৭.৭ কোটির চুক্তি! দেশকে এবার থেকে খবর জানাবে আরএসএসের নিজস্ব সংবাদ সংস্থা!
Prasar Bharati and Hindusthan Samachar: এর আগে প্রসার ভারতীকে দৈনন্দিন খবরের জোগান দিত সরকারি সম্প্রচার সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া বা পিটিআই।

এবার দেশকে সরকারিভাবে খবর পৌঁছে দেবে আরএসএস প্রতিষ্ঠিত সংবাদ সংস্থা! ভারতের সরকারি সম্প্রচার সংস্থা প্রসার ভারতীকে রোজের খবর জোগাবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-সমর্থিত সংবাদ সংস্থা হিন্দুস্থান সমাচার। এই খবর সরবরাহের জন্য দুই বছরের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে হিন্দুস্তান সমাচার এবং প্রসার ভারতীর মধ্যে সাড়ে সাত কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিনিময়ে, জানিয়েছে দ্য ওয়্যার। প্রসার ভারতী হলো দেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা যা দূরদর্শন এবং অল ইন্ডিয়া রেডিওকে চালায়। পিটিআইয়ের সঙ্গে পুরনো চুক্তি বাতিল হওয়ার পরেই এই নয়া চুক্তি, তাহলে কি 'দেশবিরোধিতার' মাশুল গুনতে হচ্ছে প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে?
১৯৪৮ সালে আরএসএস নেতা এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সহ-প্রতিষ্ঠাতা শিবরাম শঙ্কর আপ্তে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন হিন্দুস্থান সমাচার। তথ্য বলছে, হিন্দুস্থান সমাচার এমন একটি সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয় যখন ভারত সদ্য স্বাধীন হয়েছে। দেশের তখন এমন একটি সংবাদ সংস্থার প্রয়োজন ছিল যা কেবল তার নিজস্ব ভাষার মাধ্যমে সংবাদই পরিবেশন করবে না বরং প্রকৃত ভারতীয় জাতীয়তাবাদের চেতনায় মানুষকে অনুপ্রাণিত এবং অবহিত করবে।
হিন্দুস্থান সমাচার ২০১৭ সাল থেকেই 'মূল্যায়নের ভিত্তিতে' বিনামূল্যে প্রসার ভারতীকে তার সংবাদ পরিষেবা প্রদান করে আসছে। প্রায় ৭.৭ কোটি টাকায় স্বাক্ষরিত এই নতুন চুক্তির অংশ হিসাবে এবার থেকে হিন্দুস্থান সমাচার প্রতিদিন অন্তত ১০০ টি সংবাদ সরবরাহ করবে প্রসার ভারতীকে। এই ১০০ টি সংবাদের মধ্যে ন্যূনতম ১০টি হবে দেশের খবর এবং আঞ্চলিক ভাষায় থাকবে ৪০টি খবর, জানিয়েছে দ্য ওয়্যার৷
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আরএসএস প্রশংসার মাধ্যমে বঙ্গ বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-র চোরা অন্তর্বিবাদ খুঁচিয়ে দিলেন, পোড় খাওয়া রাজনীতিক মমতা?
এর আগে প্রসার ভারতীকে দৈনন্দিন খবরের জোগান দিত সরকারি সম্প্রচার সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া বা পিটিআই। ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এই সংবাদ সংস্থার সঙ্গে আগের চুক্তিটি বাতিল হয়ে গিয়েছে বছর দুয়েক আগেই। ২০২০ সালে প্রসার ভারতীর সঙ্গে খবর নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয় পিটিআইয়ের। সেই বছর ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে চলা অস্থিরতার মধ্যে পিটিআইয়ের খবরকে 'দেশবিরোধী' বলে অভিহিত করেছিল প্রসার ভারতী। অতঃপর এই নয়া চুক্তিটি করা হলো আরএসএস প্রতিষ্ঠিত সংস্থার সঙ্গে।

২০২০ সালে সংবাদ সংস্থা পিটিআই চিনের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত সান ওয়েইডংয়ের একটি সাক্ষাত্কার প্রকাশ করে। ওই বছরের জুন মাসে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় সামরিক সংঘর্ষের জন্য নয়াদিল্লির সরকারকে অভিযুক্ত করেছিলেন সান ওয়েইডং। ওই সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছিলেন। চিন জানিয়েছিল, নিহতের সংখ্যা ৪।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পিটিআইয়ের বিরুদ্ধে প্রসার ভারতীর এহেন প্রতিক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছে আরেকটি সাক্ষাৎকার। বেইজিংয়ে নয়াদিল্লির প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত বিক্রম মিশ্রির একটি সাক্ষাৎকার নেয় পিটিআই। পিটিআইকে মিশ্রি জানিয়েছিলেন, চিনের সৈন্যদের লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার "তাদের নিজেদের দিকে ফিরে যেতে হবে”। অথচ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছিলেন, চিনের সেনারা ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশই করেনি। তাহলে কি মিথ্যা বলছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী? এই 'সরকার বিরোধী' তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরেই প্রসার ভারতীর সঙ্গে সরাসরি দ্বন্দ্ব শুরু হয় পিটিআইয়ের, 'দেশবিরোধী' তকমা জোটে ভারতের এই অন্যতম প্রধান সংবাদ সংস্থার। পিটিআই জানিয়েছিল, দেশবিরোধিতার এই অভিযোগ "অযৌক্তিক এবং অন্যায়"।

প্রসার ভারতীর প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা গৌরব দ্বিবেদী দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, হিন্দুস্থান সমাচারই একমাত্র সংবাদ পরিষেবা যা একাধিক ভারতীয় ভাষায় খবর সরবরাহ করে। হিন্দুস্থান সমাচারের সঙ্গে তাঁদের নাকি আগে থেকেই একটি চুক্তি ছিল, যা এই মাসে নতুন করে চালু করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ দেশের শাসক দলের মতাদর্শিক সংস্থা। বিজেপি আর আরএসএসের নিবিড় সম্পর্ক এবং সরকারের হয়ে হিন্দুস্তান সমাচারের এই খবর সরবরাহের দায়িত্ব পাওয়া স্পষ্টতই প্রমাণ করছে, কোন খবর কতখানি প্রচারে আনা হবে সবটাই সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকছে বিজেপির। দেশের বিরোধী নেতা, কর্মী এবং সাংবাদিক সহ শুভবুদ্ধি ও যৌক্তিকতায় বিশ্বাসী সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা তাই প্রসার ভারতী ও হিন্দুস্থান সমাচারের এই চুক্তির ব্যাপক সমালোচনা করছেন। দেশে ইতিমধ্যেই জাঁকিয়ে বসা হিন্দুত্ব মতাদর্শকে এবার কোনও রাখঢাক ছাড়াই সরকারের তরফেই প্রচার করা হবে, যার ফলে সত্য ঘটনা, বা বিরোধী স্বরের আরই কোনও স্থান রইবে না গণতন্ত্রে, আশঙ্কা বিরোধীদের।






