যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।

inscript
৩ মিনিট
যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হলো ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে। বুধবার, ১৪ অক্টোবর, তাঁদের এই নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ, দিল্লি পুলিশের নির্ধারিত ব্যারিকেড অতিক্রম করে তাঁরা যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেছিলেন। সেখানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগানও দেন তাঁরা।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের প্রশ্নের মুখে দিল্লিতে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার এবং জনসমাবেশের উপর প্রশাসনিক বিধিনিষেধ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ চলছে, তারই অংশ হিসেবে যন্তর মন্তরে যাওয়ার কর্মসূচি নিয়েছিল সিজেপি। কিন্তু ওই এলাকাকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে বাতিল করার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

১৪ অক্টোবর প্রকাশিত টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, নিষেধাজ্ঞা অমান্য, শান্তি বজায় রাখার মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ এবং সরকারি কর্মীর কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশি অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে ১০ অক্টোবর দিল্লিতে পৌঁছনোর পর সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করেছিল পুলিশ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তাঁদের বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল। পুলিশ সেই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
২৩ দিনের অনশন থেকে জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন, রাজপথই নেহা বোরার হয়ে ওঠার সাক্ষী

Neha Bora: ২৩ দিন ধরে অনশন করে যেমন তিনি সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছিলেন, তেমনই সম্প্রতি দিল্লির রাজপথে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও তাঁকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

পরের দিন, অর্থাৎ ১১ অক্টোবর, তাঁদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়। শান্তি বজায় রাখা এবং এক বছরের জন্য সদাচরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রত্যেকে ৫০ হাজার টাকার মুচলেকা জমা দেওয়ার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু মুক্তির মাত্র দু’দিনের মধ্যে ফের পুলিশের হাতে আটক হলেন সৌরভ ও রাঙ্কা। পুলিশের বক্তব্য, আগের মুচলেকার শর্ত ভেঙেছেন তাঁরা।

১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নতুন করে তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, ব্যারিকেড পেরিয়ে নিষিদ্ধ এলাকায় ঢুকে পড়েছিলেন তাঁরা। অন্যদিকে, সিজেপি-র বক্তব্য, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখানোই তাঁদের কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। এই ঘটনায় দলের আরও এক সদস্য অজিঙ্ক্য শিন্ডেকেও আটক করা হয়েছিল। তবে তাঁর ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত মুচলেকার প্রক্রিয়া চলছিল বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে।

দিল্লির যন্তর মন্তর দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বিভিন্ন সময়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, নাগরিক আন্দোলন এবং নানা দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচির সাক্ষী থেকেছে এই এলাকা। কিন্তু সম্প্রতি এখানে বিক্ষোভের অনুমতি নিয়ে প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘাত তৈরি হয়েছে।

১১ অক্টোবর দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্য রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং সিবিডি গ্রাউন্ডকে নির্ধারিত স্থান হিসেবে ঘোষণা করেন। এর পরেই যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে সিজেপি। তাদের বক্তব্য, রাজধানীর রাজনৈতিক কেন্দ্র থেকে প্রতিবাদস্থল সরিয়ে দিলে আন্দোলনের দৃশ্যমানতা কমে যায়।

এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটেই সিজেপি-র নেতারা যন্তর মন্তরে পৌঁছে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করেন। তাঁদের কর্মসূচিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেওয়ার ঘটনাও ছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিজেপি-র আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর। এই প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সংগঠন প্রশ্ন তুলেছে। তাঁদের অভিযোগ, এই সংশোধনের ফলে বহু যোগ্য ভোটার ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। সেই কারণেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে সিজেপি। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ওঠা রাজনৈতিক অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে দমন করার জন্যই এই ধরনের পদক্ষেপ করা হচ্ছে। জন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করাই তাঁদের অপরাধ কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

এই ঘটনায় একদিকে যেমন প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার যুক্তি সামনে এসেছে, অন্যদিকে তেমনই উঠে এসেছে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন। নির্দিষ্ট কোনো স্থানে বিক্ষোভের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে আন্দোলনকারীদের অধিকার কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

দিল্লিতে মহিলা বিক্ষোভকারীদের হেনস্থার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে যে সব প্রশ্ন

Delhi protest: দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে মহিলা আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

২৩ দিনের অনশন থেকে জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন, রাজপথই নেহা বোরার হয়ে ওঠার সাক্ষী

Neha Bora: ২৩ দিন ধরে অনশন করে যেমন তিনি সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছিলেন, তেমনই সম্প্রতি দিল্লির রাজপথে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও তাঁকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

বরফের গভীরে নিউট্রিনোর খোঁজ: মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে এবারের পদার্থবিদ্যায় নোবেল

IceCube Neutrino Observatory: অ্যান্টার্কটিকার বরফের গভীরে কীভাবে কাজ করে আইসকিউব টেলিস্কোপ? কীভাবে অদৃশ্য নিউট্রিনো কণার সংকেত ধরে কৃষ্ণগহ্বর, ব্ল্যাজার এবং মহাবিশ্বের গভীর রহস্য উন্মোচন করছেন বিজ্ঞানীরা?

ইন্ডিয়া জোটের মিছিলে বাধা, সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হলো রিট

INDIA bloc's march towards supreme court: সোমবার কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে ইন্ডিয়া ব্লকের ‘চলো দিল্লি’ মিছিল অনুষ্ঠিত হলো। রাহুল গান্ধীর দুই পাশে ছিলেন, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও নেহা বোরা। মিছিলে অংশ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, ডি রাজা, সুপ্রিয়া সুলে। ভগবান দাস রোডে মিছিল পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়। শেষমেশ সুপ্রিম কোর্টে ‘রাহুল গান্ধী বনাম নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া’ নামে একটি রিট পিটিশন দাখিল হয়।

ব্যারিকেড ঘেরা দিল্লি, নজরদারির চোখে নাগরিক: নিরাপত্তা নাকি নিয়ন্ত্রণ?

Delhi Under Siege: জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লি কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে। ৩৫ হাজার পুলিশ, কাঁটাতারের ব্যারিকেড, ড্রোন নজরদারি, ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ, ২৪ ঘণ্টার ইন্টারনেট শাটডাউন, ৭ হাজারের বেশি আটক। ওমর আব্দুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতির অভিযোগ তুলেছেন, দিল্লিতে 'কাশ্মীর মডেল'-এর প্রয়োগ চলছে।

প্রতিবাদের মানচিত্র থেকে মুছে গেল যন্তর মন্তর

Jantar Mantar protest site: আঠারো শতকে নির্মিত যন্তর মন্তর মূলত একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণকেন্দ্র। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহাসিক এই স্থাপনার পাশের রাস্তা হয়ে ওঠে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা প্রতিবাদীদের মিলনস্থল।

‘দুই নেহা’-র কাণ্ডে বিভ্রান্ত দিল্লি পুলিশ! AISA নেত্রী-কে আটকানো যাচ্ছে না কোনোভাবেই

AISA-র সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরাকে আটক করতে গিয়ে তাঁরই মতো দেখতে এক মেয়েকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। অথচ সেই সময় আসল নেহা বোরা দিল্লির কনট প্লেসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যারিকেড পেরিয়ে সামনের দিকে এগোচ্ছিলেন।