দেশের সেরা শিল্পী রাস্তায়, মাটিতে লুটোচ্ছে পদ্মশ্রী, এর নাম আচ্ছে দিন?

rudranjan
৩ মিনিট
দেশের সেরা শিল্পী রাস্তায়, মাটিতে লুটোচ্ছে পদ্মশ্রী, এর নাম আচ্ছে দিন?

২০২০ সালের ২০ নভেম্বর বিরজু মহারাজ এবং চিত্রশিল্পী যতিন দাসের মতো পদ্ম পুরষ্কারপ্রাপ্ত শিল্পীদের নোটিস পাঠিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারি বাসস্থান খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেয় দিল্লি হাই কোর্ট। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে ‘অমানবিক’ বলে চিহ্নিত করেছিলেন অনেকেই, ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন সরকারি নোটিসপ্রাপ্ত শিল্পীরা। এবার ফের ‘অমানবিক উচ্ছেদ’-এর অভিযোগ উঠল কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে। সাম্প্রতিককালে ভাইরাল হওয়া এক ছবিতে পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী গুরু মায়াধর রাউতকে তাঁর বাসভবন থেকে উচ্ছেদ হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। কেন্দ্রের তরফে বলা হচ্ছে, এঁদের সরকারি বাসভবনে থাকার মেয়াদ ফুরিয়ে এসেছিল, তাই এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্র। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা নির্বিচারে মায়াধরের বেশ কিছু জিনিসপত্র রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলেছেন। এমনকী, তাঁর পদ্মশ্রী সম্মাননাও রাস্তায় ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। সমগ্র ঘটনার জেরে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মায়াধরের কন্যা মধুমিতা রাউত। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ৯০ বছরের এক অসুস্থ শিল্পীকে এভাবে হেনস্থা হতে হল কেন?

রাজীব গান্ধীর প্রধানমন্ত্রিত্বের আমলে দিল্লির ‘এশিয়ান গেমস ভিলেজ’-এ সরকারি আবাসন লিজ দেওয়া হয়েছিল মায়াধর রাউতকে। তাঁর সঙ্গে সঙ্গে শিল্পী কোটায় আবাসন পেয়েছিলেন আরও তিরিশজন পদ্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি। কেন্দ্রের অভিযোগ, ২০১৪ সালেই সেই লিজের মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছে। তারপরেও প্রায় ৮ বছর সরকারি আবাসনে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন কোনও কোনও শিল্পী। ইতিমধ্যে তাঁদের আবাসন খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিস পাঠায় কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু সেই নোটিসের প্রতিক্রিয়াস্বরূপ মায়াধর এবং আরও কয়েকজন শিল্পী আদালতের দ্বারস্থ হন। যদিও সরকারের বিরুদ্ধে মামলায় তাঁদের পরাজয় ঘটে।

আদালতে পরাজয়ের পর মায়াধর এবং অন্যান্য শিল্পীদের ২৫ এপ্রিলের মধ্যে সরকারি আবাসন ফাঁকা করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কেন্দ্রের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশের পরেও মায়াধর-সহ ৮ জন শিল্পী সরকারি আবাসন ছাড়তে অস্বীকার করেন। কেন্দ্রের বক্তব্য, এর ফলে বাধ্য হয়ে তাঁদের উচ্ছেদের পদক্ষেপ নিতে হয়। মায়াধরের কন্যা মধুমিতা জানিয়েছেন, ২৬ মে সকালে হঠাৎ করেই একদল পুলিশ নির্বিচারে তাঁদের জিনিসপত্র রাস্তায় ফেলতে আরম্ভ করেন। তাঁদের কাছে উচ্ছেদের আইনি নোটিস চাওয়া হলে তা দেখাতে অস্বীকার করেন তাঁরা। পুলিশের এমন আচরণের ফলে সংবাদমাধ্যমের কাছে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে উষ্মা প্রকাশ করেছেন মধুমিতা। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর বাবা শিষ্যদের তালিম দিয়ে কোনওরকম অর্থ উপার্জন করেননি, শিষ্যদের ভারতীয় গুরু-শিষ্য পরম্পরায় তালিম দিতেন মায়াধর। তিনি এও জানিয়েছেন, তাঁর বাবার নিজস্ব কোনও জমি বা বাড়ি নেই এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাত্র তিন হাজার টাকা পড়ে আছে। এমতাবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকার এমন ‘অবিবেচক’-এর মতো সিদ্ধান্ত কীভাবে নিতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

মায়াধরের উচ্ছেদের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক মহলের একাংশ। তৃণমূল সাংসদ জহর সরকার তাঁর টুইটে মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সমগ্র ঘটনায় রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছেন মায়াধরের কন্যা। তিনি মনে করেন, কংগ্রেস আমলে সরকারি আবাসনে থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন বলেই মায়াধরের বিরুদ্ধে এমন অসংবেদনশীল সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদি সরকার।

ইতিপূর্বে করোনা পরিস্থিতিতেই বিরজু মহারাজের মতো শিল্পীদের সরকারি আবাসন খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেয় কেন্দ্র। সেবারও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন পদ্মভূষণপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী যতিন দাস। ১৯৮৮ সাল থেকে তিনি ‘এসিয়েড ভিলেজ’-এর সরকারি আবাসনের বাসিন্দা ছিলেন। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের ফলে প্রবল সমস্যায় পড়তে হয় তাঁকে। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর মতো বহু শিল্পী সরকারের বিভিন্ন কমিটিতে দীর্ঘদিন ধরে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে রাতারাতি বাড়ি খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তাঁদেরকেই বিপদের মুখে ঠেলে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের কাছ থেকে দেশের শিল্পীদের কি এই আচরণই প্রাপ্য? প্রশ্ন থেকে যায়।

লিখেছেন
rudranjan
rudranjan
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।