সন্ত্রাসীদের আলিঙ্গন! পাক মন্ত্রীদের সঙ্গে কতটা ঘনিষ্ঠ লস্কর জঙ্গিরা?

Pakistan and Terrorists Nexus: বিশ্বের পক্ষে ক্ষতিকর এই সন্ত্রাসীদের থেকে নিজেদের দূরে রাখার পরিবর্তে, মন্ত্রীদের ব্যক্তিগতভাবে এই সন্ত্রাসীদের মঞ্চে স্বাগত জানাতে দেখা যায়, তাদের জড়িয়ে ধরতে দেখা যায়, হাততালি দিতে দেখা যায়।

inscript
৩ মিনিট
সন্ত্রাসীদের আলিঙ্গন! পাক মন্ত্রীদের সঙ্গে কতটা ঘনিষ্ঠ লস্কর জঙ্গিরা?

ভারতবর্ষ তথা বিশ্বের অনেক দেশই বারেবারে অভিযোগ তুলেছে যে, পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ আসলে রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট। রাষ্ট্র না চাইলে, সে দেশে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি, বসতি, মহড়া কিছুই বহাল তবিয়তে যুগের পর যুগ ধরে চলতে পারার কথা নয়। আর স্বাভাবিকভাবেই পাকিস্তান এমন অভিযোগ অস্বীকারই করে এসেছে। সম্প্রতি পহেলগাঁওয়ে পাকিস্তানের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী লস্করের ছায়া সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের ঘৃণ্য হামলা এবং তার প্রত্যাঘাতে ভারতের অপারেশন সিঁদুর ও পাল্টা পাকিস্তানি হামলার আবহে পাকিস্তানের প্রশাসনের সঙ্গে মৌলবাদী উগ্রপন্থার ক্রমবর্ধমান সংযোগের উদ্বেগজনক চিত্র প্রকাশ্যে এসে পড়ছে। সম্প্রতি পারমাণবিক পরীক্ষা বিষয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের কিছু মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসবাদীর সঙ্গে ফেডারেল এবং পঞ্জাব প্রদেশের সরকারের বরিষ্ঠ মন্ত্রীদের একই মঞ্চে দেখা গেছে।

গত ২৮ মে পঞ্জাবে ইউম-ই-তাকবীর উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি আন্তর্জাতিকভাবেই এক গুরুতর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পাকিস্তানের খাদ্যমন্ত্রী মালিক রশিদ আহমেদ খান এবং পঞ্জাব বিধানসভার স্পিকার মালিক মুহাম্মদ আহমেদ খান - দু'জনেই প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং পিএমএল-এন নেতা মরিয়ম নওয়াজের ঘনিষ্ঠ - তাঁদের লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি বসে থাকতে দেখা যায়। এই সন্ত্রাসীদের মধ্যে আছে সাইফুল্লাহ কাসুরি, তালহা সাইদ (হাফিজ সাইদের ছেলে) এবং আমির হামজাও। আরও উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ওই সমাবেশে সন্ত্রাসবাদের প্রকাশ্য প্রশংসা করা হয় এবং ভারতকে লক্ষ্য করে উস্কানিমূলক বক্তৃতাও দেওয়া হয়।

বিশ্বের পক্ষে ক্ষতিকর এই সন্ত্রাসীদের থেকে নিজেদের দূরে রাখার পরিবর্তে, মন্ত্রীদের ব্যক্তিগতভাবে এই সন্ত্রাসীদের মঞ্চে স্বাগত জানাতে দেখা যায়, তাদের জড়িয়ে ধরতে দেখা যায়, হাততালি দিতে দেখা যায় এবং 'পাকিস্তানকে রক্ষা' করার ক্ষেত্রে এই সন্ত্রাসীদের ভূমিকাকে মহিমান্বিত করে বক্তৃতাও দিতে দেখা যায়। মন্ত্রী মালিক রশিদ প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন যে, "আজ ২৪ কোটি পাকিস্তানিদের প্রতিনিধিত্ব করছেন হাফিজ সাইদ এবং সাইফুল্লাহ কাসুরির মতো ব্যক্তিরা।" সন্ত্রাসীদের পাকিস্তানের জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে তুলনা করলেন একজন মন্ত্রী! মালিক রশিদ এও ঘোষণা করেন যে, শাহবাজ শরিফ সরকার মুদাসিরের ভাইকে চাকরি দেবে। মুদাসির ছিল লস্কর কমান্ডার। মুরিদকে সদর দপ্তরে ভারতের বিমান হামলায় নিহত হয় এই সন্ত্রাসী।

সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা হচ্ছে, কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্ত মাস্টারমাইন্ড সাইফুল্লাহ কাসুরি হামলার পরে আত্মগোপনে চলে যায়। সেই সাইফুল্লাহ এই সমাবেশে ভাষণ দেয়! ২৪ মিনিটের ঘৃণাপূর্ণ বক্তৃতায়, কাসুরি গর্ব করে বলে, "আমাকে পহেলগাঁওয়ের জন্য দায়ী করা হয়েছিল, আর এখন পুরো বিশ্ব আমার নাম জানে।"

সাইফুল্লাহর প্রকাশ্য উপস্থিতি নিশ্চিত করে যে কাসুরিকে বাহাওয়ালপুরে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই আশ্রয় দিয়েছিল। প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে জনসমক্ষে সাইফুল্লাহর পুনরাবির্ভাব সন্ত্রাসবাদের প্রতি পাকিস্তানের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগকেই মান্যতা দেয়। অনুষ্ঠানের শেষে যখন সাইফুল্লাহ কাসুরি সমস্ত মন্ত্রীদের নাম ধরে ধন্যবাদ জানাতে শুরু করে, তখন নিরাপত্তা কর্মীদের গণ মাধ্যমকে ছবি বা ভিডিও তোলা বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আরও এক বিপজ্জনক উস্কানি হচ্ছে ওই সমাবেশে খালিস্তানের প্রসঙ্গ ওঠা। আমির হামজা, লস্কর-ই-তৈবার সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসবাদী ওই সমাবেশ মঞ্চ থেকে খালিস্তানপন্থী স্লোগান তোলে। আমির হামজার উপস্থিতি এবং এমন বক্তৃতা ভারতের পঞ্জাবে বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং অস্থিরতা উস্কে দেওয়ার লক্ষ্যে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট লস্কর-ই-তৈবার নতুন প্রচেষ্টারই ইঙ্গিত দেয়।

আইএসআই এবং লস্করের যোগসূত্র ক্রমেই ফাঁস হয়ে যাচ্ছে বিশ্বের কাছে। ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর জন্য সরকারি অনুষ্ঠান এবং সরকারি মঞ্চকে ব্যবহার করার অবাধ ছাড়পত্র সন্ত্রাসীদের দিয়ে রেখেছে পাকিস্তান। উল্লেখ্য, করাচি এবং রাওয়ালপিন্ডিতে, হাফিজ সাইদের রাজনৈতিক দল - পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লীগ (পিএমএমএল) ইয়োম-এ-তকবীর উপলক্ষ্যে একাধিক সমাবেশের আয়োজন করেছিল। রাওয়ালপিন্ডির সমাবেশে অনেককেই হাফিজ সাইদ, সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের পোস্টার ধরে থাকতে দেখা যায়।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাবলী ভারতের নীতিনির্ধারকদের কাছে এক জরুরি প্রশ্ন তুলে ধরছে। যখন প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে পাকিস্তানের মন্ত্রীরা বিশ্বের মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসবাদীদের আলিঙ্গন করছে, তখন শান্তি প্রক্রিয়া বা সংলাপের মাধ্যমে কি সেই কাঙ্খিত স্থিতিশীলতা আসতে পারে? ভারতের কাছে তাহলে কোন পথ খোলা? প্রশ্ন এও ওঠে যে, বিশ্ব কীভাবে পাকিস্তানের এমন ভূমিকা চোখে দেখেও নীরব থাকছে? পাকিস্তান রাষ্ট্র এবং সন্ত্রাসবাদীদের সহাবস্থান ও নিবিড় সম্পর্কের ভুক্তভোগী হবে সারা বিশ্বই, সত্যিই পরিত্রাণ নেই?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

অথর ইজ ডেড, যে লেখে সে আমি নয় এআই?

Caine Prize winning story AI allegations: ১১ অক্টোবর লেখক ও সাংবাদিক ভোহিনি ভারা ‘দ্য আটলান্টিক’-এ একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেন—যার শিরোনাম ছিল “Yet Another Literary Prizewinner Seems to Be AI”। সেখানে তিনি জানান, ‘পাংগ্রাম’ নামের একটি এআই-ডিটেকশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে গল্পটি পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে এটি প্রায় পুরোটাই কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত।

জমিদারগিন্নির অপমানের জবাব দিতেই শুরু পাঞ্জা বাড়ির দুর্গাপুজো

Panja family Durga Puja: এক বর্ষামুখর দুর্গাষ্টমীর দিনে জমিদারবাড়ির মহিলারা, জমিদারগিন্নির সঙ্গে, বাড় সিউড়ির দুর্গাপ্রতিমা দর্শনে যান। ফেরার পথে কর্দমাক্ত রাস্তা পেরোনোর সময় দামি শাড়ি কাদা থেকে বাঁচাতে তাঁরা শাড়ির পাড় কিছুটা তুলে হাঁটছিলেন। কথিত আছে, তা দেখে পাড়ার কয়েকজন কটূক্তি করে বলেন— “পাঞ্জা বাড়ির বউ কাপড় উঠিয়ে চলছে!”

পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত করতে গেলে সবচেয়ে আগে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সুসংহত করতে হবে: অভিজিৎ চৌধুরী

Abhijit Chowdhury Interview: তিনি বাঙালির ‘লিভারের ডাক্তারবাবু’ বলেই সমধিক পরিচিত। দীর্ঘদিন সরকারি ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। অবসরের পরেও জড়িয়ে রয়েছেন চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে। সোনারপুরে গড়ে তুলেছেন ‘লিভার ফাউন্ডেশন’। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে মিলে তাঁর পরবর্তী স্টেশন ‘স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়’।

নিষিদ্ধ নয়, বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, কী আছে ফিলিস্তিনপন্থী স্যালি রুনির বইয়ে

Sally Rooney: ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে রয়্যালটি দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশের পর ব্রিটেনে স্যালি রুনির বই সরবরাহ বন্ধ করেছে ফ্যাবার।

সিজেপির কর্মসূচির আগে ৬ হাজার পুলিশ, দুর্ভেদ্য দুর্গ কনট প্লেস

Connaught Place protest: সিজেপির কর্মসূচির আগে কনট প্লেস এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের আশপাশে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।