ভিটেমাটি হারানোর গল্প: জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অদৃশ্য লড়াই

দক্ষিণ এশিয়া জলবায়ু উদ্বাস্তু সমস্যার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল এবং পাকিস্তানের বহু মানুষ ইতিমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের মুখোমুখি। ভারতের সুন্দরবন অঞ্চলে নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বহু পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে।

S N Chakraborty
৪ মিনিট
ভিটেমাটি হারানোর গল্প: জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অদৃশ্য লড়াই

২০ জুন বিশ্ব উদ্বাস্তু দিবস। যুদ্ধ, রাজনৈতিক নিপীড়ন, জাতিগত সংঘাত কিংবা ধর্মীয় বিদ্বেষের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের কথা আমরা দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে আরেক ধরনের উদ্বাস্তু মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, যাদের বলা হয় জলবায়ু উদ্বাস্তু। এরা কোনো যুদ্ধ বা রাজনৈতিক সংকটের কারণে ঘরছাড়া নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, খরা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে তারা নিজেদের বসবাসের স্থান ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন বিশ্বের বহু অঞ্চলে স্পষ্ট। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘন ঘন চরম আবহাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং আকস্মিক বন্যা মানুষের জীবন ও জীবিকাকে বিপন্ন করে তুলছে। বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে সাব সাহারান আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকায় ২১ কোটিরও বেশি মানুষ জলবায়ুজনিত কারণে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর কোটি কোটি মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুত হন।

দক্ষিণ এশিয়া জলবায়ু উদ্বাস্তু সমস্যার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল এবং পাকিস্তানের বহু মানুষ ইতিমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের মুখোমুখি। ভারতের সুন্দরবন অঞ্চলে নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বহু পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। আইলা, আম্ফান, ইয়াস এবং রেমালের মতো ঘূর্ণিঝড় উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় এলাকা এবং গঙ্গা ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলির মধ্যে অন্যতম।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পাখি থেকে বাদুড়: তাপপ্রবাহে যেভাবে সংকট বাড়ছে বন্যপ্রাণীদের

Heat stress in birds: ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে তাপপ্রবাহের জেরে পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর অসুস্থতা এবং মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। এই নিয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

বাস্তুচ্যুতির প্রভাব কেবল বাসস্থান হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িত থাকে জীবিকা হারানো, শিক্ষা ব্যাহত হওয়া, স্বাস্থ্যসেবার অভাব এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা। কৃষক জমি হারান, জেলেরা মাছ ধরার ক্ষেত্র হারান এবং বহু মানুষ কাজের সন্ধানে শহরমুখী হন। ফলে শহরাঞ্চলে জনসংখ্যার চাপ বৃদ্ধি পায় এবং বস্তি এলাকায় বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা বাড়ে।

জলবায়ু উদ্বাস্তু সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দিক হলো নারী ও শিশুদের ঝুঁকি বৃদ্ধি। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরে মানবপাচার, শিশুপাচার, বাল্যবিবাহ এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা বেড়ে যায়। আর্থিক সংকট ও সামাজিক অস্থিরতার কারণে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলির নারী ও শিশুরা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে মানবপাচার চক্র সক্রিয় হওয়ার ঘটনাও লক্ষ্য করা গেছে।

বর্তমান আন্তর্জাতিক আইনে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য পৃথক কোনো স্বীকৃতি নেই। ১৯৫১ সালের রিফিউজি কনভেনশন এবং ১৯৬৭ সালের প্রোটোকল মূলত যুদ্ধ, নিপীড়ন বা রাজনৈতিক কারণে উদ্বাস্তু হওয়া ব্যক্তিদের সুরক্ষা প্রদান করে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষ সেই আইনি সুরক্ষার আওতায় পড়েন না। ফলে পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার ক্ষেত্রে তারা নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হন। এই পরিস্থিতিতে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো গড়ে তোলার দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এই এল নিনো কেন প্রতিটি ভারতবাসীর জন্যে উদ্বেগের?

El Niño 2026: ২০২৬ সালের সুপার এল নিনো ভারতের বর্ষা, কৃষি ও অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে? প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মৌসুমি বৃষ্টির জটিল সম্পর্ক কী ভাবে খাদ্য উৎপাদন, জলসম্পদ ও মূল্যস্ফীতিকে প্রভাবিত করতে পারে?

জলবায়ু উদ্বাস্তু সমস্যা মূলত জলবায়ু ন্যায়বিচারের সঙ্গেও সম্পর্কিত। উন্নত দেশগুলির দীর্ঘদিনের উচ্চ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ফলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বৃদ্ধি পেলেও এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলির মানুষের ওপর। যারা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী, তারাই আজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একদিকে যেমন গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে হবে, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অভিযোজনমূলক ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য বিকল্প জীবিকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাও জরুরি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের স্বীকৃতি ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বিশ্ব উদ্বাস্তু দিবসে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, জলবায়ু উদ্বাস্তুরা কোনো পরিসংখ্যান নয়। তারা এমন মানুষ, যারা পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে নিজেদের ঘরবাড়ি, জীবিকা এবং সামাজিক নিরাপত্তা হারিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি এই মানুষদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করাও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলির একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

জলবায়ু উদ্বাস্তুদের সংখ্যা আগামী দশকগুলোতে আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এই সমস্যাকে শুধু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, পুনর্বাসন, বিকল্প জীবিকার সুযোগ এবং আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশ্ব উদ্বাস্তু দিবসে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের বাস্তবতা এবং তাদের অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার অঙ্গীকারই হতে পারে একটি কার্যকর ও ন্যায়ভিত্তিক ভবিষ্যৎ গড়ার প্রথম পদক্ষেপ।

লিখেছেন
S N Chakraborty
S N Chakraborty
1 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

প্রকৃতির কোলে পিকনিক, শেষে প্লাস্টিকের পাহাড়: মানুষ কি সত্যিই প্রকৃতিকে ভালোবাসে?

Environmental Pollution: প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত দূষণ ছড়ানো কলকারখানা সিল করে দেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়তো নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতেই কি সমস্যার সমাধান মিলবে? কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত যানবাহনের দাপট এবং বৈদ্যুতিন বর্জ্য। শ্রমবিমুখ হয়ে সবকিছু প্রস্তুত পাওয়ার মানসিকতা এবং দেশে সংস্কারের লড়াই না করে সহজে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট। এই দায় এড়িয়ে কি সার্বিক সমাধান সম্ভব?

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।

নেপাল বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেবে কে?

Climate Justice for nepal: ২৬ অগাস্ট লাংটাং লিরুং-এর হিমবাহ ধসে নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়—নিহত ১,৩৪৪, নিখোঁজ ৪,৮৮৭। পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৪-৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডে আছে মাত্র ৮২২ মিলিয়ন ডলার।নেপালের দাবি, চিন-ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায় আছে। জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক কাঠগড়ায়।

নেপালের হড়পা বান থেকে বেঁচে ফিরলেন যাঁরা, তাঁদের চোখে ২৬ অগাস্ট

Nepal flash floods 2026: ২৬ অগাস্ট, ২০২৬-এ নেপালের হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও কিছু মানুষ বেঁচে ফিরেছেন। কেউ এক কাপ চায়ের বিরতির জন্য, কেউ গাড়ির একটা রিভার্স গিয়ারের কারণে, কেউ ডালপালা ছড়ানো একটা আমগাছ আঁকড়ে ধরে, আবার কেউ কেবল ১৫ সেকেন্ডের দৌড়ে ছিনিয়ে এনেছেন নিজের শ্বাস। মৃত্যু খুব কাছ থেকে অনুভব করে ফেরা সেই মানুষগুলির অভিজ্ঞতায় রইল রাসুয়া আর নুয়াকোটের সেই সকালের কথা।

হিমালয়ের বরফ গলছে দ্বিগুণ হারে, নেপালের বিপর্যয়ের বিজ্ঞান কী বলছে?

Nepal Flood 2026: বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন, ৪৫০০ থেকে ৬০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে থাকা হিমবাহ অঞ্চলের অন্তত ৭৮ শতাংশ উচ্চতা-নির্ভর উষ্ণায়নের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাঁচ মাস পর সেই সতর্কবাণীই যেন সত্যি হয়ে উঠল নেপালের উপত্যকায়।

ছয় দশকে কতটা সফল ভারত-নেপাল গান্ডাকচুক্তি?

Gandak dam history: নেপালের হিমবাহ থেকে পাথর ধসের পর জল নেমেছে ত্রিশূলী-কালীগণ্ডক হয়ে বিহারে। বাল্মীকিনগর বাঁধের ৩৬টি গেট খুলে প্রাণ বাঁচল বহু মানুষের। কিন্তু, ১৯৫৯ সালের গান্ডাক চুক্তি কি সত্যিই নেপাল ভারত দুই দেশের ‘সমন্বিত স্বার্থ’ রক্ষা করল? নেপালের তরাইয়ে জল মেলে না, ক্ষতিপূরণ মেলে না কৃষকদের। ৬০ বছরের পুরনো বাঁধ প্রকল্পকে নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।