মোদীর 'সুরক্ষিত' লোকসভায় ঢুকে পড়ল হানাদার! কী তাদের পরিচয়?

Parliament Security Breach: প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, দুপুর একটা নাগাদ অধিবেশন চলাকালীন হঠাৎ করেই পাবলিক গ্যালারির দিক দিয়ে লাফ দেয় দুই অনুপ্রবেশকারী।

Sohini Das
৩ মিনিট
মোদীর 'সুরক্ষিত' লোকসভায়  ঢুকে পড়ল হানাদার! কী তাদের পরিচয়?

লোকসভা অধিবেশনের দ্বিতীয় সপ্তাহ শুরু হতে না হতে ফের বিপত্তি। এবার লোকসভার নিরাপত্তাবলয় ভেঙে একেবারে সাংসদের ভিতরে ঢুকে পড়ল দুই আততায়ী। গ্যালারি থেকে সোজা ঝাঁপ দেয় সাংসদদের দিকে। তাদের হাতে ভারী কোনও জিনিস ছিল বলে অভিযোগ। যেখান থেকে রঙিন ধোঁয়া বেরোচ্ছিল। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনা ঘিরে হইচই পড়ে যায় সংসদ চত্বরে। এ বছরের শীতকালীন অধিবেশন যেন গোড়া থেকেই ঘটন-অঘটনে ভরা। মহুয়া মৈত্রকে বহিষ্কারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অধিবেশনের প্রথম সপ্তাহে কম বিতর্ক হয়নি। তার পরে এই নিরাপত্তা ভেঙে লোকসভায় হামলা।

সঙ্গে সঙ্গেই অবশ্য ওই দুই ব্যক্তিকে ধরে ফেলেন সাংসদেরা। ওই দুই যুবককে ধরে মার্গ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ওই দুই যুবকের হাতে ধরা বস্তু থেকে বেরোতে থাকা গ্যাস ছড়ানোর ঘটনায় হইচই পড়ে যায়। অনেকেই ভেবেছিলেন, কোনও রকম বিষাক্ত গ্যাস হতে পারে সেটি। অবশ্য পরে জানা যায়, তেমন কিছুই। ক্যানেস্টার থেকে সাদামাটা ধোঁয়াই বেরোচ্ছেল খালি। বিষাক্ত গ্যাসের কোনও সম্পর্ক নেই তার সঙ্গে। ২০০১ সালে এই দিনেই ঘটেছিল সংসদ হামলার ঘটনা। সেই দিনেই ফের লোকসভায় এমন হামলার ঘটনা ঘিরে বেশ উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে হামলাকারীদের কয়েক জনের পরিচয়। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, তাদের মধ্যে সাগর শর্মা বলে একজনকে শনাক্ত করা গিয়েছে। যতদূর জানা গিয়েছে মাইসুরুর বিজেপি সাংসদ প্রতাপ সিমহার নামে লোকসভার ভিজিটর পাস নিয়ে এসেছিলেন দুই আততায়ী। আরও একজন অনুপ্রবেশকারীও মাইসুরুর বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। মনোরঞ্জন ডি নামে ওই ব্যক্তি পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। তাঁর কাছেও প্রতাপ সিমাহার ভিজিটর পাস ছিল বলে খবর।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লোকসভা থেকে বহিষ্কৃত মহুয়া মৈত্র! কেন একটি কথাও বলতে দেওয়া হলো না সাংসদকে?

Mahua Moitra expelled from Lok Sabha : এথিক্স কমিটির প্রতিবেদনকে শিরোধার্য করেই, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই বহিষ্কার করা হয় মহুয়া মৈত্রকে।

সাধারণ ভাবে কেউ সংসদে ঢুকতে চাইলে তাঁকে প্রথমে তাঁর নির্বাচনী এলাকার সাংসদের নামে একটি ভিজিটর কার্ড ইস্যু করতে হয়। সাংসদের নামে পাস ইস্যু হওয়ার পরে লোকসভার মধ্যে ঢোকার জন্য় বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরোতে হয় তাঁদের। সেখানে নিরাপত্তা পরীক্ষার পর দর্শনার্থীদের পরিচয়পত্র প্রমাণ খতিয়ে দেখা হয়। এখানেই শেষ নয়। সংসদের ঢোকার মুখেও নিরাপত্তা রক্ষী ও ইলেকট্রনিক মেশিনেও কয়েক দফা নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় তাঁকে। এত রকম নিরাপত্তা সত্ত্বেও কীভাবে ওই দুজন অনুপ্রবেশকারী গ্যাসের ক্যানেস্টার নিয়ে লোকসভার মধ্যে ঢুকল, স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়ে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
২০২৪ এর লোকসভা ভোটে মোটেও ৩৩% সংরক্ষণ পাবেন না মহিলারা! কেন?

Women's Reservation Bill 2023 : ১৯৭৬ সাল থেকে নিম্নকক্ষের আসন সংখ্যা ৫৪৩-তেই আটকে রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, দুপুর একটা নাগাদ অধিবেশন চলাকালীন হঠাৎ করেই পাবলিক গ্যালারির দিক দিয়ে দুই অনুপ্রবেশকারী লাফ দেয়। 'তানাশাহি নহি চলেগি' (স্বৈরাচার চলবে না) বলে স্লোগানও দিতে শোনা গিয়েছে তাঁকে। শুধু সংসদের ভিতরে নয়, রঙিন ধোয়া ছেড়ে সংসদের বাইরেও প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দেখায় আরও এক মহিলা-সহ ২ অনুপ্রবেশকারী। তাদেরওকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

২০০১ সালের এই দিনেই সংসদে ভয়ঙ্কর হামলার সাক্ষী ছিল গোটা দেশ। যে ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল অন্তত ৯ জনের। সেই ঘটনার ২২তম বার্ষিকীতে ফের সংসদের নিরাপত্তার এ হেন লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগে পড়েছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। উত্তেজনা ছড়িয়েছে সাংসদদের মধ্যেও। পরে অবশ্য তিনি বিবৃতি দিয়ে জানান যে অনুপ্রবেশকারীদের আটক করা হয়েছে। তাছাড়া যে রঙিন ধোঁয়া দেখে আতঙ্কিত হয়েছিলেন সাংসদেরা, তা বিষাক্ত নয় বলেও জানান তিনি।

এদিকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে মাইসুরুর বিজেপি বিধায়ক প্রতাপ সিমহার নাম। অভিযুক্তদের ভিজিটর পাসটি যে প্রতাপ সিমারের অফিস থেকেই ছাড়া হয়েছিল, সে ব্যাপারটি নিশ্চিত করেছেন বিএসপি সাংসদ দানিশ আলি। বিজেপির খাস নেতা বলে বরাবরই সুনাম রয়েছে প্রতাপের। ২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে মাইসুরুর কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হন প্রতাপ। মাইসুরু লোকসভায় যা আজও রেকর্ড। দুটি ভোটেই ৫ লক্ষেরও বেশি ভোটে জিতে গিয়েছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার সদস্য নিযুক্ত করা হয় প্রতাপকে। হিন্দুত্বের কঠোর প্রচারক হিসেবে পরিচিত প্রতাপ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়েছেন। এবার সেই বিতর্কের তালিকায় জড়াল লোকসভায় অশান্তি তৈরির ঘটনাও। তবে এই ঘটনার সঙ্গে তার যোগ কতটা, এ বিষয়ে এখনও মুখ খুলতে দেখা যায়নি বিজেপি সাংসদকে। বুধবারের এই ঘটনার পর স্বাভাবিক ভাবেই মুলতুবি হয়ে যায় এদিনের অধিবেশন। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। কী কারণে এই হামলা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এর সঙ্গে বিজেপি সাংসদ প্রতাপ সিমহার যোগ কতখানি, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বাম বসন্ত ফিরবে বার্লিনে? শতাব্দীর সংগ্রাম শেষে আবার নতুন ভোর

Left-Wing Resurgence in Hitler’s Berlin: হিটলারের বার্লিনে ফিরছে বামপন্থা। তরুণরা সংক্রমিত। ইতিহাসের এই বিদ্রূপ আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে শতাব্দীপ্রাচীন দুঃস্বপ্নের নগরীতে।

চশমা যখন টেকসঙ্গী, কীভাবে কাজ করে এআই গ্লাস?

Meta AI Glasses: চশমা ব্যক্তিগত এআই সহকারী। চোখের ইশারা ও মৌখিক নির্দেশে কল, ছবি তোলা, ভিডিও রেকর্ডিং থেকে গুগল সার্চ—সবই যখন সম্ভব, তখন এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে? আর ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও এআই-নির্ভর এই চশমা আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কতটা সুরক্ষিত রাখবে?

টাকার বিনিময়ে বিজেপি-র প্রচার করেছেন সায়ক! আর আইনি জালে জড়ালেন অলিপাবের নিরীহ কর্মী

Sayak Chakraborty Olypub controversy: নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, পাঁচটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনে বিজেপির কেন্দ্রীয় দফতরের মোট খরচ ছিল ৫২৯.৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই খরচ হয়েছে প্রায় ২৮৬ কোটি টাকা। সেই প্রচারের একটি অংশ ছিল সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল কনটেন্ট।

SRFTI: কীভাবে অনুষ্ঠান থেকে পরিস্থিতি গড়াল সংঘর্ষে?

SRFTI Clash: SRFTI-তে ডানপন্থী সংগঠনের অনুষ্ঠান ঘিরে কেন আপত্তি জানালেন পড়ুয়ারা? বক্তৃতায় কী বলা হয়েছিল, যা নিয়ে তৈরি হয় উত্তেজনা? কীভাবে অনুষ্ঠান থেকে পরিস্থিতি গড়াল সংঘর্ষে? পড়ুয়া ও আয়োজকদের পাল্টা অভিযোগের মধ্যে আসল ঘটনা কী?

যে নির্বাচন কমিশনার ভোট চুরি আটকেছিলেন

Election reforms of T. N. Seshan: ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন কমিশনারের চেয়ারে বসেছিলেন যে ব্যক্তি, সেই টি. এন. শেষন বলেছিলেন, 'আমাকে এই পদে বসাবেন না, আমি আপনাদের অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়াব।'

ছদ্ম-বিরোধী তৈরিই কি তবে ভারতের রাজনীতিতে ক্ষমতার নতুন কৌশল?

Indian opposition politics: বিরোধীদের সরাসরি নিষিদ্ধ না করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চাপ, আইনি ফাঁকফোকর এবং সুপরিকল্পিত দল ভাঙার মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে অনুগত ‘ছদ্ম-বিরোধী’।

EXCLUSIVE: কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে ভোট না-করানো তৃণমূলের বড় ভুল, নিজেদের ভুল নিয়েও আলোচনার দরকার ছিল: কুণাল

Kunal Ghosh on Mamata Banerjee: ইনস্ক্রিপ্টে ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে তিনি একদিকে যেমন দাবি করেছেন মমতাকে ভয় পেয়েই তাঁকে বারবার নিশানা করা হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে দলের ভুলত্রুটি স্বীকার করে আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।