যন্তর মন্তরে অনশন থেকে সংসদ অভিযান, আরশোলারা যা যা ঘটালো

Sonam Wangchuk: যন্তর মন্তরে সোনম ওয়াংচুকের অনশন শুরুর পর একের পর এক কী কী ঘটনা ঘটেছে? হাসপাতালে স্থানান্তর থেকে 'সংসদ চলো' কর্মসূচি, পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস, আদালতের হস্তক্ষেপ এবং কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠক—জানুন পুরো ঘটনাক্রম।

inscript
৫ মিনিট
যন্তর মন্তরে অনশন থেকে সংসদ অভিযান, আরশোলারা যা যা ঘটালো

জুন মাসে দিল্লির যন্তর মন্তরে শুরু হয়েছিল নিট-দুর্নীতি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহির দাবিতে প্রতিবাদ। প্রথমে সেটি ছিল ছাত্র-যুবদের আন্দোলন। পরে সেই মঞ্চেই অনশনে বসেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই আন্দোলন দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ও নাগরিক আন্দোলনে পরিণত হয়। অনশন, আদালতের হস্তক্ষেপ, পুলিশের কড়া নিরাপত্তা, হাসপাতালে স্থানান্তর, বিরোধী দলগুলির সমর্থন এবং শেষ পর্যন্ত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি—ঘটনার পর ঘটনা আন্দোলনকে নতুন মোড় দেয়।

গত ১৬ মে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে এই সংগঠনের সূচনা করেন অভিজিৎ দীপকে। আত্মপ্রকাশের পর কয়েকদিনেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছে এই পার্টি। ২০ জুন হাতে আম্বেদকরের আত্মজীবনী নিয়ে, দিল্লিতে পা রাখেন তিনি। সে দিন থেকেই শুরু হয় দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান-বিক্ষোভ। তাদের অভিযোগ ছিল, নিট পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং সেই ঘটনার নৈতিক দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করা উচিত। একই সঙ্গে তারা শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তৃত সংস্কারের দাবিও তোলে। শুরু থেকেই আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সংবিধান হাতে নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান।

২০ জুন: যন্তর মন্তরে আন্দোলনের সূচনা

২০ জুন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের অভিযোগ ছিল, নিট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের ফলে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সংগঠনের দাবি ছিল, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

প্রথম থেকেই আন্দোলনকে অহিংস ও সাংবিধানিক পথে পরিচালনার কথা জানায় সিজেপি। যন্তর মন্তরে প্রতিদিন ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এসে আন্দোলনে যোগ দিতে শুরু করেন।

২৭ জুন: সোনম ওয়াংচুকের অনশন শুরু

আন্দোলন শুরুর ঠিক সাত দিন পরে, ২৭ জুন যন্তর মন্তরের মঞ্চে অনশনে বসেন লাদাখের পরিবেশকর্মী, প্রকৌশলী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। তিনি জানান, শুধুমাত্র নিট ইস্যু নয়, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহির প্রশ্নে তিনি এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। ওয়াংচুকের যোগদানের ফলে আন্দোলন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়তে শুরু করে। তাঁর অনশনকে ঘিরে দেশ-বিদেশে আলোচনা শুরু হয়। যন্তর মন্তরে মানুষের ভিড়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে থাকে।

জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ: আন্দোলনের বিস্তার

জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে আন্দোলনের পরিধি আরও বাড়ে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র সংগঠন, শিক্ষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ যন্তর মন্তরে পৌঁছতে থাকেন।

প্রথম থেকেই আন্দোলনের অন্যতম মুখ সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। হাতে ড. বি. আর. আম্বেদকরের লেখা সংবিধান ও আত্মজীবনী নিয়ে তিনি আন্দোলনের মঞ্চে উপস্থিত হন। তাঁর বক্তব্য, এই আন্দোলন কেবল একটি পরীক্ষা নয়, সংবিধান রক্ষা এবং শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সোনম ওয়াংচুকের অনশন আমাদের যা মনে করিয়ে দেয়

Sonam Wangchuk: সোনম ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে রাতারাতি জনপ্রিয় হওয়া 'ককরোচ জনতা পার্টি'র ধরণা মঞ্চে উপস্থিত হন। উল্লেখ্য, তিনি লাদাখের অধিকার ও পরিবেশ রক্ষা নিয়েও দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। গত ১৪ মার্চ, ২০২৬ তারিখে তাঁকে যোধপুর সেন্ট্রাল জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

ক্রমশ সোনম ওয়াংচুকের অনশন দীর্ঘ হতে থাকে। চিকিৎসকেরা বারবার সতর্ক করতে থাকেন যে দীর্ঘ অনশনের ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। কিন্তু ওয়াংচুক জানান, দাবিগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না।

এই সময় তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন ছাত্রও অনশনে যোগ দেন।

১৮ জুলাই: ভোরে পুলিশি অভিযানে সরানো হয় ওয়াংচুককে

১৮ জুলাই ভোরে যন্তর মন্তরে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন সাদা পোশাকের পুলিশ আচমকা আন্দোলনস্থলে ঢুকে পড়ে। প্রথমে বড় সাদা চাদর দিয়ে ওয়াংচুকের বিছানাটি ঘিরে ফেলা হয় যাতে বাইরে থেকে কেউ কিছু দেখতে না পারেন। এরপর তাঁকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হয়। দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর জীবন রক্ষার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ অনশনের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতালের স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং আন্দোলন ভাঙতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও ওয়াংচুক ঘোষণা করেন, তাঁর অনশন অব্যাহত থাকবে।

১৮ ও ১৯ জুলাই: আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ওয়াংচুককে হাসপাতালে স্থানান্তরের ঘটনা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও গুরুত্ব পায়। রয়টার্স, দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট এবং অন্যান্য বিদেশি সংবাদমাধ্যম জানায়, ২০ দিনের বেশি অনশনের পর দিল্লি পুলিশ তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ এবং পুলিশের অবস্থান— দুই দিকই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে।

২০ জুলাই সকাল: ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি

সোমবার সকালে আন্দোলনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। সিজেপি আগেই ঘোষণা করেছিল ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি। যদিও দিল্লি পুলিশ আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, এই মিছিলের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং কর্মসূচিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ভারী বৃষ্টির মধ্যেই যন্তর মন্তর থেকে হাজার হাজার আন্দোলনকারী মিছিল শুরু করেন। কারও হাতে জাতীয় পতাকা, কারও হাতে সংবিধানের কপি।

মিছিল সংসদের দিকে এগোতে শুরু করতেই বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ ব্যারিকেড তৈরি করে। পুলিশের অভিযোগ, আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দিল্লি পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং পরে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। বহু আন্দোলনকারী আহত হন। পুলিশের পক্ষ থেকেও কয়েকজন কর্মী আহত হওয়ার দাবি করা হয়। সংসদ থানা সংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে। এই ঘটনায় পুলিশ মামলা দায়ের করে।

বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া

ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশি পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রদের উপর অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।

সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি এবং প্রবীণ নেত্রী বৃন্দা কারাট যন্তর মন্তরে গিয়ে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ান। কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনাতে প্রশ্ন তোলেন, যদি আন্দোলনের বিষয় শিক্ষা-সংক্রান্ত হয়, তাহলে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পরিবর্তে জে পি নাড্ডা কেন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন?

জে পি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক

সিজেপির প্রতিনিধি সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রঙ্কা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জে পি নাড্ডার সরকারি বাসভবনে যান। প্রায় দশ মিনিট ধরে বৈঠক হয়। তাঁরা সংগঠনের দাবিপত্র মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। বৈঠক শেষে সিজেপির দাবি, নাড্ডা তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন যে বিষয়গুলি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরা হবে এবং সংশ্লিষ্ট স্তরে আলোচনা করা হবে। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শুধুমাত্র বৈঠক নয়, দাবিগুলির বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন চলবে।

তাঁরা তিনটি দাবি জানিয়েছেন, সোনাম ওয়াংচুকের অবিলম্বে মুক্তি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে এবং নিট-সংক্রান্ত আত্মহত্যার ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

দিল্লি হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

একই দিনে দিল্লি হাইকোর্টে সোনম ওয়াংচুকের মামলার শুনানি হয়। ওয়াংচুকের আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতে বলেন, তাঁর মক্কেলকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হোক। আদালত নির্দেশ দেয়, চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক এবং ওয়াংচুকের আস্থাভাজন চিকিৎসক— দু'জনকেই পরবর্তী শুনানিতে উপস্থিত থাকতে হবে। আদালত আরও জানায়, জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এআইআইএমএস)-এর পরিচালকের অনুমতি ছাড়া কোনো বড় চিকিৎসা-পদ্ধতি গ্রহণ করা যাবে না।

যদিও সোনম ওয়াংচুক হাসপাতালে রয়েছেন, তাঁর অনশন এখনও চলমান। তাঁর সঙ্গে অনশন শুরু করা তিন ছাত্র সোমবার সকালে অনশন ভাঙেন। কিন্তু আন্দোলনের মূল কর্মসূচি এখনও বন্ধ হয়নি। যন্তর মন্তর থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন কেবল নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ নয়। এটি শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার এবং সরকারের জবাবদিহি নিয়ে জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে সিজেপি আপাতত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে সরকার সংলাপের ইঙ্গিত দিলেও আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, লিখিত আশ্বাস বা কার্যকর সিদ্ধান্ত ছাড়া তাঁরা পিছু হটবেন না।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০১৪–২০২৬: যে যে গণআন্দোলন মোদী সরকারকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে

Street fighting years of Modi-Raj: ২০১৯-এর সিএএ-বিরোধী আন্দোলন শাহিন বাগে ১০১ দিন স্থায়ী হয়, যার জেরে সরকার এনআরসি থেকে সরে আসে। ২০২০-২১-এর কৃষক আন্দোলন ৩৮০ দিন চলে, ৭৫০ জন কৃষকের মৃত্যু হয়, তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার করা হয়। ২০২৬-এর সিজেপি আন্দোলন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ আদায় করে এখন এসআইআর ও জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তর ২.০ গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

প্রেস কার্ড গলায়, তবু আটক! দিল্লিতে SIR-বিরোধী আন্দোলন কভার করতে গিয়ে পুলিশের জালে সাংবাদিকরা

Journalists detained in Delhi: নিউজলন্ড্রির বিবৃতি অনুযায়ী, তাঁদের তিন রিপোর্টার অনমোল প্রীতম, অশ্বিনী কুমার সিং এবং আস্থা সব্যসাচী ও তাঁদের এক ইন্টার্নের অফিসিয়াল ফোনগুলি পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়। সাংবাদিকরা যখন নিজেদের গণমাধ্যমের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন, তখন পুলিশ সরাসরি বলে ওঠে— “এখানে কোনো মিডিয়া নেই!” (কোই মিডিয়া নেহি হ্যায়)

জ্ঞানেশ বিতর্ক: সিআইএ থেকে জর্জ সোরোস, বিজেপির ন্যারেটিভ কাজ করছে না?

The Narrative structure of BJP Breaks: ২০২৬-এর অক্টোবরে, জ্ঞানেশ কুমার-বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল ভারত। ১৩ কোটি জনতার ভোটাধিকার হরণের অভিযোগে সরব বিরোধীরা। জবাবে বিজেপির পাল্টা ন্যারেটিভে কখনও উঠে আসছেন দুবাইয়ের পাইলট, ইলন মাস্কের USAID দাবি, জর্জ সোরোস, অথবা ‘বিদেশি ফান্ডিং’ এর পুরনো গল্প। কিন্তু, একথা প্রমানিত সত্য, USAID-র ২১ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশে গিয়েছিল, আর এবার ভোটাধিকারের প্রশ্নে বিজেপির ন্যারেটিভ কন্ট্রোল কাজ করছে না।

সিজেপি আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ সোনম ওয়াংচুক কোথায়?

Sonam Wangchuk: সিজেপি আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ সোনম ওয়াংচুক কোথায়? দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে তাঁকে দেখা গেল না কেন?

বিশ্বমঞ্চ যেভাবে দেখছে ভারতের নির্বাচন কমিশনারকে

Global Spotlight on Gyanesh Kumar: ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে, জেন-জি আন্দোলন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে কভার হয়েছে। বিবিসি, রয়টার্স, গার্ডিয়ান, আল জাজিরা, ডিডাব্লিউ, এপি, নিউ ইয়র্ক টাইমস, আরএফআই, ফ্রান্স ২৪, ডন, সবাই জানিয়েছে, এসআইআরে ১৩ কোটি নাম বাদের কথা, ভারতের মুসলিম নাগরিকদের এসআইআরের মাধ্যমে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানোর কথা, রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী সাংসদরা বারবার আটকের কথা।

সিইসি-র পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, রাজধানীতে বিক্ষোভ শুরুর আগেই ৫০০ আটক, ৪০,০০০-এরও বেশি নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন

Delhi’s October 10 protest: যন্তর মন্তর ও কনট প্লেসের আশপাশ থেকে আন্দোলনকারীদের আটক করা হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ৫০০। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিও।

বিক্ষোভের আগেই কড়াকড়ি: দিল্লিতে ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ, দেশজুড়ে পুলিশি তৎপরতা

Cockroach Janata Party: এই বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা, ট্রেন বাতিল এবং ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যেই দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে খবর আসছে, বহু আন্দোলনকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, আটক করা হচ্ছে কিংবা বিক্ষোভে যোগ না দেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।

শুভেন্দুর নৌকোয় মুসলিম ভোট?

Nandigram, Rejinagar Bypolls: ভোটগণনার শেষে হাসিরানি রথ পেয়েছেন ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৪২৭টি ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের মিলন প্রধান পেয়েছেন ৪১ হাজার ৬৭৪টি ভোট। বামফ্রন্ট, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) এবং তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরাও অনেক পিছিয়ে রয়েছেন।