টুইটে কাকে গালমন্দ? তৃণমূল ছাড়ছেন কুণাল ঘোষ?

Kunal Ghosh: শুক্রবার সকালে উঠে দেখা গেল কুণাল ঘোষের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে মুছে গিয়েছে তাঁর দলীয় সব পরিচয়? এক্স হ্যান্ডেলের বায়ো থেকে রাজনীতিবিদ এবং তৃণমূল মুখপাত্রের পরিচয়টিও ছেটে ফেলেছেন তিনি।

Sohini Das
৩ মিনিট
টুইটে কাকে গালমন্দ? তৃণমূল ছাড়ছেন কুণাল ঘোষ?

একদিন আগেই গ্রেফতার হয়েছে সন্দেশখালির ত্রাস শেখ শাহজাহান। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের কথা যেন অক্ষরে অক্ষরে ফলে গিয়েছে। দিন কয়েক আগেই সাতদিনের ডেডলাইনের কথা ঘোষণা করে কুণাল বলেছিলেন, এর মধ্যেই ধরা পড়বে শেখ শাহজাহান। হয়েছেও তেমনটাই। বৃহস্পতিবার রাতেই এক্সে বিস্ফোরক টুইট করেছিলেন কুণাল। সেই পোস্ট ঘিরে শুরু হয় জোর সমালোচনা। তবে এই অবধি ঠিকই ছিল। শুক্রবার সকালে উঠে দেখা গেল কুণাল ঘোষের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে মুছে গিয়েছে তাঁর দলীয় সব পরিচয়? এক্স হ্যান্ডেলের বায়ো থেকে রাজনীতিবিদ এবং তৃণমূল মুখপাত্রের পরিচয়টিও ছেটে ফেলেছেন তিনি। এখন সেখানে তাঁর পরিচয় শুধুই সাংবাদিক ও সমাজকর্মী। দলের প্রতি অভিমান, নাকি অন্য কিছু, এক্সে কুণাল ঘোষের পরিচয় বদল নিয়ে উস্কে উঠেছে জল্পনা।

বৃহস্পতিবার রাত নাগাদ একটি টুইট করেছিলেন কুণাল ঘোষ। যেখানে নাম না নিয়েই দলের নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় কুণালকে। তিনি লেখেন, "নেতা অযোগ্য গ্রুপবাজ স্বার্থপর। সারাবছর ছ্যাঁচড়ামি করবে আর ভোটের মুখে দিদি, অভিষেক, @AITCofficial দলের প্রতি কর্মীদের আবেগের উপর ভর করে জিতে যাবে, ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি করবে, সেটা বারবার হতে পারে না।" বিশেষ কারওর নাম না করলেও পোস্টটি ভাইরাল হতেই শুরু হয় জোর আলোচনা। না, শেখ শাহাজাহান বা সন্দেশখালি নিয়ে নয়। তৃণমূলের অন্দরে অনেকে বক্তব্য ছিল কুণালের ওই পোস্ট আদতে আদতে উত্তর কলকাতার তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে। তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা বলছেন,গত সাত-দশদিনে কুণালের কানে বেশ কিছু কথা এসেছে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় কিছু কথা বলে বেড়াচ্ছেন।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন হঠাৎ কুণালের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়?

Justice Abhijit Gangopadhyay: এই সব রেষারেষির মধ্যেই হঠাৎ করে কুণাল ঘোষের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিচারপতি। হঠাৎ করেই বলে বসলেন, কুণাল ঘোষের সঙ্গে নাকি ভালোই বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছে তাঁর।

নেতা অযোগ্য গ্রুপবাজ স্বার্থপর। সারাবছর ছ্যাঁচড়ামি করবে আর ভোটের মুখে দিদি, অভিষেক,

দলের প্রতি কর্মীদের আবেগের উপর ভর করে জিতে যাবে, ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি করবে, সেটা বারবার হতে পারে না।

— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain)

লোকসভা ভোটের আগে আগে তৃণমূলের অন্দরেই ব্যাপক ক্ষোভ জমেছে উত্তর কলকাতার স্থানীয় সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। ৭০ বছরের বেশি বয়সী দলের কোনও নেতাকে লোকসভায় প্রার্থী করার পক্ষে নন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে সেখানেই চাপের মুখে পড়েছেন সুদীপ। তার উপর নাকি সুদীপের কার্যকারিতা নিয়েও দলের বহু নেতাই প্রশ্ন তুলেছেন। এর পরেই বৃহস্পতিবার সামনে আসে কুণালের ওই এক্স পোস্ট। এ ব্যাপারে কুণালকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি জানান, কার উদ্দেশে বলেছি তা এখনই বলব না। পড়েছে কথা সবার মাঝে, যার উদ্দেশে কথা তার গায়ে ঠিক বাজবেই। দলের লোকেরও বুঝতে পারবে। বাকি ঠিক সময়ে বলব।”

এক্স হ্যান্ডে ইতিমধ্যেই কুণাল ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি শুধুই সাংবাদিক এবং সমাজকর্মী। রাজনৈতিক কর্মী বা দলের মুখপাত্র নন। মুখপাত্রের সঙ্গে কুণাল তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদকের পদেও রয়েছেন। এখন দেখার, সেই পদও তিনি ছেড়ে দেন কি না। তবে রাজনীতিতে কোনও কিছুই চূড়ান্ত নয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাতেও সন্দেশখালি-সহ কুণাল বিবিধ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন তৃণমূলের মুখপাত্র হিসাবে। শুক্রবার এমন কী ঘটল যে হঠাৎই অভিমানে সমাজমাধ্যম এক্স-এর যাবতীয় পরিচয় বদলে ফেললেন তিনি?

দলে অভিষেক শিবিরের ঘনিষ্ঠতম নেতা বলে পরিচিত কুণাল ঘোষ। এই পরিস্থিতিতে দলীয় মুখপাত্রের এই ধরনের টুইট বেশ প্রাসঙ্গিক বলেই মনে করছে দলের বড় অংশ। কিন্তু সে নাহয় হল। কিন্তু কেন রাত পোহাতে না পোহাতেই নিজের টুইটার হ্য়ান্ডল থেকে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় মুছে দিলেন কুণাল ঘোষ। এমনিতেই শেখ শাহজাহান ও সন্দেশখালি প্রসঙ্গে বেশ অস্বস্তিতে শাসক দল। এর মধ্যে কুণাল ঘোষের মতো নেতার অভিমান বা ক্ষোভ কি গোদের উপর বিষফোঁড়া হতে চলেছে তৃণমূলের? সুদীপকে নিয়ে অশান্তি, না এর নেপথ্যে রয়েছে আরও বড় কোনও কারণ? সব মিলিয়ে দলের ভিতরে-বাইরে কৌতূহল ক্রমেই বাড়ছে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

যে নির্বাচন কমিশনার ভোট চুরি আটকেছিলেন

Election reforms of T. N. Seshan: ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন কমিশনারের চেয়ারে বসেছিলেন যে ব্যক্তি, সেই টি. এন. শেষন বলেছিলেন, 'আমাকে এই পদে বসাবেন না, আমি আপনাদের অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়াব।'

ছদ্ম-বিরোধী তৈরিই কি তবে ভারতের রাজনীতিতে ক্ষমতার নতুন কৌশল?

Indian opposition politics: বিরোধীদের সরাসরি নিষিদ্ধ না করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চাপ, আইনি ফাঁকফোকর এবং সুপরিকল্পিত দল ভাঙার মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে অনুগত ‘ছদ্ম-বিরোধী’।

EXCLUSIVE: কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে ভোট না-করানো তৃণমূলের বড় ভুল, নিজেদের ভুল নিয়েও আলোচনার দরকার ছিল: কুণাল

Kunal Ghosh on Mamata Banerjee: ইনস্ক্রিপ্টে ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে তিনি একদিকে যেমন দাবি করেছেন মমতাকে ভয় পেয়েই তাঁকে বারবার নিশানা করা হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে দলের ভুলত্রুটি স্বীকার করে আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।

মমতা-অভিষেকের দল পরিচালনায় বিরাট গ্যাপ তৈরি হয়েছিল: ইনস্ক্রিপ্ট পডকাস্টে আর কী বললেন কুণাল?

Kunal Ghosh Interview: বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে প্রতীক, নাম হারিয়ে কার্যত দিশাহারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। তার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই জারি রয়েছে। যদিও দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে মমতার কাছাকাছির বৃত্ত ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়েছে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মুখ পুড়েছে। এই প্রেক্ষিতে আসন্ন পুরভোটে কেমন করবে তৃণমূল? ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা আছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে যা বললেন দলের বিধায়ক এবং অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।