বলিউডে নিষিদ্ধ রণবীর সিং?
পরিচালক-প্রযোজক ফরহান আখতার ও তার প্রযোজনা সংস্থা ‘এক্সেল এন্টারটেইনমেন্ট’ (রিতেশ সিধওয়ানি)-এর দাবি, ‘ডন ৩’ ছবির শুটিং শুরু হওয়ার মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ প্রজেক্ট থেকে সরে দাঁড়ান রণবীর।
বলিউড অভিনেতা রণবীর সিং-কে ঘিরে এই মুহূর্তে সরগরম বলিউড। ফরহান আখতারের বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘ডন ৩’ থেকে আচমকা রণবীরের বেরিয়ে যাওয়া এবং তার জেরে ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ় (FWICE) কর্তৃক অভিনেতার উপর ‘অসহযোগিতা নির্দেশিকা’ (Non-Cooperation Directive) বা নিষেধাজ্ঞা জারির ঘটনাটি এখন টক অফ দ্য টাউন। ২৫ মে, ২০২৬ এই কড়া পদক্ষেপের পর বলিউডের অন্দরে তৈরি হয়েছে এক চরম উত্তেজনা।
যেখান থেকে বিতর্কের সূত্রপাত
ঘটনার শুরু পরিচালক-প্রযোজক ফরহান আখতার ও তার প্রযোজনা সংস্থা ‘এক্সেল এন্টারটেইনমেন্ট’ (রিতেশ সিধওয়ানি)-এর একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তাদের দাবি, ‘ডন ৩’ ছবির শুটিং শুরু হওয়ার মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ প্রজেক্ট থেকে সরে দাঁড়ান রণবীর।
যেহেতু ছবির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল, তাই আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রযোজক সংস্থার বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়। ক্ষতিপূরণ হিসেবে ফরহান ও তার টিম রণবীরের কাছ থেকে ৪৫ কোটি টাকা দাবি করেছেন। গত এপ্রিল মাসে এই বিষয়ে ডিরেক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন (IFTDA)-এর মাধ্যমে FWICE-এর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ফরহান।
রণবীর সিং ও ফরহান আখতার
FWICE-এর পদক্ষেপ ও নিষেধাজ্ঞার কারণ
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কলেজ জীবনে তাঁদের আলাপ। শারিবের বয়স তখন ১৮, নাসরিনের ১৯। প্রিয়বন্ধু ছিলেন দু'জন। শারিব তাঁর ক্রাশদের কথা বলতেন নাসরিনকে। পরে সেই সম্পর্ক ভালবাসার রূপ নেয়। ২০০৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর তাঁরা বিয়ে করেন। তাঁদের দুই সন্তান, এক ছেলে ও এক মেয়ে।
FWICE হলো ভারতের সিনেমা ও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির প্রায় ৪ লক্ষেরও বেশি টেকনিশিয়ান এবং ওয়ার্কারদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি বিশাল মাদার বডি। অভিযোগ পাওয়ার পর নিয়মানুযায়ী তারা রণবীর সিং-কে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য প্রতি ১০ দিন অন্তর মোট তিনবার নোটিস ও রিমাইন্ডার পাঠায়।
তবে রণবীরের আইনি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি সম্পূর্ণ একটি চুক্তিভিত্তিক বা আইনি (Contractual/Legal) বিষয়, যা FWICE-এর এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না। ফলে রণবীর নিজে ফোরামে উপস্থিত হননি।
বারবার নোটিস পাঠানোর পরেও অভিনেতার কাছ থেকে সরাসরি সাড়া না পাওয়ায়, গত ২৫ মে FWICE-এর শীর্ষ নেতৃত্ব (যার মধ্যে অশোক পণ্ডিত ও বি এন তিওয়ারি অন্যতম) এক জরুরি বৈঠক ডেকে রণবীরের বিরুদ্ধে ‘নন-কোঅপারেশন ডিরেক্টিভ’ (NCD) জারি করেন। এর অর্থ হলো, যতক্ষণ না এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে, ততক্ষণ বলিউডের কোনো টেকনিশিয়ান, ক্রু মেম্বার, লাইটম্যান বা ক্যামেরাম্যান রণবীরের সঙ্গে কোনো প্রজেক্টে কাজ করবেন না। সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, “কোনো সুপারস্টারই আইনের ঊর্ধ্বে নন।”
এক নজরে FWICE ও NCD: ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত FWICE হলো ৩২টি ক্রাফট অ্যাসোসিয়েশনের অভিভাবক সংগঠন। এদের ‘নন-কোঅপারেশন ডিরেক্টিভ’ (NCD) হলো ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। আইনত এটি বাধ্যতামূলক না হলেও, এর ফলে কার্যত যেকোনো তারকার পক্ষে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
রণবীরের মুখপাত্রের বক্তব্য
এই বিশাল বিতর্কের মাঝেও রণবীর সিং নিজে সোশ্যাল মিডিয়া বা গণমাধ্যমে সরাসরি মুখ খোলেননি। তবে নিষেধাজ্ঞা জারির পর তার মুখপাত্র (Spokesperson) একটি অফিসিয়াল বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে:
রণবীর সমগ্র বলিউড ইন্ডাস্ট্রি এবং ‘ডন’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে গভীর শ্রদ্ধা করেন।
‘ডন ৩’ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই নীরবতা বজায় রেখেছেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, যেকোনো পেশাদার আলোচনা পারস্পরিক সম্মান, পরিপক্বতা এবং মর্যাদা বজায় রেখেই আড়ালে সমাধান করা উচিত।
বাইরে নানা ধরনের জল্পনা ও মনগড়া গল্প তৈরি হলেও তিনি প্রকাশ্যে কাদা ছোঁড়াছুঁড়িতে বিশ্বাসী নন।
‘ডন’ টিমকে শুভকামনা জানিয়ে মুখপাত্র আরও স্পষ্ট করেছেন যে, রণবীরের পুরো মনোযোগ এখন তার বর্তমান কাজ এবং ভবিষ্যতের প্রজেক্টগুলির দিকেই রয়েছে।
বিমানবন্দরে ক্যামেরাবন্দি ‘ধুরন্ধর’ তারকা
বিতর্ক যখন তুঙ্গে, ঠিক তার পরদিনই অর্থাৎ মঙ্গলবার সকালে মুম্বই বিমানবন্দরে দেখা মেলে রণবীর সিং-এর। পরনে সাদা কুর্তা-পাজামা, নেহেরু জ্যাকেট, চোখে রোদচশমা এবং মুখে কালো মাস্ক—কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে গাড়ি থেকে নামেন তিনি। সেখানে উপস্থিত সংবাদমাধ্যম ও আলোকচিত্রীরা তাকে ঘিরে ধরলেও তিনি একটি কথাও বলেননি। শান্ত ও সৌজন্য বজায় রেখে, মুখে মাস্ক এঁটেই তিনি বিমানবন্দরের ভিতরে চলে যান। মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, এই গোটা পরিস্থিতিটি রণবীর অত্যন্ত ‘ধুরন্ধর’ ও পেশাদার উপায়ে সামলাতে চান।
ব্যানের পর বিমানবন্দরে প্রথমবার জনসমক্ষে অভিনেতা
বলিউডের অতীত ইতিহাস বলছে, অতীতেও বড় বড় তারকাদের ক্ষেত্রে এমন ব্যান বা নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও, শেষ পর্যন্ত তা আলোচনার টেবিলে বসে আপোসের মাধ্যমেই মিটে গিয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, রণবীর সিং শেষ পর্যন্ত ৪৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দিয়ে ফরহান আখতারের সঙ্গে সমঝোতা করেন, নাকি বিষয়টি আদালতের দোরগোড়ায় গিয়ে আইনি লড়াইয়ের রূপ নেয়।







