কাবুলিওয়ালার ঋণ থেকে জন্ম মহীনের ঘোড়াগুলির

Gautam Chattopadhyay: মনে পড়ছে মহীনের ঘোড়াগুলির প্রথম রেকর্ডের সময়ের কথা। গল্প নয়, তথ্য লিখি। রেকর্ড নির্মাণ তখন অসম্ভব ব্যয়সাপেক্ষ। এদিকে প্রায় বেকারের একটা দল গান বাঁধছে, দল করছে। তো রেকর্ডিংয়ের সেই অর্থ আসবে কোথা থেকে?

Ladly Mukhopadhaya
৪ মিনিট
কাবুলিওয়ালার ঋণ থেকে জন্ম মহীনের ঘোড়াগুলির

সেভাবে দিনক্ষণ মনে না থাকলেও সময়টা মনে আছে। মনে থাকারই কথা, কারণ সময়টা ছিল মারাত্মক এক ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ, তোলপাড় করা সময়—গত শতাব্দীর সত্তর দশকের মাঝবরাবর। আমার একজন দাদা-বন্ধু ছিলেন, যিনি আগুনখেকো সত্তরের কবি। তিনিই প্রথম আমাকে গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলাপ করাতে নিয়ে যান। আমাদের বেহালার বাসাবাড়ি থেকে দু-চারটে পাড়া টপকে, বেহালা বাজারের প্রান্তে এক চায়ের দোকানে মণিদাকে প্রথম দেখি। তখনও মণিদা তেমন বিখ্যাত নন, তবে বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে তাঁর একটা দারুণ জনপ্রিয়তা আগাগোড়াই ছিল। সেই দলটাও নেহাত ছোট ছিল ন...

সম্পূর্ণ লেখাটি পড়তে ইনস্ক্রিপ্ট পরিবারের সদস্য হোন আজই

সাবস্ক্রাইবারদের জন্যে উন্মুক্ত ইনস্ক্রিপ্টের সমস্ত কাজ

অনুসন্ধান, মতামত, বিশ্লেষণ, পডকাস্ট: নাগরিক সাংবাদিকতা
₹১৪৯ টাকায় সবটাই আপনার হাতের নাগালে

সাবস্ক্রাইব করুন
ইতিমধ্যে সাবস্ক্রাইবার? সাইন ইন করুন
লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

মহীনের ঘোড়াগুলির গল্প: যেভাবে বদলে গিয়েছিল বাংলা গানের ধারা

Gautam Chattopadhyay: বাউল, ফকির, ছাদপেটার গান, কল কিংবা পাইপ বসানোর সুর, যাত্রাপালা থেকে রামায়ণের ভাব, বাঁদর নাচানোর গান আর ডুগডুগির তাল থেকে প্রার্থনা সংগীত কিংবা হিজড়েদের গান—সব, সব ঢুকে পড়েছিল মণিদার সৃষ্টিতে।

বাংলা গানকে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে পৌঁছে দিয়েছিলেন মণিদা

Gautam Chattopadhyay: মধ্যবিত্ত বাড়ির ছেলে মণিদা বেহালা স্কুলের বাংলা মিডিয়াম থেকে প্রেসিডেন্সি কলেজ হয়ে সারা পৃথিবীর সংগীত ভুবনের এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। এটা বলার কারণ স্বদেশ ও বিদেশ মিলিয়ে একজন সংগীত নির্মাতা হিসেবে সংগীত বিশেষজ্ঞদের কাছে লাগাতার তাঁর সম্পর্কে খোঁজখবর থাকত।

মণিদা: যে মানুষটি ভাঙতে শিখিয়েছিলেন সব প্রচলিত নিয়ম

Gautam Chattopadhyay: আর এন মুখার্জি রোডের এক জায়গায় একটা করে টোস্ট খেয়ে আবার ট্যাক্সি ধরার চেষ্টা চলছে। এমন সময় একটা ট্যাক্সি পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। আমি আর মণিদা দুজনেই হাঁক পাড়লাম। সে গ্রাহ্য না করে এগিয়ে যেতেই মণিদা চিৎকার করে বলে উঠল, “এই শুয়োরের বাচ্চা!” ট্যাক্সিটা ফুটকয়েক এগিয়ে বিরাট শব্দে ব্রেক কষল।

মাঝরাতে ট্যাক্সি নিয়ে বন্ধুদের বাড়িতে পৌঁছে যেতেন মণিদা

Gautam Chattopadhyay: যত রাত্রিই হোক, মণিদা কিন্তু বাড়ি ফিরে যেতেন। অনেকেই তাঁকে বোহেমিয়ান বা ভবঘুরে বলে ইদানীং শনাক্ত করতে চান। তা কোনোমতেই ঠিক নয়। যথেষ্ট রোজগার না থাকা সত্ত্বেও মণিদা সংসার ও পরিবারের ক্ষেত্রে যথেষ্ট দায়িত্বশীল ছিলেন। বলতেন, "গান করতে হলে বা সিনেমা করতে হলে একটা ডিসিপ্লিনের দরকার। যেভাবে প্রতিটি মাধ্যমের নিজস্ব একটা শৃঙ্খলা আছে, আছে সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন।"

গানের নতুন ব্যাকরণ লিখেছিল মহীনের ঘোড়াগুলি, বুঝতে লেগেছে অর্ধশতাব্দী

Gautam Chattopadhyay: একথা স্বীকার করতেই হবে যে, সলিল চৌধুরী-পরবর্তী এই গান এমন একটা অবস্থা ক্রমে তৈরি করেছে, যা অনেকানেক গায়কদের উদ্বুদ্ধ করেছে, অনুপ্রাণিত করেছে। কয়েক যুগ পরেও ব্যান্ডের দল মঞ্চে উঠে ঘোড়াগুলির গান গাইছে অহরহ। হয়তো সময় লেগেছে, সময় লাগছে।

'গান করে অর্থের আশা করিস না'— মহীনের ঘোড়াগুলিকে বলেছিলেন মোহিনী মোহন চৌধুরী

Mohiner Ghoraguli Gautam Chattopadhyay: এক আড্ডায় জেনেছিলাম প্রখ্যাত গীতিকার মোহিনী মোহন চৌধুরী ছিলেন মণিদার সম্পর্কে মেসোমশাই। ইনি সেই মোহিনী চৌধুরী যিনি 'মুক্তির মন্দির সোপান তলে কত প্রাণ হল বলিদান' বা 'পৃথিবী আমারে চায়'-এর মতো কালজয়ী গান লিখেছিলেন। এক ঘরোয়া আলোচনায় মোহিনীবাবু মণিদাদের (মহীনের ঘোড়াগুলি) নাকি বলেছিলেন যে, 'গান করে অর্থ প্রত্যাশা করিস না। ভবিষ্যতে যদি বিনিময়ে কিছু আসে তা হবে উপরি পাওনা।'

যেখানে সাহিত্য মিশেছিল সুরে: মণিদার ‘ইন সার্চ অফ দুয়েন্দে’

Gautam Chattopadhyay: একটা-দুটো কথার পর মণিদা বলল, "একটা নতুন প্রজেক্ট ভাবছি। ভাবছি দুয়েন্দে নিয়ে একটা কাজ করব।" আমি শুনে তো ছিটকে গেলাম! দুয়েন্দে নিয়ে কাজ—কী সংঘাতিক বিষয়! বিষয়টা মণিদা তার মতো করে বুঝিয়ে বলল।

আড্ডা দিতে দিতেই গান, সিনেমা আর জীবন শেখাতেন মণিদা

Gautam Chattopadhyay: ঘাড়ে ধরে শেখানো নয়। না বুঝলেও কোনো আপত্তি নেই। তার জন্য কোনো তিরস্কার বা তারিফ করতে হবে না। তেমনই ছিল মণিদা। ফলে কেউ জেনেছে কেউ জানেনি, কেউ বুঝেছে কেউ বোঝেনি। এই শিক্ষার মূল প্রতিপাদ্য হলো যে শিখতে যায়, বুঝতে চায় তাকে ঘনিষ্ঠ হতে হবে। অন্তরঙ্গ হতে হবে, হতে হবে মনোযোগী। তবেই কেষ্ট মিলবে।