নিউ মার্কেটের হোটেলে আগুনে ৯ মৃত্যু, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, শুরু রাজনৈতিক চাপানউতোর

Kolkata New Town hotel fire: প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগে থাকতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে অন্য কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।

Sangita Ghorai
৫ মিনিট
নিউ মার্কেটের হোটেলে আগুনে ৯ মৃত্যু, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, শুরু রাজনৈতিক চাপানউতোর

তখন রাত প্রায় দুটো। শহর কলকাতা ঘুমোচ্ছে। ঘুমোচ্ছিল শিখা ইন হোটেলের অতিথিরাও। কেউ চিকিৎসার জন্য, কেউ আবার ভ্রমণ-পিপাসায় ঠাঁই নিয়েছেন নিউ মার্কেটের ১৫, মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে। হঠাৎ চিৎকার চেঁচামেচিতে ঘুম ভাঙে তাঁদের। মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শহরজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। একই ভবনে একাধিক হোটেল, অত্যন্ত সংকীর্ণ রাস্তা, পর্যাপ্ত জরুরি নির্গমন পথের অভাব এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও হোটেলে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্যেও উঠে এসেছে চরম দুর্ভোগ এবং উদ্ধারকাজের সময়কার আতঙ্কের ছবি।

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে শিখা ইন হোটেলে আগুন লাগার পর বুধবার ভোরে একের পর এক দেহ উদ্ধার হয়। মৃতদের মধ্যে ছ’জন পুরুষ, দু’জন মহিলা এবং এক শিশু রয়েছে। ঘটনায় নিউ মার্কেট থানায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং দমকল আইনের ধারায় মামলা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার অপরাধ কুনাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, আগুন লাগার আগে শিখা হোটেলে মোট ১০ জন আবাসিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ন’জনের মৃত্যু হয়েছে এবং একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। হোটেলে মোট ন’টি ঘর ছিল। চারটি ঘর থেকে ন’টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে বিহারের বাসিন্দা সন্দীপ পাসোয়ান এবং শিলিগুড়ির বাসিন্দা যোগনারায়ণ আগরওয়াল রয়েছেন। বাকি মৃতেরা বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আক্রম আলি, দেবাশিস দত্ত, আফসানা শরমিন, স্বর্ণাশিষ দত্ত এবং বাবু আহমেদ। পাঁচজনের দেহ পাসপোর্ট দেখে শনাক্ত করা হয়েছে। আরও দু’জনের দেহ শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া চলছে।

প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগে থাকতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে অন্য কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।

১৫, মির্জা গালিব স্ট্রিটের সেই আবাসন (চিত্রঋণ: দ্য হিন্দু)

ঘটনার পর থেকেই অগ্নিকাণ্ডকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বর্তমান সরকার এই ঘটনার জন্য পূর্বতন সরকারের আমলের অব্যবস্থা এবং অগ্নিসুরক্ষা বিধি না মানার অভিযোগ তুলেছে। পাল্টা প্রাক্তন পুরমন্ত্রী তথা প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দাবি, দায় চাপিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। অগ্নিসুরক্ষা সংক্রান্ত নিয়ম মানা হয়েছিল কি না এবং প্রয়োজনীয় অডিট হয়েছিল কি না, তা দেখার দায়িত্ব দমকল দফতরের বলেও দাবি করেছেন তিনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'অভিযোগ জানানোর আগেই গ্রেফতার কেন?', আব্দুলের বাবার মৃত্যু নিয়ে পরিবারের প্রশ্ন

Sheikh Mohammad Mafiq: দিল্লির আন্দোলনে যোগ দেওয়াই কি আব্দুল হাফিজের পরিবারের উপর হামলার কারণ? গ্রামের প্রাথমিক স্কুলের বেহাল দশা নিয়ে প্রশ্ন তোলার জন্যই কি তাঁর পরিবারকে রাজনৈতিক রোষের মুখে পড়তে হয়েছিল? হামলায় তাঁর বাবা শেখ মহম্মদ মাফিকের মৃত্যুর অভিযোগের নেপথ্যে আসলে কারা? কী কী অভিযোগ পরিবারের?

ওই একই আবাসনে একাধিক হোটেল চলছিল বলে জানা গিয়েছে। আগুনের সঙ্গে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ঘন ধোঁয়া। রাতের সময় অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। দমকলের তরফে উদ্ধারকাজ শুরু হয় দ্রুত। জানালা ভেঙে মইয়ের সাহায্যে বহু মানুষকে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু আগুনের ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং তাঁদের চিকিৎসা চলছে।

দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, পাঁচতলা আবাসনটির প্রতিটি তলেই চার থেকে পাঁচটি করে হোটেল ছিল। অধিকাংশ ঘরেই জানালা ছিল না বলেও তিনি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, একটি ঘর থেকে জানালার মাধ্যমে দমকলকর্মীরা দু'জনকে উদ্ধার করেন।

অগ্নিকাণ্ডের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে আবাসনটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। প্রত্যক্ষদর্শী এবং হোটেলে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট ইমার্জেন্সি এক্সিট ছিল না। সরু গলি এবং সংকীর্ণ বেরোনোর পথের কারণে আগুন লাগার পর দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ থেকে ব্যবসার কাজে কলকাতায় আসা এমডি উজ্জ্বল নামে এক ব্যক্তি ওই আবাসনেই শিখা ইন হোটেলের পাশের অদ্রিজা গেস্ট হাউসে ছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগুন লাগার পর ধোঁয়া এবং প্রচণ্ড উত্তাপের কারণে তিনি ঘর থেকে বেরোতে পারেননি। বাধ্য হয়ে ঘরে ফিরে গিয়ে এসি বন্ধ করেন। এসির জালি এবং বাথরুমের ভেন্টিলেশন খুলে দিয়ে কিছুটা বাতাস পাওয়ার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি ঘরে জলও প্রস্তুত করে রাখেন।

নিউ টাউনের সেই আবাসনের সামনে তদন্তে পুলিশ (চিত্রঋণ: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া)

পরে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির শব্দ শুনে কিছুটা আশ্বস্ত হন তাঁরা। প্রায় আধ ঘণ্টা পরে দমকলকর্মীরা তাঁদের ঘর থেকে উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসেন। তাঁর দাবি, হোটেলে কোনো ইমার্জেন্সি এক্সিট ছিল না। আতঙ্কের পর তিনি বর্তমানে অন্য একটি হোটেলে রয়েছেন। শুক্রবার দেশে ফেরার কথা থাকলেও ঘটনার পর পরিবারের চিন্তার কারণে সেই পরিকল্পনা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঘটনার সময় ওই ভবনের একটি অ্যাডভোকেটস চেম্বারে থাকা শুভঙ্কর বাগ জানান, রাত প্রায় দুটো পনেরো নাগাদ তাঁর ঘুম ভাঙে। তখন অফিসের ভিতর ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছিল এবং বাইরে চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। বারান্দায় এসে তিনি নিচে দমকলের গাড়ি দেখতে পান। এরপর সহকর্মীকে নিয়ে গেট খুলে নিচে নেমে আসেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
‘দিমাগি নকশাল’ থেকে ‘ঘুসপেটিয়া’: মোদি যেভাবে অপরিকরণ করেন

From ‘Dimagi Naxal’ to ‘Ghuspethiya’: মোদীর ভাষণে ‘দিমাগি নকশাল’ বা ‘ঘুসপেটিয়া’-র মতো শব্দের ব্যবহার কীভাবে রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি করে?

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরে জানতে পারেন ওই ভবনে আট থেকে নয়টি হোটেল ছিল। উদ্ধারকাজের সময় তিনি জানালা এবং ছাদ থেকে বহু মানুষকে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে দেখেছেন। দমকলকর্মীরা তাঁদের উদ্ধার করে নিচে নামান। শুভঙ্করের দাবি, প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

ঘটনাস্থলে থাকা নীলাদ্রি ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তাঁর দু'জন কর্মী সেখানে ছিলেন। রাত পৌনে দুটো নাগাদ তিনি আগুনের খবর পান। ভিডিও কলে তিনি দেখতে পান তৃতীয় তলা থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দমকল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে এবং মই দিয়ে বহু মানুষকে উদ্ধার করা হয়। দমকলের কাজের প্রশংসা করলেও একই সঙ্গে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, দমকলের সদর দফতর থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের দূরত্বে এই ধরনের হোটেলগুলি কীভাবে এত বছর ধরে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছাড়াই চলছিল।

নীলাদ্রির বক্তব্য, শুধু দুর্ঘটনার পরে দমকলের ভালো কাজের প্রশংসা করলেই হবে না। দুর্ঘটনার আগে এই ভবনগুলিতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিকঠাক ছিল কি না, সেটিও নিয়মিত খতিয়ে দেখা প্রয়োজন ছিল।

একই সঙ্গে পূর্বতন সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বর্তমান সরকারের দায় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পূর্বতন সরকারের অবশ্যই দায় থাকতে পারে। কিন্তু বর্তমান সরকারও কয়েক মাস ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। তাই এখন প্রশ্ন হল, এতদিনে কেন এই ধরনের বেআইনি বা অনিরাপদ হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?

ঘটনার পর রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সরাসরি পূর্বতন পুর প্রশাসনের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তাঁর প্রশ্ন, ট্রেড লাইসেন্স কে দিয়েছিল এবং হোটেল চালানোর অনুমতি কীভাবে দেওয়া হয়েছিল?

মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেছেন, একটি এসির অনুমতি নিয়ে সেখানে প্রায় ১০টি এসি চালানো হতো। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সংযোগ কীভাবে দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। ফায়ার লাইসেন্স এবং ট্রেড লাইসেন্স ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সরকারি স্কুলে জল নেই, শিক্ষক নেই, পরিকাঠামো নেই, তবু বিকশিত ভারত!

School thik koro movement: স্বাধীনতার ৮০তম বছরে জাতীয় স্তরের বিতর্কগুলিতে গ্রামীণ সরকারি স্কুলগুলির জীর্ণ পরিকাঠামোর ছবি উঠে আসছে। ককরোচ জনতা পার্টির 'স্কুল ঠিক করো' আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় বাঁকুড়ার সংখ্যালঘু স্বেচ্ছাসেবকের ও তাঁর বাবার (পরে মৃত্যু হয়) উপর স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা হামলা করেছেন, বলে অভিযোগ উঠেছে। লক্ষ্ণৌতে শিক্ষার্থী-বিক্ষোভ গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থার এক গভীর সংকটকে তুলে ধরছে। একে ঔপনিবেশিক শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে স্বাধীন ভারতে দ্বিতীয় স্বাধীনতার লড়াইও বলা যেতে পারে।

আহুন জ্বলছে শিখা ইন হোটেলে (চিত্রঋণ: দ্য পায়োনিয়ার)

দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরীও পূর্বতন সরকারের আমলের পুর প্রশাসনের দিকে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, কীভাবে এই ভবনে ট্রেড লাইসেন্স এবং হোটেল চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হবে। ঘটনায় কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

অগ্নিকাণ্ড নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বছরের পর বছর কলকাতা তথা রাজ্যে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই পরিকাঠামো গড়ে উঠেছে। অগ্নিসুরক্ষা সংক্রান্ত নিয়ম উপেক্ষা করে বিভিন্ন আবাসনে হোটেল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, পূর্বতন সরকারের অবহেলার ফলেই এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই ক্ষত মেরামতের চেষ্টা করছে এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বর্তমান সরকারের অভিযোগের জবাব দিয়েছেন প্রাক্তন পুরমন্ত্রী তথা প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তাঁর বক্তব্য, একজন মেয়রের পক্ষে প্রতিটি আবাসনের অগ্নিসুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয় নিজে যাচাই করা সম্ভব নয়।

ফিরহাদের দাবি, কোনো ভবনে ফায়ার লাইসেন্স ছিল কি না, অগ্নিসুরক্ষা অডিট হয়েছিল কি না, তা দেখার দায়িত্ব দমকল দফতরের। ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত বিষয়ও আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি।

দায় ঠেলাঠেলি না করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা দরকার বলেও মন্তব্য করেছেন প্রাক্তন মেয়র। তাঁর মতে, এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। স্টিফেন কোর্ট থেকে আমরি হাসপাতাল এবং দেশের অন্যান্য জায়গায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে স্থায়ী ব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন।

ফিরহাদের প্রস্তাব, দমকল দফতরের উচিত প্রতি বছর তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে অগ্নিসুরক্ষা অডিট করানো। সরকারি দফতরের সীমিত লোকবলের কারণে প্রতিটি আবাসন নিয়মিত পরীক্ষা করা কঠিন। তাই স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে নিয়মিত অডিট করানো হলে সমস্যা অনেকটাই চিহ্নিত করা সম্ভব বলে তাঁর দাবি।

এই অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন বলে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মহম্মদ খালেদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, মৃতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশের নাগরিক। তাঁদের মধ্যে চারজন কুষ্টিয়ার বাসিন্দা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে সাংবাদিক দেবাশিস দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শিম্মিন এবং তাঁদের তিন বছরের সন্তান স্বর্ণাশিস দত্ত রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বেঙ্গালুরু যাওয়ার পর মঙ্গলবার কলকাতায় এসেছিলেন তাঁরা।

কলকাতার এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন দুর্গতদের সহায়তা করছে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এই অগ্নিকাণ্ডের পর প্রশ্ন শুধু একটি হোটেলের নিরাপত্তা নিয়ে নয়। একই আবাসনে একাধিক হোটেল চালানোর অনুমতি কীভাবে দেওয়া হয়েছিল, অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, নিয়মিত অডিট হয়েছিল কি না, জরুরি নির্গমন পথ কেন ছিল না এবং পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কেন দেখা গেল না, সেসব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

দমকলের সদর দফতরের এত কাছে থাকা একটি আবাসনে যদি অগ্নিসুরক্ষার এত ঘাটতি থেকে থাকে, তাহলে কলকাতার অন্যান্য ঘিঞ্জি এলাকায় থাকা হোটেল ও বাণিজ্যিক আবাসনগুলির নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

লিখেছেন
Sangita Ghorai
Sangita Ghorai
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নাৎসি জার্মানি থেকে FTII–SRFTI: ফিল্ম স্কুল কেন ক্ষমতার চোখে এত গুরুত্বপূর্ণ?

History of Film school's against Fasicsm: ১৯৩৩ সালে নাৎসিরা ভাঙচুর করেছিল বার্লিনের ফিল্ম স্কুল টনফিল্মশুলে। ১৯৩৫ সালে মুসোলিনি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে এনেছিলেন ইতালির ফিল্ম স্কুল সিএসসি। ২০১৫ সালে ভারতে পুনের এফটিআইআইতে মোদী সরকারের নিয়োগ বিষয়ক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৩৯ দিনের ধর্মঘট হয়েছিল। ২০২৬-এ কলকাতার এসআরএফটিআইতে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ইট-পাথরের হামলা সেই ইতিহাসকেই পুনরাবৃত্ত করল। হামলার পদ্ধতি বদলেছে, কিন্তু ফ্যাসিবাদের উদ্দেশ্য আজও একই, স্বাধীন সাংস্কৃতিক চর্চাকে নিয়ন্ত্রণ করা। যদিও ইতিহাস বলে, ফিল্ম স্কুল কেবল একটি ভবন নয়, একটি ধারণা, একটি মতাদর্শিক বলয়।

জেলের ৭১৬ দিন: কী পড়তেন, কী ভাবতেন, কীভাবে লড়তেন ভগৎ সিং?

Bhagat Singh jail life: জেলখানায় ভগৎ সিংয়ের সবচেয়ে বড় সঙ্গী ছিল বই। দ্বারকাদাস লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান শাস্ত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলের ভিতর বই পাচার করতেন। এই ৭১৬ দিনে তিনি প্রায় ৩০০-র বেশি বই পড়েছেন ভগৎ সিংহ।

বাম বসন্ত ফিরবে বার্লিনে? শতাব্দীর সংগ্রাম শেষে আবার নতুন ভোর

Left-Wing Resurgence in Hitler’s Berlin: হিটলারের বার্লিনে ফিরছে বামপন্থা। তরুণরা সংক্রমিত। ইতিহাসের এই বিদ্রূপ আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে শতাব্দীপ্রাচীন দুঃস্বপ্নের নগরীতে।

চশমা যখন টেকসঙ্গী, কীভাবে কাজ করে এআই গ্লাস?

Meta AI Glasses: চশমা ব্যক্তিগত এআই সহকারী। চোখের ইশারা ও মৌখিক নির্দেশে কল, ছবি তোলা, ভিডিও রেকর্ডিং থেকে গুগল সার্চ—সবই যখন সম্ভব, তখন এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে? আর ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও এআই-নির্ভর এই চশমা আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কতটা সুরক্ষিত রাখবে?

টাকার বিনিময়ে বিজেপি-র প্রচার করেছেন সায়ক! আর আইনি জালে জড়ালেন অলিপাবের নিরীহ কর্মী

Sayak Chakraborty Olypub controversy: নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, পাঁচটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনে বিজেপির কেন্দ্রীয় দফতরের মোট খরচ ছিল ৫২৯.৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই খরচ হয়েছে প্রায় ২৮৬ কোটি টাকা। সেই প্রচারের একটি অংশ ছিল সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল কনটেন্ট।

SRFTI: কীভাবে অনুষ্ঠান থেকে পরিস্থিতি গড়াল সংঘর্ষে?

SRFTI Clash: SRFTI-তে ডানপন্থী সংগঠনের অনুষ্ঠান ঘিরে কেন আপত্তি জানালেন পড়ুয়ারা? বক্তৃতায় কী বলা হয়েছিল, যা নিয়ে তৈরি হয় উত্তেজনা? কীভাবে অনুষ্ঠান থেকে পরিস্থিতি গড়াল সংঘর্ষে? পড়ুয়া ও আয়োজকদের পাল্টা অভিযোগের মধ্যে আসল ঘটনা কী?

যে নির্বাচন কমিশনার ভোট চুরি আটকেছিলেন

Election reforms of T. N. Seshan: ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন কমিশনারের চেয়ারে বসেছিলেন যে ব্যক্তি, সেই টি. এন. শেষন বলেছিলেন, 'আমাকে এই পদে বসাবেন না, আমি আপনাদের অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়াব।'

তৃণমূল থেকে এনসিপি, দল ভাঙে, প্রতীক বদলায়, রাজনীতি কোনদিকে যায়?

Indian opposition politics: বিরোধীদের সরাসরি নিষিদ্ধ না করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চাপ, আইনি ফাঁকফোকর এবং সুপরিকল্পিত দল ভাঙার মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে অনুগত ‘ছদ্ম-বিরোধী’।