৬০ লক্ষ বিচারাধীন ভোটার, বাম চাপে ভোটের তারিখ পিছবে?
৬ তারিখ মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগেই সিপিএম-সহ রাজ্যের বিভিন্ন বামপন্থী দলগুলি ৬০ লক্ষ ভোটারের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি জমা দিল।
মমতার আগেই SIR ইস্যুতে সুর চড়াল রাজ্যের অন্যান্য বিজেপিবিরোধী দলগুলি। বিশেষভাবে নজর কাড়ল নির্বাচন কমিশনের সামনে বামেদের রাতভর ধর্না। ৬ মার্চ এসআইআর-এর বিরুদ্ধে মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কার্যত তার আগের দিনই পশ্চিমবঙ্গ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সামনে দফায় দফায় উত্তেজনার সৃষ্টি। ৪ মার্চ দুপুর থেকে নির্বাচন কমিশনের সামনে ধর্নায় বসে বামেরা। বুধবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দফতরে না আসার কারণে বামেরা স্মারকলিপি জমা দিতে না পেরে রাতভর ধর্না চালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার বিমান বসু মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করেন এবং স্মারকলিপি জমা দেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ রয়েছে। ১ মার্চ তৃণমূল ভবনে বৈঠক করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ৬ তারিখ মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগেই সিপিএম-সহ রাজ্যের বিভিন্ন বামপন্থী দলগুলি ৬০ লক্ষ ভোটারের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি জমা দিল। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু জানান, ৬০ লক্ষ ‘বিচারাধীন’-এর মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৬ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাই হয়েছে। সম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে এক মাসের মতো সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে। একটি ভোটারকেও বাদ দিয়ে ভোট করাতে দেবেন না বলে এদিন হুঁশিয়ারি দেন বিমান বসু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না প্রসঙ্গেও এদিন মুখ খোলেন তিনি। সংবাদমাধ্যমে ধর্নার প্রস্তুতি দেখেছেন বলে জানান। তারই সঙ্গে কটাক্ষের সুরে বলেন, আমাদের এখানে আসার ব্যাপারে (মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে) উপরে নীল আকাশ থাকলে সমস্যা করে, বলে এখানে বসা যাবে না। আর নীল আকাশ দেখা যাবে না, এরকম ব্যবস্থা করলে সেখানে করা যাবে (ধর্না)।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Bengali Migrant Workers: মালদহ-র সুজাপুর, হরিশচন্দ্রপুর, রতুয়া এবং মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা, লালগোলা, সামশেরগঞ্জ, সুতির মতো পরিযায়ী অধ্যুষিত বিধানসভাগুলিতে বিচারাধীন তালিকায় সংখ্যালঘু পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম সর্বাধিক। ভগবানগোলা বিধানসভায় মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লক্ষ ৬৪ হাজার, যার মধ্যে পরিযায়ী শ্রমিক প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার। বিচারাধীন তালিকায় ১ লক্ষ ৯ হাজার ৪৩৫ জন, এর বড় অংশই পরিযায়ী শ্রমিক।
কাকতালীয় ভাবে এদিনই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে স্মারকলিপি জমা দিতে আসেন আইএসইএফ-এর চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকী এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ূন কবীর। তাঁদের বক্তব্যও এক, ‘বিচারাধীন’ ৬০ লক্ষ ভোটারের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ভোট হতে দেবেন না। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলেও সমস্যা নেই বলে জানান হুমায়ূন কবীর। নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, “রাষ্ট্রপতি শাসন হবে নাকি সুপ্রিম কোর্ট ছয় মাস আরও সময় বাড়াবে, সেটা আমি আপনি বলতে পারি না। নিয়ম আছে, প্রয়োজনে সরকারের মেয়াদ বাড়ানো যায়।”
আগামীকাল আম জনতার ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে ধর্নায় বসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে, হুমায়ূন কবীরের মতে শাসক তৃণমূলের জন্যই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “যদি প্রথম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় SIR নিয়ে গুরুত্ব দিতেন। অযোগ্য বিএলও-দের দিয়ে কাজ না করাতেন, তাহলে মানুষের এই অসহায় পরিস্থিতি তৈরি হতো না।”
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
West Bengal Politics: ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তাই ভোটের অঙ্ক বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। SIR-এ কে লাভের গুড় ঘরে তুলবে, সেই অঙ্কই কষছে তৃণমূল-বিজেপি যুযুধান দুই পক্ষ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এদিন সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফা দেন সিভি আনন্দ বোস। তা কি রাষ্ট্রপতি শাসন জারির-ই ইঙ্গিত? এই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে লেখেন, “আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়তো বিশেষ কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য রাজ্যপালের উপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করে থাকতে পারেন, এমনটা হলে আমি অবাক হব না।”
রাজনৈতিক মহলে বারবার প্রশ্ন উঠেছিল যে, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-কে বিজেপি বিরোধী কোনো দলই সেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে না। স্বচ্ছ এসআইআর-এর দাবি করেছিলেন প্রতিটি দলের নেতৃত্বরাই। অথচ দল-মত নির্বিশেষে প্রয়োজন ছিল এই প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ বিরোধীতা করা, বাতিলের দাবি তোলা। কিন্তু তা যখন হয়নি। বর্তমানে যখন ৬০ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে রয়েছে। এখন দেখার, বাম কিংবা সবুজ শিবিরের আন্দোলনে আদৌ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়ে কিনা? একটিও ভোটারকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হতে দেবে না বলে বাম-সহ আইএসএফ, আম জনতা উন্নয়ন পার্টি ঘোষণা করেছে; তাই রাজনৈতিক দলগুলির চাপে ভোটের তারিখ পিছিয়ে যায় কিনা সেদিকেও নজর রাজনৈতিক মহলের।






