সারদার নাগপাশ থেকে আংশিক মুক্ত কুণাল, কোন কারণে এখনও জেলে সুদীপ্ত সেন?

tiasa gupta
৪ মিনিট
সারদার নাগপাশ থেকে আংশিক মুক্ত কুণাল, কোন কারণে এখনও জেলে সুদীপ্ত সেন?

জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ঘরের ছেলের মতো ঘরে ফিরে এসে সরব হয়েছেন কুণাল ঘোষ। বারবার তৃণমূলের হয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁকে সুর চড়াতে দেখা গেছে। তিনি দলের মুখপাত্র। দলের হয়ে কথা বলবেন, সেটাই তো স্বাভাবিক। একটু বেশিই আওয়াজ তুলেছেন, তাতেই কি খুশি হয়েছেন দিদি? সে যাই-ই হোক, তিনি সারদা মামলায় বড় স্বস্তি পেলেন এটা ঠিক, তবে নিন্দুকরা বলছেন, এ তাঁর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডর পুরস্কার নয় তো? রাজনীতিবিদরা বলে থাকেন, আইন তার নিজের পথে চলে। এক্ষেত্রে তার ব‍্যতিক্রম হয়েছে, একথা ধরে নেওয়ার মতো অখণ্ড যুক্তি এখনই হাতের নাগালে নেই। তবে চর্চাও চলবে আপন গতিতে।

সারদার প্রথম গ্রেপ্তারি মামলা থেকে অভিযোগমুক্ত হলেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। এমপি-এমএলএ কোর্টের বিচারক মনোজ্যোতি ভট্টাচার্য তাঁকে অভিযোগমুক্ত বলে ঘোষণা করলেন। একই সঙ্গে সারদাকাণ্ডে প্রথম গ্রেপ্তারি মামলায় সুদীপ্ত সেন, দেবযানী মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দত্তকেও অভিযোগমুক্ত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। সাজার একটা নির্দিষ্ট মেয়াদ আছে। আর সেই মেয়াদ পার করে জেলে রয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন সারদা-কর্তা সুদীপ্ত। ৬ এপ্রিল সেই আবেদনে সাড়া দেন বিচারক। এবং তাঁকে জেল হেফাজত থেকে মুক্তি দেন। এদিনও আদালত তাঁকে অভিযোগমুক্ত ঘোষণা করেছে। তাও তাঁর ঠিকানা শ্রীঘর।

কুণালের গ্রেপ্তারি ও চ্যালেঞ্জ

সারদার যে মামলায় ২০১৩ সালের ২৩ নভেম্বর প্রথম গ্রেপ্তার হন, সেই মামলাকে চ্যালেঞ্জ করে কোর্টে গিয়েছিলেন কুণাল। এমপি-এমএলএ কোর্টে শুনানি চলছিল এযাবৎ। কুণালের আইনজীবী অয়ন চক্রবর্তী বলেন, "অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অকারণে আমার মক্কেলকে হয়রান করা হয়েছে।" আদালতেও এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বিচারক মনোজ্যোতি ভট্টাচার্য এই দিন কুণালকে অভিযোগমুক্ত ঘোষণা করেন। শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে এই মামলায় সুদীপ্ত সেন, দেবযানী মুখোপাধ্যায় ও সোমনাথ দত্তকেও অভিযোগমুক্ত ঘোষণা করেন তিনি।

দলের একাংশর বিরুদ্ধে তোপ

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মেয়াদ শেষ, তবু কেন আজও জেলের ভিতর সুদীপ্ত সেন

Sudipta Sen Chit Fund Scam: মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই ২,৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে সারদা। একাধিক ফিল্মস্টার, সরকারের বড় বড় ইভেন্ট, দুর্গাপুজো, এই সমস্ত কিছুর মাধ্যমে জাল বিস্তার শুরু করেছিল সারদা গ্রুপ।

সারদা গোষ্ঠীর মিডিয়া কর্মীদের বেতন এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড-সংক্রান্ত মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। এতে কুণালকেই প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়। সরকারি আইনজীবীও স্বীকার করেন, যেভাবে কুণালকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তাতে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ২০১৩-'১৪ সালে জমা দেওয়া চার্জশিটে তেমন কিছু নেই। এই দিন বিচারক বলেন, "শুধু কুণাল নন, অভিযুক্ত সকলকেই ডিসচার্জড ঘোষণা করছি।"

এই দিন অভিযোগমুক্ত হয়েই আদালতের বাইরে দাঁড়িয়ে দলের একাংশের বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক অভিযোগ করেন কুণাল। নাম না করে তিনি বলেন, "যাঁরা আমার গ্রেপ্তারের পিছনে ছিলেন, তাঁদের চিনি। তাঁরাও আমাকে চেনেন। দু'তিন জন ভুল বোঝানোর কাজ করেছিলেন। ব্যক্তিগত রাগ মেটাতে ভুল গল্প তৈরি করেছেন। গ্রেপ্তারের দিন দলের কেউ সাহায্য করেনি। আমার লড়াই আমার মতো লড়ে নেব।"

সুদীপ্ত কেন শ্রীঘরে

আর্থিক প্রতারণার মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছর জেল। কিন্তু ইতিমধ্যেই ন'বছর জেল হেফাজতে রয়েছেন সুদীপ্ত। কেন মুক্তির আবেদন করছেন না? সুদীপ্ত বলেন, ‘‘আমার পাশে আর কেউ নেই। আমার টাকা নেই। কোনও উকিল নেই। আমার হয়ে আবেদন করবেন কে?’’ আসলে যত দূর জানা গেছে, সুদীপ্ত সেনের নামে বিভিন্ন আদালতে প্রায় শতাধিক মামলা রয়েছে। তাই কোনও একটি মামলাতে তিনি রেহাই পেলেও, আসলে তাঁর স্বস্তি নেই। অন্য কোনও মামলায় তাঁকে বন্দি থাকতে হয়েছে।

২০১৩ সালের ২৩ এপ্রিল সারদা-কাণ্ডে কাশ্মীর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল সুদীপ্তকে। তাঁর বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশ বিভিন্ন জেলায় প্রায় ১৯৪টি মামলা রুজু করে। পরে তদন্তভার হাতে নিয়ে সুদীপ্তর বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের করে সিবিআই। পাশাপাশি, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং সেবি-ও সুদীপ্তর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে। সিবিআইয়ের তিনটি মামলায় সুদীপ্তর জামিন হয়েছে। রাজ্য পুলিশের অধিকাংশ মামলাতেও তিনি জামিন পেয়েছেন। তবে আর্থিক অবস্থার কারণে বেশিরভাগ মামলাতেই ‘বেল বন্ড’ জমা দেননি সুদীপ্ত।

শীর্ণকায় চেহারা। পায়ে শতশ্ছিদ্র হাওয়াই চটি। কাঁচাপাকা, প্রায় এক ফুট লম্বা দাড়ি। মুখের চামড়া কুঁচকে গিয়েছে। মাথায় বেশ কয়েক মাস না-কাটা চুল। বারবার টিভি ক‍্যামেরায় জেল থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় এরকম ছবি ধরা পড়ে তাঁর। এক সময়ে বিলাসবহুল জীবনে অভ্যস্ত সুদীপ্ত সেনের আজ ভিখিরির দশা। সব সম্পত্তি খুইয়েছেন। বেল বন্ড দেওয়ার টাকা তাঁর নেই। নেই আইনজীবী রাখার টাকা। আদালতে দাঁড়িয়ে তাঁকে নিজের জামিনের আবেদনও করতে দেখা গেছে।

সুদীপ্তর হয়ে আগে মামলা-লড়া আইনজীবী বিপ্লব গোস্বামী বলেন, ‘‘বিভিন্ন আদালতে মামলা রয়েছে। সব সময় উনি আমাদের খবর দেন না। সিবিআইয়ের মামলায় জামিনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সুদীপ্ত এখন আর কোনও মামলায় জামিনের বিষয়ে উৎসাহী নন। কোনও কথাই বলতে চান না। আমরাই জোর করে জামিনের আবেদন করে থাকি।’’

বারবার নানা মহলে এই প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়েছে, কুণাল বুক ফুলিয়ে রাজনীতির অলিন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, আর মেয়াদ শেষের পরেও হাজতবাস সুদীপ্তর, কেন?

এর উত্তর খুঁজতে গেলে প্রথমেই বলা দরকার, দুটো মামলা ধারে ও ভারে আলাদা। সারদা গোষ্ঠীর মিডিয়া কর্মীদের বেতন এবং প্রভিডেন্ট-সংক্রান্ত মামলায় জড়িয়েছিলেন কুণাল। আর সুদীপ্তর মাথায় আর্থিক প্রতারণা-সংক্রান্ত একাধিক মামলার খাঁড়া ঝুলছিল। কোনও কোনও মামলায় তিনি জামিন পেলেও একদিকে সব খুইয়ে তাঁর বেল বন্ড দেওয়ার ক্ষমতা হয়নি। তার ওপর বহু মামলার খাঁড়া এখনও তাঁর মাথায়। সুদীপ্ত সেন কবে বন্দি-মুক্তির স্বাদ পাবেন, কে জানে!

লিখেছেন
tiasa gupta
tiasa gupta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।