তোমায় ভালোবেসে
Valentine's day 2026: এখন নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষ মনে হয়। তুমি আমার সেই পরশপাথর, যার ছোঁয়ায় এই সাধারণ রাখাল আজ রাজপুত্রের মতো দামী হয়ে উঠেছে।
রাজকন্যা,
জানো, হঠাৎ ভীষণ ভালো লাগছে আমার; চারপাশের সবকিছু আজ অন্যরকম সুন্দর। তোমাকে হলুদ শাড়ি আর লাল ব্লাউজে অপরূপা লাগছে। বিশ্বাসই হচ্ছে না তুমি এত কাছে বসে আছো! মনে হচ্ছে পৃথিবীর সব ভালোবাসা আজ জীবন্ত হয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। নিজেকে বারবার প্রশ্ন করছি—এটা স্বপ্ন না তো? জীবনে যতটুকু ভালোবাসা চেয়েছিলাম, তুমি আজ আমায় দু-হাত ভরে তার চেয়েও বেশি দিলে। ঠিক যেভাবে নিজেকে উজাড় করে ভালোবাসতে চেয়েছিলাম, আজ সেই ভালোবাসার সাগরেই আমি ডুবে আছি। অবশেষে এই নির্জন গাছের তলায় তুমি বাড়িয়ে দিলে তোমার সেই বহু প্রতীক্ষিত চিঠি।
যে চিঠির অপেক্ষায় এক জন্ম প্রায় কেটে যাচ্ছিল, সেই চিঠি পেলাম এত কাল পর তোমার থেকে। এই একটা চিঠির জন্যেই আমি বেঁচে ছিলাম। কত নারী-মহামারী পেরিয়ে, ঝড়- ঝঞ্ঝা সামলে, কত বার জলে ডুবতে ডুবতে ভেসে উঠে, আমি কেবল বেঁচে আছি এই চিঠির জন্য। কত হাত দেখেছি, দেখেছি কত মুখ, কত বার করেছি আশা এই বুঝি দিল কেউ সেই চিঠি, না, কেউ দেয়নি; অপেক্ষায় অপেক্ষায় কেটে গেছে কাল।
আমার দরজায় কড়া নাড়েনি কেউ, দিন রাত্রি দীর্ঘ আর বিষাক্ত হয়েছে, হতাশায় ঢেকেছে মন। তবু প্রতিদিন সকালে এই আশা নিয়ে জেগেছি—আজ নিশ্চয়ই তোমার চিঠি পাব। কত ট্রেন স্টেশন ছেড়ে চলে গেল, কিন্তু আমার জন্য কোনো খবর এলো না। সময়ের সাথে চোখে চশমা উঠেছে, তবু আশা ছাড়িনি। মনে মনে বিশ্বাস ছিল—তুমি আসবেই, প্লাবনের মতো এসে আমায় ভাসিয়ে নিয়ে যাবে তোমার স্বপ্নের দুনিয়ায়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Mother's Day 2023: আজ যখন আয়নায় নিজেকে দেখি, তখন আমার মুখের আদলে তোমাকেই তো খুঁজে পাই মা!
আমি শুধু খুঁজে গেছি তোমায়, এক সহস্রাব্দের পথ ধরে। অবশেষে অতি বর্ষনের পর ক্লান্ত আকাশের নিচে, এক অলৌকিক আলোয়, এই লৌকিক জগতে, নাম না জানা এক গাছের তলায় বসে, তুমি বাড়িয়ে দিলে আমার দিকে তোমার চিঠি, সেই চিঠি, সাদা কাগজে নীল কালিতে লেখা সেই চিঠির পাতায় পাতায় মিশে আছে কেবল ভালোবাসা আর বিশ্বাস। পড়তে পড়তে চোখ ঝাপসা হয়ে আসে, মনের ভেতরে যেন বৃষ্টির ধারা নামে। মনে হয় কাগজে নয়, আমার সারা শরীর জুড়ে তুমি লিখেছ প্রতিটি অক্ষর। এ যেন কোনো সাধারণ চিঠি নয়; এ যেন ভোরের পাখির গান, যেন ভ্রমরের গুঞ্জন, যেন গভীর অরণ্যের অনাবিষ্কৃত জলপ্রপাত। যেন কস্তুরীর ঘ্রাণ। একটা চিঠি, কয়েক মুষ্টি অক্ষর, এক যুগ যুগান্তরের তৃষ্ণার্ত চাতকের পিপাসার জল। অল্প কিছু শব্দের মাঝে আমি যেন আমার বেঁচে থাকার নতুন শক্তি খুঁজে পেলাম।
খুব বেশি কাব্য করে ফেললাম, রাগ করো না, কিন্তু তুমি তো জানো—তুমি নিজেই জীবন্ত এক কবিতা।
এত যত্ন এত ভালোবাসা কেউ দেয়নি আমায়। তোমার সেই মমতা, যত্ন করে খাওয়ানো আর তোমার সেই সহজ আত্মসমর্পণ আমাকে মুগ্ধ করেছে... তোমার মনের কথয় লেখা চিঠি, তাতে আমি আমি অভিভূত, পরিতৃপ্ত, হতবাক।
এখন নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষ মনে হয়। তুমি আমার সেই পরশপাথর, যার ছোঁয়ায় এই সাধারণ রাখাল আজ রাজপুত্রের মতো দামী হয়ে উঠেছে।
ভালো থেকো আর এভাবেই ভালোবেসো আমায় চিরটাকাল। তোমায় ভালোবাসায় ভালোবাসায় ভরিয়ে দেব আমি।
কিন্তু হঠাৎ ঘোর কাটল। চোখ মেলে দেখি, সেই গাছের নিচে আমি একাই বসে আছি। কথা দিয়েও আজ তুমি আসতে পারনি। মনের টানে লেখা এই কথাগুলো কেবল মোবাইলের স্ক্রিনেই রয়ে গেল। সে জানে, এই চিঠি কোনোদিনও তোমার ঠিকানায় পৌঁছবে না। কথা দিয়েও তোমার না আসাটা বুকের ভেতরে এক গভীর হাহাকার হয়ে জমা রইল।
বলছি আমি,
তোমার রাখাল







