ইউক্রেনে থেমে থাকবে না রাশিয়ার আগ্রাসন? পুতিনের হুমকিতে নয়া আশঙ্কা বিশ্বজুড়ে

নিজেকে জার পিটারের সঙ্গে তুলনা করায় এটা একেবারেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, পুতিন রাশিয়ার সীমানা সম্প্রসারণেই আগ্রহী। ইউক্রেনে রুশ ভাষাভাষীদের স্বার্থ রক্ষা যে একেবারেই বাজে অজুহাত ছিল, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন তিনি।

Satyaki Tat
৩ মিনিট
ইউক্রেনে থেমে থাকবে না রাশিয়ার আগ্রাসন? পুতিনের হুমকিতে নয়া আশঙ্কা বিশ্বজুড়ে

আধুনিক রাশিয়ার রূপকার বলা হয় জার পিটার দ্য গ্রেটকে, ১৬৭২ সালে যাঁর জন্ম। বলা হয়, একদা সুবিশাল সেই রুশ সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন হয় তাঁর হাত ধরেই। ইউরোপের নবজাগরণের সময় যে রাশিয়া ছিল কেবলমাত্র দর্শকের আসনে, তাঁর পাশ্চাত্যকরনের কাজ শুরু করে ভোল পাল্টে দেন পিটার। শক্তিশালী করে তোলেন রুশ সেনার সমস্ত বিভাগকে এবং শুরু করেন সাম্রাজ্য বিস্তার প্রক্রিয়া। সেই পিটার দ্য গ্রেটের জন্মের ৩৫০ বছর পর তাঁকে আবার ফিরিয়ে আনলেন রাশিয়ার আজকের শাসক ভ্লাদিমির পুতিন। নিজের তুলনা করলেন তাঁর সঙ্গে। বললেন, তাঁর ইউক্রেন অভিযান শুধু রাশিয়ার গৌরবই ফিরিয়ে আনবে না, তার সঙ্গে পড়শি দেশগুলি থেকে তাঁদের 'হারিয়ে যাওয়া' জমিও পুনরুদ্ধার হবে।

পুতিন এই মন্তব্যটি করেন সেন্ট পিটার্সবার্গে। পিটার দ্য গ্রেটের ৩৫০তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে। সেই সেন্ট পিটার্সবার্গ, যাকে সুইডেনের থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিলেন পিটার দ্য গ্রেট। "পিটার দ্য গ্রেট ২১ বছর ধরে গ্রেট নর্দার্ন যুদ্ধ চালিয়েছিলেন। মনে হতে পারে যে, তিনি সুইডেনের সঙ্গে অত বছর ধরে যুদ্ধ চালিয়ে তাঁদের জমি দখল করে নিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে, তিনি রাশিয়ারই সম্পদ পুনরুদ্ধার করেছিলেন।"

আজ ১০৬ দিন অতিক্রম করল পুতিনের ইউক্রেন অভিযান। হাজার হাজার মানুষ মৃত, কয়েকশো নারী ধর্ষিত, এক কোটিরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া। এরপরেও অভিযানে ক্ষান্ত হওয়ার কোনও লক্ষণ দেখাচ্ছেন না পুতিন। এখনও তিনি ইউক্রেনের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব স্বীকার করেন না এবং যে কোনও প্রকারে তিনি ইউক্রেনকে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করতে চান। সেই কারণেই সুযোগ পেলেই নিজের যুদ্ধকে তিনি মান্যতা দিচ্ছেন, এবং এটাও স্পষ্ট করে দিচ্ছেন যে, তিনি এখানেই থামতে রাজি নন। তাঁর নিজেকে জার পিটারের সঙ্গে তুলনা করায় এটা একেবারেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, তিনি রাশিয়ার সীমানা সম্প্রসারণেই আগ্রহী। ইউক্রেনে রুশ ভাষাভাষীদের স্বার্থ রক্ষা যে একেবারেই বাজে অজুহাত ছিল, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন তিনি।

"কোনও ইউরোপিয়ান দেশ পিটার্সবার্গকে রাশিয়ার অংশ বলে স্বীকৃতি দেয়নি। সবাই তাকে সুইডেনের অংশ হিসেবেই দেখত। উনি কেন গিয়েছিলেন পিটার্সবার্গ? উনি পিটার্সবার্গকে ফেরত নিতে গিয়েছিলেন এবং তাকে শক্তিশালী করতে গিয়েছিলেন। দেখা যাচ্ছে, এখন সেই দায়িত্ব আবার আমাদের কাঁধে এসে পড়েছে। নিজেদের দেশের অংশ ফেরত নেওয়া এবং শক্তিশালী করার। আমাদের অস্তিত্বরক্ষার জন্য যে মূল্যবোধ ছিল, তাকে সামনে রেখে এগোলে আমরা নিশ্চিতভাবে নিজেদের কার্যসিদ্ধি করতে পারব", বলেন পুতিন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রাশিয়ার টানা হুমকি সত্ত্বেও ইউক্রেনকে সাহায্য আমেরিকার, কোন অজানা পরিণতি অপেক্ষায়?

ইউক্রেনে সামরিক হামলা শুরুর নির্দেশ দেওয়ার সময় পুতিন হুমকি দিয়েছিলেন- "কোনও পশ্চিমি শক্তি যদি এই যুদ্ধে সরাসরি মাথা গলায়, তাহলে তাদের এমন পরিণতি ভোগ করতে হবে, যা ইতিহাসে আগে দেখা যায়নি।"

তার পরেই আসে সবথেকে রহস্যজনক তাঁর সেই বক্তব্য, যা নিয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বেশ চিন্তায় পড়েছেন।

"রাশিয়ার মতো বড় দেশকে কোনও বেড়া দিয়ে ঘেরা অসম্ভব। আমরা সেই বেড়া বানাতেও চাই না।"

এই বক্তব্যের পর বিশেষজ্ঞরা এক প্রকার নিশ্চিত যে, পুতিন যে শুধু ইউক্রেনের সঙ্গে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন তা নয়, সেই সঙ্গে নিজের সাম্রাজ্যের বিস্তারের জন্য তিনি আরও অভিযান করতে পারেন।

তবে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নতুন রিপোর্ট অন্য কথা বলছে। সেখানে বলা হচ্ছে যে, রাশিয়া ইউক্রেনে যে যে স্থান এখনও পর্যন্ত দখল করতে পেরেছে, সেখানে কোথাওই তারা নূন্যতম পরিষেবাটুকুও প্রদান করতে পারছে না। আশঙ্কা দেখা দিয়েছে কলেরা ছড়িয়ে পড়ার। পানীয় জলের সরবরাহ চূড়ান্তভাবে ব্যাহত হয়েছে, সেই সঙ্গে টেলিফোন এবং ইন্টারনেট পরিষেবাও ঠিকঠাকভাবে দিতে পারছে না তারা।

খেরসনে ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে, মারিয়ুপোলে কলেরা মহামারীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জানা যাচ্ছে, গত মে মাস থেকেই সেখানে কলেরাতে আক্রান্ত হচ্ছেন শহরের মানুষ।

যে যুদ্ধ মাত্র কয়েক দিনে জিতে যাওয়ার কথা ছিল রাশিয়ার, তা এখনও চলছে। পশ্চিমি দেশগুলির সহায়তায় এখনও নিজেদের জমি আঁকড়ে লড়াই করছেন ইউক্রেনবাসীরা। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে ইউক্রেনের অস্ত্রভান্ডারে। সেখানে দেখা দিচ্ছে ঘাটতি। শীঘ্রই যদি সাহায্য না আসে, তাহলে পূর্ব ইউক্রেনের অনেকটা অংশই হাতছাড়া হতে পারে। প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে দেওয়ার রণনীতি সফল হয়ে যেতে পারে রাশিয়ার। সেই কারণেই কি এত আত্মবিশ্বাসী ভ্লাদিমির পুতিন? উত্তর মিলবে আগামী দিনে।

লিখেছেন
Satyaki Tat
Satyaki Tat
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সিজেপির কর্মসূচির আগে ৬ হাজার পুলিশ, দুর্ভেদ্য দুর্গ কনট প্লেস

Connaught Place protest: সিজেপির কর্মসূচির আগে কনট প্লেস এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের আশপাশে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?