কেন আগুন ধরে যায় গাড়িতে? ঋষভ পন্থের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা থেকে যে শিক্ষা নিতেই হবে
Rishabh Pant Car Accident: গুরুতর ধাক্কা লাগার পরে জ্বালানির ট্যাঙ্ক থেকে ফুটো হয়ে যাওয়ার কারণে আগুন ধরে যায়। এমনকী সামান্য ফুলকি দেখা গেলেও তা বড় আগুনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন ভারতীয় ক্রিকেটার ঋষভ পন্থ। শুক্রবার ভোররাতে নিজেই নিজের গাড়ি চালিয়ে ফিরছিলেন রুরকির বাড়ি। চেয়েছিলেন, হঠাৎ করে বাড়িতে পৌঁছে মাকে সারপ্রাইজ দেবেন। কিন্তু ফেরার পথে উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার জেলার মঙ্গলৌরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মুখে পড়েন ঋষভ। গাড়ি চালাতে চালাতে ঘুম এসে যাওাতে ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ তাঁর মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়িটি সজোরে ধাক্কা মারে রাস্তার ডিভাইডারে। দিল্লি-দেরাদুন হাইওয়েতে গাড়িটি উলটে যায় এবং তাতে বিধ্বংসী আগুন ধরে যায়। এক বাসচালকের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচেন তিনি, তাঁকে দেরাদুনের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
২৫ বছর বয়সী ঋষভ এখন বিপদমুক্ত বলে জানা গেছে। তবে তাঁর মাথায়, পিঠে ও পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঋষভ জানিয়েছিলেন, গাড়িটি যখন ধাক্কা মেরে উলটে যায়, কোনও রকমে গাড়ির উইন্ডস্ক্রিন ভেঙে লাফ দিয়ে তিনি বেরিয়ে আসেন। ঋষভ বেরিয়ে আসার পরেই আগুন লেগে যায় ওই গাড়িতে। পাশের রাস্তা দিয়ে যাওয়া হরিয়ানা রোডওয়েজের একটি বাসের চালক এবং কন্ডাক্টর তাঁকে প্রাণে বাঁচান।
ঋষভ স্বীকার করেছেন, ভোররাতে গাড়ি চালাতে চালাতে তাঁর ঘুম এসে গিয়েছিল যার ফলেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে যায়। গাড়িটি ডিভাইডারে ধাক্কা মারার সময় এবং তাতে আগুন ধরে যাওয়ার সময়ের যে সিসিটিভি ফুটেজ মিলেছে তাতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, মৃত্যুর কাছ থেকে কয়েক লহমার জন্য ফিরে আসতে পেরেছেন ঋষভ পন্থ। যে বাসচালক তাঁকে দেখতে পান, সেই সুশীল কুমার জানিয়েছিলেন, সুশীল কুমার জানাচ্ছেন, শুক্রবার ভোরে হরিদ্বার থেকে ফিরছিলেন তিনি। হঠাৎই দেখেন, দিল্লির দিক থেকে মোটামুটি ৬০-৭০ কিলোমিটার বেগে আসা একটি গাড়ি সজোরে ধাক্কা মারে ডিভাইডারে আর তারপরেই গাড়িটি চলে আসে হরিদ্বারের দিকের রাস্তায়। "আমি আমার বাস বাঁচাতে সার্ভিস রোড থেকে সরে ফার্স্ট লাইনে চলে আসি। দেখলাম ওই গাড়ি থেকে একটি দেহ বেরিয়ে এসেছে মাটিতে। আমার মনে হল প্রাণে বাঁচবে না। গাড়িতেও আগুন ধরে গেছে ততক্ষণে। আমাকে ওই যুবক বললেন, “আমি ক্রিকেটার ঋষভ পন্থ"। আমি ক্রিকেট তেমন দেখি না। প্রথমে বুঝিনি। দেখলাম যুবকের গায়ে পোশাক নেই, কোনও রকমে চাদর মুড়ে অ্যাম্বুলেন্স ডাকি," আজতককে জানিয়েছেন ওই চালক।

দুর্ঘটনার পরে গাড়িতে আগুন লেগে যাওয়ার ঘটনা সিনেমায় হরদম দেখা যায় ঠিকই, কিন্তু কেন লাগে এই আগুন? এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ঋষভ যা করেছিলেন সেটাই কি বাঁচার একমাত্র পথ?
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Rishabh Pant Accident: ঋষভ নিজেই জানিয়েছেন, ডিভাইডারে ধাক্কা মারার পরে দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া গাড়িটির উইন্ডস্ক্রিন ভেঙে বেরিয়ে আসেন তিনি।
• গুরুতর ধাক্কা লাগার পরে জ্বালানির ট্যাঙ্ক থেকে ফুটো হয়ে যাওয়ার কারণে আগুন ধরে যায়। এমনকী সামান্য ফুলকি দেখা গেলেও তা বড় আগুনের দিকে নিয়ে যেতে পারে। অন্যান্য দাহ্য পদার্থ যেমন ইঞ্জিন অয়েল, ব্রেক অয়েল বা লুব্রিকেন্ট গাড়ির স্পার্ক বা গরম ধাতব অংশের সংস্পর্শে এলে আগুন ধরে যেতে পারে।
• গাড়ির বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণেও দুর্ঘটনার পর আগুন লাগতে পারে। কখনও কখনও দুর্ঘটনার কারণে গাড়ির ভেতরের তারগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং স্পার্ক সৃষ্টি করে যা জ্বালানিতে ছড়িয়ে পড়ে।
• বড়সড় ধাক্কা লাগার পরে এয়ারব্যাগগুলিও ফেটে যেতে পারে, যা থেকে আগুন ধরে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তবে এটি খুবই বিরল ঘটনা।
দুর্ঘটনা যে কোনও সময়, সমস্ত সতর্কতা বজায় রেখেও ঘটতে পারে। এই বিপদের মুখে পড়ে কিছু জিনিস মাথায় রাখলে জীবন বাঁচানো সম্ভব।
• সবার আগে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গাড়ি থেকে বের হওয়া উচিত। আটকে থাকলে, জানালা খুলে লাফ দিতে যে কোনও ধারালো বস্তু ব্যবহার করুন।
• জরুরি ব্যবস্থার কর্মীরা আসার আগে আগুন নেভানোর জন্য গাড়িতে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র রাখুন এবং ব্যবহার করুন।
• আপনি যদি চোখের সামনে দুর্ঘটনা ঘটতে দেখেন, আটকে পড়াদের সাহায্য করার জন্য অবশ্যই এগিয়ে যান। ঋষভ পন্থের ক্ষেত্রে যদি ওই বাস চালক এবং কন্ডাক্টর না থাকতেন, মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরানো যেত না তাঁকে।
• গাড়িতে সবসময় ছোট ফার্স্ট এইড কিট রাখুন। এমন জিনিস রাখুন যা ছোটখাটো আঘাতের ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। ছোটখাটো পোড়ার চিকিৎসার জন্য ওষুধ/মলমও কিটে রাখতে হবে।
• যে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে, অবিলম্বে যে কোনও পথচারীর সাহায্য নিন বা জরুরি হেল্পলাইন নম্বরে কল করুন যেমন স্থানীয় পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, হাসপাতাল ইত্যাদি।
• পোড়া যানবাহন থেকে দূরে থাকুন এবং নিজের যানবাহনকে নিরাপদ দূরত্বে রাখুন। সম্প্রতি, দিল্লির সুভাষ নগর এলাকায় মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের মাল্টি-লেভেল পার্কিংয়ে আগুন লেগে ২০টির মতো গাড়ি পুড়ে গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি এক ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে সেই আগুন পার্কিং লটে থাকা অন্যান্য গাড়িগুলোতেও ছড়িয়ে যায়।






