এবার ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ চালাতে টাকা! যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

মেটার সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর খুব স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এরপর কী হবে? এই ব্যবস্থা যে শুরু হলো, এরপর কি ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষকেও সাবস্ক্রাইব করেই এই অ্যাপগুলি ব্যবহার করতে হতে পারে?

inscript
৩ মিনিট
এবার ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ চালাতে টাকা! যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া আমাদের একটা দিনও কাটানোর কথা ভাবতে পারেন? না, নিশ্চয়ই। সকালে ঘুম থেকে উঠে ফেসবুক স্ক্রোল করা, বন্ধুদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট করা কিংবা ইনস্টাগ্রামে রিলস দেখা—সবই আমাদের রোজকার অভ্যেস। আর এই সব পরিষেবা আমরা এতদিন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করে এসেছি। কিন্তু এবার সেই চেনা নিয়মে বড়সড় বদল আনল মার্ক জাকারবার্গের সংস্থা মেটা (Meta)।

মেটা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে, এবার থেকে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের সব সুবিধা আর বিনামূল্যে মিলবে না। এই তিন জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মের প্রিমিয়াম বা বিশেষ ফিচারগুলি ব্যবহার করতে গেলে এবার গ্রাহকদের পকেটের কড়ি খরচ করতে হবে। মেটার প্রোডাক্ট হেড নাওমি গ্লাইট (Naomi Gleit) সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে এই নতুন পেইড সাবস্ক্রিপশন প্ল্যানের কথা জানিয়েছেন।

মেটার এই সিদ্ধান্ত যেমন বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে, তেমনই এর পিছনে লুকিয়ে থাকা প্রযুক্তি ও মানুষের মনস্তত্ত্বের এক গভীর লড়াই সামনে এনেছে।

মেটা মূলত তিনটি নতুন প্রিমিয়াম সংস্করণ বাজারে এনেছে—ফেসবুক প্লাস (Facebook Plus), ইনস্টাগ্রাম প্লাস (Instagram Plus) এবং হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস (WhatsApp Plus)। গ্লোবাল রেট অনুযায়ী এর খরচ হবে:

  • ফেসবুক প্লাস ও ইনস্টাগ্রাম প্লাস: এই দুটি প্ল্যাটফর্মের প্রিমিয়াম ফিচার ব্যবহার করতে মাসে খরচ হবে ৩.৯৯ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকার কাছাকাছি।

  • হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস: এর মাসিক খরচ রাখা হয়েছে একটু কম, ২.৯৯ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২৫০ থেকে ২৬০ টাকার মতো।

(উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে এই রোলআউট শুরু হলেও ভারতে এর সুনির্দিষ্ট লোকাল প্রাইস বা আঞ্চলিক দাম পরে ঘোষণা করা হবে। তবে তা এই ডলার রেটের আশেপাশেই থাকবে।)

মূল অ্যাপ কি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? কী থাকছে ‘ফ্রি’ আর কীসে লাগবে টাকা?

মেটার এই ঘোষণার পর সাধারণ ব্যবহারকারীদের মনে সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে তা হলো—তাহলে কি এবার থেকে ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করলেই টাকা লাগবে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
খুলল ইউএফও ফাইল: ভিনগ্রহীদের নিয়ে নতুন তথ্য সামনে

মহাকাশে কি সত্যিই ভিনগ্রহের প্রাণীরা ঘুরে বেড়ায়? এলিয়েনদের তৈরি কোনো অত্যাধুনিক যান কি গোপনে নজর রাখছে পৃথিবীর বুকে? এই রহস্য বহু বছরের পুরনো। তবে সম্প্রতি এই চর্চা আবার নতুন করে তুঙ্গে উঠেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (Department of Defense, যা বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনে ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ নামে পরিচিত) বেশ কিছু গোপন ফাইল সাধারণ মানুষের জন্য সামনে এনেছে।

উত্তর হলো—না, আপাতত নয়। মেটা কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার জানিয়েছে, বর্তমানে আমরা যে সাধারণ বা বেসিক অ্যাপগুলি ব্যবহার করছি, সেগুলি আগের মতোই ১০০% ফ্রি বা বিনামূল্যে থাকবে। সাধারণ চ্যাটিং, ছবি পোস্ট করা বা ভিডিও দেখায় কোনো টাকা লাগবে না। যারা নিজেদের প্রোফাইলকে আরও আকর্ষণীয় করতে চান এবং কিছু বাড়তি অ্যাডভান্সড টুল ব্যবহার করতে চান, কেবল তাদের জন্যই এই ‘প্লাস’ সাবস্ক্রিপশন।

টাকা দিলে কী কী বাড়তি সুবিধা বা ফিচার পাওয়া যাবে?

গ্রাহকরা কেন টাকা দিয়ে এই ‘প্লাস’ সংস্করণগুলি কিনবেন, তার জন্য বেশ কিছু দারুণ ফিচারের কথা জানিয়েছে মেটা।

ফেসবুক প্লাস এবং ইনস্টাগ্রাম প্লাস-এর ফিচার:

  • অ্যাডভান্সড অ্যানালিটিক্স: আপনার পোস্ট কতজন দেখছেন, কারা দেখছেন—তার বিস্তারিত হিসাব বা ইনসাইটস পাওয়া যাবে। এমনকী আপনার স্টোরি কে কতবার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছেন (Rewatch Count), তা-ও জানা যাবে।

  • অদৃশ্য হয়ে স্টোরি দেখা: আপনি অন্যের স্টোরি বা রিলস দেখে নিতে পারবেন, অথচ তাঁর ভিউয়ার লিস্টে আপনার নাম উঠবে না (Invisible Story Preview)।

  • লংগার স্টোরি: স্টোরি বা রিলস ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে প্রোফাইলে সাজিয়ে রাখা যাবে।

  • বেশি মানুষের কাছে পৌঁছনো (Wider Reach): প্লাস ইউজারদের পোস্ট বা রিলস মেটা নিজে থেকেই বেশি সংখ্যক দর্শকের কাছে পৌঁছে দেবে।

  • প্রোফাইল কাস্টমাইজেশন: প্রোফাইলকে নিজের মতো করে সুন্দর করে সাজানোর জন্য বাড়তি থিম, পিন এবং অ্যানিমেটেড রিয়্যাকশন বা সুপার রিয়্যাকশন পাওয়া যাবে।

হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস-এর ফিচার:

হোয়াটসঅ্যাপ প্লাসের ক্ষেত্রে মেটা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত পছন্দের উপর বেশি জোর দিয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লেনদেন ফ্রি! কী ভাবে রোজগার করে ফোনপে, পেটিএম?

UPI business model: আমরা সাধারণ গ্রাহকরা যখন একে অপরকে টাকা পাঠাই, সেখানে কোম্পানিগুলোর আয় নামমাত্র। কিন্তু আসল খেলা শুরু হয় যখন আপনি কোনো দোকানদার বা মার্চেন্টকে পেমেন্ট করেন।

  • প্রিমিয়াম স্টিকার: সাধারণ চ্যাটের বাইরে একগুচ্ছ এক্সক্লুসিভ বা বিশেষ স্টিকার মিলবে।

  • কাস্টম অ্যাপ থিম: হোয়াটসঅ্যাপের ভিতরের রঙ ও ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পূর্ণ নিজের মতো করে বদলে নেওয়া যাবে।

  • স্পেশাল রিংটোন: পছন্দের চ্যাটের জন্য বিশেষ কিছু রিংটোন ব্যবহারের সুবিধা থাকবে।

  • বেশি চ্যাট পিন করা: জরুরি চ্যাটগুলি স্ক্রিনের উপরের দিকে পিন (Pin) করে রাখার সংখ্যা আরও বাড়ানো যাবে।

ভবিষ্যতে আসছে ‘মেটা ওয়ান’ (Meta One) এবং এআই সাবস্ক্রিপশন

মেটা এখানেই থেমে থাকছে না। আগামী দিনে তারা সমস্ত পেইড সাবস্ক্রিপশনকে ‘মেটা ওয়ান’ (Meta One) নামক একটি ছাতার নিচে নিয়ে আসতে চলেছে। এর অধীনে আরও কিছু বড় প্ল্যান আসছে:

  • মেটা এআই (Meta AI) সাবস্ক্রিপশন: ২০২৬ সালের জুন মাস থেকে এর পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এতে দুটি ভাগ থাকবে—মেটা ওয়ান প্লাস (মাসে $৭.৯৯) এবং মেটা ওয়ান প্রিমিয়াম (মাসে $১৯.৯৯)। এর মাধ্যমে অনেক বেশি শক্তিশালী কৃত্রিম মেধা ব্যবহার করে জটিল কাজ করা, বড় কনটেন্ট বা উন্নত মানের ছবি ও ভিডিও তৈরি করা যাবে।

  • ক্রিয়েটর ও বিজনেসের জন্য স্পেশাল প্ল্যান: ব্যবসায়ী ও বড় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য ‘মেটা ওয়ান এসেনশিয়াল’ (মাসে প্রায় $১৪.৯৯) এবং ‘মেটা ওয়ান অ্যাডভান্সড’ (মাসে প্রায় $৪৯.৯৯) প্ল্যান আনা হচ্ছে। এর মধ্যে থাকবে ভেরিফাইড ব্যাজ, প্রোফাইল হ্যাকিং বা নকল অ্যাকাউন্ট থেকে সুরক্ষা, সরাসরি কাস্টমার সাপোর্ট এবং সার্চ রেজাল্টে সবার উপরে থাকার সুবিধা। (বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, মরক্কো ও সৌদি আরবে এর পরীক্ষা চলছে)।

কেন হঠাৎ এই পেইড মডেলের পথে হাঁটল মেটা?

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মেটা এতকাল মূলত বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভর করে ব্যবসা চালাত। কিন্তু বর্তমানে মেটা কৃত্রিম মেধা বা AI প্রযুক্তির পরিকাঠামো, যেমন—বিশাল বিশাল ডেটা সেন্টার ও পাওয়ারফুল জিপিইউ (GPU) তৈরিতে বিপুল টাকা বিনিয়োগ করছে। শুধুমাত্র ২০২৬ সালেই মেটার এই খরচের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২,৫০০ থেকে ১৪,৫০০ কোটি ডলার। এই বিশাল খরচের বোঝা টানতেই এবং বিজ্ঞাপনের উপর থেকে একক নির্ভরতা কমাতে মেটা এই ‘ফ্রি + প্রিমিয়াম’ ব্যবসার মডেল বেছে নিয়েছে। আর মেটার এই সিদ্ধান্তের পর শেয়ার বাজারে তাদের শেয়ারের দাম প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে।

মেটার এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর খুব স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এরপর কী হবে? এই ব্যবস্থা যে শুরু হলো, এরপর কি ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষকেও সাবস্ক্রাইব করেই এই অ্যাপগুলি ব্যবহার করতে হতে পারে?

বিজ্ঞান গবেষক সঙ্গীতা ধাড়া ইনস্ক্রিপ্টকে বলেন,

এই সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলির ভিতরের অ্যালগরিদম এমনভাবে ডিজাইন বা তৈরি করা হয়, যা নিখুঁতভাবে মানুষের মনস্তত্ত্ব এবং আচরণের ধরন (Behaviour Pattern) পরীক্ষা করে। আমরা কখন হাসছি, কোন পোস্টে বেশি সময় থমকে দাঁড়াচ্ছি, কোন ধরনের রিল আমাদের দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে ধরে রাখছে—তার সমস্ত ডেটা এই কৃত্রিম মেধার কাছে থাকে। এই তথ্যের উপর ভিত্তি করেই আমাদের ফিডে একের পর এক কনটেন্ট পাঠানো হয়, যা মানুষকে অবচেতনভাবেই এক গভীর আসক্তির (Addiction) দিকে ঠেলে দেয়।

বিজ্ঞান বলছে, স্ক্রিন স্ক্রোল করার এই নেশা আমাদের মস্তিষ্কে ডোপামিন নামের হরমোন নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়, যা হুবহু কোনো মাদকাসক্তির মতো কাজ করে। এই আসক্তি যেখানে পৌঁছে গিয়েছে, সেখানে মেটার এই নতুন প্রিমিয়াম বা প্লাস ফিচারগুলি এক চরম মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদ।

তিনি বলছেন,

একজন আসক্ত মানুষ যখনই দেখবেন যে টাকা দিলে তিনি আরও বেশি রিল দেখার সুবিধা পাবেন, নিজের অ্যাকাউন্টকে আরও আকর্ষণীয় করতে পারবেন, বা অদৃশ্য থেকে অন্যের স্টোরি দেখতে পাবেন, তখন তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার দিকে ঝুঁকে পড়বেন। তাঁর মনে অনবরত কাজ করবে যে—টাকা দিলে বোধহয় আমি আরও দারুণ কিছু সুবিধা পাব। একইভাবে, আজকের দিনে বহু মানুষ সোশ্যাল মিডিয়াকে কনটেন্ট তৈরি ও উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। মেটা প্লাস সংস্করণে যে আকর্ষণীয় এআই (AI) টুল এবং বেশি মানুষের কাছে পৌঁছনোর (Wider Reach) সুযোগ দিচ্ছে, তা ক্রিয়েটরদের খুব সহজেই প্রলুব্ধ করবে।

তাঁর আশঙ্কা,

আপাতত মেটা কিছু সাধারণ ফিচার হয়তো বিনামূল্যে বা ফ্রি রেখে দেবে। কিন্তু তারা সাধারণ মানুষকে আসক্তির যে স্তরে নিয়ে গিয়েছে, তাতে মানুষ আর এই ফ্রি বা বেসিক ফিচারের গণ্ডির মধ্যে নিজেকে আটকে রাখতে পারবে না। ভালো রিচ পাওয়ার তাগিদে বা শুধুই অতিরিক্ত ফিচারের আকর্ষণে মানুষ নিজেই নিজের পকেটের টাকা মেটার হাতে তুলে দিতে বাধ্য হবে।

আজ যা শুরু হলো প্রিমিয়াম ফিচার দিয়ে, ভবিষ্যতে তা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্যও বাধ্যতামূলক হয়ে উঠলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, মেটা পুরোপুরি পেইড হয়ে যাচ্ছে না ঠিকই, তবে তারা আমাদের ডিজিটাল অভ্যেসকে খুব চতুরভাবে ব্যবসার পুঁজিতে রূপান্তর করছে। আপনি যদি সোশ্যাল মিডিয়াকে প্রফেশনাল বা পেশাদার কাজে ব্যবহার করতে চান এবং বাকিদের চেয়ে একধাপ এগিয়ে থাকতে চান, তবে এবার থেকে মেটার দরবারে টাকা দেওয়া ছাড়া আর কোনো সহজ উপায় নেই!

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।