৈত্রকে বহিষ্কার, সংসদ ভবনে হামলা- এ বছর লোকসভার শীতকালীন অধিবেশন ঘিরে ঘটনার ঘনঘটা যেন চলছেই। এরই মধ্যে ফের নতুন করে ৪৯ জন সাংসদকে বরখাস্ত করা হল লোকসভার এই অধিবেশন থেকে। সব মিলিয়ে গত দু'দিনে বিরোধী দলের মোট ১৪১ জন সাংসদ সাসপেন্ড। অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে, লোকসভায় এই মুহূর্তে বিজেপি ছাড়া আর কেউ নেই।

'বিরোধীকে বলতে দাও!' এমন কথা যে গানেই মানায় খালি, তা কার্যত স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে ২০২৩ সালের শীতকালীন অধিবেশন থেকে। বিরোধী মতই গণতন্ত্রের মূল কথা। তবে এ দেশে যে গণতন্ত্র বিশেষ জায়গা পাচ্ছে না, তা পরিষ্কার করে দিয়েছে শীতকালীন অধিবেশনের এই ছবিটাই। গত দুদিনে একের পর এক বিরোধী সাংসদকে বরখাস্ত করেই চলেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদীর 'সুরক্ষিত' লোকসভায় ঢুকে পড়ল হানাদার! কী তাদের পরিচয়?

Parliament Security Breach: প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, দুপুর একটা নাগাদ অধিবেশন চলাকালীন হঠাৎ করেই পাবলিক গ্যালারির দিক দিয়ে লাফ দেয় দুই অনুপ্রবেশকারী।

সংসদের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখা ও বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য দাবি করে গত কয়েকদিন ধরেই সংসদের দু-কক্ষেই দাবি জানিয়ে আসছেন বিরোধী সাংসদেরা। আর তার জন্যই একের পর এক বিরোধী সাংসদদের সাসপেন্ড করা হচ্ছে লোকসভায়। দেখতে দেখতে লোকসভার শীতকালীন অধিবেশন থেকে ছিটকে গিয়েছেন মোট ১৪১ জন বিরোধী নেতা। অধিবেশনের বাকি সময়ে আর সংসদে হাজির থাকতে পারবেন না তাঁরা।

মঙ্গলবার সাসপেন্ড হওয়া সাংসদদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেস নেতা শশী থারুর, মণীশ তিওয়ারি, কার্তি চিদাম্বরম, এনসিপি-র সুপ্রিয়া সুলে, সমাজবাদী পার্টির ডিম্পল যাদব, ন্যাশনাল কনফারেন্সের ফারুক আবদুল্লা-সহ আরও অনেকেই। সোমবারও একই ইস্যুতে লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে ৭৮ জন সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়। গত শুক্রবার সাসপেন্ড হন লোকসভার ১৪ জন ও রাজ্যসভার একজন সাংসদ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লোকসভা থেকে বহিষ্কৃত মহুয়া মৈত্র! কেন একটি কথাও বলতে দেওয়া হলো না সাংসদকে?

Mahua Moitra expelled from Lok Sabha : এথিক্স কমিটির প্রতিবেদনকে শিরোধার্য করেই, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই বহিষ্কার করা হয় মহুয়া মৈত্রকে।

মোটামুটি ভাবে বিরোধীশূন্য হয়েই গিয়েছে সংসদ। বিরোধীদের দাবি, লোকসভাকেও গৈরিকীকরণের চেষ্টা করছে বিজেপি। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা মিডিয়া ইনচার্জ জয়রাম রমেশের মতো অনেকেরই দাবি, কোনও বিতর্ক ছাড়াই যাতে সমস্ত বিল পাশ করিয়ে নেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই সংসদের দুই কক্ষের “সম্পূর্ণ শুদ্ধিকরণ” করছে মোদী সরকার। সম্প্রতি লোকসভায় গ্যাসের ক্যানেস্টার নিয়ে হামলা চালায় দুই যুবক। সেই ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল মাইসুরুর বিজেপি বিধায়ক প্রতাপ সিমহার নাম। তাঁর নামে ভিজিটর কার্ড সংগ্রহ করেই লোকসভায় ঢুকেছিল অভিযুক্তরা।

স্বাভাবিক ভাবেই সেই ঘটনার পরে বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন বিরোধীরা। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যও দাবি করেছেন তাঁরা। আর সেখানেই ঘটেছে বিপত্তি। সূত্রের খবর, চলতি অধিবেশনেই নয়া ফৌজদারি বিল পাশ করাতে চায় মোদি সরকার। আর সে কারণেই কি একের পর পর বিরোধী সাংসদদের বরখাস্তের সিদ্ধান্ত। বিরোধীদের দাবি, বিরোধীশূন্য সংসদেও ওই বিল কোনও রকম বাধা ছাড়া পাশ করাতে চায় কেন্দ্র সরকার। যতদূর জানা যাচ্ছে, সম্ভবত বুধবারই ওই বিল পেশ করা হতে পারে। বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ছাড়া এই বিল পাশ না করানোর দাবিতে সরব।

আর সেই বিল পেশ ও পাশ করতে যাতে বিন্দুমাত্র বাধার মুখে না পড়তে হয় বিজেপি সরকারকে, তার জন্যই উদ্দেশ্য প্রণদিত ভাবে লোকসভাকে বিরোধীশূন্য করার চেষ্টা করে চলেছে গেরুয়া শিবির। আর যাতে মদত দিয়ে চলেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। আর বিরোধীরা এক নৈরাজ্য ও ফ্যাসিবাদের চরম জায়গা বলেই মনে করছে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের মতে, ‘নয়া সংসদে ‘নমোতন্ত্রের’ দাঁত-নখ দেখা যাচ্ছে। মহুয়ার বহিষ্কার ঘিরে এমনিতেই তেঁতে ছিল বিরোধী শিবির। তার পরে একের পর বিরোধী সাংসদকে এইভাবে বরখাস্ত করার ঘটনা ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই সেই আগুনে ঘি পড়েছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।